দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের দোহাজারীকে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ ঘোষণার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবি আদায়ে আমরণ অনশন, মশাল মিছিল এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ‘বৃহত্তর দোহাজারীর সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় দোহাজারীকে অনেক আগেই উপজেলা ঘোষণা করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার কারণে এ অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রস্তাবিত ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, পর্যায়ক্রমে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, কালো পতাকা মিছিল, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি পূরণ না হলে সড়ক ও রেলপথে অবরোধের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যোগাযোগব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু’ নামে নতুন থানা গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের দাবি, দোহাজারীকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠন করা হলে এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা একটি চিঠিতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়িকে বাদ দিয়ে উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বৃহত্তর দোহাজারীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে। তাদের দাবি, আগের প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মতি বিবেচনায় নিয়ে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানববন্ধন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আগের সম্মতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত উপজেলা বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। একইসঙ্গে দাবি পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।




দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগের কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবলসংকট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।




ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেম উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

দেশে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ চালু করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে এ ইকো-সিস্টেমের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আজকে পাওয়ার সেক্টরে একটি গুণগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে ফুয়েল অয়েল, গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছি। এতে একদিকে প্রচুর আমদানি ব্যয় হয়, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের পরনির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এ কারণে আজকে জনগণের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ব্যবস্থা, সেটি হচ্ছে সোলার। ওয়ালটন সোলারের মাধ্যমে যে কাজ করছে, আমরা তা দেশের জনগণকে জানাতে চাই। এটি সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। আমরা চাই, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সোলারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, জনগণের চাহিদা মেটানো যাবে এবং কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়, সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে কুকারসহ সবকিছু চালানো যাবে। সুতরাং, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে আমাদের বিদ্যুৎ খাত এত দিন চলেছে, আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সোলারের মাধ্যমে আগামী দিনে বিদ্যুতের সরবরাহ ও চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে আমরা সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রীর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছে। যারা রুফটপে সোলার স্থাপন করবেন, তারা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এ জন্য একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এই সোলার সিস্টেমকে সফল করতে পারব, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা তত কমে যাবে, খরচ কমবে, আমদানি ব্যয় কমবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, আমাদের দেশে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। কর্মসংস্থান বলেন, শিল্পায়ন বলেন, আমরা যা-ই করতে যাই, সবকিছুর মূলে দাঁড়ায় আমাদের জ্বালানি সক্ষমতা কতটুকু। আমাদের দেশে বেকারত্ব অনেক বেশি। ওয়ালটন যত ধরনের গৃহস্থালি পণ্য তৈরি ও উৎপাদন করে, প্রতিটি পণ্য সোলার সিস্টেমে চালানো সম্ভব। আমার বিশ্বাস, এতগুলো পণ্য একত্রে সোলারে চলে, এমন ব্যবস্থা কোনো একক কোম্পানি তৈরি করেছে কি না, আমার জানা নেই। সেই সক্ষমতা ওয়ালটনের রয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তা তৈরি করেছে। আমরা অসংখ্য সহযোগিতা পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনারা যারা আছেন, রাষ্ট্রের প্রধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব কাঠামোর কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি তাঁর নিজের ব্যবহৃত বাসার ছাদে ওয়ালটনের সোলার ব্যবহার করছেন। এই আস্থা শুধু আমাদের একার জন্য তৈরি হয়নি। আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব বলে গেলেন, আমাদের মিডিয়া আসলেই আমাদের বন্ধু। আমরা যখন বাংলাদেশে একটি মাত্র পণ্য—মেড ইন বাংলাদেশ—নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন সব ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি করে বিক্রি করা হতো। সেই সময় মিডিয়ার কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশে একটি কোম্পানি পণ্য তৈরি করছে, করবে—এই অবস্থায় তাঁরা ওয়ালটনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। সেই সহযোগিতার ফলেই মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিজের মতো এত দামি একটি পণ্য মেড ইন বাংলাদেশ থেকে কিনতে অনেকেই সাহস করতেন না। এটি ব্যবহারযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই সময়ে মিডিয়ার ভাইদের যে ভূমিকা ছিল, তার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। সেই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।

