বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, উৎপাদক হতে হবে বাংলাদেশকে : বিজ্ঞানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে না রেখে নিজস্ব উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে প্রযুক্তির উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর নকশা, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গবেষণার বিকল্প নেই।

তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের এই মিলনায়তনে দাঁড়িয়ে আমি কেবল কিছু তরুণ মুখ দেখছি না, আমি দেখছি আগামীর সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। তারা সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ না করে নিজেদের মেধা দিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন এই অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নিজস্ব উদ্ভাবন, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কার্যকর প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময়, সাশ্রয়ী সংযোগ ও ডিজিটাল জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্যোগেও সেই অগ্রযাত্রার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ এখানে যেসব উদ্ভাবন স্বীকৃতি পাচ্ছে, সেগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো বিদেশি প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং আমাদের নিজস্ব সমস্যার খাঁটি বাংলাদেশি সমাধান।

তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কার তাদের যাত্রার শেষ নয়, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একটি প্রাথমিক উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পণ্যে এবং সেই পণ্যকে শিল্পে রূপ দিতে গবেষণা, মূলধন বিনিয়োগ ও যথাযথ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সরকার তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকবে।

এবারের বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসে বিভিন্ন খাত থেকে ৩৫৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা পড়ে। দুই দিনের মূল্যায়ন শেষে এর মধ্যে ৪৪টি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সরকারি প্রশাসন ও স্টার্টআপ খাতের ৪০ জন বিচারক প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। এর মধ্যে ৯টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, বিআইআইএনের নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দ্দৌলা মতিন।




অনিশ্চয়তাই বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন স্বাভাবিক অবস্থা: অর্থমন্ত্রী

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মন্থর প্রবৃদ্ধি, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের মতো চ্যালেঞ্জের সময়ে সঠিক ও তথ্যনির্ভর নীতি নির্ধারণই অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউআইইউর ইকোনমিক্স বিভাগের সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২৪টি দল ‘ইকনথন ২০২৬’-এ নিবন্ধন করেছে। কুইজ, কেস সলভিং এবং পলিসি মেকিংয়ের মতো কঠিন ধাপ পেরিয়ে যারা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে, তাদের প্রশংসা করেন তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানির দাম, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জনগণের করের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না। তবে সততা ও মানবিকতা ছাড়া সেই দক্ষতা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে না।

তিনি বলেন, অর্থনীতি শুধু পরীক্ষায় পাস করার বিষয় নয়। অর্থনীতিকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে এবং দেশের সেবায় নীতি ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে. এম. এ. শামীম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া।

সমাপনী পর্বে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।




পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়ম করলে পরের বছর কাজ মিলবে না : শিক্ষামন্ত্রী

ছাপাখানার যেসব মালিক পাঠ্যবই ছাপার কাজে প্রতারণার আশ্রয় নেবেন, আগামী বছর থেকে তাদের আর পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, কোনো ছাপাখানা যদি একবার প্রতারণা করে, তাহলে আগামী দিনে তাকে আর বই ছাপাতে দেব না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে স্থানীয় শিল্পের উন্নয়ন করার। সেজন্য আমি বলব, তারা যেন ভেবে-চিন্তে কাজ করেন। একবার প্রতারণা করলে পরেরবার বাদ।

আগের বছরগুলোতে ভারত থেকে পাঠ্যবই ছাপিয়ে আনা হতো উল্লেখ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার ছাপার মান কিছুটা ভিন্ন। দেশের ছাপাখানার মালিকেরা সহযোগিতা করছেন। সবাই সহযোগিতা করলে সময়মতো পাঠ্যবই পাওয়া যাবে।

শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমরা পাঠ্যবই ছাপিয়ে সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে দিয়েছি। শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, এবারও পাঠ্যবই ভালো হবে। সবার সহযোগিতা পেলে সময়মতো পাঠ্যবই পাব এবং তা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।




আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশে দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানে জোর দিতে হবে : শ্রমমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের আরও কার্যকরভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এসব সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা নেই। তাই চাহিদাসম্পন্ন পেশাগুলো সম্পর্কে প্রচার বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের সহযোগিতা করা হলে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার ও বিএসআরএমের সহযোগিতায় বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে টিটিসিকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। টিটিসিতে জনবল সংকট রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগে সময় লাগবে। কিন্তু এখন অপেক্ষা করে থাকার সুযোগ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মেয়র ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শ্রমিকদের কল্যাণেও তিনি এগিয়ে আসছেন।

চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে দ্রুত শ্রম আদালত পরিদর্শন করানোর কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কনফারেন্স কক্ষ, নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য পৃথক বসার কক্ষ এবং লিগ্যাল এইড-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদার।




মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ বাণিজ্যমন্ত্রী

মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কীভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, ফল ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, মাল্টার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহের ঘাটতি। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।

উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান আমদানিকারকেরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।




ডিমের বাজারদর মনিটরিং-উচ্ছেদ পরিচালনা, জরিমানা ১৫ হাজার টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম সহনীয় রাখা, অসাধু মুনাফাখোরি রোধ এবং বাজার শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিভিন্ন কাঁচাবাজারে একযোগে মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) করপোরেশনের আওতাধীন ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, বাসাবো বউ বাজার, নবাবগঞ্জ বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই সমন্বিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় বাসাবো বউ বাজারে আইন অমান্য করা ও অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের দায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২টি মামলা দায়ের করে মোট ১৫,০০০ (পনেরো হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়ে, অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

অভিযানে ব্যবসায়ীদের ডিমের বিক্রয়মূল্য, পাইকারি ক্রয় রশিদ এবং মুনাফার পরিমাণ নিখুঁতভাবে যাচাই করা হয় এবং অতিরিক্ত মূল্য না নেওয়ার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলাচলের পথ সুগম করতে ফুটপাত দখল করে রাখা মালামাল অপসারণ করা হয় এবং আইন ভঙ্গের দায়ে দুই মামলায় ১৫,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এছাড়া ফকিরাপুল বাজারে ডিমের বাজার তদারকি করেন ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবা খান। অপরদিকে কাপ্তান বাজারে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। তারা উভয়ই বাজারে ডিমের সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং কোনো অবস্থাতেই যেন কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দাম না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন।

পাশাপাশি অঞ্চল-৩ এর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ বাজারে ডিমের মূল্য মনিটরিংয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আক্তার উন নেছা শিউলী। এছাড়া অঞ্চল-৫ এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন কাঁচাবাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাল মোল্লা।

জনস্বার্থ রক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ ধরনের কঠোর মনিটরিং ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।




ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি : প্রশাসক

ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এমন কথা জানিয়ে সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের হকার মুক্ত ফুটপাত, ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর উপহার দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস ও সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা বিগত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিভিত্তিক এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য নগরবাসীকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা এবং ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি ভবন, বাসা-বাড়ি ও পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করছেন।

তিনি বাসা-বাড়ি ও নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রশাসক জানান, বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। নগরবাসী ও ডিএনসিসির সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সরকার ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিএনসিসি স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি, মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করে যাচ্ছে।

প্রশাসক বলেন, ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকা ফুটপাত সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের সুবিধার জন্য এ ধরনের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুনর্দখল রোধে স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।