কপিরাইট নিয়ে অভিযোগ: চ্যানেল আইকে নোটিস এক সাংবাদিকের
ফেইসবুক লাইভের ভিডিও নিজেদের কনটেন্ট হিসেবে দাবি করে কপিরাইট দাবি করার অভিযোগে চ্যানেল আইয়ের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস দিয়েছেন আরেকটি টেলিভিশন স্টেশনের একজন উপজেলা প্রতিনিধি।
বুধবার নোটিস পাঠিয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি জি এম মশিউর রহমান মিলন।
নোটিসে সাত দিনের মধ্যে ‘কপিরাইট ক্লেইম’ প্রত্যাহার, লিখিত ক্ষমা এবং পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
নোটিসদাতার আইনজীবী মোজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেছেন, তার মক্কেলের দাবি পূরণ করা না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে যাবেন তারা।
এ বিষয়ে চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা এখনো মিলনের পাঠানো আইনি নোটিস পাননি।
“যেহেতু আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রথমে আমাদের সেটি পেতে হবে। নোটিস পাওয়ার পর আমরা দেখব আসলে আমাদের কোনো সমস্যা আছে কি না। তার অভিযোগটি সঠিক হলে আমরা সে অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করব।”
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও রুচির বিষয়টিকে চ্যানেল আই গুরুত্ব দেয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সেটি আমরা চাই না। তাই নোটিসটি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীন চ্যানেল আইয়ের প্রকাশক শাইখ সিরাজকে উদ্দেশ করে ওই আইনি নোটিস পাঠান।
নোটিসে মিলনকে ৭১ টেলিভিশন ও দৈনিক খবরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।
নোটিসে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই বাউফলের দাশপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মিলন। ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য নেওয়ার পর সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার ঘটনাটি তিনি নিজের ফেইসবুক পেইজে লাইভ করেন।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এরপর চ্যানেল আই একই ভিডিও তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করে। পরে ৮ আগস্ট মিলনের মূল ভিডিওটির ৩৩ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশে ফেইসবুকের রাইটস ম্যানেজার ব্যবস্থার মাধ্যমে কপিরাইট ক্লেইম করে।
নোটিশে চ্যানেল আইয়ের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে তুলে ধরা হয়।
মিলনের দাবি, কপিরাইট ক্লেইমের কারণে তার ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী ব্লক হয়ে যায়। এতে ফেইসবুক থেকে তার আয়ের সুবিধা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত সুনাম, মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।