বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত যে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, যা মধ্যস্থতাকারী কমিয়ে শ্রমিকদের খরচ হ্রাস করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফর এটি। আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন।

তিনি বলেন, তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

তারেক রহমান আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে আগ্রহী। আমরা রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-তে যোগ দিতেও আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক একীকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করে।

তারেক রহমান বলেন,আমি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় করেছি। আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি।




মুন্সিগঞ্জে চালু হলো দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার

আধুনিক ও যুগোপযোগী কারা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো ‘ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা’। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। রোববার (২১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় কারা অধিদপ্তর।

‘নিরাপদ লেনদেন, স্বচ্ছ হিসাব, আধুনিক সেবা’ -এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের নিরাপত্তা, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং লেনদেন ব্যবস্থায় আনা হয়েছে নতুন পরিবর্তন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক ও সুরক্ষিত এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাগারে বন্দিদের অবস্থান সহজেই শনাক্ত করা যাবে। একইসঙ্গে আরএফআইডি (আরএফআইডি) বন্দি ওয়ার্ডে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দিদের নির্ভুল গণনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নতুন এই ক্যাশলেস নিয়মে, বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনরা কারাগারে এসে তাদের জন্য যে অর্থ প্রদান করবেন, তা সরাসরি ভার্চুয়ালি বন্দির নির্দিষ্ট হিসাবে (অ্যাকাউন্ট) জমা হবে। এরপর বন্দিরা তাদের অনুকূলে থাকা আরএফআইডি (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা করতে পারবেন। ফলে কারাগারের ভেতরে বন্দি বা কর্মীদের মাঝে কোনো ধরনের নগদ টাকার (ক্যাশ) লেনদেন হবে না। একইসঙ্গে বন্দিদের সঠিক অবস্থান ও নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার হবে।

১. টাকা নিয়ে আগমন: বন্দির আত্মীয় বা স্বজনরা বন্দির জন্য টাকা নিয়ে কারাগারে আসবেন।

২. টাকা গ্রহণ ও হিসাবভুক্তকরণ: দায়িত্বরত কর্মকর্তা টাকা গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট বন্দির নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাবভুক্ত করবেন।

৩. ব্যাংকে জমা: সংগৃহীত নগদ টাকা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাংকে জমা করে দেওয়া হবে।

৪. অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট: সংগৃহীত টাকাটি বন্দির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা (ক্রেডিট) হয়ে যাবে।

৫. খরচ ও সেবা বাবদ পেমেন্ট: কারাগারের ভেতরে বন্দি ক্যান্টিনসহ যেকোনো সেবা বা খরচ বাবদ সব প্রকার লেনদেন এই অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।

৬. জামিনে মুক্তির পর অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন: বন্দি ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তার অ্যাকাউন্টের অবশিষ্ট টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন।




নেইমারকে কটাক্ষ ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের

চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুইটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। তবে চোটের কারণে এখনো মাঠে নামতে পারেননি দলের তারকা ফুটবলার নেইমার। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারেন।

এদিকে বিশ্বকাপ চলাকালীন নেইমারকে নিয়ে রসিকতা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। বেলো হরিজন্তেতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে বলেন, নেইমার এখন নাকি “ঘর থেকে কাজ করছে”—মানে এক ধরনের “ওয়ার্ক ফ্রম হোম ফুটবলার”।

দল নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লুলা আরও বলেন, তিনি ইন্টারনেটে দেখেছেন ভবিষ্যতে হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দল বানাতে হবে। তিনি আরও মজার ছলে যোগ করেন, “হয়তো একাদশে ১১ জন পেলে নিয়েই দল বানাতে হবে।”

লুলা বলতে চেয়েছেন, চোট থাকা একজন ফুটবলার, যাকে খেলানো যাবে না জানার পরও কেন জাতীয় দলে রাখা হয়েছে। তাও আবার বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায়। প্রেসিডেন্টের রসিকতাকে সমর্থন করছেন ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের একাংশও।




চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে সারা দেশে ‘রোল মডেল’ করতে চান রফিকুল ইসলাম বিপুল

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, অন্যায়মুক্ত এবং শতভাগ শিক্ষিত আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম বিপুল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে তিনি তাঁর এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান।

​নির্বাচনী প্রস্তুতি ও গণসংযোগকালে রফিকুল ইসলাম বিপুল বলেন,

​”এলাকাবাসী যদি আল্লাহর রহমতে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে এমনভাবে সাজাবো যা সারা বাংলাদেশের জন্য একটি রোল মডেল বা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

​দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড কৃষকদের অধিকার ও উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি—কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে।” চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চরমান্দালীয়ার কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকারি যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা রয়েছে, তার শতভাগ যেন সাধারণ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, ইউনিয়নে কোনো অভাব-অনটন বা ফসলি সংকট থাকবে না।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরো বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ না থাকলেও নিজের জন্মভূমি চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর। রফিকুল ইসলাম বিপুল বলেন,

​”আমার ইউনিয়নে কোনো ধরনের অন্যায়, অনাচার বা অত্যাচার বরদাশত করা হবে না। কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলিত না থাকে এবং ঝরে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে কাজ করব। পাশাপাশি চরমান্দালীয়া ইউনিয়নের শিক্ষার মান শতভাগ নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

​একটি শোষণমুক্ত, শিক্ষিত ও উন্নত চরমান্দালীয়া ইউনিয়ন গঠনে তিনি দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।




৯২% ইসরায়েলি মনে করেন যুদ্ধে ‘বিজয়ী ইরান

ইসরায়েলে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা ঘিরে জনমতের চিত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরানই এই সংঘাতের কৌশলগত বিজয়ী।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আগাম ইনস্টিটিউট পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯২.১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধ ও পরবর্তী চুক্তির ফলে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

একইসঙ্গে, ৮২.৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে এবং ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৭২.৫ শতাংশ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সেই দাবির প্রতি আস্থা রাখেন না, যেখানে তিনি বলেছিলেন—ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে এবং একটি অস্তিত্বগত হুমকি দূর করেছে।

পাশাপাশি ৮৭.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরায়েল হয় তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো ‘আংশিকভাবে সফল’ হয়েছে।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়েও জনমত বিভক্ত ও সমালোচনামুখর। জরিপ অনুযায়ী, ৫৬.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিল দুর্বল বা ব্যর্থ।

অন্যদিকে, দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা নীতির ভবিষ্যৎ দিক নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৪৮.২ শতাংশ ইসরায়েলি, হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান সমর্থন করেন, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ঝুঁকি থাকলেও।




যেভাবে গুম করা হয়েছিল বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন তিনি র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারের সঙ্গে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তখন তিনি জানতেন না কার বিষয়ে বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে “টার্গেট” কখন আসবেন তা জানতে চান। পরে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান এবং তিনি জিয়াউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন।

পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালেই ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মহাখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দিলে তিনি পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তা সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিয়মিতই সকালে অফিসে আসতেন।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউলের কাছে আরেকটি কল আসে। তখন তিনি বলেন, “তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।” পরে জিয়াউল ও ওই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল নাকি বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এভাবে করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ, তাহলে আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।

রোববার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।




মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, মালয়েশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ (মালয়েশিয়া ও চীন) সফরের আগে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রাখা হয়েছে। কুয়ালামপুরের এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং পরে উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।

মালয়েশিয়ায় দু’দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।




বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষের করদায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে : সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর–কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

 

তারা বলেছে, নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। কিন্তু ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা বলে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।




মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের দাবি, এই বিধিমালা কার্যকর হলে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাতসহ সামগ্রিক পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেন, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ ও রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তার অভিযোগ, কমিশনের একটি অংশ বাজারসংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বিধিমালাটি কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আদালতে বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অবসায়ন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। তবে পরে বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড আইন-২০২৫-এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী বাজারমূল্য বা লেনদেন মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তুলনা করে মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন বা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার কোনো আন্তর্জাতিক নজির নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারমূল্য কখনোই সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। প্রকৃত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন হওয়া উচিত ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং ভালো ও দুর্বল ফান্ড আলাদা করা সম্ভব হবে।

জহুরুল হক সতর্ক করে বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসায়ন বা ওপেন-অ্যান্ড ফান্ডে রূপান্তর করা হলে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে, যা পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, মেয়াদি ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে হবে। এতে সূচক পতনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিল করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া জরুরি।

সেমিনারে বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট একাই তাদের ফান্ড শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ প্রদান করেছে, যা এ খাতের সক্ষমতার প্রমাণ।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তাই বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বিএসইসির সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাতিল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান তারা।




বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

শনিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’




বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাজারে নেতৃত্ব দিতে উদ্ভাবন ও গবেষণার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব টেক্সটাইল বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং আগামীতে এই খাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হলে ব্যাপক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং গ্রিন টেক্সটাইল প্রযুক্তির টেকসই অভিযোজনের আহ্বান জানান।

আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এ আয়োজিত ‘৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিটিএসই-২০২৬)’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাত হচ্ছে রক্ত সঞ্চালনের মতো প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত, যার বড় অংশই নারী।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও কাঁচামালের ওপর আমাদের এখনো নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গবেষণার মাধ্যমে নতুন পথ খুঁজতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন বা এআই আমাদের পোশাক খাতের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে না। বরং এটি পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সৃজনশীল ডিজাইন তৈরি, বৈশ্বিক বিপণনে আমাদের সৃজনশীল আইডিয়া দিয়ে সহায়তা করবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টেক্সটাইল’ ও রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাচীন আমলের ঢাকার বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমাদের সেই সোনালী অতীতকে আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রক্ষায় সিনথেটিক বা পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বুটেক্স-এর ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ২০০৬ সালে কলেজ থেকে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা কেবল চাকরিজীবী নন, বরং অনেকেই সফল উদ্যোক্তা ও শিল্পপতি হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

এছাড়া টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা বিসিএস, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনীতিতেও সফলভাবে যুক্ত হচ্ছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মাধ্যমে টেক্সটাইল শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উত্থাপিত বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টেক্সটাইল বিজ্ঞানী মাইকেল কোকেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী দেশব্যাপী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুটেক্স-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করেন।




বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন বলেন, তার (বেনজীর) বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সেই দেশে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দেশটির সরকার দ্রুতই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।

এ সময় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধীদের নির্মূল করাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এই মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।

আগের যেকোনো সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার অনেক গতিতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটি এরই মধ্যে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

নির্বাচিত সরকার আসার পরে পুলিশ সদস্যরা এত বেশি দায়িত্ব পালন করছেন যে, তাদের প্রশংসনীয় কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া দল। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। তারকাবহুল কাস্টের কারণে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে। তবে মুক্তির আগে সালমান খানের সম্ভাব্য ক্যামিও নিয়ে যে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হচ্ছে না।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটিতে সালমান খানের কোনো বিশেষ উপস্থিতি বা ক্যামিও চরিত্র নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্রটির দাবি, সালমান খান বর্তমানে একাধিক পূর্বনির্ধারিত শুটিং ও পেশাগত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’–এর সঙ্গে তার যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, “সালমান এই মুহূর্তে নিজের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।”

মূলত অভিনেতা ও জনপ্রিয় কমেডিয়ান কৃষ্ণা অভিষেকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার সূত্রপাত। সম্প্রতি ‘লাফটার শেফস’ অনুষ্ঠানের সেটে পাপারাজ্জিদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা রহস্যময় ভঙ্গিতে ইঙ্গিত দেন যে, ছবিতে দর্শকদের জন্য বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সেই চমক হতে পারেন সালমান খান। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে ‘ভাইজান’-এর কোনো ক্যামিও থাকছে না।

তবে ক্যামিও না থাকলেও বিশাল তারকাবহুল এই কমেডি সিনেমা ঘিরে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। মুক্তির অপেক্ষায় এখন ভক্তরা।




আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন।

বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।




সম্পত্তি দখলে ​বাধা দেওয়ায় নারীকে শ্লীলতাহানি ও সাক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ

 

