জাপানি ক্রেতা-বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম চালু বিজিএমইএ’র

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে ‘বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে।

‘সংযোগ, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি’-এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে চালু করা জাপান ডেস্ক মূলত জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদির মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেস্কটির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ সময় ঢাকায় জাপান দূতাবাস, জেট্রো ঢাকা অফিস, ঢাকা শো-কু-কাই, টয়োটা সুশো, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার, মারুবেনি, ইতোচু করপোরেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। বিজিএমইএর সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর আরেকটি উপস্থাপনা দেন সংগঠনের মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) এবং জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে বিপণন ও মার্চেন্ডাইজিং কর্মকর্তাদের জাপান ভ্রমণের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য জাপানের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিজিএমইএতে জাপান ডেস্কের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন বিজিএমইএর জাপান কমিটির উপদেষ্টা ও ফুরুশিমা (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সারওয়ার হাবিব এবং বিজিএমইএর পরিচালক ও জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটির কোঅর্ডিনেটিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোহেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি জাপান ডেস্ক চালুর জন্য বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই ডেস্ক বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাত বা প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা সমীচীন নয়। এ কারণে বিজিএমইএ পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, জাপানের বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সম্ভাবনাময়। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই জাপান ডেস্ক চালু করা হয়েছে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কম সময়ে পণ্য সরবরাহ বা ‘লিড টাইম’ নিশ্চিত করা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে জাপানের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও কমপ্লায়েন্স মানের প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেট্রো ঢাকা অফিসের ওভারসিজ বিজনেস অ্যাডভাইজার দাইসুকে আরায়, ঢাকা শো-কু-কাইয়ের সভাপতি ও টয়োটা সুশো করপোরেশনের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউজি ওয়াগাটা, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার কো. লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার তাকামাসা ইয়ামামোতো, মারুবেনি করপোরেশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি হেড ও জেনারেল ম্যানেজার সুগাওয়ারা মানাবু, ইতোচু করপোরেশনের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জেনারেল ম্যানেজার হিরোয়াকি ওউরা এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের রূপান্তর, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে একটি ইন্টারেক্টিভ প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। এতে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা ও অতিথিরা জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। পরে দ্বিপক্ষীয় নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, জাপানের বাজারে পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক বছর আগে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং কোঅর্ডিনেটিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাপান ডেস্ক চালু করা হলো।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই ডেস্কের মাধ্যমে জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশি পোশাক উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের অর্ডার ব্যবস্থাপনা, জাপানি বিনিয়োগে সহায়তা এবং দুই দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডেস্কটি ভূমিকা রাখবে।




বাসের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই নতুন ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বড় বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাভুক্ত জেলাসমূহ—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরে চলাচলকারী উভয় যানের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের লক্ষ্যে বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা হ্রাস করে ভেতরের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হলে ভাড়ার হার আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে বিআরটিএ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। তবে এই বর্ধিত ভাড়ার হার গ্যাস বা সিএনজিচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের ভেতরে যাত্রীদের সহজে নজরে পড়ে এমন স্থানে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।




সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে সম্পদের মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সিনিয়র সাংবাদিক নঈম নিজাম ও তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদক জানায়, নঈম নিজামের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত মামলায় ২ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮১৪ টাকা লেনদেনের অভিযোগও এনেছে দুদক

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় পৃথক মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




চট্টগ্রামে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য হচ্ছে নাইট মার্কেট

চট্টগ্রাম নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিক শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান বা আইন প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন

ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নাইট মার্কেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আগ্রাবাদ ও চকবাজারে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, নগরীতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে অনেক সময় জীবিকার তাগিদে ফুটপাত বা সড়কের পাশে ব্যবসা করা মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের উচ্ছেদ করা হলেও পুনর্বাসন বা বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না থাকলে একই সমস্যা আবারও তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম এখন একটি কসমোপলিটন নগরী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জীবিকার সন্ধানে এখানে আসছেন। তাই নগর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। নগরীর বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে ওই স্থানগুলো স্থায়ীভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখতে হবে। তা না হলে কিছুদিন পর আবারও দখল ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের পেছনে নৈতিক অবক্ষয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে তরুণ ও কিশোরদের যথাযথভাবে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়নি। এ সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এর প্রতিকার করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু ওপরের স্তরে পরিবর্তন আনলেই হবে না, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমেও একই ধরনের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে উন্নত ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাও স্থাপনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কোন এলাকায় কত রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং কোথায় সংক্রমণের হার বেশি এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে হটস্পট চিহ্নিত করা হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু জ্বরের চিকিৎসা করলেই হবে না, জ্বরের প্রকৃত কারণও নির্ণয় করতে হবে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নগর ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এসব বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়া, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং শিক্ষক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে রাজনৈতিক দল, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কর্ণফুলী সেতু এলাকায় যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মেয়র। তার ভাষ্য, অতীতে স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে দায়িত্ব পালনকালে যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা গেলে যানজট ব্যবস্থাপনায় সুফল পাওয়া যেতে পারে।

কর্ণফুলী সেতুর টোল আদায় নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, টোল আদায়ের কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়ে যানজট বাড়ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নগরীর কুলগাঁও এলাকায় বড় বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে কুলগাঁও এলাকায় একটি বড় বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে।

সবশেষে মেয়র বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিক সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।




টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে টাকার মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে কোনো প্রারম্ভিক জমা ছাড়াই ‘টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট’ খোলা ও পরিচালনা করা যাবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে সার্কুলার নং-৩৮ জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু বক্কার সিদ্দিক এতে সই করেন।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করতে বিদেশি ট্রেডিং পার্টনার ব্যাংকের নামে ‘টাকা ভস্ট্র অ্যাকাউন্ট’ খোলা ও পরিচালনা করা যাবে। এজন্য কোনো প্রারম্ভিক জমার প্রয়োজন হবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এলসি, চুক্তি ও ইনভয়েস অবাধে রূপান্তরযোগ্য মুদ্রায় করা যাবে। তবে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় তা প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এছাড়া অংশীদার দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং নথিপত্রের আদান-প্রদান ও যোগাযোগ নিরাপদ, দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

আমদানিকারকদের স্থানীয় ব্যাংকিং চ্যানেল অথবা সংশ্লিষ্ট ভস্ট্র অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব হিসাবের বিপরীতে ওভারড্রাফট সুবিধাও দেওয়া যাবে।

বিদেশি ব্যাংকের ভস্ট্র অ্যাকাউন্টে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ কিংবা বিদেশে রেমিট্যান্স হিসেবেও ওই অর্থ পাঠানো যাবে।
আরও পড়ুন
কার্ডে লেনদেনে বড় উল্লম্ফন, পাঁচ বছরে ব্যবহার বেড়েছে ১০৮ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, আমদানি ও রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে আইএমপি ও এক্সপি ফর্মসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে (এএমএল/সিএফটি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং গ্রাহক সম্পর্কে যথাযথ তথ্য যাচাই বা ‘নো ইউর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব দেশ অবাধে রূপান্তরযোগ্য নয় এমন স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করতে আগ্রহী, সেসব দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিয়ে বিদেশি নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট বজায় রেখে লেনদেন নিষ্পত্তি করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এ নির্দেশনার ফলে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দুটি বাস পুড়িয়ে জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘যারা মনে করছেন, দুটি বাস পুড়িয়ে আর একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে আপনাদের যেভাবে দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে ওই দুজনকেও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের কালিবাড়ি মোড় চত্বরে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির’ প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা শহরের রথখলা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ি মোড় চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা ভোটের অধিকার ফেরত এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আমরা মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাদের ফ্যাসিবাদ ভেঙে দিয়েছি। এই ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না।’

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা বাংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ আছে। বিএনপির পরিবার জনগণকে নিয়ে এই গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে।’

দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান। বুকের রক্ত নিয়েছেন, আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের আইনের আওতায় এনে জনগণ বিচার করবে। বিচারের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এই মুহূর্তে বিচারের আহ্বানে আপনারা আসবেন।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে: এডিবি

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি আরও কমার আশঙ্কা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামিয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল এডিবি।

ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিও প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) আপডেট-এ এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এডিবির সাম্প্রতিক আপডেটে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতের দুর্বলতায় বাধাগ্রস্ত ঋণপ্রবাহ

এডিবির মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে ব্যাংক খাতের চাপ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংকের ব্যালান্সশিট দুর্বল হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের উচ্চ সুদহার। ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান আরও সীমিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে এডিবি।

ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির গতি কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট যুক্ত হয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলছে।

শিল্প প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে

এডিবি বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্প খাতকে চাপে রাখবে।

বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা। নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছে এডিবি।

সংস্থাটির মতে, এসব সমস্যা থাকলে ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও তার সুফল অর্থনীতিতে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হবে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও নতুন করে সতর্ক করেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় ও আমদানি খরচ বাড়ার কারণে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি করতে পারে।

এডিবির মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ে। সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও চলে আসতে পারে।

সম্প্রতি দেশের ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের খুচরা দাম বাড়ানোর বিষয়টিও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছে এডিবি। জ্বালানির দাম বাড়ায় এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন, পণ্য পরিবহন ও নৌযানের ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাব কৃষিপণ্য উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার খরচেও পড়তে পারে।

কৃষিতেও বাড়ছে ঝুঁকি

কৃষি খাতের জন্যও স্বস্তির খবর নেই। আবহাওয়াজনিত ধাক্কা এবং সারের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য বাজারজাত ও পরিবহনের ব্যয় বেড়ে গেলে খাদ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থাৎ জ্বালানি থেকে পরিবহন, কৃষি থেকে খাদ্য— অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার একটি ধারাবাহিক চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রবৃদ্ধির ভরসা ভোগ ও প্রবাসী আয়

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি থাকবে ব্যক্তিগত ভোগ। প্রবাসী আয় বাড়ায় মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে।

তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সেই আয় ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বড় একটি অংশ কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ আয় বাড়লেও পণ্য ও সেবার দাম দ্রুত বাড়লে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ভোগক্ষমতা খুব বেশি বাড়বে না।

এডিবি মনে করছে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা দিলেও বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।

বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা

উচ্চ সুদের হার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার সংকট— এই চারটি বিষয়কে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে এডিবি।

অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগ থেকেও খুব বেশি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগের প্রভাবও সীমিত থাকতে পারে।

ফলে অর্থনীতিতে চাহিদা থাকলেও সেই চাহিদা অনুযায়ী নতুন কারখানা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান তৈরির বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে।

রফতানি ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিও দ্রুত বাড়বে না বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির পূর্বাভাস, রফতানি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও বৈশ্বিক বাজারের দুর্বল চাহিদা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি বাড়ায় মোট আমদানিও বাড়তে পারে। এতে একদিকে শিল্প উৎপাদনের প্রয়োজন মিটবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও তৈরি হতে পারে।

পরিষেবা খাত কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে

শিল্প ও কৃষিতে চাপ থাকলেও পরিষেবা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

প্রবাসী আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার কিছুটা পুনরুদ্ধার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে এডিবির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে কম প্রবৃদ্ধি ও বেশি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে না পারলে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো কঠিন হবে— এডিবির পূর্বাভাসে মূলত সেই চিত্রই উঠে এসেছে।




জরিমানা মওকুফ চেয়ে বিএসইসির কাছে আবেদন করেছে প্রাইম ফাইন্যান্স

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আরোপ করা ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা মওকুফ চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাভেদ লাকিয়াত।

নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করে ডিএসই। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ভিত্তিক নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী, ২০২৩ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ভিত্তিক নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে পারেনি প্রাইম ফাইন্যান্স।

বিএসইসির কাছে দেওয়া আবেদনে প্রাইম ফাইন্যান্স জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইসিএল) থেকে পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ‘কুইক সামারি’ পেতে দেরি হওয়ায় আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করা সম্ভব হয়নি। আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি করা ইচ্ছাকৃত ছিল না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে পরে ২০২১-২২ ও ২০২৩ সালের এজিএম সম্পন্ন করা হয়। তবে এ বিলম্বের প্রভাব পরবর্তী বছরের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর ওপরও পড়ে।

প্রাইম ফাইন্যান্সের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। মূলধন ঘাটতি ও আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব এনবিএফআইকে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের একটি। খেলাপি ঋণ ও ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসানের চাপও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওপর।

প্রাইম ফাইন্যান্স বর্তমানে ডিএসইর ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি। ২০১৯ অর্থবছরের পর কোম্পানিটি আর কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান ছিল ১৫১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮৫ পয়সা। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ৩৯ পয়সা। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার ২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়।

আগস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাইম ফাইন্যান্সের ৫৯ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৬ শতাংশ। বাকি শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।