বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্ব

ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




চুয়েটের ভিসি নিয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তিও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

চুয়েটে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও কর্মসূচি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

শাহবাগে সমাবেশ ও মানববন্ধন

চুয়েটের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

বুয়েট ও আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংহতি

চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর দেওয়া বিবৃতিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

এদিকে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি ও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্বাধীন চিন্তা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চর্চার ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

চুয়েটের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ওপর নির্ভর করে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের আস্থা অর্জনের ওপরও নির্ভরশীল। তারা চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যানের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিবাদ

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তালা ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহফুজ শুভ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক অসহযোগ

চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো। ১২ অক্টোবর চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সংগঠনগুলোর দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

চুয়েটে অচলাবস্থা

এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

১২ অক্টোবর (সোমবার) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের ফটকে আবার তালা দেন। তারা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন। মঙ্গলবারও উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন ভিসি শরীফুল।




দুবাই থেকে আসা নিষিদ্ধ প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের চালান জব্দ

দুবাই থেকে আসা এক টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের লিকুইড জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ফকিরহাটের বৈদেশিক ডাকঘর থেকে চালানটি জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চালানটিতে বিপুল পরিমাণ ত্বক ফর্সাকারী বিউটি ক্রিম ও ই-সিগারেটের লিকুইড রয়েছে, যা দেশে আমদানি নিষিদ্ধ। আকাশপথে পণ্যগুলো দেশে আসার পর রেলপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। এরপর বৈদেশিক ডাকঘর থেকে খালাসের আগেই তা জব্দ করা হয়।

তবে চালানটি কোন বিমানবন্দর হয়ে এসেছে বা এর আমদানিকারক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি কাস্টম হাউসের এই কর্মকর্তা।




১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত রবিবার প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাস আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।




ফ্রান্সে সাইবার হামলার কবলে শত শত সুপারমার্কেট

ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে এক নজিরবিহীন সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সুপারমার্কেটগুলোর ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে বিপুল পরিমাণের খাদ্যসামগ্রী পচে নষ্ট হয়ে গেছে এবং একাধিক দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারমার্শে, কোঅপারেটিভ ইউ এবং ই ল্যকের্ক-সহ শীর্ষ কয়েকটি সংস্থা এই সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারমার্শে বা তার নেটো ব্র্যান্ডের অন্তত ৩০০টি, কোঅপারেটিভ ইউ-এর ১০০টির বেশি, ক্যারেফোরের ৮০টি, মনোপ্রিক্সের প্রায় পাঁচ শতাংশ শাখা এবং ই লেক্লার্কের একাধিক সুপারমার্কেট এই দূরবর্তী হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সংযোজিত রেফ্রিজারেটরগুলোতে জোরপূর্বক বরফ গলানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে যায়, যার ফলে তাজা ও হিমায়িত সব পণ্য ফেলে দিতে হচ্ছে।

ইন্টারমার্শের প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কটিলার্ড জানান, এই নজিরবিহীন ঘটনার ফলে এক দিনেই দেশজুড়ে কয়েক কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ফরাসী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকরনু জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে (এএনএসএসআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ আক্রান্ত হয়েছে কি না তা সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে।

‘কোঅপারেটিভ ইউ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডোমিনিক শেলশার জানিয়েছেন, তাদের সুপারমার্কেট গ্রুপটিকেও একইভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘ফরাসি জনগণের তাজা পণ্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য সরবরাহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত গুরুতর একটি ঘটনা এবং এটি নজিরবিহীন।’

ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএসআই জানিয়েছে, ডেনিশ প্রতিষ্ঠান ডেনফসের তৈরি করা সফটওয়্যারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূরনিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ডেনফস জানিয়েছে, যেসব দোকানে পুরনো সংস্করণ বা ফার্মওয়্যার চালানো হচ্ছিল কেবল সেগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা গ্রাহকদের হালনাগাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ আগেই দিয়েছিল।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি এবং বেলজিয়ামও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি বৈশ্বিক সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি খাত বা হাসপাতালে এই ধরনের হামলা রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-এর সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।

তিনি সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক এ কথা উল্লেখ করে পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সকল বিভাজন ভুলে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

একইসাথে তিনি অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধেও মূলধারার গণমাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’

ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান  এসবং দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম এসময় সংগঠনটির সদস্যদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকা এবং জেলার সাফল্য ও অর্জনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

তারা পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

এসময় ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা স্ট্রিমের সিইও সোহেল রানা, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক তুহিন সাইফুল্লাহ, বাসসের সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ, স্টার নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার মাহবুব আলম রাজ, কালবেলার সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ও চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক মাসউদুর রহমান রানা।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি উদ্যোগে বাড়বে ইলিশের উৎপাদন

জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, গবেষণা বৃদ্ধি, সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)-এর পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত ও নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন,  এসবের পাশাপাশি জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাড়বে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের মতো বিভিন্ন প্রাণিজ ও উদ্ভিদ উৎপাদনে উত্থান-পতন হতে পারে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এতে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগ্গিরই প্রকল্পটি চালু হবে। একই সাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে’র মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে এর কাজ শুরু হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে এবার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়েই ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি বলেন, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম, কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন ড. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।

স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।

তার বিবেচনায় ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।

অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।

তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।

উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং  ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।




একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা!

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) পৃথক দুটি সফল অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্যের শুল্ককরাদিসহ প্রদত্ত আনুমানিক মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা।

গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: ৬১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোন আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর BS-0316 যোগে আগত যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁর ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তারা বিধি মোতাবেক ইনভেন্টরি ও পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষাকালে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি iPhone 18 Pro Max আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা।

চট্টগ্রামে জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না: দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক

অন্যদিকে, একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেন।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত শুল্ক ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তল্লাশিকালে তাঁর জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।

একই ফ্লাইটে আগত অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে পূর্বে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার তথ্যও লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ককরাদিসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক: চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য

উল্লেখ্য, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক নজরদারির ফলে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার এবং ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ ডি.এম. মূলে আটক করা হয়েছে।

চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর অবস্থান

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মনে করে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই দিনে পরিচালিত এই দুটি সফল অভিযান কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রতিফলন।

রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তকরণে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।




হুথি হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল

শনি ও রোববার পর পর দু’দিন হুথি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আজ সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কিরিয়ামের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে এ তথ্য। কিরিয়ামের তথ্য বলছে, রোববার হুথি-হামলার পর সেদিন নির্ধারিত (শিডিউলড) ফ্লাইটগুলোর ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করেছিল কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

সেই ধারাবাহিকতা মেনেই আজ সোমবার ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুথিদের শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক। রোববারের হামলায় নিহত হয়েছেন ১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

রোববার সৌদির দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা করেছে হুথি বাহিনী। তবে সেই হামলার জেরে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি সৌদির বেসামরিক বিমন চলাচল কর্তৃপক্ষ।

হুথি বিদ্রোহীরা অবশ্য এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে রিয়াদ ও দাম্মামে হামলার তথ্য স্বীকার করে হুথি গোষ্ঠীর শীর্ষ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী বলেছেন, “সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও কঠিন হামলা করা হবে। বিমান পরিষেবা সংস্থা সংস্থা, বিমানবন্দরের কর্মী এবং ভ্রমণকারীরা যেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সতর্ক থাকেন।”

সূত্র : এএফপি, জিও নিউজ




মোংলা ইপিজেডে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (মোংলা ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

আজ ঢাকায় এ লক্ষ্যে বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চীনা প্রতিষ্ঠানটি মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানা স্থাপন করবে। কারখানাটিতে বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত পণ্যগুলো এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস এবং প্রাইমার্কের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ।

প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজ, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ইপিজেডটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশির।




নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষন, যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার, ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দেয়া আমাদের গুরুদায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

এসময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অর্জনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, তাদেরকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকে মেয়েদেরকে সম্মান করতে শেখান।

একইসাথে তিনি মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয় বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্টের পবিত্র দায়িত্ব।

দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা আমার জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়, এর ফলে তাদের শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এসময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয় বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্বরণ করে বলেন, নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি যুগান্তকারী ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি সরকারী দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি (পলিটিকাল কমিটমেন্ট) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে।

এসময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

এরআগে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুইজন কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।




ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী 

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকার প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা দেখা করে তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতারা। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ সম্ভব, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমার অবস্থান থেকে, আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব। আমি ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করব।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য— তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারপ্রধান হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতার গ্রহণের পর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও ছিলেন।




দুই দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব এলপিজি গ্যাসের দোকান

দেশের বাজারে দুই দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে।

সোমবার সমিতির সভাপতি সেলিম খান রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে তারা দুই দিন বিক্রি বন্ধ রাখবে।

সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর দেশের বাজারে বাড়ানো হয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।




বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে নাগরিক বান্ধবে এসটিএসের সৌন্দর্যবর্ধন করলো ডিএসসিসি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাহজাহানপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন।

ডিএসসিসি থেকে জানানো হয়, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক করে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের জন্য চার লাখ টাকা করে মৃত্যুজনিত ঝুঁকি ভাতা এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪২০টি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়ায় ‘হারপিক’ ও ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

নগরবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ডাস্টবিনে বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বহুগুণে কমানো সম্ভব হবে। নাগরিক সেবাসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সিটি করপোরেশনকে জানালে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এই ঢাকা শহর আমাদের সবার—আমরা নিজেরা সচেতন হলে এবং নিজেদের অভ্যাসের পরিবর্তন করলে ঢাকা শহরও দ্রুত বদলে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী ও নিরাপত্তা উপকরণ বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল-সেফটি গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভস, হেলমেট, সেফটি গগলস, ফার্স্ট এইড বক্স, ওয়ার্নিং কোন, কশন ফ্লোর সাইন এবং হাই-ভিজিবিলিটি ভেস্ট। এসব উপকরণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেবে।

ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কলাবাগান, পুরান এলিফ্যান্ট রোডের সবজি বাগান, মালিবাগ ও বুয়েট-সংলগ্ন পালাশী এলাকার এসটিএস আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কবে উদ্বোধন হতে পারে জানালেন মন্ত্রী

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দরটির উদ্বোধন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে উদ্বোধনের জন্য তার সময় পাওয়া যাবে। বিমানবন্দরটির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী করবেন।

মিল্লাত বলেন, কোন কোন এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন কোন দেশ থেকে প্রথমে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি হেডরা সভায় উপস্থিত আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে গন্তব্য দেশগুলো নির্ধারণ করা হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং কোন কোন দেশে ফ্লাইট চালু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কোন কোন এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। আলোচনা শেষে আগ্রহী এয়ারলাইন্স এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।

উদ্বোধনের তারিখ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন এবং ২৯ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। এরপর তার সময় পাওয়া গেলে উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।




জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলা এবং বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে এক ধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়টি শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।




রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগের ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেনে, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এফএসডিএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ—টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরউন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
তিনি বলেন, সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও তিনি তার সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে আইনগতভাবে স্বীকৃত সরকারের পাশাপাশি বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আরাকান আর্মির হাতে। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক পথ কাজে লাগিয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সব পথ খোলা রেখে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, সংকটের বহুমুখী জটিলতা এবং মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতিতে এবং অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে হবে। খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে এ বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ। রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের কৌশলগত করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফায়াত আহমদ।

প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। তাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো অনুকূল পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে ৩ মাসের বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস বিশেষ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময় প্রতি শনিবার এডিস মশা নিধনে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এটিএম বুথসহ সব স্থাপনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বিস্তৃত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের সব স্থাপনা ও এর আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে পরিত্যক্ত ফুলের টব, অব্যবহৃত কৌটা, পুরোনো টায়ার ও প্লাস্টিকের বোতলসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, সেগুলো অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবনের ছাদ, গ্যারেজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, পানির ট্যাংক ও রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক স্থাপনাগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মক্ষেত্র ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো, স্প্রে কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়েও সহযোগিতা করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। গ্রাম, শহর ও নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।




ছাত্রীদের সাইবার সুরক্ষা ও নিরাপদ লেনদেন সচেতনে সিআইডি-বিকাশের কর্মশালা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন নাহার হলের ছাত্রীদের নিয়ে সাইবার সুরক্ষা ও নিরাপদ লেনদেন বিষয়ক ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করলো সিআইডি ও বিকাশ। ১,১০০ জন ছাত্রীর অংশগ্রহণে কর্মশালাগুলোতে ভার্চ্যুয়াল জগতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবায় প্রতারণার ফাঁদ এড়ানোর কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন সিআইডি-র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ও বিকাশ-এর এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স-এর কর্মকর্তারা।

