চট্টগ্রামে গণধর্ষণের পর নির্মম হত্যা, ৯ মাস পর ডিএনএতে মিলল পরিচয়—২ জন গ্রেফতার
গত ২১ জুন ২০২৬ চট্টগ্রামে এক নৃশংস গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের প্রায় ৯ মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে “জুলাই আন্দোলন” চলাকালে চট্টগ্রামের ভূজপুর এলাকায় ভিকটিম রিনা আক্তারকে (ছদ্মনাম) জোরপূর্বক আব্দুল মান্নানের টিলার টিনের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীতে ৪ আগস্ট স্থানীয় মসজিদের ইমামের মাধ্যমে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে ৫ আগস্ট মান্নানের টিলার বাগান থেকে ভিকটিমের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে ভূজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা রুজু হয়।
পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ আদালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুন ২০২৬ রাতে ফেনী সদর থেকে মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ জুন ২০২৬ হাটহাজারী থেকে মো. রামজান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন ভিকটিমকে জোরপূর্বক আটক রেখে নাচ-গান করানোর পর একাধিক আসামি মিলে গণধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি প্রকাশের ভয় দেখালে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ টুকরো করে টিলার পাশে ফেলে রাখা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।