সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন তদন্তের নির্দেশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তদন্ত পরিচালনা করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ জুলাই) বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের আচরণ লক্ষ করেছে কমিশন। এর পরিপ্রক্ষিতে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের জন্য বিএসইসি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করে দিয়েছে। এগুলো হলো সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমন্বিত, কারসাজিমূলক বা কৃত্রিম লেনদেন হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করা। পাশাপাশি অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিং বা ভেতরের কেউ সুবিধা নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মার্জিন রুলস এবং কমিশনের অন্যান্য নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন সঠিকভাবে পরিপালন করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেও দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউজ ও তাদের প্রতিনিধিদের ভূমিকা বা দায়িত্ব নিরূপণ করা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গত ২২ জুন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর ৭৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। শেয়ারদরের পাশাপাশি এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
চিঠিতে বিএসইসি আরও উল্লেখ করেছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন রোধে ব্রোকার হাউজের প্রধান নির্বাহী, কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে ডিএসইকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকেও এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।