কর্মশালাগুলোতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নিরাপদ ব্যবহারের নিয়মাবলি এবং সাইবার ঝুঁকির বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পিন ও ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, লোভনীয় অফারের ফিশিং লিংক চেনার উপায় এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অফিশিয়াল চ্যানেলে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য বা খবর শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে গুজব প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ধারাবাহিক এই কর্মসূচির প্রথম সেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬৫০ ছাত্রী। এতে সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডির অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা, সাইবার অপরাধের ধরন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, প্রতারণা ও ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিসি, সিআইডির ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকাশ-এর ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মেজর এ কে এম মনিরুল করিম (অব.)।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন নাহার হলে পৃথক দুটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৪৫০ ছাত্রী অংশ নেন। দুটি কর্মশালাতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দিন শাহীন। সেশন দুটিতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম এবং শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা।

পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালনা করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।

কেবল প্রযুক্তি বা আইন প্রয়োগ নয়, নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর গড়তে সবার আগে প্রয়োজন সচেতন ব্যবহারকারী। এই লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকেই পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই-এর মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং তাদের সহযোগিতায় দেশজুড়ে এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা করে আসছে বিকাশ। একটি নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবার তরুণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অব্যাহত থাকবে।




জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।

ছাত্রদলের সাবেক কর্মী খান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

তিনি বলেন, আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।

সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দুর্গাপূজায় পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে : আইজিপি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করার সময় আইজিপি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরইমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আইজিপি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইজিপি দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ, এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা উপস্থিত ছিলেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারম্যান কল্যাণ ফ্রন্ট জয়দেব রায়, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রূপন চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক দল পূজা ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, রমনা কালী মন্দিরের সদস্য সচিব মিঠুন কুমার দাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ম্যানেজার স্বামী দেবধ্যানানন্দ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব সঞ্জয় গুপ্ত, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের বিপ্লব কুমার পাল প্রমুখ এবং ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপারগণ ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নেতৃতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামন্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

উল্লেখ্য, এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।




প্রযুক্তি ও গবেষণাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেবল তাত্ত্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে আবদ্ধ না রেখে তা দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসতে হবে এবং সাশ্রয়ী করতে হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আইইউটির মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরে ৩০ একর জমি দান করেন এবং ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চ্যাটিকে সঙ্গে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তিত অর্থনীতি ও প্রযুক্তির যুগে তরুণদের সঠিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করা জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেকেন্ডের মধ্যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য নিখুঁত, উপযুক্ত ও নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষেরই। এআই দ্রুত গতিতে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সঠিক বিচারবোধই সেটিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন দেশের মানুষ, কৃষক ও কারখানার শ্রমিকদের উপকারে আসে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাশ্রয়ী করে তোলে, সেই দিকে প্রকৌশলীদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সততা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, এবারের সমাবর্তনে ওআইসিভুক্ত ১৫টি সদস্য দেশের ৩৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৬২৬ জন স্নাতক এবং ৩৩ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৮২ জন ছাত্র এবং ১৭৭ জন ছাত্রী।

সমাবর্তনে শিক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ৭ জন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল (স্বর্ণপদক) দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী।

এ ছাড়া অনন্য ফলের জন্য ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ পেয়েছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশফাক সিরাজ শুভ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মুহাম্মদ শাফায়াত জামিল, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের খালিদ হাসান আদর, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আদিবা জহিন, বিজনেস টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ফারহান লাবীব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তাসফিয়াহ মাহমুদ।

বিভাগভিত্তিক পাসের হারে এবার সিএসই বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৫৫ জন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া ইইই বিভাগ থেকে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড ইনভাইরনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ১২৬ জন, বিজনেস টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী সনদ গ্রহণ করেন।




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের মারুবেনির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মারুবেনি কর্পোরেশনকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মারুবেনি কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। বিদ্যমান এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা এবং এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় আরও দক্ষ করে তোলার সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ খাতে মারুবেনি কর্পোরেশনের আগ্রহ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা আলোচনায় স্থান পায়।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে।

বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) মারুবেনি কর্পোরেশনের বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।




দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতির সাথে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজন পূরণে সরকার এখন জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা জাপান সরকারের সহযোগী সংস্থা জাইকা এবার বন্দর কৌশল প্রণয়নেও পাশে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কাজ হবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্দর কেন্দ্রিক পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে, এটি কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য এ কৌশলের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক বা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি এ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। একইসাথে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজে সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা : ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৫ ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার পর তা বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা-রিয়াদ রুটে পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকার কথা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউছার মাহমুদ ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি৮০৪/৮০৫ ও এসভি৮০৬/৮০৭, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ এবং রিয়াদ এয়ারের আরএক্স ৭৬৩/৭৬৪।

সৌদিয়ার এসভি৮০৪/৮০৫ ফ্লাইটটি ১০ অক্টোবর রাত ১১ টা ৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ এবং ১১ অক্টোবর রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদগামী বিজি৩৩৯ ফ্লাইটটি ১১ অক্টোবর রাত ২টা ৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে, সৌদিয়ার এসভি৮০৬/৮০৭ ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অবতরণ ও বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল এবং রিয়াদ এয়ারের আরএক্স ৭৬৩/৭৬৪ ফ্লাইটটি সকাল ৭ টায় অবতরণ ও ৮ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার সূচি ছিল (সবগুলো স্থানীয় সময় অনুযায়ী)।

এদিকে, ১০ অক্টোবর ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ৩৮১ ফ্লাইটটির পথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেটি রাত ৩ টা ১০ মিনিটে অবতরণ করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ ও হালনাগাদ তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যাত্রীরা সহায়তার জন্য তাদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে বা নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেন।

এদিকে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

বাংলাদেশ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’

সৌদি আরবের প্রতি দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।




ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জেলার বরখাস্ত

ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করিয়ে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে বিল প্রস্তুত, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এসব অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগ করা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এরপর চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আব্দুল ফাত্তাহ গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।
বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও তাকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। সব তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপানের মারুবেনি

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দেবে।

রোববার ( ১১ অক্টোবর ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, অটোমোবাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, পাটশিল্পকে প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনেও নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।




দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের দোহাজারীকে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ ঘোষণার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবি আদায়ে আমরণ অনশন, মশাল মিছিল এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ‘বৃহত্তর দোহাজারীর সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় দোহাজারীকে অনেক আগেই উপজেলা ঘোষণা করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার কারণে এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রস্তাবিত ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, পর্যায়ক্রমে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, কালো পতাকা মিছিল, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি পূরণ না হলে সড়ক ও রেলপথে অবরোধের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যোগাযোগব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু’ নামে নতুন থানা গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের দাবি, দোহাজারীকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠন করা হলে এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা একটি চিঠিতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়িকে বাদ দিয়ে উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বৃহত্তর দোহাজারীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে। তাদের দাবি, আগের প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মতি বিবেচনায় নিয়ে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানববন্ধন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আগের সম্মতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত উপজেলা বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। একইসঙ্গে দাবি পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।




দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগের কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবলসংকট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।




ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেম উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

দেশে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ চালু করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে এ ইকো-সিস্টেমের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আজকে পাওয়ার সেক্টরে একটি গুণগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে ফুয়েল অয়েল, গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছি। এতে একদিকে প্রচুর আমদানি ব্যয় হয়, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের পরনির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এ কারণে আজকে জনগণের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ব্যবস্থা, সেটি হচ্ছে সোলার। ওয়ালটন সোলারের মাধ্যমে যে কাজ করছে, আমরা তা দেশের জনগণকে জানাতে চাই। এটি সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। আমরা চাই, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সোলারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, জনগণের চাহিদা মেটানো যাবে এবং কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়, সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে কুকারসহ সবকিছু চালানো যাবে। সুতরাং, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে আমাদের বিদ্যুৎ খাত এত দিন চলেছে, আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সোলারের মাধ্যমে আগামী দিনে বিদ্যুতের সরবরাহ ও চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে আমরা সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রীর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছে। যারা রুফটপে সোলার স্থাপন করবেন, তারা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এ জন্য একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এই সোলার সিস্টেমকে সফল করতে পারব, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা তত কমে যাবে, খরচ কমবে, আমদানি ব্যয় কমবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, আমাদের দেশে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। কর্মসংস্থান বলেন, শিল্পায়ন বলেন, আমরা যা-ই করতে যাই, সবকিছুর মূলে দাঁড়ায় আমাদের জ্বালানি সক্ষমতা কতটুকু। আমাদের দেশে বেকারত্ব অনেক বেশি। ওয়ালটন যত ধরনের গৃহস্থালি পণ্য তৈরি ও উৎপাদন করে, প্রতিটি পণ্য সোলার সিস্টেমে চালানো সম্ভব। আমার বিশ্বাস, এতগুলো পণ্য একত্রে সোলারে চলে, এমন ব্যবস্থা কোনো একক কোম্পানি তৈরি করেছে কি না, আমার জানা নেই। সেই সক্ষমতা ওয়ালটনের রয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তা তৈরি করেছে। আমরা অসংখ্য সহযোগিতা পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনারা যারা আছেন, রাষ্ট্রের প্রধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব কাঠামোর কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি তাঁর নিজের ব্যবহৃত বাসার ছাদে ওয়ালটনের সোলার ব্যবহার করছেন। এই আস্থা শুধু আমাদের একার জন্য তৈরি হয়নি। আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব বলে গেলেন, আমাদের মিডিয়া আসলেই আমাদের বন্ধু। আমরা যখন বাংলাদেশে একটি মাত্র পণ্য—মেড ইন বাংলাদেশ—নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন সব ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি করে বিক্রি করা হতো। সেই সময় মিডিয়ার কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশে একটি কোম্পানি পণ্য তৈরি করছে, করবে—এই অবস্থায় তাঁরা ওয়ালটনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। সেই সহযোগিতার ফলেই মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিজের মতো এত দামি একটি পণ্য মেড ইন বাংলাদেশ থেকে কিনতে অনেকেই সাহস করতেন না। এটি ব্যবহারযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই সময়ে মিডিয়ার ভাইদের যে ভূমিকা ছিল, তার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। সেই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।

ওয়াল্টন চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কারখানার প্রতিটি ছাদে আমরা সোলার ব্যবহার করছি। আমাদের যেসব জলাশয় রয়েছে, সেখানে মৎস্য খামারের ওপরও সোলার ব্যবহার করছি। এভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ দিতে পারব। আমরা এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। হয়তো এমন একটি অবস্থায় আমরা সক্ষম হব, যখন বিদ্যুৎ লাইন থেকে বিদ্যুৎ না নিলেও আমাদের চলতে পারে। সবার অক্লান্ত পরিশ্রম, আপনাদের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে শিল্পায়ন হোক, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হোক, সবাই গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করুক, সবাই ভালো থাকুক এবং পরিবেশ ভালো থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেমে রয়েছে সোলার ইনভার্টার, সোলার প্যানেল, স্টোরেজ ব্যাটারি ও সোলার কেবল। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎনির্ভর হাইব্রিড এসি, চার দরজার ইনভার্টার ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক স্টোভও প্রদর্শন করা হয়।




সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ নারীর

লালমনিরহাট সদরে সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া বালাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই নারী লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মোস্তাফি ধুমেরকুঠি এলাকার বাসিন্দা। তারা ওই এলাকার ফজলুল হকের মেয়ে ফজিলা বেগম (৪৫) এবং আজিমউদ্দিনের মেয়ে জমিলা বেগম ( ৪৮)

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজ শেষে দুই নারী সকালে হাঁটতে বের হলে রংপুর থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘাতক ট্রাকটি আটক করে খবর দিলে পুলিশে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকালে ওই দুই নারী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। আলোচিত সময়ে এসব বাজারে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে এই রপ্তানি আয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ সময়ে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। মোট পোশাক রপ্তানির ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এসেছে এ বাজার থেকে। এ সময়ে ইইউতে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৯০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দেশটিতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২২২ কোটি ডলারের পোশাক। মোট পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

কানাডায় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কানাডায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি বেশি

পোশাকের ধরন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, এ সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ওভেন পোশাকের তুলনায় বেশি ছিল।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান ছিলো ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।




রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

রিকশাচালক থেকে মুচি কিংবা ছোট-বড় সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হচ্ছে। এতে রিকশাচালক-মুচিসহ যে কেউ নিজস্ব কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলা কিউআর কোড দিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআরের বাস্তবায়ন চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ ছিল নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা। ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কেননা মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার লেনদেন সম্পন্ন করতে পারলেও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রায় দেড়-দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অগ্রগতি দেখা যায়। এরপর বাংলা কিউআরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে চার্জ ছিল, তা শূন্য করা হয়েছে। শুধু দুই হাজার টাকা নয়, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা; যেকোনো অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এ চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, এ পর্যায়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনের সুযোগ চালু করা হবে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ; সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।

বাংলা কিউআরের অগ্রগতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় প্রতি সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়েছে। তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলা কিউআরের যাত্রায় এখনও সামান্য পথ অতিক্রম করা হয়েছে। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।

বাংলা কিউআরের পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমটি ডিজিটাল পরিচয়, দ্বিতীয়টি ডিজিটাল লেনদেন এবং তৃতীয়টি তথ্য বিনিময়। ডিজিটাল পরিচয় মানে জন্মের পর একজন মানুষের যে পরিচয় তৈরি হবে, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত বহাল থাকবে। আর তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না। পরিচয় নম্বরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সনদ ও তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার ঘোষণার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।

বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে গভর্নর মোস্তাকুর বলেন, এ উদ্যোগের যাত্রায় গণমাধ্যম অনেক সহযোগিতা করেছে। ফলে এ নিয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে জনপ্রিয় করার পেছনে গণমাধ্যমের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।




গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় সেই ভারতীয় নাগরিক ফের রিমান্ডে

বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন ও হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার রবিউলকে দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। গত ১ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় মামলায় দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়িবোজ গ্রামে। তাকে ডিএমপির একটি জিডির সূত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে টিএফআই সেল-এর মাধ্যমে তাকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

​জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, রবিউল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্মতারিখে অমিল রয়েছে। সে ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা রয়েছে।

আসামি জানায়, সে প্রায় ১০–১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করছে। কখনও ট্যুরিস্ট আবার কখনও বিজনেস ভিসায় সে দেশে প্রবেশ করত। তবে মূলত পর্যটন ও ব্যবসায়ের আড়ালে সে গুপ্তচরবৃত্তি চালাত এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করত বলে জানা যায়।

​তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থি কাজ চালায়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি তোলা, স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিল, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

​আসামির বিরুদ্ধে দ্য অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর পৃথক ধারায় অপরাধ প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা বাংলাদেশবিরোধী কোনো বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিল কিনা, তা যাচাই এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়।




দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে

দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো হাঁস-মুরগি উৎপাদনের খামার আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। হাঁস প্রজনন খামারের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে একদিকে যেমন কর্মংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভারতা অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোক্তায় পরিণত করা গেলে বেকারত্বের হার কমানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে। প্রতিমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের খামারের প্রতি উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিনি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক-সংলগ্ন ঝিলপুকুরে (লেক) মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বিকেলে রূপসা উপজেলার জাবুসা টোটাল সি ফুড প্রসেসিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।




বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির অনুরোধ লিথুয়ানিয়াকে

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়াকে অনুরোধ ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমন্তস ভারবিকাস প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষা‌তে এ‌লে তি‌নি এই অনু‌রোধ ক‌রেন।

সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, দ্বিমুখী লভ্যতা, জনবল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গভীর সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন খাত ও ইস্যুতে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ক আরও প্রশস্ত করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী সফট কূটনীতি সম্প্রসারণ এবং তথ্য প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সাইবার নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।

তারা পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য মন্ত্রীরা উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়, ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল ও ক্রীড়া দল বিনিময়, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অব্যবহৃত সম্ভাবনা খুঁজে বের করার জন্য জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

বাংলাদেশে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং (ডব্লিউআরবি) ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। তবে, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। একইসঙ্গে যে কোনো বিক্রয় কার্যক্রমের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গ্রাহকদের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে তাদের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এ ঘোষণার ফলে গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে ব্যাংকটি বলেছে, ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষ। এ সময়ে গ্রাহকরা স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে। তবে, ব্যাংকটি এখন করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং (সিআইবি) ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দেবে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, আন্তঃসীমান্ত ব্যাংকিং সক্ষমতা ও বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে ব্যাংকটি।

বার্তায় বলা হয়, এ পরিবর্তনের পুরো সময়জুড়ে গ্রাহকদের আগের মতোই সেবা ও সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ নিরাপদ রয়েছে এবং তারা স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবেন।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কোনো অগ্রগতি হলে গ্রাহকদের জানানো হবে।

এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা সহায়তার প্রয়োজন হলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের কন্টাক্ট সেন্টার ১৬২৩৩ অথবা সংশ্লিষ্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান লুৎফুল হাবিব গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) ইব্রাহিম খোকন, সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তপন দত্ত, তসলিম হোসেন সেলিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আল কাদেরী জয় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে এর প্রভাব শ্রমিকদের পাশাপাশি বন্দরের স্বার্থের ওপর পড়তে পারে। তাই ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংগঠনের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় ১২ অক্টোবর বেলা ১১টায় অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই অনশন কর্মসূচি থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।

পরে বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিমতলা বিশ্বরোড ঘুরে পুনরায় শুরুর স্থানে এসে শেষ হয়। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।




অক্টোবরের সাতদিনে এলো ৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি মাস অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের সাতদিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। যা তার আগের মাসের একই সময়ে এসেছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এসেছে এখন পর্যন্ত।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৯৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে ৮২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

এর আগে, সদ্য বিদায় সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।