মাইক্রোএন্টারপ্রাইজে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল, দুই লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও মো. আনিছুর রহমান এবং এসএমই অ্যান্ড এসপিডির পরিচালক নওশাদ মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. একেএম নুরুজ্জামানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৩ মে দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে পিকেএসএফের মাধ্যমে বিশেষায়িত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে পিকেএসএফ।
কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের সম্ভাবনাময় মাইক্রোএন্টারপ্রাইজগুলোতে বাড়তি অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো। কর্মসূচিটি তিনটি প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো আর্থিক পরিষেবা প্রদান, ব্যবসাগুচ্ছভিত্তিক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন।
পিকেএসএফ জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় ব্যবসাগুচ্ছের উন্নয়নে কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং তহবিলের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলটি আবর্তক তহবিল বা ‘রিভলভিং ফান্ড’ হিসেবে পরিচালিত হবে। ফলে একবার অর্থায়ন করার পর ঋণের অর্থ ফেরত এলে তা আবার নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায় অর্থায়নে ব্যবহার করা যাবে।
পিকেএসএফের প্রত্যাশা, এর ফলে তহবিলের ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অর্থায়নের আওতায় আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই খাত অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।