মালয়েশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী ‘এসইএকেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের সক্রিয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্প‌তিবার (২১ মে) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জা‌নি‌য়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, ২০–২২ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ দাতো হাজা হানিফা হাজার তৈয়ব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের নয়টি দেশের ১০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

ডেপুটি মিনিস্টারকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বুথে স্বাগত জানান হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া, এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেড পৃথক বুথে ওষুধপণ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করছে।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

পরবর্তী সময়ে হাইকমিশনার এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেডের বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মেলার প্রথম দিনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিগণ বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন।

এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়াসহ সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধপণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫% কর আরোপের চিন্তা সরকারের

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে।

দেশে বাড়তে থাকা আয় বৈষম্য কমাতে আগামী জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ আয়কারীদের জন্য সরকার আয়করের সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন—অর্থাৎ মাসে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয়—এমন করদাতারা নতুন এই উচ্চ করহারের আওতায় পড়বেন। বর্তমানে বছরে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য রয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে। আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা। এর উদ্দেশ্য ধনী-দরিদ্রের বিদ্যমান বৈষম্য কমানো।”

তিনি বলেন, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন ব্যক্তিরা ‘সুপার রিচ’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, এ শ্রেণিতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি করদাতা রয়েছেন। নতুন করহার কার্যকর হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চে বাজেটসংক্রান্ত আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অতি ধনীদের ওপর ৩৫ শতাংশ করহার আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “অতি ধনীদের ওপর করহার বাড়ানো সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। যাদের আয় বেশি, তাদের করও বেশি দেওয়া উচিত।”

তবে তিনি বলেন, শুধু করহার বাড়ালেই হবে না, কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে। তা না হলে শুধু করহার বাড়িয়ে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না এবং ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, সরকারের এ উদ্যোগ কেবল নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো টেকসই হবে না।”

তিনি বলেন, “এনবিআরের উচিত করের আওতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি বন্ধ করা, যাতে বড় পরিসরে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়। তা না করে বছরের পর বছর নিয়মিত করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়ানো হচ্ছে।




বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) গুরুত্বপূর্ণ ৯০তম বৈঠক। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশের একটি ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছেছেন

বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের এক প্রধান প্রকৌশলীর।

এবারের বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল মুর্শিদাবাদে যাবেন

সেখানে বৈঠকের ফাঁকে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপ করবেন তারা। পরে প্রতিনিধিদল কলকাতায় ফিরে একটি অভিজাত হোটেলে মূল বৈঠকে অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে, এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।




বাড্ডায় নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান

রাজধানীর বাড্ডার এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজউক। অভিযানের সময় কয়েকটি ঘরের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ভবনের বিদ্যুতের লাইনও কাটা হয়।

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বিথী জানান, নাগরিক জীবন ও সুপরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযান চলমান থাকবে।




এসএসসি পরীক্ষা শেষে গড়াই নদে গোসলে নেমে দুই বন্ধুর মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষা শেষে গড়াই নদে গোসল করতে নেমে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২০ মে) বিকেলে হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই জনই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

নিহতরা হলো—হরিপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে অপূর্ব ইফতি তাইফ (১৮) এবং নুরুল ইসলামের ছেলে সাকিবুল ইসলাম (১৯)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তাইফ দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুল এবং সাকিবুল কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। আজ বুধবার ব্যবহারিক বাদে তাদের শেষ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে দুই বন্ধু মিলে গড়াই নদে গোসল করতে নামে। তবে তাদের কেউই সাঁতার জানতেন না। নদে ডুব দেওয়ার পর সাকিব তলিয়ে যেতে থাকলে তাইফ মাথা উঁচু করে ওঠার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাইফও গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদে নেমে দুই জনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াদুদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।




আগামী তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রপ্তানির ঘোষণা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কোনো প্রকার জেনেটিক পরিবর্তন না ঘটিয়ে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসম্পন্ন ঘাস গবাদিপশুকে খাওয়ানোর মাধ্যমে উৎপন্ন মাংস আগামী তিন বছরের মধ্যে রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।

আজ (বুধবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির (সিএসইউ) যৌথ উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা : ব্যবহারিক সমাধান ও অংশীদারিত্ব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ খাদ্য ও নিউট্রিশনাল ফুড খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জেনেটিক মোডিফাইড ফুড পৃথিবীকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি। গবেষণার মাধ্যমে নেপিয়ার ঘাসের এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ১৮ শতাংশ প্রোটিন সম্পন্ন।

মন্ত্রী আরও বলেন, গবাদিপশুর জন্য উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও খরা-সহিষ্ণু ঘাস উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ খাতে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি, যা স্বল্প ব্যয়ে উন্নতমানের প্রাণিখাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে মাংস উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাংসের দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের কল্যাণে স্বাধীনভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাবে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ ও কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মন্ত্রী বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে মাংস উৎপাদনের খরচও কমবে এবং তা ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। কম খরচে উন্নতমানের ঘাস ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে গবেষকরা দেশের কল্যাণে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা স্বাভাবিক হলেও যোগ্যতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে দেশের উন্নয়নে কাজ করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।

বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

স্বাগত বক্তব্য দেন বিএলআরআই-এর পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক।




দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকার সোনা উদ্ধার

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক টার্মিনাল থেকে ১ কেজি ২২৮ গ্রাম সোনাসহ এক নারী যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ৮টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ওই নারীর নাম তামান্না মাইমুনা (২১)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন সংবাদ আসার প্রেক্ষিতে ডমেস্টিক টার্মিনালে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। পরে ওই নারী ফ্লাইট থেকে বেরিয়ে গ্রিন চ্যানেলের দিকে আসলে তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তার শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ কেজি ২২৮ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।

বিমান সূত্র জানায়, আটক মায়মুনা সকাল ৮টায় দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিজি-২৪৮) ফ্লাইটে করে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসেন। সোনাসহ যাত্রীকে বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ঢাকাকে ফুল ও গাছে সাজিয়ে পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য করতে চাই : ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ঢাকা শহরকে ফুল ও গাছে সাজিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে চাই। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

আজ (বুধবার) রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এক সময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএসকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএসকে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।

জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরের খোঁজখবর রাখছেন। পার্ক, খাল ও নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি আমাদের সাথে আলোচনা করছেন। সরকারপ্রধান নিজে সচেতন ও দূরদর্শী হওয়ায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুত জানিয়ে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

এদিকে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। ক্রেতা-বিক্রেতা এবং নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি হাটে একটি করে কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। গবাদিপশু ও মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম (ডাক্তার) নিয়োজিত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে পুলিশের বিশেষ টহল।

হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, ইজারাদারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে। ঈদের দিন ও তার আগের রাত থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ, কোরবানি শেষ হওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।




পল্লবীতে সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধে এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণের দখল হওয়া জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট এলাকায় ঢাকা-১৬ আসনের এমপি আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদের এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যুগ্ম কমিশনারসহ পুলিশ সদস্যরা। উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে প্রায় ১২টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছে। দুপুরের পর আবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে সরকারি জমি প্রায়ই ৫০ বিঘা দখল করে রাখা হয়েছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।




পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ওমানে নিহত ৪ ভাই

ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

 

স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী পরিবেশে বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চার ভাইকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। জানাজার ইমামতি করেন তাদের একমাত্র জীবিত ভাই।

জানাজা শুরুর আগে পাশাপাশি রাখা চারটি কফিন ঘিরে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। অনেকেই নীরবে চোখের পানি ফেলতে থাকেন।

 

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্ত ছিল—চার ভাইয়ের কফিন সামনে রেখে একমাত্র জীবিত ভাইয়ের ইমামতি করা। এ দৃশ্য উপস্থিত হাজারো মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

 

এদিকে সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারজুড়ে চলছে মাতম। জানাজায় বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা আগে কখনও দেখিনি। পুরো এলাকা শোকে ভারী হয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, সকাল থেকেই মানুষ আসছে। কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। এমন ঘটনা গ্রামের মানুষ সহজে ভুলবে না।

জানাজা শেষে মরদেহগুলো নেওয়া হয় লালানগর গ্রামের বন্দাররাজাপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে। সেখানে আগে থেকেই পাশাপাশি খনন করা চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে ভোরে লাশবাহী দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে চার ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোক ও নীরবতা।




বাজেটে ব্যাংক খাতের জন্য নীতিসহায়তা চায় বিএবি

দেশের নাজুক ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধারে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সহায়তা চেয়েছে। সাক্ষাতকালে তারা আসন্ন জাতীয় বাজেট ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বিএবি নেতৃবৃন্দ ব্যাংকিং শিল্পের বর্তমান গুরুতর সংকটগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ (এনপিএল), মূলধন পর্যাপ্ততায় চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা এবং শাসন ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাস।

বিএবি অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করে যে ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় ৩%-এ নেমে এসেছে, যা খাতজুড়ে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে সীমিত করেছে।

বিএবি জোর দিয়ে বলে যে ব্যাংকিং খাতের অর্থবহ পুনঃমূলধন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং যেসব মালিক ও গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় শেয়ার ও সম্পদ ধরে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিএবি দ্রুত আইনি পুনরুদ্ধার, অবৈধভাবে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উন্নত প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সমিতি প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর ধারা ১৮কে-র কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং জানায় যে বিতর্কিত সাবেক স্পনসর বা বড় ঋণখেলাপিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার কোনো সুযোগ রাখা হলে তা আমানতকারীদের আস্থা, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত প্রধান সুপারিশসমূহ:

অভ্যন্তরীণ মূলধন গঠন ও বাসেল III সম্মতি সমর্থনে ব্যাংকগুলোর জন্য কর্পোরেট কর ৩০%-এ হ্রাস করা।
পাঁচ বছরের জন্য ঋণ ক্ষতির বিধানের সম্পূর্ণ কর কর্তনযোগ্যতা।

মূলধন সংরক্ষণকে উৎসাহিত করতে স্টক লভ্যাংশের উপর অতিরিক্ত কর অপসারণ।
রাইটস শেয়ার ইস্যু ও পুনঃমূলধন উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদন।

অনুমোদিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর জন্য এসএমই পুনর্অর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন, এলটিটিএফ ও অন্যান্য পুনর্অর্থায়ন প্রকল্পে অব্যাহত প্রবেশাধিকার।

পুনরুদ্ধার ও মূলধন সংগ্রহে সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয়।
দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিপদগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আর্থিক আদালত এবং একটি কেন্দ্রীভূত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠা।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে পরিবারের সংজ্ঞা স্ত্রী/স্বামী, নির্ভরশীল সন্তান ও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমিত রেখে শাসন বিধানের যৌক্তিকীকরণ।

একটি আধুনিক নগদবিহীন আর্থিক ইকোসিস্টেম সমর্থনে ডিজিটাল ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং বাংলা কিউআর গ্রহণের প্রসার।

বিএবি সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার, শাসন শক্তিশালীকরণ ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এবং বিএবি-র ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ— ব্যাংক এশিয়া পিএলসির চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, পূবালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান রাশেদ আহমেদ চৌধুরী। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ




মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ দিবে না লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ

শেয়ারবাজারের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের (এটবি) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) অনুষ্ঠিত ব্রোকারেজ হাউজটির পরিচালনা পরিষদের সভায় আলোচিত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার (২০ মে) ডিএসইর এটিবি প্লাটফর্মের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৫০ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগের বছরেও প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৯১ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ১৬ টাকা ১১ পয়সা।

তবে গত হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে নগদ অর্থপ্রবাহে চাপের ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৫ সালে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমে হয়েছে ৬১ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৩ জুলাই বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত লিংক পরে জানানো হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ জুন।




১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সোনারগাঁয়ে অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ; প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি চালক মুমিন হত্যা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় সিএনজি চালক ও এলাকাবাসী।

বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার টু দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডে ১০ টাকা চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালক মুমিন (৪০) ও দড়িকান্দি এলাকার মিলন (৪৫)-এর মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে মুমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

মুমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত চালক ও এলাকাবাসী দড়িকান্দি টু বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা অভিযুক্ত মিলনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।




ঈদে ‘নগদ’ কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গ্রাহকদের উৎসবের কেনাকাটা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে রিটেল, লাইফস্টাইল এবং ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফার নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।

কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলমান এই ক্যাম্পেইনের আওতায় নগদ অ্যাপ অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা ই-কম গেটওয়ে ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট করলেই গ্রাহকেরা পাচ্ছেন চমৎকার সব ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক সুবিধা।

ইলেকট্রনিক্স পণ্যের কেনাকাটায় গ্রাহকেরা পাবেন ৫০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক। এই সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ১৫টি শীর্ষ ব্র্যান্ড থেকে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকার পণ্য কিনতে হবে। শীর্ষস্থানীয় এসব ব্র্যান্ডের তালিকায় রয়েছে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটারফ্লাই, ট্রান্সকম ডিজিটাল, র্যাংস, হাইয়ার, ভিশন, মিনিস্টার, এস্কয়ার ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার, অ্যাপল গ্যাজেটস এবং স্টার টেক-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।

ঈদের পোশাক ও জুতো কেনাকাটায় নগদ দিচ্ছে সর্বমোট ৪০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ। নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড থেকে ন্যূনতম ২,৫০০ টাকার কেনাকাটায় গ্রাহকেরা পোশাকের জন্য ২০০ টাকা এবং জুতোর জন্য আরও ২০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাবেন। উৎসবের এই লাইফস্টাইল ক্যাম্পেইনে পোশাকের জন্য থাকছে ইনফিনিটি, টুয়েলভ ক্লোথিং, সারা লাইফস্টাইল, জেন্টল পার্ক, আর্টিসান, সেঁলর ও লে রিভ এবং জুতোর জন্য থাকছে এপেক্স, বে এম্পোরিয়াম ও বাটা-র মতো খ্যাতনামা সব ব্র্যান্ড।

নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি কেনাকাটার জন্য সুপারস্টোরগুলোতে থাকছে বিশেষ অফার। যেকোনো অনুমোদিত সুপারস্টোরে ন্যূনতম ২,৫০০ টাকার কেনাকাটা করে নগদে পেমেন্ট করলেই প্রতি লেনদেনে ১০০ টাকা করে দুইবারে মোট ২০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক উপভোগ করা যাবে।

এছাড়া উৎসবের আমেজে রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া ও পারিবারিক বিনোদনকেও এই ক্যাম্পেইনের আওতাভুক্ত করেছে নগদ। নির্বাচিত রেস্তোরাঁগুলোতে ন্যূনতম ৫০০ টাকার বিল পেমেন্টে গ্রাহকেরা দুইবারে মোট ১০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাবেন।

এর পাশাপাশি অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডি থেকে সর্বনিম্ন ৪৯৯ টাকার খাবার অর্ডার করলে মিলবে ১০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১০০ টাকা) ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক। পাশাপাশি, টগি ফান ওয়ার্ল্ড এবং হাইপার প্লেগ্রাউন্ডস-এর মতো জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ৫০০ টাকা বা তার বেশি পেমেন্টে দুইবার ৫০ টাকা করে মোট ১০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে।

এবারের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাতায়াত এবং ঘরে বসে অনলাইন কেনাকাটা সহজ করতে ই-কমার্স ও ট্রাভেল খাতেও নিজেদের সেবার পরিধি বাড়িয়েছে নগদ। নির্দিষ্ট অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন, দারাজ ও অথবা-তে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকার কেনাকাটায় দুইবারে মোট ২০০ টাকা (প্রতিবার ১০০ টাকা) ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে ঈদযাত্রায় টিকিটের চাপ সামলাতে টিকিট বুকিং পোর্টাল বিডিটিকেট এবং সহজ বাস-এর সঙ্গে পার্টনারশিপ করেছে নগদ। এই অফারে ৫০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের টিকিট কাটলেই প্রতি লেনদেনে ৫০ টাকা করে দুইবারে মোট ১০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকেরা।

ঈদ ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের ঈদুল আজহায় আমরা নিশ্চিত করতে চেয়েছি যেন আমাদের গ্রাহকেরা ডিজিটাল পেমেন্টের সর্বোচ্চ সুবিধা পান। ইলেকট্রনিক্স, লাইফস্টাইল, সুপারস্টোর এবং ই-কমার্সের মতো খাতগুলোতে, যেখানে উৎসবের সময়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, এখানেই আমরা দারুণ ক্যাশব্যাক অফার সাজিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার বাড়ানো নয়, বরং দেশের কোটি নগদ গ্রাহকের জন্য ঈদের কেনাকাটাকে আরও সাশ্রয়ী, সহজ ও আনন্দময় করে তোলা।




যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার

মব কালচারের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।’

আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাই এবং যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।’

এ সময় বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তালিকা ধরে ধরে গ্যাং লিডারদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে অনেকেই অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘থানা হবে জনবান্ধব, সেবা বান্ধব। থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না। থানায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা এবং ফাঁড়ির মান উন্নয়ন করা হবে।’

এ সময় যানবাহনের সংকট দূর করা হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। পুলিশের একারপক্ষে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।

ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় উগ্রবাদ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশের কাছে। নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

ঈদযাত্রা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এআইয়ের মতো প্রযুক্তি সুফল বয়ে আনছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম-২০২৬’-এর সাইড লাইনে মঙ্গলবার (১৯ মে) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে গুগলের পক্ষে ‘গুগল ফর এডুকেশন’ প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কলিন মারসন এবং সলিউশনস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অলি ট্রাসেল অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠককালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে গুগল কীভাবে বৈশ্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন গুগলের কর্মকর্তারা।

এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ব্যবহারে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পরিকল্পনা ও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুগল কীভাবে কৌশলগত ও কারিগরি সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বিশেষ করে, দেশের শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের চলমান ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুগলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। গুগলের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের এই রূপান্তরে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।




আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী সফিপুরের সমাবেশস্থলে পৌঁছালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুসজ্জিত প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় বাহিনীর চৌকস দলগুলো  প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

সমাবেশ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি একাডেমি বর্ণিল সাজে সেজেছে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত কর্মকর্তাদের পদক প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।




পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের হাতছানি ছিল পাকিস্তানের সামনে। গোটা দুই দিন আর ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছোঁটা পাকিস্তান সেপথে এগুচ্ছিলোও। তবে সেই স্বপ্নে ধাক্কা দিয়ে উল্টো ইতিহাসের হাতছানি পাচ্ছে বাংলাদেশই। প্রথম দুই সেশনে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ভোগাচ্ছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এমন সময় ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন তাইজুল ইসলাম। শেষবেলায় নতুন বল হাতে নিয়ে সালমানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শতরানের জুটি ভাঙার পর হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরালেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙাই শুধু নয়, পরের ওভারে তাইজুল এনে দিলেন আরও একটি উইকেট। শেষ বিকেলের মরে আসা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। পাকিস্তানের সান্ত¡না বলা চলে, ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা।

সিলেট টেস্ট জিতে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতলে হলে সফরকারীদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করে রানে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজমের ৯২ এবং রিজওয়ান ও সালমানের ১৩৪ রানের দুটি জুটির সৌজন্যে লড়াইয়ে টিকে আছে। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মাদ রিজওয়ান দিন শেষে অপরাজিত ৭৫ রানে। সাজিদ আছেন ৮ রানে। শান মাসুদ ও সালমান আগা দুজনেই আউট হন ৭১ রান করে। এদিন স্বাগতিকদের বোলিংয়ের মূল নায়ক টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তাইজুল। ৩১ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১১৩ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। গতিময় তরুণ পেসার নাহিদ রানা ১৪ ওভারে দুটি মেডেনসহ ৫৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকিটি গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারেই আসে সাফল্য। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দলকে কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন তাইজুল। তার আর্ম বল সালমানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ২২৪ বল স্থায়ী পাকিস্তানের ১৩৪ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। সালমান ১০২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রানে আউট হন। তেতে ওঠা তাইজুল নিজের পরের ওভারেই ধরেন আরেক শিকার। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাসানের ব্যাট ছুঁয়ে যায় সিøপে। সেখানে ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল হয়নি শান্তর। ৬ বল খেলে হাসান রানের খাতা খুলতে পারেননি। দিনের বাকি ওভারগুলো কাটিয়ে দেন রিজওয়ান ও সাজিদ।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়েন সালমান ও রিজওয়ান। ৭০ বলে এই জুটির রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রিজওয়ানের পর সালমানও পৌঁছে যান ফিফটিতে। মাঝে দুজনের জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১৬৭ বলে। এরপর যখন তারা ক্রিজে অটল দুর্গ গড়ে তুলেছেন বলে মনে হচ্ছিল, তখনই তাইজুল উইকেট শিকারে নেমে উল্লাসে মাতান বাংলাদেশকে।
জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। টেস্টের দেড়শ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কীর্তি টিকে আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। সাদা পোশাকের সংস্করণে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়ায় সফলতার কোনো নজির নেই। সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দলটি জিতেছিল ২০১৫ সালে, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতেও চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যের পেছনে ছুটে জয়ের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান করে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ইনজামাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান সেই রান তাড়া করেছিল। পাশাপাশি এই পাকিস্তান দেশের বাইরে জিততেও ভুলে গেছে। সর্বশেষ দেশের বাইরে পাকিস্তান জিতেছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয়। এরপর হেরেছে টানা ৬ ম্যাচে।




৬ ব্যাংক থেকে আরও ৮৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মার্কিন ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ছয়টি ব্যাংক থেকে ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে আট কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

 

এর আগে সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমপিএ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়েও প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ছয় দশমিক ০৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় প্রেরণকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সে কারণে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতেই কেনার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডলার কেনাবেচা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করা হলেও, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে কেনার মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বশেষ এ ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কিছুটা শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতির কারণে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপই মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের হস্তক্ষেপ আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।




চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট-হোটেলে অভিযান, জরিমানা ৮০ হাজার

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয় নগরের আগ্রাবাদ ও মোহরা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে আগ্রাবাদ এলাকার লেমন গ্রাস রেস্টুরেন্টকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় কাচ্চি ডাইনকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মোহরা এলাকায় মোহরা হোটেলকে বাসি বার্গার ও মোগলাই ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য পরিবেশনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সিজ্জল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টান্ন সামগ্রীর গায়ে থাকা মেয়াদের স্টিকার তুলে বিক্রির দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




