প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে ৪৬৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন

সিলেটে সুরমা নদী তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

 

আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) জানায়, প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ

প্রকল্প উদ্বোধনের আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিকেল ৩টায় তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন।




বন্ধ কল-কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ের শাসকগোষ্ঠী শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

শ্রমিক কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।

গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, কিন্তু তারা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পানি পায় না। এ সমস্যা সমাধানে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই চলবে না, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে রূপ দেবো: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পকেটে ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে আসুন, আমরা বাস্তবে তা রূপ দেবো। সেগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের বা যে কোনো সেক্টরের যত ইনোভেটিভ আইডিয়া আছে, সেগুলো লিখে তালিকা করে আমাদের কাছে নিয়ে আসবেন। ইউ ইউল ফাইন্ড এ ট্রাস্টেড লিসেনার, হু উইল ট্রান্সফর্ম ইউর আইডিয়াস ইনটু একশন।’

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লি. এর যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে৷ ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত৷

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিবিশনের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। এছাড়া বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন এবং অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিকেএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের এই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জিতে সুইচ করছি। এবং এই সরকার একটা স্কিম ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যেখানে আমরা এক্সপেডাইটেড বেসিসে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার জেনারেশন করব। আপনারাই করবেন, সরকার করবে না, প্রাইভেট সেক্টরই করবে, কিন্তু আমরা সেই সহায়ক স্কিম নিয়ে এগিয়ে আসব এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে এগিয়ে আসব।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুদের হার দুই অঙ্ক থেকে কমিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে আনা হবে। দুই অঙ্কের সুদের হারে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের টিকে থাকা কঠিন। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুদের হার এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যা নতুন বিনিয়োগ এবং চলমান ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে। এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয়।




দুই বিমা কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের দুই প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পৃথক পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে তাদের নিজ নিজ বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ১৫ শতাংশ নগদ ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি দুটির আলোচিত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এই লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বিমা কোম্পানি দুটির পৃথক পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে পৃথকভাবে জানানো হয়।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৪৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা হয়েছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৪ পয়সা।

অন্যদিকে ২০২৫ হিসাব বছরে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা হয়েছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪৫ পয়সা।

ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ অনুমোদন-সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ জুন বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মে।

আর প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ অনুমোদন-সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১০ আগস্ট বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জুন।




এনসিসি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের এ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১.৭০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা হয়েছে। আর শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ মে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪.২৯ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৯৪ টাকা।

আলোচ্য সময়ে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৪.১৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির এনওসিএফপিএ ছিল ২.৮৩ টাকা।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭.২০ টাকা।

এই করপোরেট ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেনের কোনো মূল্য সীমা থাকবে না।




ইন্তেকাল করেছেন মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ।

তার মৃত্যুতে বীমা খাতে এবং কোম্পানির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ এক শোকবার্তায় জানান, “তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মো. নজরুল ইসলাম কর্মজীবনে একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে হারালেন।




বৈশ্বিক বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নোটিফিকেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ডব্লিউটিও’র নিয়ম মেনে চলতে, হালনাগাদ থাকতে এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নোটিফিকেশন একটি অপরিহার্য উপাদান। নোটিফিকেশন ডব্লিউটিও’র টুলবক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ— এটি সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারলেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারবো।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কী শিখলেন তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাই হবে এই প্রশিক্ষণের মূল সাফল্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আইটিটিসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা ডব্লিউটিও সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, তা আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে, এই আশাবাদ আমাদের রাখতে হবে। বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে খুব শিগগিরই ডব্লিউটিও নতুন উদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। এছাড়াও ডাব্লিউটিও’র এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর আইটিটিসি ওসমান আলী খিলজি ও ডাব্লিউটিও’র সেন্ট্রাল ও এস্ট্রান ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ড. কেঞ্জা লি মেনটেক বক্তব্য রাখেন।

চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। ডব্লিউটিও সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক সেশনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।




স্টিল শিল্পে আরোপিত করভার হ্রাসের প্রস্তাব

স্টিলের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা, রড বিক্রয়ের ক্ষেত্রে টিডিএস (উৎসে কর) ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংগঠনেরটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৈশ্বিক নানান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই খাত। অনেক স্টিল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। অবকাঠামোগত কাজ থমকে আছে। স্টিল উৎপাদন কমে গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চাপে আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের সব দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে, যৌক্তিক দাবি হলে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, এইচ এস কোডের জটিলতা নিরসনে কাজ করা হবে। তবে অপব্যবহার রুখতে হবে ব্যবসায়ীদের। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মূলের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন লৌহ শিল্পের একাধিক কাঁচামালে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার ও ও আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সেকেন্ডারি স্টিল ও প্রাইম কোয়ালিটি একই ধরনের শুল্কায়ন করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীরা কাস্টমসে ভোগান্তি নিরসন ও অগ্রিম কর তুলে নেওয়ার দাবি জানান। কয়েক বছর উদ্যোগ নিয়েও ইএফডি বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।




নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করবে সরকার, যাতে মা বোনদের রান্নায় সমস্যা না হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনর্খননের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি। এবার তাদের জন্য এলপিজি কার্ড চালু করবো।

কৃষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা আমাদের অহংকার। কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি।

জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করবো।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনর্খননের উদ্বোধন করেছেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শা থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।




বিদ্যুৎ ও ফুয়েল ক্রাইসিসে সোলার সিস্টেম জরুরি : বিকেএমইএ

বিদ্যুৎ ক্রাইসিস এবং ফুয়েল ক্রাইসিসের কারণে এই মুহূর্তে সোলার সিস্টেম জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এমন মন্তব্য করেন।

হাতেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলেও ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস জটিলতায় বাধার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সোলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সোলার সিস্টেমকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরে

তিনি বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না, যদিও এ বিষয়ে পূর্বে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

পোশাক খাতে সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জটিলতাও তুলে ধরেন বিকেএমইএ নেতা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রয়োজন হলেও পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে পণ্য পরিবহনের সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব কার্যক্রমে জাতীয় অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য সংযোজন নেই, সেগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রাখা হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের জন্য কীভাবে উপকার হচ্ছে তা প্রমাণ করতে হবে।

বিকেএমইএ তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি প্রস্তাব জানিয়েছে বিকেএমই। পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইকেলড ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।




কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকাস্থ আইসিএমএবির রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবসময় গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে সরকার অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরতের প্রক্রিয়া উন্নত করছে। পাশাপাশি করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখনে আইসিএমএবির সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সমন্বিত আলোচনার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। কর নীতির সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর) রঞ্জন কুমার ভৌমিক। প্রস্তাবিত ভ্যাট সংস্কার ও অব্যাহতি বিষয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের প্রথম সচিব (ভ্যাট নীতি ও ভ্যাট অব্যাহতি) মশিউর রহমান। ট্যাক্স ভেরিফিকেশন সিস্টেমসহ (টিভিএস) অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেন এমএম অ্যান্ড কোং-এর সিইও মো. মহিমন।

আইসিএমএবি সভাপতি কাওসার আলম বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট পেতে দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, করের পরিধি সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে এবং জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ সুইস বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সুইস পণ্যের উচ্চ গুণগতমান সম্পর্কে অবহিত। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখ যোগ্য অংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুইস পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক হলে তারা বেশি গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারবেন। সে লক্ষ্যে সার্ভিস ওরিয়েন্টেড খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে দুই দেশেরই লাভ হবে।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, শিপ বিল্ডিং শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ভিত দেবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছরের জন্য পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের সমর্থন প্রত্যাশা করে। দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ অনেক বেশি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঘাটতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।




পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ নেতা জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা এবং পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘তেল সংকট’ ও ‘রেশনিং’ এর বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী ফ্লোর নেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরইমধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এই সমস্যা আর হবে না।

এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।




ঢাকা ও দূরপাল্লার নতুন বাসভাড়া তালিকা প্রকাশ করল বিআরটিএ

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারা দেশের আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার সব ধরনের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়েছে। ওই দিন থেকেই ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

নতুন তালিকায় রাজধানী ও দূরপাল্লার সব পথেই প্রতিটি বাস রুটের জন্য আলাদা আলাদা তালিকা রয়েছে। রাজধানীর বাসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া গ্যাসচালিত বাসের ক্ষেত্রে নতুন ভাড়া হার কার্যকর হবে না। এ ছাড়া ভাড়া ভগ্নাংশ হলে ৫০ পয়সার বেশি হলে ১ টাকা যুক্ত হবে। ৫০ পয়সার কম হলে সেটা নেওয়া যাবে না।

সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ফলে এই শ্রেণির বাসের ভাড়া পরিবহনমালিকদের ইচ্ছার ওপর এবং নির্দিষ্ট পথে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ধারিত হয়। এ ছাড়া বাসের মান ও আসনসংখ্যা কত, সেটিও ভাড়া নির্ধারণের ওপর প্রভাব ফেলে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের ভাড়া

ঢাকার ফুলবাড়িয়া বা গুলিস্তান থেকে গাজীপুরের পথে বেশ কিছু বাস চলাচল করে। এ পথের মোট দূরত্ব সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা। কেউ ফুলবাড়িয়া বা গুলিস্তান থেকে গাজীপুর পর্যন্ত গেলে ভাড়া হবে ১০৫ টাকা। ফুলবাড়িয়া থেকে মগবাজার পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া, অর্থাৎ ১০ টাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এর বেশি যাতায়াত করলে বাড়তি কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া যুক্ত হবে।

মিরপুরের চিড়িয়াখানা থেকে শ্যামলী, আসাদ গেট, ফার্মগেট ও প্রেসক্লাব হয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ভাড়ার তালিকা অনুসারে, এই পথের মোট দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাতায়াত করলে ভাড়া গুনতে হবে ৫৩ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে একজন যাত্রী চিড়িয়াখানা থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবেন। শ্যামলী পর্যন্ত যাতায়াত করলে ভাড়া দিতে হবে ১৪ টাকা। একইভাবে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে শ্যামলী থেকে উঠে ফার্মগেট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগরে বাসভাড়ার তালিকা অনুসারে, কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত মোট দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসাবে ভাড়া হবে ৩৫ টাকা। সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়ায় চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পথ চলাচল করা যাবে। একইভাবে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যে ভাড়া হবে ১০ টাকা।

চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথের দূরত্ব ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার। কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গেলে ভাড়া পড়বে ৪৭ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে যাওয়া যাবে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত।

আন্তজেলা ও দূরপাল্লা

আন্তজেলা ও দূরপাল্লার পথের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা। এটি ৫১ আসনের বাসের জন্য। তবে দূরের পথে যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য অনেক কোম্পানি বড় বাসে আসন কমিয়ে ৪০–এ নামিয়ে চালায়। এ ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়তি দিতে হবে। এ ছাড়া দূরের পথে ফেরি ও সেতুর টোল থাকলে সেটাও ভাড়ায় যুক্ত হবে। সব মিলিয়েই নতুন ভাড়ার তালিকা তৈরি করেছে বিআরটিএ।

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। এই পথে টোল বাবদ ৪৫০ টাকা যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫২ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসে ভাড়া হবে ৭০৪ টাকা।

সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। টোলসহ ৫১ আসনের বাসের যাত্রীপ্রতি ভাড়া হবে ২৪০ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া ৩০৬ টাকা। এ ছাড়া সায়েদাবাদ থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। এই পথে টোলসহ ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮০ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৭৪০ টাকা।

ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে বরিশালের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। এই পথের বাসে যাত্রীপ্রতি ফেরির বাড়তি টোল যোগ হবে ৭৬ টাকা (৫১ আসন) থেকে ৯৭ টাকা (৪০ আসন)। সে হিসাবে ৫১ আসনের বাসে ঢাকা থেকে বরিশালের ভাড়া ৬১৬ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া ৭৮৫ টাকা।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালের দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ প্রতিটি বাসে টোল দিতে হয় তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। সে হিসাবে এই পথে প্রতিটি যাত্রীকে টোল বাবদ ৮৩ টাকা (৫১ আসন) থেকে ১০৬ টাকা (৪০ আসন) বাড়তি দিতে হবে। সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ৫১ আসনের বাসে বরিশাল পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৪ টাকা। আর ৪০ আসনের বাস ভাড়া হবে ৫৯২ টাকা।

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। এই পথে কোনো টোল নেই। ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৯ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৩৩০ টাকা।

মহাখালী থেকে রাজশাহী বা রংপুরের দিকে গেলে যমুনা সেতুসহ অন্যান্য সেতুতে ১ হাজার ৫০ টাকা টোল যুক্ত হবে। এর মধ্যে শুধু যমুনা সেতুর টোলই ১ হাজার টাকা। নতুন তালিকা অনুসারে, মহাখালী থেকে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নাটোর হয়ে রাজশাহী পর্যন্ত দূরত্ব ২৬৭ কিলোমিটার। এই পথে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৭৯৭ টাকা। মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। ৫১ আসনের বাসে ভাড়া হবে ২০১ টাকা। আর ৪০ আসনের বাস হলে ভাড়া আসবে ২৫১ টাকা।

চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার। এই পথে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া হবে ৩২৮ টাকা। আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য বড় বাসের আসন কমিয়ে ৪০ আসনে রূপান্তর করলে ভাড়া গুনতে হবে ৪১৮ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ১৫৪ কিলোমিটার। ৫১ আসনের বাসের ভাড়া হবে ৩৪৩ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া দাঁড়াবে ৪৩৭ টাকা।




গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ ছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ’র শীর্ষ নেতারা সভাউপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি নিম্নমুখী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি নিম্নমুখী, অর্থাৎ কারখানাগুলো পরিমিত সভায় ক্ষমতায় চলতে পারছে না, ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে এবং অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএ’র প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা ৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপিসহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

 

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২%-১৫% এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি, গত ৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।




উন্নত নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবহন ও পানি খাতে নতুন ভাবনা

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এ আলিম।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক মতবিনিময়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৯ বছরের পেশাগত জীবনে পরিবহন প্রকৌশল, জলবায়ু-সংবেদনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কাজ করেছেন। তার মতে, এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়।

প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণের আহ্বান তাকে দেশে অবদান রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করেছে। তিনি ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশে এসে স্থানীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি ধারণামূলক মাস্টারপ্ল্যানও তুলে ধরেন। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলদূষণ, জলবিদ্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় সুরক্ষা অবকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনে পেশাদার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এর আগে ভার্জিনিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে সড়ক ও পরিবহন অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভয়ার এবং ঝড়ের পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

মোহাম্মদ এ আলিম আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।




কাজের মানে ছাড় নয়, সময় মতো উন্নয়নকাজ শেষ করতে হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, টেন্ডারে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক কাজে সেসব শর্ত যথাযথভাবে মান্য করে কাজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। চলমান সব কাজের মান নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করবেন, প্রয়োজনে আমি নিজেও আসবো। কাজের মান নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ চলবে না, এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে মিরপুরে ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৃথক দুটি প্রকল্পের সড়ক ও ড্রেনেজ লাইন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বাউনিয়া বাঁধের এই এলাকায় যারা বাস্তুহারা হয়েছেন আপনাদের জমির মালিকানা বা কাগজপত্র সংক্রান্ত যে দাবি রয়েছে, আমরা তা দ্রুত পূরণের জন্য কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা শ্মশানের জন্য জায়গার দাবি জানিয়েছেন। কোথায় শ্মশান করা হলে ভালো হবে, আপনারা জায়গা নির্ধারণ করে দেখিয়ে দিন, আমরা দ্রুত সেখানে শ্মশানঘাট নির্মাণ করে দেবো।

এলাকাবাসীর পানির সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার মানুষের পানির খুব সমস্যা হচ্ছে— আমি বিষয়টি জানি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য পানির পাম্প নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

গ্যাস সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের আরেকটি সমস্যা আছে, সেটি হলো গ্যাসের সমস্যা। এ সমস্যা রাতারাতি সমাধান হবে না। আপনারা ধৈর্য ধরবেন। আমরা ধাপে ধাপে এই সমস্যারও সমাধান করবো।

মিরপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থিত সেকশন-১১, বাউনিয়া বাঁধ এলাকার ব্লক-এ থেকে ব্লক-ই (২৬০০ বাস্তুহারা পরিবারের পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত) পর্যন্ত বিভিন্ন বাইলেনের নর্দমা নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমার-আপনার টাকায় এই কাজ হচ্ছে, আপনারা এই কাজে সহযোগিতা করবেন। ঠিকাদার যেন নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারে, সেজন্য সবাই সহযোগিতা করবেন। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না খোঁজ রাখবেন, মনিটরিং করবেন।

এসময় বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ট্রাক স্ট্যান্ডে নির্ধারিত স্থানের বাইরে ট্রাক পার্কিং করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার গাড়িই হোক, প্রধান সড়কে কোনো অবস্থায়ই গাড়ি রাখা যাবে না। গাড়ি রাখলে নম্বর প্লেট দেখে দেখে জরিমানা করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭.৮৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক উন্নয়ন এবং সমপরিমাণ নর্দমার লাইন নির্মাণ করা হবে। এতে ১০৫০ মি.মি. ও ১৫২৪ মি.মি. ব্যাসের আরসিসি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।




টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাত সুরক্ষায় অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক অবস্থান বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতে এমন নীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’-এর মুখে পড়েছে, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সদস্যসহ অর্থ মন্ত্রণালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে চায় না। বরং এমন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ না পড়ে। এটিই বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছায়।

এ প্রসঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবারে সাশ্রয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এসএমই খাত। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারায় আনতে কাজ করছে সরকার। এসব পণ্যের ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীত খাতকেও অর্থনীতির অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত কর্মক্ষমতা দেখাতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না হলে কর আদায়ও বাড়ে না। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাড়ে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে দিতে হবে। এজন্য সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসার পথে অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতা থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।




জব্বারের বলীখেলায় আবারও চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে রানারআপ হয়েছে একই জেলার রাশেদ বলী। তার দু’জনই গত আসরের চ্যাম্পিয়ন-রানারআপ ছিলেন। এবারের আসরের তৃতীয় হয়েছেন সার্জের দিপু।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশ নেন প্রায় ১০৮ জন বলী। প্রতিটি লড়াই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। একের পর এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সবার নজর কাড়েন বাঘা শরীফ ও রাশেদ বলী। দীর্ঘ ৩০ মিনিটের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখেন বাঘা শরীফ।

বলী খেলা উপলক্ষ্যে লালদীঘি মাঠজুড়ে হাজারো দর্শকের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে পরিণত করে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।

ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বাঘা শরীফ কি শিরোপা ধরে রাখবেন, নাকি গতবারের হার শোধ করে চ্যাম্পিয়ন হবেন রাশেদ বলী– সেই অপেক্ষায় ছিল সবাই। তবে শেষ পর্যন্ত গতবারের মতোই থাকলো ফলাফল।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে এই বলীখেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রচলন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় লোকজ উৎসবে পরিণত হয় এবং আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলছে।




পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ ২০% বেড়েছে: বিকেএমইএ সভাপতি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ফলে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬) উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকেরা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এতে অংশ নেবেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে ২৯ এপ্রিল শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসার পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই খারাপ। ব্যাংকিং খাতের নানা অসহযোগিতার কারণে অনেক কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আরও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলসি খোলা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং ঋণসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাস্টমসের জটিলতা ও কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি, যা বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানান।

জ্বালানি সংকটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বাস্তবে শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশন থেকে কনটেইনারে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো বিপাকে পড়ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক; লোডশেডিং গড়ে ২-৩ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হচ্ছে, যা উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না, ফলে এয়ার শিপমেন্ট বা ডিসকাউন্টের মতো অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরও বাড়ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে এতে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, বিপিসি নির্দেশনা দিয়েছে যে কনটেইনারে করে তেল সরবরাহ করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন মনিটরিং করছে এবং প্রয়োজনে জরিমানাও করছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, কারখানা থেকে কি জেনারেটর ফিলিং স্টেশনে নিয়ে গিয়ে সেখানে তেল ভরে আনা সম্ভব? বাস্তবে তা সম্ভব নয়।

সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা যাচ্ছে না, কারণ আগেই মূল্য নির্ধারিত থাকে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং শিল্প-কারখানাগুলো বর্তমানে মোট সক্ষমতার মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ ব্যবহার করে চলছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।

এসময় ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সব স্থানে কার্যকরভাবে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অনেক জায়গায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা ব্যয় কমেছে, যার প্রভাব পড়ছে পোশাকখাতে। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবেই ক্রয়াদেশ কমে গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী মৌসুমে অর্ডার প্রবাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য এ খাতের কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বছর ‌‌‘ভেটেরিনারিয়ান্স: গার্ডিয়ান্স অব ফুড অ্যান্ড হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ আজকের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভেটেরিনারি পেশাজীবীরা মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে। একসময় ভেটেরিনারি পেশাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া না হলেও বর্তমানে এ খাতে মানুষের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

তিনি বলেন, প্রাণীরা তাদের সমস্যা প্রকাশ করতে পারে না। তাই তাদের চিকিৎসা ও সুস্থ রাখা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ খাতে যারা কাজ করছেন তারা অত্যন্ত মেধাবী ও যোগ্য। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ও ভেটেরিনারি সায়েন্স বর্তমানে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করবো। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব এবং সবাই সমানভাবে উপকৃত হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত কৃষক কার্ডের আওতায় আসছে, ফলে কৃষকদের মতো এ খাতের খামারিরাও সমান সুবিধা পাবেন।

তিনি দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ দেশ আমাদের, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভ্যাব) সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভ্যাব-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ড. এম. আরিফুল ইসলাম, যেখানে ভেটেরিনারি পেশার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভেটেরিনারিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী এর আগে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও উদ্বোধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।




ছুটির দিনেও চালু থাকবে বিএসটিআই সেবা

আমদানি করা পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে এবং বন্দরে ড্যামারেজ খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ড্যামারেজ খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প সচিব বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা করে না; বরং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনও সমস্যায় সরকার পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ কামাল বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, সিটি গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, পোলার আইসক্রিম, অলিম্পিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি লিমিটেড, অলিম্পিয়া বেকারি, ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস ও পিয়ারলেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উল্লেখযোগ্য।

গণশুনানিতে নকল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যের মান নির্ধারণে এসআরও জারির সময় কমানো, ফুড গ্রেড কালার ব্যবহারের আগে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা, সুগার ও নন-সুগার বেকারি পণ্যের মান একীভূতকরণ এবং লাইভ বেকারিগুলোতে তদারকি জোরদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বিএসটিআই মহাপরিচালক বলেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সেবায় কোনও ঘাটতি থাকলে প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি জানান, সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করতে বিএসটিআই কাজ করছে এবং গণশুনানিতে আলোচিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য, বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ৮২তম অধিবেশন গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব অর্থনীতি বিষয়ক একটি যুগান্তকারী রেজুলেশন গ্রহণে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ।

আজ শনিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্জন আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে আরো সুদৃঢ় করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাপোর্টিং দ্য ট্রানজিশন টুওয়ার্ডস এ সাসটেইনেবল বায়োইকোনমি ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক রেজুলেশনটি বাংলাদেশের উদ্যোগে উত্থাপিত হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে গৃহীত হয়, যা এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেজুলেশনটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার-টেকসই, উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সার্কুলার অর্থনীতি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই বায়ো-ইকোনমি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিবেশনে বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বায়োইকোনমি শুধু একটি নতুন ধারণা নয়; এটি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পথ।’

বাংলাদেশের এ উদ্যোগে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, চীন, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সমর্থন দিয়েছে। যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ঐকমত্যের প্রতিফলন।

অধিবেশনে আরও ‘সব বয়সের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সামাজিক উন্নয়ন জোরদার’ বিষয়ে বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে। এতে অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।




বাংলাদেশকে এডিবির ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ সহায়তা সরকারের চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এডিবির ‘সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সাবপ্রোগ্রাম-২-এর আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রূপে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত নারীকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।




বাংলাদেশ ও ইতালির বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলাসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ়। ইতালি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইতালির বিনিয়োগ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফার্নিচার, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে। দেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলাসান্দ্রো বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে ইতালি থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও যৌথ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহিম খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (পল্লব) এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশদাতারা বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক দফা বাতিল করে সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মেধা ভিত্তিক সমান সুযোগ নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় মেধা ভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নীতিমালার দফা ৮.৬ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।

এ ধরনের বিধান সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী। নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ দফায় প্রবর্তিত ৮০:২০ প্রাতিষ্ঠানিক কোটা এবং পৃথক প্রতিযোগিতা কাঠামো সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যেকোনো শ্রেণিবিভাজন অবশ্যই যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই বিভাজনের সঙ্গে শ্রেণিকরণের যুক্তিসঙ্গত সম্পর্ক থাকতে হবে।

বর্তমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ধরনের (সরকারি এবং বেসরকারি) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজন করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। সংবিধান এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী বিভাজন সমর্থন করে না।

এছাড়াও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য পৃথক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। কাজেই মেধাভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোটা আরোপ অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০২৬ সালে প্রণীত নীতিমালার অধীনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা অন্যায্যভাবে বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোজগতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির ওপর নেতিবাচক এবং বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা, নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ এবং ৮.৬ দফা পুনর্বিবেচনা করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।




৫১ ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছালেন ২০,৫৫৩ হজযাত্রী

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৫৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৫১টি ফ্লাইটে তারা সেখানে যান। এদিকে হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত হজ বিষয়ক সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৮৫৫ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।

এদিকে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহত নইম উদ্দীন মন্ডলের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ওই দিন ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ ফ্লাইট পরিচালনা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। এরপর ৩০ মে থেকে শুরু হবে ফিরতি ফ্লাইট, যা শেষ হবে ৩০ জুন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।




রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চায় ঢাকা চেম্বার

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করের অবদান বৃদ্ধিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব কাঠমোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের নূন্যতম সীমা ৫ লক্ষ টাকা করা, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

আজ (বুধবার) এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের ৫৪টি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ’র নিকট পেশ করেন ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

প্রস্তাবনা উপস্থাপনের শুরুতেই ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোকে এ বছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য এ সংগঠনটি।

এসময় ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালক এম মোসাররফ হোসেন, ইঞ্জি মোস্তফা কামাল এবং রাশীদ মাইমুনুর ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারী সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কোম্পানির আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোম্পানির নিট সম্পদের উপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরনের উপর জোরারোপ করেন। সেই সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল ও ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন সহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

ঢাকা চেম্বারের বাজেট প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সরকার ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধ পরিকর।

তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাটের থ্রেসহোল্ড গতবছর ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখেরও কম, আমাদের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচারে এ সংখ্যা কোটির বেশি হওয়া উচিত। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, কর্পোরেট করের হার ৫০ শতাংশ হতে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বর্তমানে ২৭.৫ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে, এটিকে আরও হ্রাসের আসলেই তেমন সুযোগ নেই, তবে ইফেকটিভ করের হার যেন না বাড়ে তার ওপর বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি। আগামী বছর থেকে কর্পোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে প্রদান প্রক্রিয়া চালু হবে পাশাপাশি কর ফেরত (রিফান্ড) প্রদানের ব্যবস্থা অনালইনে নিশ্চিতের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।




ঈদ ঘিরে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারী দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার (২২ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা ঢাকা ও গাজীপুরের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানাগুলোর জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এসময় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু কারখানার জেনারেটরের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সহায়তা চান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমমন্ত্রী পেট্রোল পাম্পগুলোতে সংশ্লিষ্ট কারখানার নাম ও প্রাপ্য ডিজেলের পরিমাণ উল্লেখ করে নোটিশ টানানোর নির্দেশ দেন, যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শিল্পঘন এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কারখানাগুলো চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাসমান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।” শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে কারখানা মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

 

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং শিল্প মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।




‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।




উপায়ের সিইও শ্যামল বরন দাশ

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) উপায়ের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন শ্যামল বরন দাশ। ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাতে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে আধুনিক আর্থিক সেবা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে এমএফএস, ডিজিটাল ব্যাংকিং, রিটেইল ও এসএমই সলিউশন, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং কার্ড সার্ভিসের মতো খাতে তিনি সফলভাবে কাজ করেছেন।

‘উপায়’-এ আসার আগে তিনি দেশের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নগদের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ব্র্যাক ব্যাংক-এর প্রধান ডিজিটাল কর্মকর্তা এবং ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেড-এর সিইও হিসেবে কাজ করেছেন। নতুন নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং দক্ষ কর্মীদল গঠনে তাঁর চমৎকার সাফল্য রয়েছে।

শিক্ষাজীবনে শ্যামল বরন দাশ ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, এমআইটি, কর্নেল ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পেশাগত ডিগ্রি ও সনদ গ্রহণ করেছেন।

ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের (উপায়) পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছে। পর্ষদের আশা, শ্যামল বরন দাশের দক্ষ নেতৃত্বে উপায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে গ্রাহকদের আরও আধুনিক ও উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবে।




শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার

দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার।

আজ সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্কুলে পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।

তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তিন মন্ত্রণালয় যথাক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বস্ত্র ও পাট এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

দেশীয় পাট শিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।

তিনি বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার দুটি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে। ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে এটি ভূমিকা রাখবে।




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ৯ ঘণ্টায় তিন সড়ক দুর্ঘটনা

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় পৃথক ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোররাত ৩টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এই সমস্ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে একপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা সার্ভিস রোডের রেলওভার ব্রিজের ঢালের মাওয়ামুখী লেনে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে প্রাইভেটকারের ড্রাইভার গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার নাম ঠিকানা জানা যায়নি।

এদিকে একই দিন সকাল ৭টার দিকে একই এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর রেলওয়ে ওভারব্রিজ সংলগ্ন সার্ভিস রোডে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক মেরামত কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও মালামাল বহনকারী একটি পিকআপের চাকা হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পিকআপে থাকা পাঁচজন শ্রমিক আহত হন।

