নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে: সড়কমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, জরিমানা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুই দফায় ভাড়া বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট তো হবে। কষ্ট তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু আমি বলছি যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বাস্তবিকভাবে জ্বালানি সংকট, জ্বালানির অ্যাভেলেবিলিটি—এগুলো যদি আপনি বিবেচনা করেন, তো সেই জায়গায় রাষ্ট্রকে তো অ্যাডজাস্ট করতে হয়।

জ্বালানির দাম কমার সময় পরিবহন ভাড়া কমানো হয়নি, অথচ এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছি। কিন্তু আলোচনার পর আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতেই সক্ষম হয়েছি। বিবেচনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু বাস্তবতার জায়গাটা হচ্ছে যে, পরিবহন সেক্টরের ব্যয়ও বেড়েছে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমি বললাম যে ডলারের ব্যয়টা বেড়েছে, তারা প্রায় ২০ পয়সার মতো ওখানে দাবি করে। এ কথা তো অস্বীকার করবেন না, যাদের ভেহিকেল আছে তারা জানেন যে এক্সেসরিজের প্রাইসটা কেমন বেড়েছে, ওয়ার্ল্ডওয়াইড বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। তো সেখান থেকে সরকার অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করেছে, সবসময় জনস্বার্থ বিবেচনা করে।

মন্ত্রী বলেন, ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন সেক্টরে প্রভাব তো পড়েই। সেই প্রভাবটা আমরা যৌক্তিকভাবে রাখতে পারলাম কি না—সেটা হচ্ছে প্রশ্ন।

নির্ধারিত ভাড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, না, গতবার আমি আমার একবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলি—গতবার বাড়িয়েছিলাম ১১ পয়সা, কার্যকর হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেউ নেয়নি। এবার ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে পার কিলোমিটার, ২০ টাকা পার লিটার দাম বাড়ার ফলে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে গতকাল দু-এক জায়গায় বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয়েছে। এই প্রবণতাটা আমাদের দেশে আছে। আমাদের দেশে পরিবহন সেক্টর একেবারে সুশৃঙ্খল, একেবারে নীতি-নির্ধারণ-আদেশ মেনে চলে—তা তো না, এটা তো স্বীকার করতেই হবে।

‘ব্যবস্থা হচ্ছে যে ধরেন, যদি কেউ এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট ক্যানসেল হবে, তাকে জবাবদিহির আওতায় নেওয়া হবে, ফাইনের ব্যবস্থা থাকবে, আগামীতে রুট পারমিট থাকবে কি না—সেটা নিয়েও প্রশ্ন।’

মনিটরিং কঠোরভাবে থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি, গতবার আমি করতে সক্ষম হয়েছিলাম, এবার শুরু করেছি, দেখেন… থাকে কি না।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়ার পর পণ্যের দামও বাড়ে, সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, না, এখন ধরেন এটা তো বিভিন্ন সেক্টর এখানে কাজ করছে। আমি পরিবহন ভাড়াটা নির্দিষ্ট করতে পেরেছি। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে যে এই প্রয়োজনীয় বাড়তি তেলের দাম যেটা আমাদের করতে হয়েছে, তার অপব্যবহার যেন না হয় এবং তার জন্য মানুষ যৌক্তিক পর্যায়ের চেয়ে বেশি সাফারিং যেন না করে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারাও জনগণ। সেখানেও শ্রমিক আছে, ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক। তারা ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়াবে, যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে—এটা দেখা হলো আমাদের কাজ। কিন্তু তারা আবার বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটাও রাষ্ট্রের জন্য ভালো না। আবার জনগণও ধরেন বেশি পেমেন্ট করবে, সেটাও কাম্য না। জনগণ যৌক্তিক পেমেন্ট করবে।

তিনি বলেন, ভাড়া বাড়ার একটা নেতিবাচক প্রভাব তো সব জায়গায়ই আছে, কিন্তু সেটা আমরা শেয়ার করে নিতে চাই যৌক্তিকভাবে।




বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশ ও বিদেশের কর্মসংস্থান উপযোগী প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে, দেশের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব সৃষ্টি হয় ও কর্ম উপযোগী নয় এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমাদের ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।

সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।




বিডিআর বিদ্রোহ ও জাতিসংঘ মিশনে হতাহতদের ৭০ পরিবারে ফ্ল্যাট বরাদ্দ

বিডিআর বিদ্রোহ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আভিযানিক ও অনাভিযানিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও গুরুতর আহত সামরিক সদস্যদের পরিবারের মধ্যে ৭০টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।

আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিডিআর বিদ্রোহ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত/নিহত শহীদ পরিবারের মধ্যে মিরপুর ডিওএইচএস এ নির্মিত ‘অপরাজিতা’ বহুতল ভবনে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বিডিআর বিদ্রোহ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আভিযানিক ও অনাভিযানিক কারণে শহীদ ও গুরুতর আহত মোট ৭০টি পরিবারের অনুকূলে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ডিওএইচএস সেন্ট্রাল কমিটির তত্ত্বাবধানে সরকারের অনুমোদনক্রমে মিরপুর ডিওএইচএস-এ ০২টি ভবনে ১৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বরাদ্দগ্রহীতারাসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, সেনাসদর ও সেনাকল্যাণ কনস্ট্রাকশনস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড (এসকেসিডি) এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর সদস্য, যারা বিডিআর বিদ্রোহ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন আভিযানিক ও অনাভিযানিক কারণে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন অথবা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।




রোহিঙ্গা সংকট ও বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানে বিনিয়োগের আহ্বান :  স্পিকার

মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং ভোলাসহ বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাময় সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাত এবং আঞ্চলিক করিডোর গঠনসহ সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে সর্বতোভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উভয় দেশের মধ্যে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

স্বৈরাচারী শাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় জনগণের পছন্দ ও গণতন্ত্রের সঠিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ বাংলাদেশ ও চীনের সংসদীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পিকার জানান, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। সম্প্রতি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় ও সমৃদ্ধিতে উন্নীত করেছে। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশকে তার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার মনে করে। বাংলাদেশে চীনের বড় বড় মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগও কার্যকর রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে এই ভূখণ্ডে একটি শক্তিশালী পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত আগ্রহী। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করে বেইজিং।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর’ স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং যৌথ জ্বালানি উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

স্পিকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এবং নীতিগতভাবে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ সমর্থন দৃঢ়ভাবে অব্যাহত থাকবে। স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীন সরকারের সমর্থন কামনা করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।




ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর কথা বললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক অর্থনীতি, বাণিজ্যি ও আর্থিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য আমদানি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে গভর্নর এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় গভর্নর ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট এবং এ বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। গভর্নর বাংলাদেশে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ভারতের হাইকমিশনার। জবাবে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব একাধিক নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করা অর্থ ও মুনাফা সহজে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবেন।

এসময় প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও শিল্প খাতে বাংলাদেশে আরও বেশি ভারতীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান গভর্নর।

সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্স) গৌরব কুমার আগারওয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নরের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন।




২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি ভালো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে আনার লক্ষ্য : ডিএসইর চেয়ারম্যান

 

সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানি থাকতে পারে। পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির সংকট কাটাতে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য নতুন বিধিমালার খসড়াও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

মমিনুল ইসলাম বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে ভালো কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার জন্যও নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, আইপিও ও লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য ডিএসইর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর জন্য আবেদন করলে লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংককে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে এলে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে আসার পথ আরও সহজ হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারেও দেখা যাচ্ছে। নতুন সিকিউরিটি বাজারে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলে বাজারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি গতি ধরে রাখা এবং উন্নত করা সম্ভব হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারকে দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে হলে স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ (সিসিবি)–সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে ডিএসইতে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার। আরও বক্তব্য দেন ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের (আইপিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম।