নতুন আল্ট্রামেরিন ক্রেডিট কার্ড আনল সিটি ব্যাংক

গ্রাহকদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, ভ্রমণ ও জীবনযাত্রায় বাড়তি সুবিধা দিতে নতুন ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছে সিটি ব্যাংক। ‘সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস আল্ট্রামেরিন ক্রেডিট কার্ড’ নামের এই কার্ডটি জামানতসহ ও জামানত ছাড়া—দুই ধরনের সুবিধায় পাওয়া যাবে। দেশ ও বিদেশে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে কার্ডটি। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এর জন্য আবেদন করা যাবে।ব্যাংক বীমা সেবা

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন কার্ডটির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ এবং আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকিং করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া ও ফরাসি অঞ্চলগুলোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সেবার পরিচালক কুরুশ দাস্তুর ও দক্ষিণ এশিয়ার নেটওয়ার্ক অংশীদারত্বের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক পুনিত মাথুর যৌথভাবে কার্ডটির উদ্বোধন করেন।

এ সময় সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কাজী আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহিয়া জুনেদ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. অরূপ হায়দারসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পণ্য বাজার বিশ্লেষণ

কার্ডটির গ্রাহকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্বাগত সুবিধা। কার্ড চালুর প্রথম তিন মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ নগদ ফেরত পাওয়া যাবে। এর বিকল্প হিসেবে ৫ হাজার টাকা মূল্যের ভ্রমণ লাগেজ ভাউচার নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে কার্ড সদস্যরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেসের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ লাউঞ্জে সর্বোচ্চ দুজন সঙ্গীসহ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া বিশ্বের নির্বাচিত বিমানবন্দরগুলোতে প্রায়োরিটি পাস লাউঞ্জ ব্যবহারের জন্য বছরে ১২টি বিনামূল্যের প্রবেশ সুবিধা থাকবে। কার্ড সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা অতিথিরা নিজেদের মধ্যে এসব সুবিধা ভাগ করে নিতে পারবেন। লাউঞ্জে প্রতিবার প্রবেশকে একটি ভিজিট হিসেবে গণনা করা হবে।

কার্ডটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এটিএম থেকে নগদ টাকা উত্তোলনে কোনো ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাইমারি কার্ড সদস্যরা প্রতি ভিজিটে সর্বোচ্চ দুজন অতিথিসহ বিনামূল্যে মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা পাবেন।

আন্তর্জাতিক বিমান টিকিট ও দেশের অভ্যন্তরে হোটেল বুকিংয়ে সাশ্রয়ী সুবিধার পাশাপাশি গো-জায়ানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টিকিট কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভ্রমণ বিমা ও লাগেজ সুবিধাও থাকছে।ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং ট্রাই

কার্ড সদস্যরা প্রতি ১০০ টাকা বা ১ মার্কিন ডলার খরচে ৩টি মেম্বারশিপ রিওয়ার্ডস পয়েন্ট অর্জন করবেন। এসব পয়েন্ট দিয়ে উপহার ভাউচার সংগ্রহ, বার্ষিক ফি মওকুফ অথবা পয়েন্ট ব্যবহার করে কেনাকাটা করা যাবে।

এ ছাড়া সপ্তাহান্তে বাংলাদেশের নির্বাচিত আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনে একটি কিনলে একটি বিনামূল্যে বুফে খাবারের সুবিধা রয়েছে। আমেরিকান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে খাবার, কেনাকাটা, জীবনযাপন ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন অফারও পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ বলেন, গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে ব্যাংক সবসময় সুচিন্তিত আর্থিক সেবা ও সমাধান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। নতুন এই কার্ড আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুবিধার পাশাপাশি জীবনযাপন ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয় ঘটিয়েছে।

আমেরিকান এক্সপ্রেসের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও অংশীদার সেবার ভাইস প্রেসিডেন্ট অনুরাগ গুপ্তা বলেন, গ্রাহকরা দৈনন্দিন ব্যয়, ভ্রমণ ও জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি মূল্য ও সুবিধা খোঁজেন। আমেরিকান এক্সপ্রেসের সেবার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করে বাংলাদেশে নতুন কার্ডটি নিয়ে আসতে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তারা আনন্দিত।প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন




বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং আজ সকালে বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাঁকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মাঝে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

এসময় তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরেও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত ও অধিকতর প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সানাউল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার। অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কমিশনার জানান, প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছে এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, কমিশন বাজেট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরও কিছু পার্শ্ববর্তী সমন্বয় বা সাইডলাইন ওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করবে। স্টাফ লেভেল এবং সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।

ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করলেও সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশন আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করছে, তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনের উপযুক্ত সময় খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে কমিশনার বিস্তৃত সময়সূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রোজা। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা।

অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া এবং ৬ জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আবার কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের কারণে সব প্রক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

সংবাদমাধ্যমের খবরের প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। আগামী ১৭ তারিখের সমন্বয় সভার পর সকল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত উপাত্তসমূহ পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।




আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএফআইইউর কাছে দেওয়া চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে। চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে– দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ।

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র।

পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনসংক্রান্ত দলিল ও রেকর্ডপত্র এবং বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত সংগৃহীত তথ্য।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে ‘শেল কোম্পানি’ গঠনে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থপাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়েও কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজের দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। আর সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়ও উঠে এসেছে অভিযোগে।

দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে– স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা’র সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধান জালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ ডজনখানেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তার মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুধু তাই নয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান তার বিরুদ্ধে আইন-বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরুর কথা জানিয়েছেন।




রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি বন্ধ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাড়ি আমদানিকারকরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরের সবকটি গাড়ির শোরুম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না এবং বন্দর থেকে গাড়ি খালাসও নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রহিত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের লালখানবাজারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) নেতারা।

বারভিডার নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আনার সুযোগ রহিত করে মূলত পুরনো আদলেই নতুন প্রযুক্তির মোটরযান আমদানিকে উৎসাহিত করেছে সরকার। এতে পরিবেশবান্ধব গাড়ি আমদানি থমকে যাবে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তারা বলেন, রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির সুযোগ বন্ধ হলে দেশের পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, মানুষ যে গাড়ি পছন্দ করে, যে গাড়ি ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তারা সে গাড়ি কিনুক। আমাদের তাতে আপত্তি নেই। তারা আমাদের কাছ থেকে গাড়ি না কিনলে আমরা ব্যবসা করব না। কিন্তু কোনো বিধিনিষেধের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমরা সরকারের বিপক্ষে যেতে চাই না।




গুলশান-ধানমণ্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।

লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবন ভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়।বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর যন্ত্র (এরেটর) স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




নরওয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও জনবান্ধব করে তুলতে নরওয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সবজি খাতে রপ্তানি বাড়াতে একমত সরকারি-বেসরকারি অংশীজন

 

নিরাপদ ও মানসম্মত সবজির নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা একটি অভিন্ন কর্মপন্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ উপলক্ষ্যে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ’ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘রপ্তানি প্রস্তুতির পথে : বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও অঙ্গীকার’ শীর্ষক অংশীজন গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।

বাংলাদেশে বছরে দেড় কোটি মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হলেও এর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশেরও কম রপ্তানি হয়। আলোচনায় উঠে আসে, রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। বালাই ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, ক্রেতার কাছে গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা ও সনদায়ন, ট্রেসঅ্যাবিলিটি, লজিস্টিকস এবং রপ্তানি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের অভাবও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গার্ডজাতীয় সবজির চালান ইউরোপের বাজারে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শুধু সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, উৎস বাজার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও কমে।

এসজিএস বাংলাদেশ পরিচালিত একটি বাজার সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিশ্লেষণ করেন, কোন কোন পর্যায়ে রপ্তানি চালান প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হারায় বা কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত বাধার মুখে পড়ে। আলোচনায় উচ্চ উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয়, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের খরচ, কাস্টমস ও বিমানবন্দরে পণ্য ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব, দুর্বল মোড়কীকরণ ও ব্র্যান্ডিং, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত ঝুঁকি, দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটি, ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ সনদায়ন প্রক্রিয়া, বিক্ষিপ্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং মূল্যশৃঙ্খলজুড়ে সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়গুলো উঠে আসে।