ছাত্রীর বাড়িতে মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার অধিরল্যাংড়ার মোড়-চৌকাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুবেল ও সুমি নামে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ।

নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম বেগম স্থানীয় বাসিন্দা সুমি খাতুনের মেয়ে মিথীলাকে (পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী) নিয়মিত প্রাইভেটে পড়াতে যেতেন। সোমবার তিনি পড়াতে গেলেও আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাতেই মরিয়ম বেগমের এক সন্তান সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। মঙ্গলবার সকালে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকে মরিয়মের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।

এ সময় মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন এবং কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত সুমি খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকজন নারীকে জুসের মাধ্যমে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন সুমি ও রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণের কানের দুলের জন্যই মরিয়মকে হত্যা করা হয়েছে।




কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি: পাটমন্ত্রী

কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।

 

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। সে সময় মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পাট খাতের অবদান ছিল ৩১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পাট খাতের অবদান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাট খাতের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে সরকার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পাট খাতকে বর্তমান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে এটি সম্ভব। পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে দেশে উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন তৈরিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেন আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাট খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী। তার নেতৃত্বে সরকার সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, সবাই মিলে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই পাট তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাটচাষীসহ পাট শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পাটপণ্যের সম্ভাবনা, বাজার সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।

 

৫ দিনব্যাপী এ মেলা ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।




প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের লোকসান ৩৯৬ কোটি টাকা

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির তিনশ ৯৬ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ২১ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল ব্যাংকটির। মূলত সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংকটিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার (১৬ মে) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের সুদ আয় হয়েছে ছয়শ ৫৮ কোটি টাকা এবং এ সময়ে ব্যাংকটিকে প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আটশ ৫৯ কোটি টাকা সুদ আয়ের বিপরীতে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির শুধুমাত্র পরিচালন লোকসান হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে তিনশ ৬ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা হয়েছিল।

এদিকে আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে আট টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছিল ১৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫ পয়সায়।

সর্বশেষ, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে, বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রূপালী ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে, ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল, ২৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২ পয়সায়।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন চারশ ৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে পাঁচশ ৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫। এর ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশই রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৩২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




৫ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়লো সরকার

দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরে নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ৫ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে ছেড়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে নতুন এ নোট প্রচলনে আনা হয়েছে। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের এই ৫ টাকার নোট মুদ্রণ করা হয়েছে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি সরবরাহ করা হবে।

নতুন নোটটির আকার ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদের ছবি রয়েছে। এছাড়া মাঝখানে জাতীয় ফুল শাপলার প্রস্ফুটিত নকশা সংযোজন করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি।

 

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ সম্বলিত জলছাপ, যার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ ‘৫’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম রয়েছে।

নোটের বাম পাশে ২ মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযুক্ত করা হয়েছে, যা আলোর বিপরীতে স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া সম্মুখভাগের নিচের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা মুদ্রিত রয়েছে।

নতুন ৫ টাকার নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা যথারীতি চালু থাকবে।

এদিকে, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকার ‘স্পেসিমেন’ বা নমুনা নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময়যোগ্য নয় এমন এ নমুনা নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।




ডিজিটাল ভূমিসেবার নতুন যুগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জমি বা ভূমি শুধু এক টুকরো সম্পদই নয়, বরং মানুষের জীবনে এটি একধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি, এমন মন্তব্য করে সারা দেশে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরে ভূমি-জমি সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ এবং এর ভাগ-বাটোয়ারা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের পরিক্রমায় একই জমির মালিকানা বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং একই পরিবারের মধ্যেই বিভিন্ন শরিকের মধ্যে বারবার বণ্টন হয়েছে। ফলে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখার দায়িত্বও বেড়েছে।

তিনি বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস কিংবা ডি-এস— এসব শব্দের সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই পরিচিত। আগে এসব বিষয়ে মানুষকে ভূমি অফিসে যেতে হতো। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে অধিকাংশ ভূমিসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে খাজনা প্রদান, ই-নামজারি এবং অন্যান্য ভূমিসেবা গ্রহণে সহায়তার জন্য দেশের ৬১ জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় এসব কেন্দ্র থেকে নাগরিকরা নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে আবেদন ও সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এমন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ। ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিও তত সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমবে। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এ বাস্তবতায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে সেবা নিতে মানুষকে অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারেও ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আদালতে বিচারাধীন ৪৭ লাখের বেশি মামলার মধ্যে অধিকাংশই জমিজমা সংক্রান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি যেমন গ্রাম আদালত, নেগোসিয়েশন, মেডিয়েশন, আরবিট্রেশন ও কনসিলিয়েশনের মতো আইনানুগ ব্যবস্থার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন–এর একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি বজায় রাখা যায় না; কেবল পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাধান করা গেলে আদালতের মামলার জট কমবে এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের অধিকার। আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় শুরু হওয়া এ ভূমিমেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী ভূমি মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।




৬ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পাশাপাশি রপ্তানি প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৯৮ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম কমে গেলে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বাজারে ডলারের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না দেওয়ার ইঙ্গিত।

 

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনা-বেচা করছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। আজকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিএ পদ্ধতিতে ডলার কেনা-বেচার ফলে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়, যা ব্যাংকগুলোর জন্যও ইতিবাচক। তবে, তারা মনে করছেন, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানো দরকার।

রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন মুদ্রা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ডলারের দাম ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।




গণপূর্তে আবু তালেবের শতকোটির হরিলুট

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ-জালিয়াতির এমন কোনো স্তর নেই যেখানে হাত দেননি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেব। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও ক্যাডার পরিচয় ধারণ, জ্যেষ্ঠতা জালিয়াতি এবং কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক সাম্প্রতিক অভিযোগে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি একাধিক খাতের অন্তত ১৬টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন। কেবল তাই নয়, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ কমিশন নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে কাজ না দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছেন।
নিয়োগ জালিয়াতি: ক্যাডার না হয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী ঃ আবু তালেবের উত্থানের গল্পটি সিনেমাটিক হলেও এর পরতে পরতে রয়েছে জালিয়াতির ছাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেন এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত কাজে আবু তালেবের দুর্নীতির সবচেয়ে নগ্ন চিত্র ফুটে ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে বিল পরিশোধের কথা থাকলেও তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারদের যোগসাজশে পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকার মেরামত কাজ। সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, নথিপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই করা হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থই এভাবে হরিলুট করা হয়েছে।
ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও নথির কারসাজি : কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি গোপন করতে আবু তালেব আশ্রয় নিয়েছেন নথিপত্র জালিয়াতির। কাজ শেষ হয়েছে এমন মর্মে ‘ব্যাকডেটেড’ বা পূর্ববর্তী তারিখের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে যুক্ত করেছেন তিনি। এটি সরকারি ক্রয় আইন এবং দণ্ডবিধির চরম লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ম্যানেজ করে তিনি দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো ঠিকাদার এর প্রতিবাদ করলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব কায়েম করেছেন ‘কমিশন রাজ’। প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই তাকে ১০ শতাংশ নগদ কমিশন দিতে হয়। তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যার বাইরে কোনো সাধারণ ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া অসম্ভব। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রের শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা আজ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অবৈধ সম্পদের পাহাড় : একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আবু তালেবের জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল। অবৈধ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি তার বৈধ আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার এই সম্পদের উৎস খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থা।




কাওরান বাজারে ৩ কোটি চাঁদাবাজি নিয়ে মুখোমুখি দুই এমপি

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি দাবি করেন, কাওরান বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা জামায়াতের এমপির এ বক্তব্যকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ বলে মন্তব্য করেন এবং তাকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় চাঁদাবাজি ইস্যুতে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্ট বাড়ছে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো উচিত। পাশাপাশি জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

তার বক্তব্যের সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাঁদাবাজির প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, “আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এলাকার এমপি। আমাদের কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই চাঁদাবাজি করে, বাইরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে তারা চাঁদাবাজ। আগে আগের সরকারের লোকজন করত, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।”

জামায়াতের এমপির বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, “এমপি সাহেব বলছেন, তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে অথচ তিনি জানেন না কারা করছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। তার কাছে সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকা উচিত এবং আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “গোলটেবিল বা টকশোতে এমন কথা বলা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট নাম বলতে না পারলে তা ঢালাও অভিযোগ হয়ে যায়। আমার এলাকায় যে-ই চাঁদাবাজি করুক, সে সরকারি দলের হোক বা বাইরের, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

এর জবাবে সাইফুল আলম খান বলেন, “আগেও সরকারি দলের লোকেরা চাঁদাবাজি করত, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই করছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির জায়গা হলো কাওরান বাজার। আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, “আমি তার সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। আমি চাই কাওরান বাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলের চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।




৯% সুদে অন্য ব্যাংকের বাড়ি–গাড়ির ঋণ কিনবে ব্যাংক এশিয়া

যাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গত তিন বছরে ব্যক্তিগত, আবাসন ও গাড়ি কিনতে ঋণ করেছেন, তাঁদের সবারই সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এসব ঋণে কারও কারও সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ। তাঁদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া।

ব্যাংকটি তাদের ভোক্তা ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠন করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ, এসব ঋণখেলাপির হার কম। এ ছাড়া জামানত থাকায় এসব ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ। এ জন্য ব্যাংকটি তুলনামুলক কম সুদে এই ঋণে ঝুঁকছে।

ব্যাংকটি ঘোষণা দিয়েছে, অন্য ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ঋণ ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার বা কিনে নেবে ব্যাংকটি। এসব ক্ষেত্রে নতুন ঋণে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এর ফলে এখন যাঁদের ৯ শতাংশের বেশি সুদে অন্য ব্যাংকে ঋণ রয়েছে, তাঁরা ৯ শতাংশ সুদে তাঁদের ঋণ ব্যাংক এশিয়ায় নিতে পারবে। ব্যাংকটির যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করলে দ্রুত সময়ে এই ঋণ স্থানান্তর করা যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সুবিধা কার্যকর হলে গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি কমে আসবে।

জানা যায়, ব্যাংকটি সামনে আরও বড় আকারে এই সেবায় ঝুঁকবে। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ৭২ লাখ। এসব গ্রাহকের সরকারের স্বল্প সুদে আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংকটি।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ আমরা ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার শুরু করেছি। এর ফলে যাঁদের ঋণে এর চেয়ে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, তাঁদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমে আসবে। সামনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের জন্য আমরা এই সেবা চালু করব। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা সরকারের স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন। নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ সহায়তা করবে।’

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৩৩ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ঋণ আদায়ে জোর দেয়, ফলে ঋণ খুব বেশি বাড়েনি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা করেছিল ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা বেড়ে হয় ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ থাকলেও ২০২৪ সাল শেষে বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ১৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।




এপ্রিলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কম, ১০ মাসে ঘাটতি ১.০৪ লাখ কোটি টাকা

সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।

 