নরসিংদীর মনোহরদীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল এবং তাতে বাধা দেওয়ায় এক নারীসহ সাক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ মে (২০২৬) মনোহরদী বাজারস্থ বাইপাস রোডের ‘শাহীন প্লাজা’র ২য় তলায় এই ঘটনা ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পপি আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (মনোহরদী সি.আর মামলা নং- ২১৮/২০২৬ইং) দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন—স্থানীয় বিএনপি নেতা মো: আমিনুর রহমান সরকার দোলন (৫০), আ: জব্বার (৩০) এবং মো: মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।
​দলীয় ক্ষমতার দাপটে জবরদখল ও নৃশংসতা
​মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী পপি আক্তারের মালিকানাধীন শাহীন প্লাজার ২য় তলার মূল্যবান জায়গাটি আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদের প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছিল। ঘটনার দিন দুপুর অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় আসামিরা বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তি দখল করতে আসে।
​বাদী পপি আক্তার আসামিদের এই অবৈধ কার্যকলাপে বাধা দিলে ১নং আসামি আমিনুর রহমান সরকার দোলন ক্ষমতার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বাদীর ওপর চড়াও হন। তিনি বাদীর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান। এ সময় ২নং আসামি আ: জব্বার লোহার রড দিয়ে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পিঠে লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হন। ৩নং আসামি মোক্তার উদ্দিন তালুকদারসহ অন্যান্যরা বাদীকে এলোপাতাড়ি লাথি ও কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
​স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
​মারধরের একপর্যায়ে ১নং আসামি আমিনুর রহমান সরকার দোলন বাদীর গলা থেকে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এছাড়া ২নং আসামি আ: জব্বার বাদীর শ্লীলতাহানি করে তার কাছে থাকা নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
​সাক্ষীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি
​বাদীর চিৎকার শুনে ১নং সাক্ষী সুমাইয়া এবং ২নং সাক্ষী সাদিয়াসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে আসামিরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং মারধর করে। ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আসামিরা বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিলে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশ করা হবে।
​আইনের আশ্রয় ও বর্তমান অবস্থা
​গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বাদী ও সাক্ষীদের উদ্ধার করে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায়, বাদী বাধ্য হয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
​বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




রোহিঙ্গাদের জন্য ১.৪ কোটি ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত এক দশমিক চার কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

 

আজ (বৃহস্পতিবার) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর জানায়, অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা নানা ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আলো, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহজ অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন নারী ও শিশুরা। এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বাইরে যেতে হয় না, ফলে নিরাপত্তা বাড়ে এবং বন উজাড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সহায়তাকারী, যারা মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই সমাধানে জোর দেয়। জরুরি সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা এখনও অনেক প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫–২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকার, মানবিক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। চলতি বছরে এই পরিকল্পনার জন্য প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানানো হয়।




পর্যটনখাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে :  আফরোজা খানম

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, পর্যটন খাতে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে পর্যটন শিল্প অন্যতম। কিন্তু বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে পর্যটন শিল্প এখনো অনেকটা পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না?

জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন ও ব্র্যান্ডিংসহ পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যক্রম নিয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।

পর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিং এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা পর্যটন মন্ত্রীর লিখিত জবাব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো :

দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার
দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে আসছে। সোর্স মার্কেটসমূহে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, রোড শো ও বিটুবি সেশন আয়োজন, সোর্স মার্কেটের ট্যুর অপারেটর ট্রাভেল, এজেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন, বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রচার, আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রচার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সোর্স মার্কেটে প্রচার কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর এ সব কার্যক্রমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশন কার্যকর সহযোগিতা দিচ্ছে।

টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), ভিডিও, ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন : টিভিসি, ডকুমেন্টারি, ফটো প্রস্তুতের কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর ২৮টি ৩-৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারি রয়েছে যেখানে থিমভিত্তিক বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ভিত্তিক কার্যক্রম-এর জন্য ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ৫০০ এর অধিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করেছে যা বিউটিফুল বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি কম্পিটিশনের আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে ২০০টি ফটো ও ২ থেকে ৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৬০টি বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ভিত্তিক ভিডিও ডকুমেন্টারি সংগ্রহ করেছে যা প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার ও বিপণনে ডিজিটাল মার্কেটিং
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন : ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (পূর্বতন টুইটার), লিংকডইন ও ইন্সটাগ্রামে ফটো ও ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি প্রমোশনাল ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন
বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল রাইটার, ইনফ্লুয়েন্সার, ব্লগার ও সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন ও দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন করা হচ্ছে।

হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, খাবার পণ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিটুবি সেশন আয়োজন
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে বিদেশি ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশি ট্যুর অপারেটর নিয়ে বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের ৯৭ জন ট্যুর অপারেটর ও বাংলাদেশের ১২৫ জন ট্যুর অপারেটর এবং হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স ও টুরিস্ট ভেসেলের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বিটুবি মিটিং আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীগণ তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও পর্যটন আকর্ষণ আগত ট্যুর অপারেটরদের নিকট তুলে ধরে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসসমূহের মাধ্যমে পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রচার
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহ তুলে ধরতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে দেশের পর্যটন আকর্ষণ, পণ্য ও সেবা বিষয়ক লিফলেট, ব্রশিউর, টুরিস্ট ম্যাপ, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার, ব্রান্ডবুক ও টিভিসিসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি পর্যটকদের নিকট দেশের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিষয়ক তথ্য দেওয়া ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের পর্যটন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অফিস বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি নামক একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজমেন্ট, হাউজ কিপিং, ট্রাভেল ট্যুরিজম অ্যান্ড টিকিটিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স বা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে আলোকে সরকার পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে ও দোভাষী হিসেবে দক্ষতা উন্নয়নে গাইডদের বিদেশি ভাষার ওপর এবং সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন শিল্পের (ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিক) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীজন পরিচিতিমূলক সভা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটিতে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ইন্টার্নশিপ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেলিয়ার, ক্রুজ শিপের কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডর, সিবিটি কর্মী, হোমস্টের পরিবার, ইউএন ভলেন্টিয়ারদের সেবা দেওয়া ও দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।




১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৃহস্পতিবার আমিরাতের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো যেসব দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি।

মন্ত্রিসভার এক প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই ১৫ বছরের কম বয়সীদের তৈরি করা অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হলে আমিরাতে সেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১২ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এই কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি, ব্যবহার কিংবা পরিচালনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

‌‌‘‘তারা এসব প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বা ফিচার ব্যবহারের সুযোগও পাবে না। এই শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান, পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার করা এবং কোনও পাবলিক গ্রুপ, ওপেন চ্যানেল বা বড় কোনও ইন্টারেক্টিভ স্পেসেও যুক্ত হতে পারবে না।’’

গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর আরও কয়েকটি দেশ এই পথ অনুসরণ করে। এর মধ্যে ব্রিটেনও চলতি সপ্তাহে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ডব্লিউএএম বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে কোনও প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সতর্কবার্তা পাঠানো, প্ল্যাটফর্মটিকে আংশিক বা পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া কিংবা প্রযোজ্য প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা।

