দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, মিলবে যেসব সুবিধা
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কমপ্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সই হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ চুক্তি সই করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে বাংলাদেশ চুক্তি সইয়ের প্রথম দিন থেকেই ৮৪২৮টি পণ্যে কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, কোরিয়া ১০৫৪টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ’র মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্য, ফুটওয়্যারসহ অন্য পণ্যগুলো চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।
সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ কোরিয়ার ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে ৪টি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্যমন্ত্রী এক ব্রিফংয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার পাঁচ মাসের মাথায় প্রথম এটি করেছে।
তিনি বলেন, এ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতির ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। কোরিয়া পাবে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকরণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাইচেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন কোরিয়ান কোম্পানি চুক্তির ফলে এদেশে সুবিধারজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে তা বেড়েছে। দুদেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।