সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিককে দুদকে তলব
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাকে এ সংক্রান্ত তলবি নোটিশে তাকে ৭ অক্টোবর হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। আর নোটিশ তার বারিধারার ক্যান্টমেস্টের বাসার দরজায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (থার্ড টার্মিনাল) সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তাকে আগামী ৭ অক্টোবর ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ৬২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন, পাচার ও ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে পৃথক চার মামলা করে দুদক।
এক মামলায় তারিক সিদ্দিকের নামে ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৩২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
আরেক মামলায় তারিক আহমেদ সিদ্দিকের স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ২১৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ মামলায় তারিক সিদ্দিকের মেয়ে নুরিন তাসমিয়া সিদ্দিক ও বুশরা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৭ হাজার ১৯২ টাকা ও ৪ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। প্রতিটি মামলায় তারিক সিদ্দিককেও আসামি করা হয়।
এছাড়া আরও একাধিক দুর্নীতির মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তারিক আহমেদ সিদ্দিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৯ এপ্রিল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের স্ত্রী শাহিন সিদ্দিক ও দুই মেয়ে বুশরা সিদ্দিক ও নুরিন তাসমিয়া সিদ্দিকসহ ৮ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৪ মে তাদের ১৩টি ব্যাংক হিসাবের ছয় কোটি ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ২৭১ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়।