সূত্র: এএফপি।




ঢাকায় টেক্সটাইল খাতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু

দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, নতুন সোর্সিং সুযোগ সৃষ্টি ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্রদর্শনী ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের বস্ত্র প্রস্তুতকারক, ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি, সোর্সিং বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ ভগত, টেক্সপ্রোসিলের জয়েন্ট ডিরেক্টর মুরালি বালকৃষ্ণ, বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সপোর্ট উইং প্রধান আব্দুর রহিম খান বলেন, ‌‘উদ্ভাবন, কমপ্লায়েন্স এবং দক্ষ মানবসম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও টেক্সটাইল সোর্সিংয়ের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। ইনটেক্স বাংলাদেশের মতো প্ল্যাটফর্ম এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজেশ ভগত বলেন, ইনটেক্স বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো শিল্পখাতকে বৈচিত্র্যময় পণ্য, মানসম্পন্ন সরবরাহকারী এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। বাংলাদেশ আজ শুধু একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং বৈশ্বিক বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের কৌশলগত অংশীদার।

আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানসহ ১২টির বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চারটি প্রদর্শনী হলে বিস্তৃত এ আয়োজনে ফাইবার, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, কৃত্রিম তন্তু, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, কমপ্লায়েন্স সল্যুশন, ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি এবং টেকসই বস্ত্র উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ‘ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’। টেক্সপ্রোসিল, মেটেক্সিল ও পিডেক্সসিলের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্যাভিলিয়নে ৭৫টির বেশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারা তুলা, ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), টেকসই ফেব্রিক এবং মূল্য সংযোজিত সোর্সিং সমাধান তুলে ধরছে।

 

এছাড়া ‘চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়ন’-এ চীনের বিভিন্ন প্রধান উৎপাদন অঞ্চল থেকে ৭০টির বেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারা ফ্যাশন ফেব্রিক, ফাংশনাল ম্যাটেরিয়াল, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পোশাক সংশ্লিষ্ট অ্যাকসেসরিজ প্রদর্শন করছে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্যাভিলিয়ন’, যেখানে তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানের প্রদর্শকরা উন্নত টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্স ফেব্রিক উপস্থাপন করছেন।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি হল-৪-এ ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ’-এর আওতায় বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্কেলিং সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্রস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনস’ এবং ‘ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স’ শীর্ষক সেশন। এসব আলোচনায় ট্রেসেবিলিটি, টেকসই উৎপাদন এবং বিশ্ব পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।

 

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, হংকং, চীন, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিনিধি ও সোর্সিং পেশাজীবীরা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ ও নতুন রপ্তানি সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই আইনজীবীর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের পদ বাতিল করা হয়।

পদ হারানো দুই আইনজীবী হলেন, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। তারা উভয়ে শিবির নেতা জিসানের পক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু ঢাকা পোস্টকে এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, এ অনুবিভাগের গত ২৯-১০-২০২৪ তারিখের নং-সলিসিটর/জিপি-পিপি (কুমিল্লা) ২৫/২০২৪ (অংশ-ক) -১৫১ সংখ্যক স্মারকমূলে কুমিল্লা জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত (১) মনির হোসেন পাটোয়ারী, পিতা: মৃত আইয়ুব আলী ও (২) সাইদুল ইসলাম, পিতা: মৃত আলী আশ্রাফ এর নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। এ আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাকে কিছুক্ষণ আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা উভয়ে সরকারি আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে আসামির পক্ষে কেউ যেতে পারে না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো সময় যে কারো নিয়োগ বাতিল করতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে দুজন এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সে দুইজন আইনজীবী আসামির পক্ষে ওকালতনামা নেননি। তারা আসামি জিসানের পক্ষে আদালতের সামনে থেকে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেছেন। এছাড়া জিসানের পক্ষে ওকালতি করেছেন তার নিজের ভাই। এ দুজন পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।

পদ হারানো এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী ও সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

১৬ জুন বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।




গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করতে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে গণমাধ্যম খাতে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, চলমান এ প্রক্রিয়ায় সরকার সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ গণমাধ্যম খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে সেগুলো সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন অংশীজন, সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে কর্মশালায় মতবিনিময় করা হয়।




অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের রকেট গতি, ১২ বছরে বেড়েছে ৫৫ গুণ

এক সময়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ভারত ছিল শীর্ষে। এখনো তাদের অবস্থান ওপরের দিকেই।

তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বৈশ্বিক বাজারের খেলাটা ঘুরিয়ে দিতে চাইছে ভারত। চমক জাগানো সব তথ্য নিশ্চিত করছে, ভারত ঠিক পথেই এগোচ্ছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান এখন ১৯তম। ভারত এখন বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।

বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে উদীয়মান রপ্তানিকারক দেশে বদলে যাওয়ার গল্পটা আসলেই চমকপ্রদ। আর এই সাফল্য এসেছে পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ উদ্যোগে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় ছিল ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি, যা তাদের জন্য রেকর্ড। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।

তার মানে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় তিন গুণ বেড়েছে। এক দশক আগে, মানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি রুপি। ১২ বছরে এটা ৫৫ গুণ বেড়েছে, শতাংশের হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ ভাগ! মানতেই হবে একযুগে প্রতিরক্ষা রপ্তানি খাতে যুগবদল হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ভারতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত এখন প্রতিরক্ষা।

প্রতিরক্ষা রপ্তানির রকেট গতির পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও জ্বালানি জুগিয়েছে। রেকর্ড রপ্তানিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর অবদান ২১ হাজার ৭১ কোটি রুপি, আর বেসরকারি খাতের অবদান ১৭ হাজার ৩৫৩ কোটি রুপি। রপ্তানিতে রেকর্ডের পাশাপাশি রেকর্ড হয়েছে উৎপাদনেও। গত অর্থবছরে ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রবৃদ্ধির যে ধারা, তাতে এ লক্ষ্যমাত্রা খুব অর্জনযোগ্য।

একসময় ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ছিল হাতেগোনা কয়েকটি বড় কম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এখন স্টার্টআপ, এমএসএমই, বেসরকারি উৎপাদক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করছে। ভারতের অন্তত ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান এখন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে।