একদিকে রাজস্ব আদায়ে গতি মন্থরতা, অন্যদিকে বড় লক্ষ্যমাত্রা—সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “সর্বশেষ এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ আগের বছরগুলোতে মাসভিত্তিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ।”

অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও শেষ দিকে এসে তা কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে গত ১০ মাসের সার্বিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতেও।

এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “গত সরকারের সময়ে সক্ষমতার তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং অর্থনীতিতে গতিমন্থরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, সরকারের রাজস্বের বড় অংশ আসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এ খাত থেকে ভ্যাটসহ অন্যান্য রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের গতিও কমেছে।

তবে তার মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি আসতে পারে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যে বিশাল ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, “তারপরও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।”

ভ্যাট আদায়ে পতন

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ এপ্রিল মাসে আমদানি শুল্ক ও আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকলেও ভ্যাট আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে।

এনবিআরের আদায়কৃত ভ্যাটের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে এডিপি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি খাতের উৎসে কর আদায় কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও কমেছে।

এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এডিপি বাস্তবায়ন কমে গেছে, যার কারণে ভ্যাট আদায়ও কমছে।”

তিনি বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভ্যাট আসছে না। তবে অন্য কোন কোন খাত থেকে আদায় কমছে, পুরো চিত্র পাওয়া গেলে তা বোঝা যাবে।”

আগামী বছরও বড় লক্ষ্যমাত্রা

সরকার আগামী অর্থবছরে এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

সিপিডির এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সে বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৪২ শতাংশ।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, “এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে, যা ছিল ২৭ শতাংশ। কিন্তু আগামী অর্থবছরে সেই হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।”




বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ের কলমিলতা বাজারে লাগা আগুন প্রায় দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে দুইতলা মার্কেটটির নিচতলায় আগুন লাগে। সকাল ৭টায় যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, সকাল ৭টায় কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত নেই বলেও জানান তিনি।

এর আগে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে ওই মার্কেটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে।




ফ্রান্সে পাঠানোর নামে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ, যুবক নিখোঁজ

 

নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে এক পরিবার। উন্নত জীবনের আশায় ফ্রান্সে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গত প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সজিব মিয়া (২৮) নামে এক যুবক। ফ্রান্সে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের স্ত্রী সুমিতা বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে রায়পুরা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৫/৬/৭/৮ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-২৪(৪)/২৬)। তবে মামলার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিসহ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
​প্রলোভন ও নিখোঁজের ঘটনা
​মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলাব উপজেলার চরলক্ষীপুর (মধ্যপাড়া) এলাকার হযরত আলীর ছেলে পাভেল (৪০) নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবপাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
​গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে রায়পুরা উপজেলার মামুদপুর এলাকার সজিব মিয়াকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান পাভেল ও তার সহযোগীরা। কিন্তু সজিবকে ফ্রান্সে না পাঠিয়ে কৌশলে মালদ্বীপে পাচার করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর থেকেই সজিবের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
​চক্রের কার্যপদ্ধতি ও নির্যাতনের অভিযোগ
​স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পাভেল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকার সরল-সোজা যুবকদের টার্গেট করে আসছিল। ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
​ভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, চক্রটি অনেক সময় যুবকদের ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়া বা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে আটকে রাখে। সেখানে গোপন ক্যাম্পে বন্দি রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের জন্য তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে এর আগে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
​”আমার স্বামীকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে ওরা ২৯ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন আমার স্বামী নিখোঁজ। মামলা করার পর থেকে পাভেল ও তার লোকজনেরা আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
— সুমিতা বেগম, নিখোঁজ সজিবের স্ত্রী
​প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
​মামলার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। উল্টো আসামিদের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ সজিব মিয়াকে উদ্ধার এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
​এই বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,
​”আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।”
​”অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের আওতা ও নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে জায়গাগুলো এতদিন রাজস্ব আদায়ের বাইরে ছিল, সেগুলোকে এবার আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে, সরকার এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সোমবার (১৮ মে) শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে আমাদের রাজস্ব আদায়ের হার একেবারেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যা কোনোভাবেই এই অবস্থায় রাখা যাবে না। একটি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে অর্থায়ন প্রয়োজন, সেটি অবশ্যই বাড়াতে হবে। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি রিফর্ম বা সংস্কার প্রোগ্রামে যাওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের নেটওয়ার্ক বড় করা হবে।

তিনি বলেন, বহুদিন ধরে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা বড় হয়নি। ফলে ঘুরেফিরে যারা কর দিচ্ছেন, তাদের ওপরই বারবার চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেকে হয়তো ন্যূনতম ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে হলেও নেটওয়ার্কের আওতায় আসবেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যত বেশি মানুষকে করের নেটওয়ার্কে আনা যাবে, সেটি শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্যই সুবিধাজনক হবে। কারণ রাজস্ব আদায় যত বেশি হবে, তার সুফল দেশের মানুষের কাছেই পৌঁছাবে।

বর্তমান সরকারকে একটি নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যেখানে সুফল কিছু নির্দিষ্ট লোকের পকেটে যেত, এখন তা যাবে সরাসরি বাংলাদেশের মানুষের কাছে। ফলে এখানে জনগণের জন্য একটি ইনসেনটিভ থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে এখনই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দাবি না করলেও, এই প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে আসবে। কতটুকু প্রবৃদ্ধি হতে পারে তা মাথায় রেখেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আগামী দিনে রাজস্ব যত বাড়বে, প্রবৃদ্ধির হারের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও তত বৃদ্ধি পাবে।

এবারের বাজেটের মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধি, পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন কৌশলকে সামনে রেখে এবারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিগত সময়ে কিছু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেসব প্রকল্প এসেছে, সেগুলো আইএমইডি (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আইডেন্টিফাই বা চিহ্নিত করবে। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার প্রতিফলন আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রে দেখা যাবে।

