চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে চার বছর বয়সি তাসমিন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। একই সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আটজন। এর মধ্যে মহানগরে চারজন, বিভিন্ন উপজেলায় তিনজন এবং অন্যান্য জেলার একজন রয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ১ হাজার ৩১৮ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৩৫৪ জন এবং অন্যান্য জেলার ৩৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে মহানগরে পাঁচজন, উপজেলায় সাতজন এবং অন্যান্য জেলার একজনসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। আগস্টে নতুন করে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। ওই মাসে মৃত্যু হয় দুজনের।

সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে। মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ মাসে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে।

এর আগে জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং মারা যান দুজন। জুনে আক্রান্ত হন ১২২ জন। মে মাসে ৩৭, এপ্রিলে ২৯, মার্চে ২০, ফেব্রুয়ারিতে ২২ এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে। উপজেলাটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৫ জন।

এছাড়া কর্ণফুলীতে ২০২, বাঁশখালীতে ৯৮, রাঙ্গুনিয়ায় ৯৬, আনোয়ারায় ৭১, পটিয়ায় ৬৮, সাতকানিয়ায় ৬১, লোহাগাড়ায় ৫৪, বোয়ালখালীতে ৫৪, মিরসরাইয়ে ৪২, হাটহাজারীতে ৪০, চন্দনাইশে ৩৪, ফটিকছড়িতে ৩১ এবং সন্দ্বীপে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী ও ২৫ জন শিশু।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৬৪ জন, নারী ৮৫৪ জন এবং শিশু ৬৩০ জন। মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে তিনজন পুরুষ, সাতজন নারী ও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় বাসাবাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা এবং নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কেউ আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ সিভিল সার্জনের।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের।