বীমা কোম্পানিতে উপদেষ্টা নিয়োগের খসড়া প্রবিধানে অংশীজনদের মতামত আহবান
‘বীমাকারীর উপদেষ্টা নিয়োগ প্রবিধানমালা, ২০২৪’ এর খসড়ায় অংশীজনদের মতামত আহবান করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষজ্ঞ এবং জনসাধারণকে খসড়া প্রবিধানমালার বিষয়ে ইমেইলে এই মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে।
গতকাল (১০ ডিসেম্বর) কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) মোহা. আবদুল মজিদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন, ইন্স্যুরেন্স ফোরাম, ইন্স্যুরেন্স একাডেমিসহ সকল লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
বীমা কোম্পানির উপদেষ্টা নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালার বিষয়ে মতামত পাঠানোর জন্য চিঠিতে দু’টি ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ই-মেইল ব্যতিত সরাসরি হার্ডকপি গ্রহণযোগ্য নয় এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে মতামত না পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কারো আপত্তি বা মতামত নেই মর্মে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
বীমাকারীর উপদেষ্টা নিয়োগ প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর খসড়ায়, একই শ্রেণির বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ১০ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অথবা বীমা বিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব বা তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বীমাকারীর উপদেষ্টা নিয়োগের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।
খসড়া প্রবিধানমালা অনুসারে, উপদেষ্টা নিয়োগের মেয়াদ হবে ৩ বছর এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে উক্ত মেয়াদ নবায়ন করা যাবে। তবে কোন ব্যক্তি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগলাভের জন্য যোগ্য হবেন না, যদি তিনি বা তার পরিবারের কোন সদস্য সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর শেয়ারহোল্ডার কিংবা পরিচালক কিংবা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হন;
অথবা তিনি অন্য কোন বীমা কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোন পদে থাকাকালীন তাহার পদের ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির কারণে অপসারিত হয়ে থাকেন; অথবা তিনি কোন ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হন; অথবা তিনি কোন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগের অযোগ্য বলে বিবেচিত হন।
উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ১১টি পেশাগত ডিগ্রির ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অভিজ্ঞতার মেয়াদ শিথিলের পাশাপাশি বিদেশে বীমা (লাইফ বা নন-লাইফ) বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিসহ বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি; বা আইনজ্ঞ, জরিপকারী, মূল্যায়নকারী এবং ইসলামী শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কোন যুগ্মসচিব বা তদুর্ধ্ব কর্মকর্তা যার কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে এবং মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত প্রতিষ্ঠানে বীমা বিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য বলে গণ্য হবেন।
খসড়া প্রবিধানমালা অনুসারে, বীমাকারীর পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক উপদেষ্টার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়োগ চুক্তিপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। উপদেষ্টা বীমাকারীর বিনিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা , প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসায় উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণসহ বীমা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে পরিচালনা পর্যদ এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করবেন।#