নতুন প্রকল্পের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে প্রকল্পগুলো নতুনভাবে হওয়া উচিত, কারণ সেগুলো সময়মতো শেষ করতে হবে। আর বিগত দিন থেকে যে অসমাপ্ত কাজগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো কতটুকু সমাপ্ত করা হবে তা রিভিউ বা পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্পের আসলে কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, সেগুলো সরাসরি বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




বগুড়ায় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে দুই ভাইকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাহাত মন্ডল (২১) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- জামিল উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৩) এবং মোফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছেলে সুমন মোল্লা (৩৫)। তারা লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে সোমবার সকালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় ইয়াছিন আলী ও সুমন মোল্লাকে। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




ঈদের দিন ছাড়া খোলা থাকবে সব কাস্টম হাউজ ও শুল্ক স্টেশন

কোরবানির ঈদের ছুটির মধ্যে ঈদের দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকবে দেশের সব কাস্টম হাউজ ও শুল্ক স্টেশন। ঈদ উপলক্ষে ২৫-৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সোমবার (১৮ মে) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো আল আমিন শেখ এ তথ্য জানান।

রোববার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে এনবিআর। এরই মধ্যে দেশের সব কাস্টমস কমিশনারকে এটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার জন্য এ নির্দেশের কথা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ সব পক্ষকে জানানো হয়।




কিছু কর্মকর্তার কারণে বাহিনী হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাবের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সদরদপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র‍্যাব তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র‍্যাবের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কিনা সরকার সেটি বিবেচনা করছে। এছাড়া এলিট ফোর্স পরিচালনায় নতুন আইন হবে কি না কিনা— তা এখনো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে এবং সেই অনুযায়ী জননিরাপত্তা ও জিন প্রত্যাশা পুরন হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। যারা আইনের বাইরে গিয়েছে, তাদের নিজ নিজ আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দায়ি না, আইন অনুযায়ী কর্মকর্তারা পরিচালিত হবে।

র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বাহিনীটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের একদলীয় শাসন কায়েমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছে। সে কারণেই র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। তবে নতুন আইন ও কাঠামোর মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠন করা হলে আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে র‍্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের কিছু ধারার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে “অ্যাডহক” ভিত্তিতে চলেছে। “একটি বাহিনী এভাবে পরিচালিত হওয়া ঠিক নয়। তাই আমরা আলাদা আইন করছি, যেখানে বাহিনীর ক্ষমতা, দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। “গত তিন মাসে পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

গুম সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইসিটি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চেষ্টা চলছে, যাতে গুমের সব ধরনের ঘটনার বিচার সম্ভব হয়। মন্ত্রী বলেন, “কেউ গুম হয়ে ফিরে এসেছে, কেউ ফেরেনি, কেউ হুমকি পেয়েছে— এসবের আলাদা সংজ্ঞা ও বিচারিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।”

এ সময় তিনি জানান, গুম তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আইনের দুর্বলতাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান, পুলিশের আইজিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালক, আনসার ও বিডিবির প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, ২৫-২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫-৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলে ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।




চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে বাধার মুখে এনসিপির নেতাকর্মীরা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১টার দিকে টাইগারপাস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নিলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে, একই এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ ঘিরে রোববার রাত থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার সকাল থেকেই টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন এনসিপিকর্মী টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।

তাদের দাবি, গ্রাফিতিগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এসব গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়া বা অপসারণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়।




চার খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং—এই চার সেক্টর নিয়ে তারা (কাতার) কথা বলেছে। তারা অদক্ষ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়াতে জোর দিচ্ছে।’

আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ছবি: টিবিএস

বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং- এই চার খাতের দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। অন্যদিকে, বাংলাদেশে কাতারের আরও কয়েকটি ভিসা সেন্টার অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ করেছে ঢাকা।

আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং—এই চার সেক্টর নিয়ে তারা কথা বলেছে। তারা অদক্ষ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়াতে জোর দিচ্ছে। আমরাও এ বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করছি। আমরা দক্ষ কর্মী তৈরি করে পাঠাবো।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। আজকে দুই দেশের যৌথ মিটিং হয়েছে। সেখানে মূলত বাংলাদেশ থেকে আমাদের অগ্রাধিকার থাকে অধিকসংখ্যক লোক কীভাবে পাঠানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাতারে ইমাম ও মুয়াজ্জিন যায়। মাঝখানে তাদের যাওয়াটা কমে গেছে। আমরা সংখ্যাটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছি, তারা রাজি হয়েছে। তারা নতুন করে চারটি খাতে আমাদেরকে একটা সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে। যেমন: প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও ইলেকট্রিশিয়ান।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম আরও যে জায়গাগুলোতে বাংলাদেশিদের সুযোগ করে দেওয়া যায়, সেটা তাদের আমাদের প্রতি একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। সেটা তারা ব্যক্ত করেছে।’

বাংলাদেশে কাতারের একটি মাত্র ভিসা সেন্টার রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, আমরা একটি বিষয় তাদের দৃষ্টিতে এনেছি। একটি কাতার ভিসা সেন্টার থাকায় আমাদের অনেক লোকজনের কষ্ট করতে হয়, দুই থেকে চারবার এখানে আসতে হয়। এটার আরও সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি; তারা আশ্বস্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে আরও কয়েকটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য বলেছি। সেটা নিয়ে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিংয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং কাতারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং হয় এটা বাংলাদেশের কোম্পানি। এরা যেন মানুষকে হয়রানি না করে।’