হজযাত্রী পরিবহন করবে ৩ এয়ারলাইন্স, বিমান বাংলাদেশ ৫০ শতাংশ

 

২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্সকে কোটা বরাদ্দ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কোটা বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি তিন এয়ারলাইন্সের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ২০২৭ সালের দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বর সই হবে। হজ চুক্তির পর বাংলাদেশের হজযাত্রীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে। এর আগে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য তিনটি এয়ারলাইন্সের অনুকূলে কোটা বরাদ্দ দেওয়া হলো।

বরাদ্দ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।

চিঠিতে বলা হয়, হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে বরাদ্দ করা পোর্ট কোটা অনুযায়ী সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে ৮০ শতাংশ এবং মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে ২০ শতাংশ হজযাত্রীর গমনাগমন নিশ্চিত করতে হবে।

এয়ারলাইন্সগুলোকে সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজে নির্ধারিত বিমান ভাড়ায় ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে। ডেডিকেটেড ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না।

হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে ফ্লাইট সিডিউলের খসড়া ন্যায্যতার ভিত্তিতে তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জিএসিএতে পাঠাতে হবে। এর অনুলিপি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও দিতে হবে।

জিএসিএ (সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন) ও বেবিচকের অনুমোদিত ফ্লাইট সিডিউল এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট ও হজ পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

এজেন্সির কাছ থেকে টিকিটের চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পে-অর্ডার পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে হজযাত্রীর নামে টিকিট ইস্যু করতে হবে।
আরও পড়ুন
হজ এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া টাকার জাকাত দিতে হবে?

এজেন্সির অনুকূলে টিকিট ইস্যুর পর এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ই-হজ সিস্টেমে তা এন্ট্রি করতে হবে। টিকিট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে পিএনআর, টিকিট নম্বর ও ফ্লাইট নম্বর উল্লেখ করে হজযাত্রীকে এসএমএস দিতে হবে।

ই-হজ সিস্টেমে তথ্য প্রদান, হজযাত্রীর অনুকূলে টিকিট বিক্রির এসএমএস এবং অন্যান্য সেবা প্রস্তুতির বিষয়টি হজ ফ্লাইট শুরুর এক মাস আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

চিঠিতে হজযাত্রীর মৃত্যু হলে টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজে যাওয়ার আগে কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। মৃত হজযাত্রীর সঙ্গে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের কোনো সদস্য হজে না গেলে তার বা তাদের বিমান ভাড়ার অর্থও ফেরত দিতে হবে। সৌদি আরবে হজযাত্রীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে টিকিটের ৫০ শতাংশ ভাড়া ফেরত দিতে হবে।

দুর্ঘটনা, গুরুতর অসুস্থতা, ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রী যেতে না পারলে এয়ারলাইন্সগুলোকে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর ক্ষেত্রে হজ অফিস, ঢাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সকে জানাতে হবে।

হজ পরবর্তী ফ্লাইটে হজযাত্রীর টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া হজের নিয়মকানুন নিয়ে তৈরি ভিডিও এয়ারলাইন্সগুলোকে হজে যাওয়ার সময় বিমানে প্রদর্শন করতে হবে। ভিডিও প্রদর্শন না করলে সেটিকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অসহযোগিতা বা অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

কোনো এয়ারলাইন্স তার নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত হজযাত্রীর পে-অর্ডার গ্রহণ ও হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এর ব্যত্যয় হলে তা হজ ব্যবস্থাপনায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, হজযাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ওয়াইড বডি ও মানসম্পন্ন হতে হবে। তবে প্রয়োজনে হজযাত্রীর কোটা কমানো, বাড়ানো, পরিবর্তন ও সংশোধনের এখতিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করেছে।




মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে : সচিব

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ ব‌লে‌ছেন, মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (১৬ সে‌প্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিবের কা‌ছে অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সদস্যরা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ইস্যুতে তাদের দাবির পক্ষে স্মারকলিপি দেন। প‌রে এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

সচিব জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে এই সুযোগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে দালাল ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ কর্মীদের রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তি‌নি আরও জানান, ইতোমধ্যে এরকম অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’ এর অফিস সিলগালা করা হয়েছে, জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং ৩ বক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরণ শুরু হবে, তার প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত ও সঠিক তথ্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।

তাদের দাবিসমূহ হলো—তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য নিরসন, অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সব যোগ্য মেডিকেল সেন্টারকে উন্মুক্তকরণ এবং বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুকরণ।

