বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাজারে নেতৃত্ব দিতে উদ্ভাবন ও গবেষণার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব টেক্সটাইল বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং আগামীতে এই খাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হলে ব্যাপক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং গ্রিন টেক্সটাইল প্রযুক্তির টেকসই অভিযোজনের আহ্বান জানান।

আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এ আয়োজিত ‘৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিটিএসই-২০২৬)’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাত হচ্ছে রক্ত সঞ্চালনের মতো প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত, যার বড় অংশই নারী।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও কাঁচামালের ওপর আমাদের এখনো নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গবেষণার মাধ্যমে নতুন পথ খুঁজতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন বা এআই আমাদের পোশাক খাতের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে না। বরং এটি পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সৃজনশীল ডিজাইন তৈরি, বৈশ্বিক বিপণনে আমাদের সৃজনশীল আইডিয়া দিয়ে সহায়তা করবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টেক্সটাইল’ ও রিসাইক্লিং (পুনর্ব্যবহার) ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাচীন আমলের ঢাকার বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমাদের সেই সোনালী অতীতকে আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রক্ষায় সিনথেটিক বা পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বুটেক্স-এর ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ২০০৬ সালে কলেজ থেকে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা কেবল চাকরিজীবী নন, বরং অনেকেই সফল উদ্যোক্তা ও শিল্পপতি হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

এছাড়া টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা বিসিএস, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনীতিতেও সফলভাবে যুক্ত হচ্ছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মাধ্যমে টেক্সটাইল শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উত্থাপিত বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টেক্সটাইল বিজ্ঞানী মাইকেল কোকেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী দেশব্যাপী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুটেক্স-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করেন।