শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নির্মাতা : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নির্মাতা। একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শুধু প্রতিদিন পাঠদান করেন না, তিনি প্রতিদিন আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলেন।

 

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ন্যায়সংগত আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধে শিক্ষিত করা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষকদের সম্ভাবনার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন, আজকের এই শিক্ষক দিবসে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে পেয়েছি, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। দিনের শুরুতে বৈঠক এবং বিকেলেও একাধিক কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। এটি শিক্ষকদের প্রতি তার সম্মান ও গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ। আগে এই দিবসে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তা বাড়িয়ে ১০২ জন করা হয়েছে। সম্মাননা হিসেবে শিক্ষকদের পদক, দুই লাখ টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হচ্ছে।

ড. মিলন বলেন, জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা-মা। বাবা-মা সন্তানকে প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে স্কুল-কলেজে পাঠানোর পর দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরাই তাদের জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখেন। ফলে জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শিক্ষকদের মর্যাদা শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে তাদের বেতন, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশে। শিক্ষকদের সমস্যাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতামত ও শিক্ষা সংস্কারে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক সময় যারা শ্রেণিতে প্রথম হতো, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা পেশায় আসতে আগ্রহী ছিল। বর্তমানে আমরা সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে চলে গেছি। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতাকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নেবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা নীরব শিক্ষার্থীটিকেও খুঁজে বের করতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ আজকের সেই পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পারে। শিক্ষকদের পাশে সরকার থাকবে। তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে অনুষ্ঠানে ১০২ জন গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।