প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্যের বাজারে ২০ বছর ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার

খাঁটি ও প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি ছোট পরিসরের কার্যক্রম থেকে শুরু করে দুই দশকে প্রতিষ্ঠানটি শ্যামলী, ধানমন্ডি হয়ে বর্তমানে মিরপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্রেতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

২০০৬ সালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাটাবন কনকর্ড টাওয়ারের নিচতলায় ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই প্রাকৃতিক ও অর্গানিক খাদ্যপণ্য সরবরাহকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার দুই বছর পর শ্যামলী মেইন রোডে, শ্যামলী শাহী মসজিদের মূল গেটের বিপরীতে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় আট বছর কার্যক্রম পরিচালনার পর ২০১৯ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডিতে নতুন শোরুম চালু করা হয়।

বর্তমানে মিরপুর ৬০ ফুট রোডের আমতলা বাজারে, গ্রীন সুপার শপের পাশে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

‘আমাদের চাল-ডালে পোকা দৌড়ায়’

ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের উদ্যোক্তা হাকিম এ.বি.এম. রাসেল বলেন, ভেজাল ও কৃত্রিম উপাদানের ভিড়ে মানুষের কাছে প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা।

এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের চাল-ডালে পোকা দৌড়ায়—কারণ আমরা প্রাকৃতিক।’

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ এড়িয়ে পণ্যের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকের সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিতে ‘বিক্রিত মাল হাসিমুখে ফেরত নেওয়া হয়’—এমন নীতিও অনুসরণ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যেসব পণ্য পাওয়া যায়

ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের শোরুমে কাঠের ঘানিতে ভাঙানো দেশি সরিষার তেল, ঘি, সুন্দরবনের মধু, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ চা, আমলকী ও তেঁতুলের আচার, লাল গম ও চালের ছাতুসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া মৌসুমি ফলমূল এবং বিভিন্ন ভেষজ উপাদান থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও পথ্যও রয়েছে তাদের পণ্যের তালিকায়।

শোরুমে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শাহি শরবত ও ভেষজ নাশতার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুই দশকের পথচলা

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দশকের পথচলায় সবচেয়ে বড় অর্জন গ্রাহকদের আস্থা ও সমর্থন। সেই আস্থা ধরে রেখে আগামী দিনেও প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য সরবরাহের পরিধি বাড়াতে চায় ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার।

২০ বছর পূর্তিতে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকার, প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য ও গ্রাহকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। তাদের ভাষায়, গত ২০ বছরের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তারা ক্রেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক ধরে রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ লোয়াবের

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধ মজুত করা হলে সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দেশে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এবং আগস্ট মাসে ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করেন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করেন, তবে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিং করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে লোয়াব।




দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন ও বিনিয়োগে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল মিজ স্যাম মস্টিন এসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র দেন। শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের জন্য রাষ্ট্রপতি গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেন।

এ সময় তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।

এ সময় হাইকমিশনার অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক রেগুলেটরি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং রিফর্মের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।




রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের কারখানায় উৎপাদন শুরু

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে আবারও নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ (১ অক্টোবর) থেকে কোম্পানিটির কারখানার নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের কারখানার জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় কারখানাটি পুনরায় চালু করে নিয়মিত পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে প্রকাশিত এক তথ্যে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল জানিয়েছিল, কারখানায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ওই সময় কোম্পানিটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ করার পর নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় চালুর কথা জানিয়েছিল।

কোম্পানির সর্বশেষ তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করার পর পরদিন অর্থাৎ আজ ১ অক্টোবর থেকে কারখানার নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিশোধন ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কার্যক্রম। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িক বন্ধ থাকার পর কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ডিএসইতে দেওয়া তথ্যে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন থেকে তাদের নিয়মিত পরিচালন কার্যক্রম চলবে।