পিস্তল পাচ্ছেন মাদকের কর্মকর্তারা, অনুমোদন রয়েছে ৫৯৫টি অস্ত্র

মাদকবিরোধী অভিযানে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার আধুনিক অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিরস্ত্র অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করলেও শিগগিরই নাইন এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল নিয়ে মাঠে নামবেন ডিএনসি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে অস্ত্র সংগ্রহের প্রায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।

এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৩৫ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ চলছে। এতে উপপরিদর্শক থেকে শুরু করে পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকসহ মোট ৫৭৯ জন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২৬০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষণে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ব্যবহার এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণ শেষে মাঠ পর্যায়ের অভিযানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আপাতত ২৭৫টি ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মোট ৫৯৫টি অস্ত্র কেনার অনুমোদন রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হবে শুধুমাত্র “সর্বশেষ পন্থা” হিসেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ, এরপর প্রয়োজন হলে ফাঁকা গুলি এবং সর্বশেষ ক্ষেত্রে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক গুলি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি গুলির ব্যবহার পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা ও নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারিরা এখন সশস্ত্র হওয়ায় অভিযান পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অস্ত্র সংযোজন হলে আত্মরক্ষা ও অভিযানের সক্ষমতা বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।

ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, “মাদক কারবারিরা এখন অস্ত্রসজ্জিত। আমাদের কর্মকর্তারা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন। অস্ত্র যুক্ত হলে আমরা আরও কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে পারবো।”

ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, “অস্ত্র ছাড়া অভিযানে অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকে। এখন আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়বে এবং অভিযান আরও শক্তিশালী হবে।”

ডিএনসি আশা করছে, নতুন এই সক্ষমতা মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে।