উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ঋণ দেবে ৩৮ ব্যাংক
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার(২ সেপ্টেমবার) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানয়ি।
গত ৬ জুলাই জারি করা সার্কুলারের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমাদ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি—পুরো মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করাই এ তহবিলের লক্ষ্য।
তহবিলের আওতায় একজন গ্রাহক কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ থাকবে। রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয় অথবা কৃষকেরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। নতুন তহবিলের অর্থায়নের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এই তহবিলের অর্থে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার বা সাইলো, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অর্থায়ন করা যাবে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী কার্যক্রমেও ঋণ দেওয়া হবে।
তহবিলটির মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এর কার্যক্রম রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়বে, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে।