অগাস্টেই ঢাকার দুই এলাকায় ই-রিকশা

আগামী অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই অঞ্চলে চলাচল শুরু করবে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা।

ওইসব রিকশা সড়কে নামার পর অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেওয়া হবে।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে ই-রিকশা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

তিনি বলেন, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ এ এই রিকশা চলাচল শুরু হবে।

“আমরা এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটা ধীরে ধীরে শুরু করব। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই অঞ্চল থেকে বর্তমানে যেসব অননুমোদিত রিকশা চলছে, সেগুলো তুলে দিব। এই রিকশাগুলো আমরা গ্র্যাজুয়ালি সরাব, মানে কোনো হেভি এভিকশন ড্রাইভ দিয়ে সরিয়ে দেব তা না।

“নতুন রিকশাগুলো যারা কিনবেন তারা নামতে থাকবেন, পুরোনোগুলো ফেইজআউট হবে। পুরো বিষয়টি আমরা সায়েন্টিফিক ও গ্রাজুয়াল প্রসিডিউর মেনে করব, কোনো জোর-জবরদস্তির পথে আমরা যাব না।”

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নির্ধারিত টাইমলাইন ধরে তারা কাজ করছেন না। ধীরে ধীরে ই-রিকশা নামানোর প্রক্রিয়াটি হবে।

“কমপ্লিট ডেটলাইন ধরে ফেজআউট করলে বিষয়টি নিয়ে আবার নানা কথাবার্তা হবে। আমরা আস্তে আস্তে মার্কটে যাবে, কারণ যারা কিনবেন তাদেরও প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে। টার্গেট হচ্ছে অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা এগুলো মার্কেটে দেওয়া শুরু করব।”

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “ওইসব অঞ্চলে যারা রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিকশাও দেওয়া হবে তাদেরই।

“চার্জিং পয়েন্টের বিষয়ে আমরা কাজ করছি, দেখি কিছু চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করা যায় কি না। ডেসকোর সঙ্গে আমরা আলাপ করে সেটা ঠিক করব।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ই-রিকশা এবং চালকের নিবন্ধন করতে হবে। দুর্নীতি এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা হবে।

“যাতে করে এখানে হাতের কোনো সংস্পর্শ না থাকে। কারণ হাতের সংস্পর্শ আর লাইসেন্সের বিষয় হলেই আমাদের এখানে অবৈধ লেনদেনের একটা সুযোগ তৈরি হয়। ঢাকায় রিকশার এই রূপান্তরটা যারা করবেন, সেই রিকশাচালকদের ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”

উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় রিকশা থাকবে। আর রিকশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটিতে কিউআর কোড থাকবে।

“এখন যেমন আনলিমিটেড রিকশা নামানো হচ্ছে, তখন তা হবে না। চাইলেই কেউ রিকশা নামিয়ে ফেলতে পারবে না। একটি এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা থাকবে। রিকশাগুলো ওই জোনেই চলবে। কিউআর কোড রিকশাগুলোকে রেগুলেশনে আনতে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল হাফিজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।