চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮৮৩

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসিএইচ) এবং অন্যজন এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সিএমসিএইচে মারা যাওয়া অর্পিতার (২৬) বাড়ি কোতোয়ালি এলাকায়। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাল্টিপল অর্গান ফেইলিউর (এমওএফ), ডিআইসি, সেপসিস ও আইইউডি-সহ এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যাওয়া শামসুন নাহার খানমের বয়স ৫০ বছর। তিনি আগ্রাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকার বাসিন্দা। ১১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেদিনই জরুরি বিভাগে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তির আগে করা পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে অপরিবর্তনীয় কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর, হাইপোভোলেমিক শক, এআরডিএস ও টাইপ-১ রেসপিরেটরি ফেইলিউরের কথা উল্লেখ করা হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১০ জন। এর মধ্যে সিএমসিএইচে ১০৫, বিআইটিআইডিতে ৩৫, ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৭, সিএমএইচে ৪, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছর এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৪২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন।

এদিকে, চট্টগ্রামে হাম পরিস্থিতিও অব্যাহত রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৭৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজার ৭৮২ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে শনাক্ত হয়েছেন ৪৮৬ জন এবং ১৫ উপজেলায় ২৫৭ জন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ১৩ জন এবং উপজেলায় দুজন।




বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। প্রতিষ্ঠানটির বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশ-বিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

এসময় পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহের কথা জানায় শেভরন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




স্বাস্থ্যসেবা করুণা নয়, এটা মানুষের মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বিজয় সরণিতে নভথিয়েটারে ইনোভেশন ফেয়ারে সবার জন্যে স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনও করুণা নয়। এটা মৌলিক অধিকার। গবেষক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি আছে। তারা একযোগে কাজ করলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নতি হবে। পাশাপাশি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো আরও বাড়ানো উচিত।’

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও গবেষকদের মধ্যে সমন্বয় গড়তে পারলে বাংলাদেশেই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাতকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ অর্জন করা যায়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্ভাবনগুলো দেশে ট্রায়ালের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা যারা দেশের বাইরে কাজ করছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্যে ডিজিটাল প্লাটফর্ম গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।’

আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকারকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।