ভারতীয় গরুশূন্য হাটে দেশি পশুর আধিপত্য
ভারতীয় সীমান্তঘেরা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এবার কোরবানির পশুর হাটের চেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিগত বছরগুলোতে কোরবানির ঈদে যেসব হাটে ভারতীয় গরুর একচেটিয়া আধিপত্য থাকত। এবার সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে ভারতীয় গরুর দেখা নেই বললেই চলে। ফলে জেলার ছোট-বড় সব হাট এখন সম্পূর্ণ দেশি গরুর দখলে। ভারতীয় গরু না আসায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা।
তিন দিকে ২৮৪ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত থাকা পঞ্চগড়ে অতীতে ঈদের আগে অবৈধ পথে প্রচুর গরু আসত। এবার চোরাচালান বন্ধ হওয়ায় নিজেদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে আসছেন খামারিরা। পঞ্চগড় সদরের রাজনগর হাট, বোদার নগরকুমারি, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ, আটোয়ারীর ফকিরগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়ার শালবাহান পশুর হাট ঘুরে এখন শুধু দেশি গরুর বড় বড় সারি চোখে পড়ছে।
খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না থাকায় এবার তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
গো-খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমান্তে এই নজরদারি সবসময় বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার পঞ্চগড়ে কোরবানির পশুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। জেলায় এক হাজার ২৩৬টি খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৩৩০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে স্থানীয় চাহিদা এক লাখ তিন হাজার ৪৫০টি পশুর। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ২৬ হাজারেরও বেশি গরু বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাজনগর গরুর হাটের ইজারাদার আব্দুস সামাদ পুলক জানান, হাটে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার দেশি গরু উঠেছে এবং কোনো ভারতীয় গরু নেই। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষায় হাটে বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরী, লাইটিং এবং মলম পার্টির হাত থেকে সচেতন থাকতে নিয়মিত মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও জমজমাট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভালো দামের আশা খামারি ও ব্যবসায়ীদের
হাটে আসা হাড়িভাসা এলাকার খামারি আব্দুল গফুর জানান, এক বছর ধরে লালন-পালন করা গরুর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন, আরও তিনটি হাটে এনেছেন। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খরচ বাড়লেও ভারতীয় গরু না থাকায় এবার ভালো লাভ করার আশা করছেন তিনি। একই কথা বলেন স্থানীয় গৃহস্থ আবদুর রহিম। দেড় বছর ধরে বাড়িতে পালন করা দুটি ছোট ষাঁড়ের দাম পাইকাররা বাড়িতেই এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হেঁকেছেন। হাটে এনে এক লাখ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বগুড়ার সাতমাথা থেকে আসা ব্যবসায়ী ময়ন উদ্দিন মিজান জানান, তিনি গত তিন হাট ধরে পঞ্চগড় থেকে গরু কিনে বগুড়ায় পাঠাচ্ছেন। দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় চলতি হাটেই তিনি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ১৭টি গরু কিনেছেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, তিন দিকে সীমান্ত থাকায় অসাধু চক্র যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় গরু নিয়ে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। খামারিরা যাতে তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পান এবং লাভবান হন, সেটি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।