আগে ভারত কেবল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বা ছোটখাটো যন্ত্রাংশ রপ্তানি করত। এখন সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে হাইটেক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার, কামান, রকেট লঞ্চার, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও ভেসেল, সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, সেন্সরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বহুমুখী সামগ্রী।

রপ্তানিতে রেকর্ড হলেও ভারতের সামগ্রিক রপ্তানিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অবদান এখনো সামান্যই। কিন্তু সংখ্যার চেয়ে এখানে কৌশলগত গুরুত্বটা অনেক বেশি। এই সাফল্য আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে আরো দৃঢ় করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল উৎপাদন পরিমাণের মধ্যে সীমিত রাখলে সামনের চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে না। এখন মনোযোগ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি থেকে সরিয়ে সক্ষমতার গভীরতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। ভারতের সবচেয়ে বড় সুযোগ এখন নিজস্ব নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকর্ষ, উন্নত উপকরণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করার মধ্যেই নিহিত।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানির রেকর্ড রাতারাতি হয়নি, আকাশ থেকেও পড়েনি। সরকারের ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় নিবিড় মনোযোগ, পণ্য বৈচিত্র্য, সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তরিক চেষ্টার হাত ধরেই এসেছে এই সাফল্য।




দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও সনি লাইটিয়া ক্যামেরাসহ বাজারে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো

গ্লোবাল ইনোভেটিভ এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো, যা জনপ্রিয় স্পার্ক সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন। ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের প্রটেকশন, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং স্মার্ট এআই সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি এই স্মার্টফোনটি আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আনা হয়েছে।

স্পার্ক সিরিজের সফলতার ধারাবাহিকতায় টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে যুক্ত করা হয়েছে এমন কিছু ফিচার, যা এই সেগমেন্টের স্মার্টফোনে কম দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে আইপি৬৮/আইপি৬৯ ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, সর্বোচ্চ ৬ মিটার পানির গভীরতায় যা সার্ভাইভ করতে পারবে, ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং, ৫০ মেগাপিক্সেল সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসর, ১২০ হার্জ ডিসপ্লে এবং টেকনো এআই সুবিধা।

দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ সার্টিফায়েড সুরক্ষা, যা ডিভাইসটিকে ধুলাবালি ও পানির প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।  এছাড়াও, সর্বোচ্চ ৬ মিটার গভীর পানির মধ্যেও ডিভাইসটি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে সক্ষম, যা আন্ডারওয়াটার ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা যোগ করে।

শুধু পানি থেকে সুরক্ষাই নয়, টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে এসজিএস ফাইভ-স্টার প্রিমিয়াম ড্রপ রেজিস্ট্যান্স এবং ৩৬০ ডিগ্রি ড্রপ প্রোটেকশন, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে অনাকাঙ্ক্ষিত পড়ে যাওয়া বা আঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। এছাড়া টি-গার্ড প্রোটেকশন সিস্টেম ডিভাইসটির নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুরক্ষিত স্পার্ক স্মার্টফোনগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত করে। যারা সারাদিন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।

টেকনোর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিটি ১,৯০০টিরও বেশি চার্জিং সাইকেলের পরেও ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, যা দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে।

ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ মেইন ক্যামেরা, যা বিভিন্ন লাইটিং কন্ডিশনে চমৎকার ডিটেইল ধরে রাখতে সক্ষম। এছাড়া ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ক্লিয়ার সেলফি এবং উন্নত ভিডিও কলিং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। ভ্রমণ, প্রতিদিনের মুহূর্ত কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরিতে ক্যামেরা সিস্টেমটি একটি ভার্সেটাইল ফটোগ্রাফি এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে।

মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসরচালিত টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো মাল্টিটাস্কিং, গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ডেইলি ইউজে স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।

স্মার্টফোনটি ২৪ জিবি ডাইনামিক র‍্যাম (৮ জিবি র‍্যাম + ১৬ জিবি এক্সটেন্ডেড র‍্যাম) এবং ১৮ জিবি ডাইনামিক র‍্যাম (৬ জিবি র‍্যাম + ১২ জিবি এক্সটেন্ডেড র‍্যাম) – এই দুই সংস্করণে পাওয়া যাবে। উভয় সংস্করণেই রয়েছে ১২৮ জিবি স্টোরেজ।

স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্জ ডিসপ্লে, যা স্মুথ স্ক্রলিং এবং ইমার্সিভ ভিউয়িং এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ডিটিএস সাউন্ডসমৃদ্ধ ডুয়াল স্পিকার এবং অল-সিনারিও নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য আরও রিচ অডিও এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করে, যা বিনোদন ও ভয়েস কমিউনিকেশনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-তে রয়েছে ওয়ান-ট্যাপ সামারাইজেশন, এআই ফ্ল্যাশমেমো, এআই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই প্রবলেম সলভিং, এআই রাইটিং, এআই হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই স্মার্ট স্কেডিউলিং-সহ বিভিন্ন এআই সুবিধা। এছাড়া ফ্রিলিংক ২.০ এবং টাচ ট্রান্সফার উইথ আইফোন ফিচার বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে আরও সহজ ও স্মুথ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করে।

টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো এখন দেশজুড়ে টেকনোর সকল ব্র্যান্ড আউটলেট ও রিটেইল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে এবং স্মার্টফোনটির মূল্য শুরু হচ্ছে ২৬,৯৯৯ টাকা থেকে (ভ্যাট প্রযোজ্য)।




দেশে গম চাষের আওতায় ২ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে : কৃষিমন্ত্রী

সারা দেশে বর্তমানে গম চাষের আওতায় ২ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমির রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস‌্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কৃষিমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বৃহস্পতিবারের (আজ) প্রশ্ন উত্তরে টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সারা দেশে বর্তমানে গম চাষের আওতায় ২ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমির রয়েছে। গম চাষ বাড়ানোর জন্য সরকার উল্লিখিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনাগুলো হলো- প্রধান প্রধান গম উৎপাদন এলাকায় নতুন এবং উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ জোরদার করা; ধান ভিত্তিক ফসল ধারায় (ধান-গম-পাট, ধান-গম-মুগ ডাল) গমকে অন্তর্ভুক্ত করা। উত্তরাঞ্চলের হালকা বুনটের মাটির জন্য অধিক লাভজনক চার ফসল-ধারা ‘আগাম আলু-গম-ভুট্টা-আমন ধান’ জনপ্রিয়করণ।

অপ্রচলিত এলাকা যেমন : দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা প্রবণ এলাকা, সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি, চরাঞ্চল, বরেন্দ্র এলাকা, পাহাড়ি সমতল এলাকা, তামাক চাষের জমি ইত্যাদি এলাকায় গমের আবাদ সম্প্রসারণ। হেক্টরপ্রতি ৬টন বা এর অধিক ফলন প্রদানে সক্ষম গমের জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ। গমের আধুনিক উৎপাদন ও রোগ বালাই ব্যবস্থাপনা, বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করা। গমের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের থেকে গম ক্রয়।

দেশে পথ চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর কৃষকদের প্রণোদনার সাবাসে সার, বীজ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনার মাধ্যমে ৬৪জেলার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ জন কৃষককে ১ বিঘা জমির জন্য ১০ কেজি পর বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার সহায়তা দেওয়া হয়।




জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক।

বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।

বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলÑ রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ও সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় এবং সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রায় গণমাধ্যম কীভাবে সহযাত্রী ও সহযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রয়োজন। গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সরকার ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এমন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই যা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। এই কমিশনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।‘

মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

তথ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর কর্মশালার মূল অধিবেশনে উপদেষ্টার উপস্থাপিত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে উপস্থিত গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে স্ব-স্ব মতামত, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।




প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।​একই মামলায় আত্মসমর্পণ করা অপর তিন আসামি আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।​এর আগে আদালতের সমন উপেক্ষা করায় বুধবার (১৭ জুন) আহমেদ জোবায়েরসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আজ চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আহমেদ জোবায়েরসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ১০ মে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে ১৭ জুনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।​নির্ধারিত তারিখে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলায় পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন- আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী এবং সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন দাবি করেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে।

​আসামিপক্ষের ভাষ্য, সময় মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে বাদী মোবারক হোসেন প্রতিশোধমূলকভাবে এই মামলা করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং তারা তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়।

তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলেও বাকি তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।




এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনোরকম প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ছাড়াই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে আগামী ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘শহর এবং গ্রামের শিক্ষার মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনতে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।’

তিনি জানান, মূল শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলাসহ সৃজনশীল শিক্ষার দিকে সরকার আগাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আগামী ২০ জুন আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

 




বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা চীনের সঙ্গে বিসিসিসিআই’র দুই সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা, রেনমিনবি (আরএমবি/ইউয়ান) ভিত্তিক বাণিজ্য সহজ করা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে ১১ থেকে ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো ও ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায় অংশ নিয়ে এসব সমঝোতা স্মারক সই করে সংগঠনটি।

বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এক্সপোতে অংশ নেয়।

বুধবার (১৭ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনের মতো বৃহৎ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমানের, মূল্য সংযোজিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও কৌশলগতভাবে অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।

এবারের এক্সপোতে বাংলাদেশ ছিল ‘থিম কান্ট্রি’। বিসিসিসিআই’র উদ্যোগে আমানত শাহ গ্রুপ, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আইমান এগ্রো লিমিটেড, এমএম ট্রেড এবং বিসিসিসিআইসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সমন্বয়ে বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়নে ১০০টিরও বেশি বাংলাদেশি কোম্পানি তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।

এক্সপোর প্রথম দিন ১১ জুন বিসিসিসিআই চীনের ব্যাংক অব হুজৌ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ব্যাংকটির প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনে সহায়তা করবে বিসিসিসিআই। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধি, রেনমিনবি ভিত্তিক বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করা, বাণিজ্য নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা এবং লেনদেন ব্যয় কমানোর উপায় অনুসন্ধান করা হবে।

একই দিন চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টসের (সিসিসিএমই) সঙ্গেও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।

১২ জুন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, কুনমিংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদ আলী খান সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন। এ সময় বিসিসিসিআই সভাপতির উপদেষ্টা ফাইজুল আলম বিদ্যুৎ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা করেন।

উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও পাদুকাশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কারিগরি জনশক্তি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ই-কমার্সসহ সাতটি অগ্রাধিকার খাত তুলে ধরা হয়। বিসিসিসিআইর মতে, এতে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগে কাজ করার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এক্সপো চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়ন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের পণ্যের মান, ব্র্যান্ডিং, বাজার সম্প্রসারণ এবং চীনা বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।




সিটি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নারী-পুরুষ উভয়ে আবেদন করুন

সিটি ব্যাংক পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি ব্রাঞ্চ, রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগ ট্রানজেকশন সার্ভিস পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গতকাল ১৭ জুন থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এক নজরে সিটি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম
সিটি ব্যাংক পিএলসি
চাকরির ধরন
প্রকাশের তারিখ
১৭ জুন ২০২৬
পদ সংখ্যা
১টি
লোকবল নিয়োগ
নির্ধারিত নয়
চাকরির খবর
আবেদন করার মাধ্যম
অনলাইন
আবেদন শুরুর তারিখ
১৭ জুন ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ
২৩ জুন ২০২৬
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
আবেদন করার লিংক
অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম: সিটি ব্যাংক পিএলসি
পদের নাম: ট্রানজেকশন সার্ভিস
বিভাগ: ব্রাঞ্চ, রিটেইল ব্যাংকিং
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ বছর

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৩২ বছর

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: ৩০,০০০ টাকা (মাসিক)
অন্যান্য সুবিধা: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬




নারী-শিক্ষার্থী-তরুণদের জন্য ৫ প্রোডাক্ট আনলো মেঘনা ব্যাংক

মেঘনা ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচটি রিটেইল ব্যাংকিং প্রোডাক্ট উদ্বোধন করেছে।

উদ্বোধন করা প্রোডাক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—নারী গ্রাহকদের বিশেষ সঞ্চয়ী হিসাব ‘শ্রেয়সী’ (Sreyoshi); রিটেইল সঞ্চয়কারীদের জন্য ‘রেগুলার ডিপিএস’ (ডিপোজিট পেনশন স্কিম); শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য ফ্লেক্সিবল ব্যাংকিং সল্যুশন ‘ইয়াংস্টার’ (Youngster) ও ‘ইয়াংস্টার প্লাস’ (Youngster Plus); এবং শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ওভারসিজ এডুকেশন ফান্ড সার্ভিস ‘মেঘনা আরোহী’ (Meghna Arohi) – স্টুডেন্ট ফাইল সার্ভিস)।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই রিটেইল প্রোডাক্টগুলো নতুন আঙ্গিকে উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম এবং ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০১ মোবাইল ফিরিয়ে দিলো পুলিশ

চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খোয়া যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে নগরের নাসিরাবাদে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়াবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হারানো সম্পদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় জেলার ১৭টি থানায় মোবাইল হারানোর ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরিগুলো (জিডি) পর্যালোচনা করা হয়।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা পুলিশের জন্য আনন্দের বিষয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা, হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




বর্জ্য অপসারণ এখন ডিএসসিসির এক নম্বর অগ্রাধিকার : প্রশাসক

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমানে দ্রুত বর্জ্য অপসারণই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার (১৭ জুন) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির মোট ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হস্তান্তর করা হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজটি করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। নাগরিকদের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে ময়লা তোলা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আগামী বছর বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এবারের ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে এবার নগরবাসী দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসক জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে। এছাড়া, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




হঠাৎ কেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের জন্য টাকা নিচ্ছে মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রায়ই ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশন আপগ্রেড করতে বিভিন্ন ধরনের নোটিফিকেশন দিয়ে থাকে। মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মেটা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামেও সাবস্ক্রিপশন চালু হয়েছে। ব্যবহারকারীদের এটি ব্যবহারের জন্য অথ্য খরচ করতে হচ্ছে।  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।  

বুধবার (১৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই চ্যাটবটসহ মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স) ব্যবহারকারীদের জন্যও নতুন সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে। ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং ফেসবুক প্লাস নামে এ সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে। এছাড়া মেটা আরও উচ্চতর স্তরের সাবস্ক্রিপশনও পরীক্ষা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাকারবার্গ অন্যদের তুলনায় এআই জগতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি পূর্বাভাসযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। এআই আসার পর পর কন্টেন্ট খোঁজ করার এবং ব্যবহারের ধরন যখন বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মেটা মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নেতিবাচক মনে হতে পারে।

ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজ বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে বছরে মেটার ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে।  ডয়চে ব্যাংকের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আগামী বছর সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মেটা বলছে, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল। প্রতিষ্ঠানটি দুই দশকেও বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসাকে বিস্তৃত করতে পারেনি। অন্যদিকে গুগল বিজ্ঞপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগে বিজ্ঞাপনের বাইরে যা আয় করত, মেটা গত বছরও সেই পরিমাণ আয় করতে পারেনি। এসব কারণে জাকারবার্গ এ ধরনের তৎপরতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।

এআই বিশেষজ্ঞ এবং এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী বলেন, মেটার এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত সাময়িক জোড়াতালি দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, মেটার পেইড প্লানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআইতে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনতে চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরও বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি




দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সংসদে কুমিল্লা -৪ আসনের এমপি এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫,১৩৬ (পুরুষ ৪৩,১০৭ এবং মহিলা ২,০২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৬,১১৩ জন (পুরুষ ৭৪,০৩৬ এবং মহিলা ২,০৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ।

তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি আটক থাকায় কিছু কিছু কারাগারে বন্দিদের আবাসন সমস্যা বিরাজ করছে। বন্দি আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরাণীগঞ্জ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২, পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শীঘ্রই চালু করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। উল্লিখিত ৪টি কারাগারের নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরো ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৪৮ হাজার ৯১ জনে উন্নীত হবে।

এছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে; যা বাস্তবায়িত হলে ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।




পুলিশের পর সাংবাদিক হয়ে ফিরছেন অপূর্ব

বছর দুয়েক আগে ওটিটিতে দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে। শিহাব শাহীনের ‘গোলাম মামুন’ সিরিজের নাম ভূমিকায় পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। দুই বছর পর ওটিটিতে ফিরছেন অভিনেতা। এবার তিনি সাংবাদিক। সিরিজের নাম ‘হেডলাইন’। বানিয়েছেন সালেহ সোবহান অনীম।

২৫ জুন হইচইতে মুক্তি পাবে সিরিজটি। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে ট্রেলার। তাতে আঁচ করা যায়, সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, সিস্টেমের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা দিক উঠে আসবে এতে। সেই সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সংকট ও মানবিক টানাপোড়েনও থাকবে সমান্তরালে।

৮ পর্বের এ সিরিজে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ইয়াশ রোহান, আফসান আরা বিন্দু, সারিকা সাবরিন, ফারহানা হামিদ, শ্যামল মাওলা, রাই রাজন্যা, অর্নিল বিরল, মনিরুল ইসলাম রুবেল, আমিনুর রহমান মুকুল, এ কে আজাদ সেতু, সাহানা রহমান সুমি, আরিফিন জিলানী জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেক।

‘হেডলাইন’-এ সাংবাদিক জহির চরিত্রে আছেন অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘জহির চরিত্রটার একটা দারুণ গ্রাফ আছে। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায়। কখনো সে খুবই আবেগপ্রবণ, আবার কখনো বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। একজন অভিনেতা হিসেবে এই ধরনের বহুস্তরীয় চরিত্র সবসময়ই আমাকে আকৃষ্ট করে।’

সিরিজটির মাধ্যমে তিন বছর পর আবারও ওটিটিতে প্রত্যাবর্তন করছেন আফসান আরা বিন্দু। তিনিও ভীষণ অপেক্ষায় আছেন সিরিজটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখার।

অন্যদিকে ইয়াশ রোহানের মন্তব্য এমন, ‘চরিত্রটার জন্য আমি পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই অপেক্ষা করেছি। সামিউল এমন একটা চরিত্র যেখানে অভিনয় করতে গিয়ে আমি ইয়াশ থাকিনি, হয়ে উঠেছিলাম সামিউল। এই চরিত্রটির জন্য আমি হার্ট অ্যান্ড সোল দিয়েছি। আশা করি, দর্শকরা সামিউলের গল্প ও অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের কানেক্ট করতে পারবেন।’




বাজেটে প্রতিরক্ষা ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত : ড. মিজানুর রহমান

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষিখাতে যথাযথ বাজেট বরাদ্দ হয়নি বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং সেন্ট্রাল ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিচ স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান। তার মতে, বর্তমান প্রতিরক্ষা নীতি এবং সামরিক বাজেট অপ্রতুল। আর কৃষিখাত বাজেটে অনেকটা উপেক্ষিত হয়েছে। এই খাতে আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে অবস্থিত ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট : উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে আলোচক হিসেবে তিনি এমন বক্তব্য দেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নীতি অনেকটা ভারতকেন্দ্রিক হয়ে আছে, যা শক্তির পরিবর্তে পরনির্ভরশীলতা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটে সামরিক খাতের জন্য ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এর সিংহভাগই ব্যয় হয় বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক কাজে। প্রকৃত সামরিক সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে একটি আধুনিক এয়ারক্রাফট কেনাও সম্ভব নয়।

