আমিনবাজারে মহাসড়কের দুই পাশের ময়লা সরিয়ে লাগানো হচ্ছে গাছ
দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশ। প্রায় দুই দশক ধরে যাত্রী ও স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এ অংশে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
কাজ শেষ হলে শিগগির প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নতুন করে সজ্জিত সড়কটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন জানায়, মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যের ভাগাড় অপসারণের পর নির্দিষ্ট স্থানে বালি ও মাটি ফেলে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে নারিকেল, সুপারি, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি মাটি ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের ঘাস রোপণ করা হয়েছে।
অননুমোদিতভাবে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে আবার বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন স্থানে মজবুত নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে এখন ওই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, খুব দ্রুতই যাত্রীরা আবর্জনার ভাগাড়ের পরিবর্তে মহাসড়কের পাশে সবুজ গাছপালা ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখতে পাবেন।
ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, এ এলাকায় ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হয়েছে। নির্ধারিত ল্যান্ডফিলের বাইরে কেউ মহাসড়ক বা আশপাশে বর্জ্য ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হওয়ার পর এ এলাকায় দুটি উইন্ডমিল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রায় দেড় কিলোমিটার মহাসড়কে সড়কবাতি জ্বালানো হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও ময়লার ভাগাড়ের পরিচিতি পেছনে ফেলে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের এ অংশটি পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে রূপ নেবে।