আন্তর্জাতিক কার্ডে কেনা যাবে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট

বিদেশ ভ্রমণে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার সুযোগ আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনস টিকিট বিক্রির অর্থ দেশের বাইরে তাদের আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করলেও, আন্তর্জাতিক কার্ডে ওই টিকিট কেনা যাবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ। এতে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা আগের নির্দেশনায় সংশোধন আনা হয়েছে।

সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

নতুন নির্দেশনায় সেই শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এখন কোনো বিদেশি এয়ারলাইনস বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও টিকিট বিক্রির অর্থ যদি তাদের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে নিষ্পত্তি করে, তবুও ওই এয়ারলাইনসের টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কেনা যাবে।

বাংলাদেশে পরিচালিত ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন শনাক্ত করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সুবিধার আওতায় আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে কেনা টিকিটের মূল্য গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য ভ্রমণ সীমার বাইরে থাকবে। ফলে এসব টিকিট কেনার ব্যয় নির্ধারিত ভ্রমণ সীমার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

যোগ্য টিকিট কেনার লেনদেন যাচাই করার পর, গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থ পুনরায় জমা বা রিফিল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের বিদ্যমান ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আওতাধীন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে।

এ ধরনের লেনদেন নির্ধারিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমবে। এতে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্যও প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।




সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলা, নিরাপদ প্রবাসজীবন নিশ্চিত করা এবং আইনি জটিলতা এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিতে কনস্যুলেট প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানা‌নো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা বা শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো বিষয় ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ বা আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের পোস্টে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কাগজপত্র সম্পূর্ণ না বুঝে স্বাক্ষর বা সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ না দিতে সতর্ক করেছে কনস্যুলেট। নিজের ইকামা ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি, কফিল বা প্রতিষ্ঠানের নামে মোবাইল, সিম, যানবাহন বা অন্য কোনো সম্পদ নিবন্ধন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, এক অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানের ইকামা ব্যবহার করে অন্যত্র কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা পণ্য বা ক্র্যাপ সংগ্রহ ও বিক্রি, অনুমতি ছাড়া রাস্তার পাশে ব্যবসা এবং অবৈধভাবে পানি বিক্রিসহ দণ্ডনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেট বলেছে, স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রবাসজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-কে কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না উল্লেখ কওে তিনি বলেন, এই আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া আইনের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম পেশাজীবী, মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই সরকার বিলটি চূড়ান্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, অধিকতর আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মতামত পাওয়া গেছে এবং সরকার তা পর্যালোচনা করছে।

সভায় দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে এবং এতে ‘সেভিং ক্লজ’ (সুরক্ষা বিধান)-সহ যথাযথ সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সভায় আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিলো কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেবেন এবং এরপর খসড়ায় তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে। পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি তদারকি করবে।

পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন এবং তাদের সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সুপারিশগুলো পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে পুনরায় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মতামত জানানোর আরেকটি সুযোগ পান।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে বিলটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। ‘অনুমোদিত হলে সেটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে সংসদে আইনটি পাস করাবে না; বরং চূড়ান্ত করার আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি দেশ ও দেশের নাগরিকদের—বিশেষ করে তরুণদেও সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ একটি কাঠামো তৈরি করা।




শ্রমিককে মারধর, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রেইলর শ্রমিককে মারধরের জেরে কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ রাখেন তারা। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ ছিল।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বন্দর অভ্যন্তর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। সমস্যা সমাধানে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সুরাহা হবে।’

শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দর গেট দিয়ে প্রবেশের পাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রেইলর শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বন্দর গেটে কর্মরত সিকিউরিটি কর্মীর প্রথমে বাগবিতণ্ডা, এরপর ধাক্কাধাক্কি হয়। এর জেরে পণ্য পরিবহন বন্ধ করা হয়। গেটে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ভয়ে অন্য পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলও বন্ধ আছে।

প্রাইম মুভারস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, ‘বন্দরে প্রবেশের গেট পাসের নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা। কিন্তু গেটে ৫৭ টাকার বদলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের কাছ থেকেও বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে গেট থেকে এসে বন্দরের সিকিউরিটি কর্মীরা তাকে মারধর করেন। পাঁচ নম্বর গেটে এই ঘটনার পর আমরা বন্দরকে জানালে তারা এসে আমাদের আশ্বস্ত করে। মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। এরপর আমরা সবাই চার নম্বর গেটে গেলে সেখানে আরেক দল আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এরপর থেকে আমরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেই।’




বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতগণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন বার্তার জন্য এসময় রাষ্ট্রপতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে।

তিনি এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে, তিনি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূতগণ পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রাষ্ট্রদূতগণ বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউ’র অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউ’র আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় রাষ্ট্রদূতগণ তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূতগণ রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে ইইউ’র প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইটালির রাষ্ট্রদূত আন্তেনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইউরিছ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।