তবে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কাছ থেকে ড্রোন ও এয়ারক্রাফট সংগ্রহের জন্য ২৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেট আলোচনার বিষয়টিকে তিনি একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখন করেন। পাশাপাশি বাজেটে সামরিক বরাদ্দ আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান এই বিশ্লেষক।

ড. মো. মিজানুর রহমান বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেটে কৃষিখাতে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়। বর্তমান সরকার মুখে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো কথা বললেও বস্তুতপক্ষে সার্বিক বাজেট গ্রোথের সঙ্গে এই খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে। এ বছর জাতীয় বাজেট ১৭-১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কৃষিখাতে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ৬ শতাংশ, যা মূলত কৃষকদের ঠকানোর শামিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৃষিখাতে ১৭-১৮ হাজার কোটি টাকার যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, তার বড় একটি অংশই মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যায়। সাধারণ কৃষকরা এই সুবিধার খুবই সামান্য পায়। এক্ষেত্রে অমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা সমালোচনা করে বিশ্লেষক বলেন, ব্যক্তিগত আয়কর সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭৫ লাখ টাকা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তার মতে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, ফলে এই বৃদ্ধি কোনো কাজে আসছে না। উপরন্তু ট্যাক্স স্ল্যাব বা ধাপ পরিবর্তনের মাধ্যমে করের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগের হিসেবে ৫ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে যেখানে ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতো, নতুন নিয়মে সেখানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানত প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার চেয়ে ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ বা ‘উচ্চাভিলাষের’ প্রতিফলনই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং উচ্চাভিলাষী। একইভাবে, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে এটি সব সময় ১ শতাংশের নিচেই অবস্থান করে। এছাড়া বর্তমানে মূল্যস্ফীতি যেখানে ১০ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে বাজেটে এটি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যটিও অর্জন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক বরাদ্দ, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অর্থনীতিতে মুদ্রার প্রবাহ বাড়িয়ে দেবে। এই বাড়তি অর্থপ্রবাহের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমানো মোটেও সহজ হবে না।

ড. জুবায়ের আহমেদ আরো বলেন, এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের মধ্যে গ্যাপ বা ব্যবধান বাড়ছে। এনবিআরের বর্তমান সক্ষমতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব এবং করের আওতা বাড়ানোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক বছরের মধ্যে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ কমানোর দাবি করলেও ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের জন্য এই ব্যয়বহুল বৈদেশিক ঋণ শেষ পর্যন্ত বিদেশের প্রতি নির্ভরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ার বা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।

এই বিশ্লেষক বলেন, উন্নয়নের অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অর্থনীতি এবারের বাজেটে ভৌত অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ‘সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা জনকল্যাণমূলক খাতে গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাজেট মূলত ভোটার বা নাগরিকদের সন্তুষ্ট করার একটি প্রবণতা এবং এটি মূলত একটি সিটিজেন সেন্ট্রিক বা নাগরিক-কেন্দ্রিক বাজেট হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

নীতি নির্ধাকরদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এনবিআরের সক্ষমতার সাথে মিল রেখে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা, ভৌত অবকাঠামো এবং সামাজিক খাতের বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ করা অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।




স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে্ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

সাক্ষাৎকালে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন‌।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে একই সঙ্গে সরকার জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকেও সুরক্ষা দিতে চায়। এজন্য একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি ড্রাফট কমিটি গঠন করা হবে যারা একটি ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করেই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।




জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না আমরা। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যকে পরিবর্তন করব।

তিনি বলেন, আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লাখো শুকরিয়া জানাই যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন, আজকে আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হবিগঞ্জের জনসভা থেকে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবে এই কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা সব নারী শ্রমিকসহ চা বাগানের সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো।

আগামী এক বছরে ৪০ লাখ পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড এবং একইভাবে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটকে কেউ কেউ ‘গণবিরোধী’ ও ‘চানাচুরের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন—এর সরাসরি জবাব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেই বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট। এখন জনগণের জন্য যেই বাজেটের সব ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরেই হোক, বাইরেই হোক, তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এই সব লোকেরা, এই সব দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।

তিনি বলেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।

মৌলভীবাজারের উন্নয়নে বিএনপির অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ দেখেছেন, খোঁজ করে দেখুন, এগুলো সব বিএনপির, মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় এই কাজগুলো হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা। বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা।




বাজারে চাল ও নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

হুট করে ঢাকার দুটি বাজার পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তারা ওই সময় বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল পেয়েছেন। সরবরাহও ছিল স্বাভাবিক।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বাদামতলীর পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজার কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেছিলেন দুই মন্ত্রী। পরিদর্শন থেকে ফিরে দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটা প্রেস ব্রিফিং করেন তারা।

ওই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) একটি পত্রিকায় চালের দাম বেড়েছে এমন খবরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা বাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা চালের পাইকারি বাজারে তেমন কিছু পাইনি। আমরা দেখেছি, চালের দাম এক থেকে দেড় টাকা কম-বেশি আছে। বিক্রেতারা আমাদের জানিয়েছেন, মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা দাম বাড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন বাজার সাড়া না দেওয়ার কারণে বরং কমে এসেছে।’

মন্ত্রী বলেন, সবমিলে আমরা দেখেছি, চালের মুল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। মানভেদে ২/১ টাকা দামের কম-বেশি আছে। তবে সেটা স্বাভাবিক। নতুন ও পুরনো চালের মধ্যে এমন কমবেশি থাকেই।

তিনি বলেন, এরপর আমরা নয়া বাজারে খুচরা বাজারে গিয়েছি। সেখানে নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল দেখেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু এখন নয়, গত রোজার পর থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল আছে। আমরা শুধু বিশ্ববাজারে দাম সমন্বয় করার জন্য সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছি। এছাড়া অন্য কোনো পণ্যের দামে কোনো অস্থিরতা নেই।

মন্ত্রী বলেন, এ বছর বাজেট পরবর্তীতেও বাজারে কোনো অস্থিরতা ছিল না।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারের কাছে আপদকালীন মজুত থাকার কথা ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য। সেখানে আমাদের মজুত আছে ২০ লাখ টন। পাশাপাশি সন্তোষজনক সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি বা সমস্যা নেই।