বায়রা প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবিসমূহ মনোযোগসহকারে শোনেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ। তিনি তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং তা পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করার আশ্বাস দেন।




ইতালির বিনিয়োগ আকর্ষণে চামড়া খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে ইতালির বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য ইতালি সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন৷

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্ভাব্য ইতালি সফরের মূল লক্ষ্য হবে নতুন বিনিয়োগকারী আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।

বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সক্ষমতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা ইতালির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে মিলান, ফ্লোরেন্স ও রোম সফরের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, মিলানে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক, ফ্লোরেন্সে টাসকানি অঞ্চলের চামড়া শিল্প এলাকা পরিদর্শন এবং রোমে সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব আরও বাড়বে।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বড় কারখানাগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে এবং ছোট কারখানার জন্য কেন্দ্রীয় সুবিধা বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




ভুটানের গ্যালেফু সিটির উন্নয়নে জনশক্তি দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে চায় ঢাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

এ সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হবে।

সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ভুটানের রাজাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ ছাড়া বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত।




মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা, দ্রুত এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ-ইইউ

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, বিমান চলাচল এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ ডেলিগেশনের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

এসময় দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইইউকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বহুপাক্ষিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইইউর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল ও টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।

রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ইউএনজিএর সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।




বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ডেনমার্ক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডেনমার্ক।

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতের অভিন্ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ই-হেলথ সিস্টেম উন্নয়ন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ ই-হেলথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে ডেনমার্কের ই-হেলথ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো— ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বাসন সেবা জোরদার ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সহযোগিতা।

বৈঠকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ডেনমার্ক বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছে। লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলায় এ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ডেনমার্ক ইউরো ৩০০ মিলিয়ন অর্থায়নে অংশ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ৭০ থেকে ৯০ লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে সহায়তা করবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়।

বাংলাদেশ-ডেনমার্ক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।




গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।




ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডের অবসায়ন প্রস্তাব অনুমোদন

ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্সের (ইউএফএস) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড বন্ধ বা অবসায়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট বিএসইসির দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটি অবসায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ট্রাস্টি হিসেবে বিজিআইসি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ফান্ডটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফান্ডের সম্পদ নগদায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা যথাসময়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ট্রাস্টি।

ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ডটি একটি বেমেয়াদি (ওপেন-এন্ডেড) মিউচুয়াল ফান্ড। এর স্পন্সর ছিল প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ফান্ডটিতে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ৯৮ লাখ টাকা। আর ফান্ডটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্স লিমিটেড (ইউএফএস)।

ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন্সকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক তদন্ত ও আর্থিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে ফান্ডটির অবসায়নের সিদ্ধান্ত এসেছে। ২০২২ সালে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএফএসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তথ্য শনাক্ত করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে একাধিক ওপেন-এন্ডেড ফান্ড থেকে ১৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। এসব ফান্ডের মধ্যে ছিল ইউএফএস-বাংলাদেশ এশিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ইউএফএসের শীর্ষ কর্মকর্তা, ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কর্মকর্তাসহ স্বাধীন নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ৩১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ অভিযুক্তরা জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার অননুমোদিত বিনিয়োগ, ১৪৮ কোটি টাকার ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) তৈরি এবং শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফান্ডে জমা না দেওয়ার মতো অনিয়মের তথ্য উঠে আসে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা ও ট্রাস্টি ফি বাবদ আদায় করা অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, এসব আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।




দেশে সারের সংকট নেই: মাহ্দী আমিন

দেশে সারের কোনও সংকট নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সংসদকেই সমস্যা সমাধানের পথ মনে করে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই সরকারেরও দাবি।

জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সাতজনের ফাঁসি হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরও লংমার্চের প্রয়োজন কেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতা করেছে। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকার বিশ্বাসী। বিরোধী দলের দাবিগুলো নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন জানান, ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। জুলাই শহিদদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংসদ কার্যকর রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহ্দী আমিনবিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহ্দী আমিন
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমবাজার চালু হলে প্রথম দফায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর জন্য আবেদন করা হবে।

তেল-গ্যাসের দাবিতে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার যেসব বিষয়কে নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে বাস্তবায়নে কাজ করছে, সেগুলো নিয়েই আবার আন্দোলন কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আগের সরকারের নীতির দায় রয়েছে—বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ এবং সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।




খেলাপি ঋণ ৯ মাসে কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি। জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে। ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।