বিসিক মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে হাজির ‘মেইডেন’

নারী ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া সংস্থা ‘নয়লি ফাউন্ডেশন’ (Noyli Foundation)-এর মাদার প্রজেক্ট ‘মেইডেন’ (MAIDEN)—‘নারীর উন্নয়নের সহযাত্রী’ স্লোগানকে সামনে রেখে আবারও এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তৃণমূল ও উদীয়মান নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে প্রজেক্টটি।

সেই ধারাবাহিকতায় তেজগাঁওয়ের বিসিক ভবনে আয়োজিত ‘বিসিক মেলা ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে মেইডেন। মেলায় ৪০ নম্বর স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে নারী কারিগরদের হাতে তৈরি নানা নান্দনিক ও এক্সক্লুসিভ কারুপণ্য।

চলতি মাসের ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী ও মেলা চলবে আগামী ১২ই অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। মেইডেনের ৪০ নম্বর স্টলে রয়েছে হাতে তৈরি জুয়েলারি, ঐতিহ্যবাহী চুড়ি, পুঁতির মালা, নকশাদার গহনা এবং বিভিন্ন ধরনের এক্সক্লুসিভ হস্তশিল্প পণ্যের বিপুল সমাহার। ক্রেতারা সরাসরি এসব পণ্যের প্রস্তুতকারক নারী কারিগরদের সাথে কথা বলে পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

আয়োজকদের মতে, নারীদের কেবল দক্ষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য নয়; তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ এবং বাণিজ্যিক পরিচিতি এনে দেওয়ার লক্ষ্যেই মেইডেন প্রতিনিয়ত কাজের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। বিসিক মেলার মতো বড় আয়োজনে নারী উদ্যোক্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করবে।




বৈদেশিক ঋণের টাকা এফসি হিসাবে রেখে আমদানি-সেবা মূল্য পরিশোধের সুযোগ

অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবে দেশের যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ জন্য তাদের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিদেশি ঋণের অর্থ দিয়ে আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বৈদেশিক অর্থায়নের আওতায় আন্তঃসীমান্ত পরিশোধ কার্যক্রম সহজ করতে এফসি হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) ফরেন লোন/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন প্রযোজ্য হবে।

অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং ঋণ অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবার মূল্যও এই হিসাব থেকে পরিশোধ করা যাবে।

এ ছাড়া অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় রূপান্তর করা যাবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে সার্কুলারে। ঋণচুক্তিতে কিস্তি পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে।

তবে এ হিসাবে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়বে। বিশেষ করে আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।




শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট (আইইউপিএইচপিএসপি)’ দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ক্রিস্টোফ লেমিয়ের। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরামর্শকদের সঙ্গে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটির আওতায় মশক ও বাহকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালবহির্ভূত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দাবদাহ, বায়ু ও শব্দদূষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর সৃষ্ট প্রভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া আচরণগত পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসংক্রামক রোগ কমাতে প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরির ওপরও প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার ও তারাব পৌরসভা প্রকল্পটির আওতাভুক্ত।
কের

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

একই সঙ্গে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক দুটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহবান’-এর আহ্বায়ক লুকমান শারীফ এবং সদস্য সচিব ডা. তাহমিদ আহমেদের নেতৃত্বে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

মাদকের কারণে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে সে অঞ্চলের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে।

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ও মানুষের কল্যাণে দেশের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি এ সময় ‘আহবান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, জেন-জি কার্নিভালসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং জনগণের সরকারি সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করতে তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ‘আহবান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁর ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ও সকল সদস্যের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : ড. মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে এ দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। এটা কঠিন দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব শুধু তাদের নয়, আজকে আমরা যারা বয়স্ক, আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে যাতে তারা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হও, সেটার দায় আমাদের ওপর এসে বর্তাবে। তাই তোমরা যদি দেশকে ভালোবাসো, তাহলে বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

শিশুদের অধিকার নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগেই ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’- এই কথার অর্থ হলো- শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশুদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুরা বাংলাদেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। আজকের অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত।

সৃষ্টির চাকার সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যৎকে তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী কখনো থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা ঘুরে চলেছে এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। শিশুরা সেই সৃষ্টির চাকারই একটি অংশ। তাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে আমরা যে শিক্ষা আজকে নেব, সেই শিক্ষা তোমাদের জীবনে প্রতিফলিত করবে। তোমরা ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম।




ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশ দেশটিতে মাত্র প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব।

বৈঠকে পিটিএ, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশি আলু, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধের বাজার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব পণ্য বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ওষুধ নিবন্ধনসহ প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর জন্য দেশটির সহযোগিতা চান তিনি।

এ সময় জাকার্তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য নিয়ে একটি ‘সোলো এক্সিবিশন’ আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

পিটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ

দুই দেশের মধ্যে পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা হলেও তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থমকে আছে। ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে প্রতিযোগিতা থাকলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি।

জ্বালানি ও কৃষিপণ্য নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনাকে বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব জটিলতার কারণে তা এগোয়নি।

বৈঠকে হালাল পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে হালাল সনদ ও মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতিসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।