নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশই, ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা

 

মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি না কমায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংকটের সময় ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ)-এর হার ১১ শতাংশ এবং ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখার সুবিধা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)-এর হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। এ সময় ডেপুটি গভর্নর সারোয়ার হোসেন ও আনিছুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো কাটেনি

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমে এলেও এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এখনো রয়েছে। এ কারণে আপাতত নীতি সুদহার কমানোর পথে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, গত জুনে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগস্টে তা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের মতো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়া এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের কারণে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসও দুর্বল। বিশ্বব্যাংক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে আইএমএফ তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের পরিকল্পনাখেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের পরিকল্পনা
ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড় নজর রাখবে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট খাতে ঋণ সহায়তা, কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা এবং বিনিময় হারকে সুশৃঙ্খলভাবে নমনীয় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক লক্ষ্য হলো মূল্য স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অর্থনীতির টেকসই পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা।

খেলাপি ঋণ ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ

মুদ্রানীতি ঘোষণায় দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বল অবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে উঠেছে।

অপরদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও খুবই কম। বর্তমানে এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ চিত্র বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করছে।

তবে এর মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ডেপুটি গভর্নর বলেন, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ

ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি, কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা রাখার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই অর্থ যাতে যথাযথ খাতে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য শিগগিরই বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. হাবিবুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উচ্চ সুদহার ধরে রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে নির্দিষ্ট খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি

বাংলাদেশ ব্যাংক এবারই প্রথম ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এর ফলে অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক কম সময়ের ব্যবধানে নীতিগত অবস্থান পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি, ঋণের প্রবাহ, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, রেমিট্যান্স এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। এসব সূচকের পরিবর্তনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ত্রৈমাসিকের মুদ্রানীতিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের সম্পদের হিসাব চাইবে দুদক

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) প্রলয় কুমার জোয়ারদারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদক জানায়, সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চোরাচালানে জড়িত থাকা এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে আবাসিক সম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রলয় কুমার জোয়ারদারের বিরুদ্ধে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। অন্যদিকে, তার স্ত্রী প্রয়াত বিপ্লবী রানীর বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।

প্রলয় কুমারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর প্রলয় কুমার জোয়ারদারের চার দেশে ছয়টি বাড়ি থাকা নিয়ে অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেন একজন আইনজীবী।




মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামনে আবার বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রথমবারের মতো তিন মাস মেয়াদি এ মুদ্রানীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর বলেন, গত দুই মাস মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও আগামী দিনগুলোতে এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের জ্বালানি মূল্যসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপট মূল্যস্ফীতি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান করাই বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নীতিগত চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রেখে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ঋণ সহায়তা, কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে বিনিময় হারের নমনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে। মূল্য স্থিতিশীলতা, বাহ্যিক খাতের ভারসাম্য এবং আর্থিক ব্যবস্থার দৃঢ়তা বজায় রেখে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক লক্ষ্য।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা কমতির প্রবণতা দেখা গেলেও তা এখনো ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

এ অবস্থায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনীতির উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বেসরকারি ঋণে ধীরগতি

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দুর্বল রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুনে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল সর্বনিম্ন রেকর্ড।

বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদের কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম থাকায় সেই অর্থের বড় অংশ উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না।

বিনিয়োগে গতি ফেরাতে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এরপরও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচেই রয়েছে।

তিন মাসের মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন

এবারই প্রথমবারের মতো তিন মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এত দিন সাধারণত জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর— ছয় মাস মেয়াদে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতো।

নতুন ব্যবস্থায় অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান দ্রুত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। মূল্যস্ফীতি, ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ, তারল্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অবস্থানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রেখে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট খাতে ঋণ সহায়তা, আর্থিক খাতের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ এবং বিনিময় হারের নমনীয়তা সুশৃঙ্খলভাবে বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ অবস্থায় আগামী তিন মাসে মূল্যস্ফীতির গতিপথ, বেসরকারি ঋণের চাহিদা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও বৈদেশিক খাতের অবস্থার ওপর নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতিগত পদক্ষেপ।




দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার বদ্ধপরিকর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকার চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজ রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ শীর্ষক গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী।

এছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ৷ এতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব নওশাদ হোসেন৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কিছুটা কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিয়ে এবার সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নার্স নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। হৃদ্রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায় থেকে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, হৃদ্রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে হৃদরোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।




নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে

বাংলা কিউআর স্ক্যান করে আগামী ১ নভেম্বর থেকে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে (পি-টু-পি) টাকা পাঠাতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানসহ পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার গত কয়েক মাসে দ্রুত বেড়েছে। গত জুনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হতো। তখন লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

মার্চেন্টের হিসাবে টাকা জমা হবে তাৎক্ষণিক

বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে ১ অক্টোবর থেকে কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

একই দিন থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের বিনা খরচে অথবা কম খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

ছোট লেনদেনে প্রণোদনা

বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতাদের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যর্থ হলে দ্রুত টাকা ফেরত

বাংলা কিউআরে লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া লেনদেন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর লেনদেন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি, স্কুলের বেতন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধে বাংলা কিউআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালু হলে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমবে। একইসঙ্গে নগদ টাকা ও ভাংতির সমস্যাও কমবে।

বাংলা কিউআরকে নিরাপদ, সহজ, কম খরচের ও আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেটি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে।




ব্যাংক এশিয়া ও আল-আরাফাহর ১৩০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া পিএলসিকে ৮০০ কোটি টাকা এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে ৫০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১ হাজার ৩৩তম কমিশন সভায় বন্ড ছাড়ার এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যাংক এশিয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এই বন্ড ইস্যু করবে। বন্ডটি হবে জামানতবিহীন (আনসিকিউর্ড), রূপান্তর-অযোগ্য (নন-কনভার্টিবল), পূর্ণ পুনঃপরিশোধযোগ্য (ফুললি রিডিমেবল), পরিবর্তনশীল সুদহারভিত্তিক (ফ্লোটিং রেট) এবং টেকসই (সাসটেইনেবল) সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড।

বন্ডটির কুপন বা সুদের হার নির্ধারিত হবে রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে। এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের বাসেল-৩–এর আওতায় টিয়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।

সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড মূলত এমন এক ধরনের ঋণপত্র, যার দাবি অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ঋণের পর আসে। ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূলধন কাঠামো পূরণে এ ধরনের বন্ড ব্যবহার করা হয়।

ব্যাংক এশিয়ার এ উদ্যোগের ফলে ব্যাংকটির টিয়ার-২ মূলধন বাড়বে। এর আগে ব্যাংক এশিয়া বিভিন্ন সময়ে সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করেছে। বিএসইসির তথ্যেও ব্যাংক এশিয়ার আগের সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে ৫০০ কোটি টাকার ‘AIBPLC 5th Subordinated Bond’-এর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বন্ডটির মেয়াদ হবে সাত বছর। এটি হবে আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, রিডিমেবল ও ফ্লোটিং রেট সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড।

বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারণ করা হবে রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে। বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। প্রতিটি বন্ড ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

বন্ডটি ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বাসেল-৩-এর আওতায় টিয়ার-২ মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা হবে।

বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি এবং ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।




কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠায়। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউর পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে থাকা হিসাবগুলোর কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর পাঠানো এক্সেল ফাইলে তার হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত প্রতিটি হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে কর (টিডিএস)-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তলবের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলেও বিএফআইইউর ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএফআইইউর একটি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে তলব করা তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। দুর্বৃত্তরা তার কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির প্রথমে অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। তবে পরে তিনি জানান, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।