আলোচনায় একটি অভিন্ন কর্মপন্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত ঝুঁকি কমাতে খেত পর্যায়ে কমপ্লায়েন্স ও ট্রেসঅ্যাবিলিটি জোরদার করা জরুরি বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সবজিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে মোড়কীকরণ, লজিস্টিকস, পরীক্ষা ও সনদায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। উন্নত বাজারতথ্য, রপ্তানি গন্তব্যের বৈচিত্র্য, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং রপ্তানিকারকদের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আমিরুল বাহরাইন বলেন, কীটনাশকের বিষাক্ততার মাত্রা অনুযায়ী রঙভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা থাকলেও খেত পর্যায়ে সঠিকভাবে কীটনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে শুধু ভালো মানের পণ্যই যথেষ্ট নয়, প্রতিযোগিতামূলক মোড়কীকরণ ও উপস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক, দুর্বল বাজারতথ্য, উচ্চ ও অনিশ্চিত আকাশপথের পরিবহন ব্যয়, অপর্যাপ্ত লজিস্টিকস, সীমিত সমন্বয় এবং দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটিকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। খাতের প্রতিযোগিতাসক্ষমতা বাড়াতে তিনি, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, উন্নত লজিস্টিকস, খেত পর্যায়ে শক্তিশালী ট্রেসঅ্যাবিলিটি, কার্যকর সমন্বয় এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কর-সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।
রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশ্বেরুর রহমান জুয়েল বলেন, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বাড়ছে। উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা এবং বিদ্যমান রপ্তানির পরিমাণ ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

অর্থায়ন প্রসঙ্গে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-র চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ বলেন, কৃষি রপ্তানি খাতে যুক্ত রপ্তানিকারক, কৃষক, পরামর্শক এবং অন্যান্য অংশীজনের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দিতে ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

আলোচনায় আরও বলা হয়, রপ্তানি প্রস্তুতিকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি উদ্যোগ হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। খেত পর্যায়ের উৎপাদনচর্চা, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স, ট্রেসঅ্যাবিলিটি, সনদায়ন, মোড়কীকরণ, লজিস্টিকস, বাজারতথ্য এবং অর্থায়ন— সবকিছু মিলেই নির্ধারণ করে একটি রপ্তানি চালান কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্যভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারবে।

সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত ফাতেমা বলেন, বাংলাদেশের জমি আছে, অনুকূল জলবায়ু আছে, কৃষকও আছেন। কিন্তু এখনও এমন একটি কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি, যার ওপর ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পরও আস্থা রাখতে পারেন। সেই ব্যবস্থার প্রতিটি অংশ এই ঘরের কোথাও না কোথাও রয়েছে। আজকের আলোচনা ছিল অনুপস্থিত প্রতিটি অংশের সঙ্গে দায়িত্বশীল একটি নাম যুক্ত করার প্রয়াস।

এ ধরনের উদ্যোগ সুইসকন্ট্যাক্টের কাজের পদ্ধতিরই প্রতিফলন। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প হিসেবে কাজ না করে প্রতিষ্ঠানটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রপ্তানিকারক সমিতি ও পরীক্ষা সেবাদাতাদের সঙ্গে কাজ করে মূল্যশৃঙ্খলের ভেতরেই কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায়, যাতে বাহ্যিক সহায়তা শেষ হওয়ার পরও নিরাপদ উৎপাদনচর্চা টেকসই থাকে। একই ব্যবস্থা একদিকে রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে দেশের ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ সবজি এবং কৃষকদের জন্য ভালো আয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও এর উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, বাণিজ্যিক ব্যাংক, এবং বিএফভিএপিইএ-র সদস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহায়তা করে স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটি (এসটিডিএফ), আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকার। জ্ঞান অংশীদার হিসেবে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিক্স স্টাডি সেন্টার।

উল্লেখ্য, সুইসকন্ট্যাক্ট একটি সুইস উন্নয়ন সংস্থা, যা ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। বাণিজ্যিক প্রত্যাখ্যান কমানো, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত সবজির নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি সেফ বিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে।

প্রকল্পটি ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যশোর ও নরসিংদীতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অর্থায়নে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটি, সহ-অর্থায়নে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিএফভিএপিইএ এবং এসজিএস বাংলাদেশ। একই কর্মসূচির আওতায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গ্রিন+ ডিজিটাল ট্রেসঅ্যাবিলিটি ও পরিবেশবান্ধব কমপ্লায়েন্স নিয়ে কাজ করছে।




বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের আগ্রহ

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরিটাইম খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জুলং গ্রুপ।

বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের সঙ্গে তার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াং এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশে আধুনিক নৌযান নির্মাণ এবং এ খাতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে বেন ওয়াং জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং এখানকার দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক নৌযান প্রস্তুত করা। এছাড়া জুলং গ্রুপের লক্ষ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের নৌযানের চাহিদা মেটানোই নয়, বরং বাংলাদেশে নির্মিত বিশ্বমানের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা।

চীনের এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য চমৎকার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীনের এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।

প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ এবং তা বিদেশে রপ্তানির এই উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত এবং প্রশাসনিকসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।