বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আবারও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছর মূল্যবান এই ধাতুর দাম রেকর্ড ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডলারের দরপতনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সর্বকালের সর্বোচ্চ হিসেবে স্বর্ণের দর উঠেছিল ৫ হাজার ১১০ দশমিক ৫০ ডলারে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০ ডলার।

এদিকে, রুপার দামেও বড় উত্থান দেখা গেছে। গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো রুপার দাম আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়। চলতি সপ্তাহে তা আরও বেড়ে ১০৮ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ইরানকে ঘিরে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বাড়তি চাহিদা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি শিথিল হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত ডিসেম্বরে টানা ১৪ মাস ধরে চীনের স্বর্ণ ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ–ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহ স্বর্ণের দামে বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন জল্পনাও কাজ করছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সঙ্গে ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে যোগাযোগ করেছে—এমন প্রতিবেদনের পর এশিয়ার বাজারে ইয়েনের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এক শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়ে ১৫৩ দশমিক ৮৯-এ দাঁড়িয়েছে।