‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু: সেই নারীর বা‌ড়ি‌তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির কনিকা মণ্ডল।

নিহত কনিকা উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

নিহত কনিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট দিনগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

ছেলে পার্থ মণ্ডল বলেন, আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।আর যেন কোনো মা মারা না যায়, সেজন্য ওই হাসপাতাল বন্ধসহ ডাক্তারের শাস্তির দাবি জানাই।

 

স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই কনিকার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে গত রাতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে

গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।