ওয়াল্টন চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কারখানার প্রতিটি ছাদে আমরা সোলার ব্যবহার করছি। আমাদের যেসব জলাশয় রয়েছে, সেখানে মৎস্য খামারের ওপরও সোলার ব্যবহার করছি। এভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ দিতে পারব। আমরা এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। হয়তো এমন একটি অবস্থায় আমরা সক্ষম হব, যখন বিদ্যুৎ লাইন থেকে বিদ্যুৎ না নিলেও আমাদের চলতে পারে। সবার অক্লান্ত পরিশ্রম, আপনাদের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে শিল্পায়ন হোক, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হোক, সবাই গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করুক, সবাই ভালো থাকুক এবং পরিবেশ ভালো থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেমে রয়েছে সোলার ইনভার্টার, সোলার প্যানেল, স্টোরেজ ব্যাটারি ও সোলার কেবল। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎনির্ভর হাইব্রিড এসি, চার দরজার ইনভার্টার ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক স্টোভও প্রদর্শন করা হয়।




সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ নারীর

লালমনিরহাট সদরে সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া বালাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই নারী লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মোস্তাফি ধুমেরকুঠি এলাকার বাসিন্দা। তারা ওই এলাকার ফজলুল হকের মেয়ে ফজিলা বেগম (৪৫) এবং আজিমউদ্দিনের মেয়ে জমিলা বেগম ( ৪৮)

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজ শেষে দুই নারী সকালে হাঁটতে বের হলে রংপুর থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘাতক ট্রাকটি আটক করে খবর দিলে পুলিশে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকালে ওই দুই নারী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। আলোচিত সময়ে এসব বাজারে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে এই রপ্তানি আয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ সময়ে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। মোট পোশাক রপ্তানির ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এসেছে এ বাজার থেকে। এ সময়ে ইইউতে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৯০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দেশটিতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২২২ কোটি ডলারের পোশাক। মোট পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

কানাডায় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কানাডায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি বেশি

পোশাকের ধরন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, এ সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ওভেন পোশাকের তুলনায় বেশি ছিল।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান ছিলো ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।




রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

রিকশাচালক থেকে মুচি কিংবা ছোট-বড় সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হচ্ছে। এতে রিকশাচালক-মুচিসহ যে কেউ নিজস্ব কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলা কিউআর কোড দিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআরের বাস্তবায়ন চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ ছিল নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা। ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কেননা মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার লেনদেন সম্পন্ন করতে পারলেও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রায় দেড়-দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অগ্রগতি দেখা যায়। এরপর বাংলা কিউআরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে চার্জ ছিল, তা শূন্য করা হয়েছে। শুধু দুই হাজার টাকা নয়, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা; যেকোনো অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এ চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, এ পর্যায়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনের সুযোগ চালু করা হবে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ; সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।

বাংলা কিউআরের অগ্রগতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় প্রতি সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়েছে। তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলা কিউআরের যাত্রায় এখনও সামান্য পথ অতিক্রম করা হয়েছে। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।

বাংলা কিউআরের পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমটি ডিজিটাল পরিচয়, দ্বিতীয়টি ডিজিটাল লেনদেন এবং তৃতীয়টি তথ্য বিনিময়। ডিজিটাল পরিচয় মানে জন্মের পর একজন মানুষের যে পরিচয় তৈরি হবে, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত বহাল থাকবে। আর তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না। পরিচয় নম্বরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সনদ ও তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার ঘোষণার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।

বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে গভর্নর মোস্তাকুর বলেন, এ উদ্যোগের যাত্রায় গণমাধ্যম অনেক সহযোগিতা করেছে। ফলে এ নিয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে জনপ্রিয় করার পেছনে গণমাধ্যমের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।