গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় সেই ভারতীয় নাগরিক ফের রিমান্ডে

বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন ও হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার রবিউলকে দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। গত ১ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় মামলায় দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়িবোজ গ্রামে। তাকে ডিএমপির একটি জিডির সূত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে টিএফআই সেল-এর মাধ্যমে তাকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

​জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, রবিউল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্মতারিখে অমিল রয়েছে। সে ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা রয়েছে।

আসামি জানায়, সে প্রায় ১০–১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করছে। কখনও ট্যুরিস্ট আবার কখনও বিজনেস ভিসায় সে দেশে প্রবেশ করত। তবে মূলত পর্যটন ও ব্যবসায়ের আড়ালে সে গুপ্তচরবৃত্তি চালাত এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করত বলে জানা যায়।

​তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থি কাজ চালায়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি তোলা, স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিল, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

​আসামির বিরুদ্ধে দ্য অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর পৃথক ধারায় অপরাধ প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা বাংলাদেশবিরোধী কোনো বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিল কিনা, তা যাচাই এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়।




দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে

দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো হাঁস-মুরগি উৎপাদনের খামার আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। হাঁস প্রজনন খামারের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে একদিকে যেমন কর্মংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভারতা অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোক্তায় পরিণত করা গেলে বেকারত্বের হার কমানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে। প্রতিমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের খামারের প্রতি উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিনি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক-সংলগ্ন ঝিলপুকুরে (লেক) মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বিকেলে রূপসা উপজেলার জাবুসা টোটাল সি ফুড প্রসেসিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।




বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির অনুরোধ লিথুয়ানিয়াকে

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়াকে অনুরোধ ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমন্তস ভারবিকাস প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষা‌তে এ‌লে তি‌নি এই অনু‌রোধ ক‌রেন।

সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, দ্বিমুখী লভ্যতা, জনবল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গভীর সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন খাত ও ইস্যুতে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ক আরও প্রশস্ত করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী সফট কূটনীতি সম্প্রসারণ এবং তথ্য প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সাইবার নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।

তারা পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য মন্ত্রীরা উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়, ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল ও ক্রীড়া দল বিনিময়, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অব্যবহৃত সম্ভাবনা খুঁজে বের করার জন্য জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

বাংলাদেশে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং (ডব্লিউআরবি) ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। তবে, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। একইসঙ্গে যে কোনো বিক্রয় কার্যক্রমের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গ্রাহকদের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে তাদের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এ ঘোষণার ফলে গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে ব্যাংকটি বলেছে, ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষ। এ সময়ে গ্রাহকরা স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে। তবে, ব্যাংকটি এখন করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং (সিআইবি) ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দেবে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, আন্তঃসীমান্ত ব্যাংকিং সক্ষমতা ও বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে ব্যাংকটি।

বার্তায় বলা হয়, এ পরিবর্তনের পুরো সময়জুড়ে গ্রাহকদের আগের মতোই সেবা ও সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ নিরাপদ রয়েছে এবং তারা স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবেন।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কোনো অগ্রগতি হলে গ্রাহকদের জানানো হবে।

এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা সহায়তার প্রয়োজন হলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের কন্টাক্ট সেন্টার ১৬২৩৩ অথবা সংশ্লিষ্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান লুৎফুল হাবিব গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) ইব্রাহিম খোকন, সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তপন দত্ত, তসলিম হোসেন সেলিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আল কাদেরী জয় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে এর প্রভাব শ্রমিকদের পাশাপাশি বন্দরের স্বার্থের ওপর পড়তে পারে। তাই ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংগঠনের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় ১২ অক্টোবর বেলা ১১টায় অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই অনশন কর্মসূচি থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।

পরে বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিমতলা বিশ্বরোড ঘুরে পুনরায় শুরুর স্থানে এসে শেষ হয়। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।




অক্টোবরের সাতদিনে এলো ৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি মাস অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের সাতদিনে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। যা তার আগের মাসের একই সময়ে এসেছিল ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এসেছে এখন পর্যন্ত।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৯৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে ৮২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

এর আগে, সদ্য বিদায় সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।

চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপন এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান। এ সময় এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদল।




প্রবাসীদের বিমানবন্দর হয়রানি বন্ধে কড়া নির্দেশনা সংসদীয় কমিটির

প্রবাসী কর্মীরা যাতে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ, কে, এম, ফজলুল হক মিলন। বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করেছেন। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৫৯০ জন। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বৈঠকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে সরকার অনুমোদিত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি, যার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ২ হাজার ১৮৭টি। মূলত এসব এজেন্সি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড)-এর মাধ্যমেই বিদেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

কমিটির সভাপতি এ, কে, এম, ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মো. জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অংশ নেন।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

 

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রসারে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথরেখা নির্ধারণ করে। দেশের শিশুরা কীভাবে গড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকার কী ভাবছে, তার প্রতিফলন এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রয়েছে।

শিশুদের মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন এবং ছেলে-মেয়ের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী নিজের পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সম্পত্তিতেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ না রেখে পরিবার থেকেই সমঅধিকারের চর্চা শুরু করতে হবে।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শুরু হওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে। শুধু পড়াশোনায় নয়, শিশুদের শিল্প, সংগীত, নাটক ও খেলাধুলাতেও ভালো করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার ‘সফট পাওয়ার’। তাই শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় দেশের থিয়েটার, শিল্প ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার, কুমারসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কারিগরকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত শক্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।




বিমানবন্দরে হয়রানি-অনিয়মে ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের’ অভিযান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ট্রলির অপব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যাত্রীসেবায় বিঘ্ন এবং নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দাম রাখার অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি এ তথ্য জানান।

নওশাদ খান জানান, অভিযানের আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের সহযোগিতায় বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর উপস্থিত সাক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড করা হয়।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দরে প্রতিদিন চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রলি সংকট কমাতে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে মেরামত করে প্রায় ৫০০টি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রলির অবস্থান ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণে শিফটভিত্তিক বিশেষ টিম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রানওয়ে মেরামতের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকার পর পিক আওয়ারে একসঙ্গে বেশি ফ্লাইট অবতরণ করছে। ফলে কোনো কোনো সময়ে যাত্রীর তুলনায় ট্রলির সংখ্যা কম পড়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৮০ লাখ যাত্রী সেবার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছেন। তাদের সঙ্গে আসা-যাওয়া করেন আরও প্রায় ২ কোটি মানুষ। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

লাগেজ চুরি বা হয়রানির অভিযোগেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো যাত্রী লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়। লাগেজ চুরি বা হয়রানির অভিযোগ থাকলে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব পালন করেন। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে লাগেজ চুরির সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গত এক বছরে চার এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অপরাধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৫২৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।




বর্ণাড্য আয়োজনে গণসংস্কৃতি পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজন, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কচিকাঁচা মিলনায়তনে উদযাপিত হয়েছে গণসংস্কৃতি পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে গণসংস্কৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, সংরক্ষিত নারী আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, হাবিবুর রহমান রিজু,গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, আবু হানিফ, অ্যাডভোকেট নূরে এরশাদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খালেদ হাসান, নাদিম হাসান, নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও ছড়াকার রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন গণসংস্কৃতি পরিষদের আহ্বায়ক আহসান হাবিব এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব রোমান খাঁন।

আলোচনা পর্বে বক্তারা গণসংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, বিগত দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের অধিকার, মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চেতনা জাগ্রত করা এবং অন্যায়, বৈষম্য ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। তাই গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণসংস্কৃতি পরিষদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন রোমান মিয়া ও তাঁর দল। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ফয়সাল আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন সংগঠনের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। এতে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বক্তারা গণসংস্কৃতি পরিষদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সংগঠনটির ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বক্তব্য, গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় গণসংস্কৃতি পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।