প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (পল্লব) এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশদাতারা বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক দফা বাতিল করে সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মেধা ভিত্তিক সমান সুযোগ নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় মেধা ভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নীতিমালার দফা ৮.৬ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।
এ ধরনের বিধান সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী। নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ দফায় প্রবর্তিত ৮০:২০ প্রাতিষ্ঠানিক কোটা এবং পৃথক প্রতিযোগিতা কাঠামো সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যেকোনো শ্রেণিবিভাজন অবশ্যই যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই বিভাজনের সঙ্গে শ্রেণিকরণের যুক্তিসঙ্গত সম্পর্ক থাকতে হবে।
বর্তমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ধরনের (সরকারি এবং বেসরকারি) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজন করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। সংবিধান এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী বিভাজন সমর্থন করে না।
এছাড়াও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য পৃথক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। কাজেই মেধাভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোটা আরোপ অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০২৬ সালে প্রণীত নীতিমালার অধীনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা অন্যায্যভাবে বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোজগতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির ওপর নেতিবাচক এবং বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা, নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ এবং ৮.৬ দফা পুনর্বিবেচনা করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।