আহতরা হলেন, আনিচুর রহমান (৪২), রবি মন্ডল (৪৪), ধনঞ্জয় মন্ডল (৪৭), অভি (২২) ও শফিক (৪০)। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

এর আগে রাত ৩টার দিকে শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় মাওয়ামুখী লেনে এক পথচারী রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এছাড়া সকালের ও দুপুরের দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, গভীর রাতে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এক ব্যক্তির নিয়ত হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে। নিহতের নাম পরিচয় সনাক্তের জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে অবহিত করা হয়েছে।




‘শাহজালাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। সোমবার (২০ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চাই। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা আপনাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের শুভ উদ্বোধন করছি, যা আমাদের আকাশসীমাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৮০ সালে এই কুর্মিটোলায় ঢাকার নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভিত্তি রচনা করেছিলেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পরিসরের সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”




জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অত্যন্ত মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।

তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।

পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।




সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না : সংসদে শিল্পমন্ত্রী

বর্তমানে বিশ্বে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সবগুলো ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দেশীয় সার উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে দেশের অধিকাংশ সার কারখানা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী আগামী পহেলা মে থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে এবং কারখানাটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়। জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব (সাবিক) হতে ২ লাখ মেট্রিক টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ফার্টিগ্রোব) হতে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সার কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল যেমন- রক ফসফেট, ফসফরিক এসিড ও সালফারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের পাশাপাশি সরাসরি উৎপাদনকারী দেশ মরক্কো, জর্ডান, ওমান, ইউএই, চীন ও মালয়েশিয়া হতে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে এসব কাঁচামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।




বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তারা সরকারের সঙ্গে মিলে একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। রাতের আঁধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ রাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যম এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গোপনে ভাড়া বৃদ্ধির বৈঠকের খবর এসেছে। এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নিকট অতীতে ৩ দফা জ্বালানি তেলের মূল্য ৩ টাকা হারে কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া কিলোমিটারে ৩ পয়সা হারে কমানো হয়েছে, ২ টাকা কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। এবার প্রতিলিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, আমলাতন্ত্রকে ম্যানেজ করে এর অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তায় কমবে, জনরোষ তৈরি হবে। তাই বাস মালিক সমিতিকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




৫ ব্যাংকের সঙ্গে বিডার চুক্তি

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অনলাইন একক সেবা প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিডার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত, সহজ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে বিডা ধারাবাহিকভাবে একক সেবা প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংককে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হলো, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন।

চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো হলো—ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এই সমঝোতার ফলে এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা একক সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিডার একক সেবা প্ল্যাটফর্মে ১৪২টি সেবা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে বিডাসহ ৪৭টি অংশীজন প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে এবং এখন পর্যন্ত দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নতুন পাঁচটি ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় সেবার পরিধি আরও বাড়বে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এখন পর্যন্ত বিডা মোট ৬৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

ভবিষ্যতে বিডা একক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৬০ প্রতিষ্ঠানের ১৫০টির বেশি সেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সব আইপিএগুলোর সমন্বিত একক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’-এর মাধ্যমেও উল্লেখিত সেবাসমূহ পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার পরিচালক (একক সেবা ও তথ্য বিশ্লেষণ) সুনীল কুমার অধিকারী।

এ ছাড়া একক সেবা পদ্ধতি সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিডার মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়।




জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ সীমিত রাখা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

সরকার জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ আগেই মূল্য সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তবে সরকারের তহবিলের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এ পদক্ষেপকে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন সরল সমীকরণ সব সময় প্রযোজ্য নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব আলোচনা কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের জনগণ, অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

আইএমএফ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল এবং এতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য নয়। যেসব শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণ করা হবে না।

তিনি জানান, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরো ছয়-সাত মাস রয়েছে। এরপর ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্তও সরকার নিজেই নেবে।

শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ফ্যামিলি কার্ড’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বহুপক্কীয় সংস্থাগুলোও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।

তিনি আরো জানান, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল সামনে বাংলাদেশ সফর করবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।

সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক দিকেই সামঞ্জস্য রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সরকার নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে, যাতে সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং জনগণ উপকৃত হয়।

অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই নির্ধারিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আলোচনা যেখানে গিয়ে দাঁড়াবে, সেখান থেকেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব, এটা সম্পূর্ণ আমাদের সিদ্ধান্ত।