শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিকভাবে হলেও বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিমানমন্ত্রী।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশনের কাছে টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনালের পুরো কাজ শেষ হলে একসঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, টার্মিনাল থেকে আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে লাগেজ ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে যাত্রীদের হাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।




চট্টগ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৩৮০

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১৩৩ জন। তাদের মধ্যে ৫২ জন মাদক কারবারি ও ৮১ জন মাদক সেবনকারী।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, নিয়মিত মামলায় ১০৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৭ জন, পরোয়ানামূলে ১০৪ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় অর্থদণ্ড করা হয়েছে ২১ হাজার ১০০ টাকা।

 

অভিযানে ৩৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার ২৬১ ইয়াবা, ৩৩ কেজি ৫৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৬৯ লিটার চোলাইমদ ও ৫০ বোতল স্কাফ সিরাপ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে পরিচালিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




স্থানীয় সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিল চায় পোশাক খাত

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠন দুটি বলেছে, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্ত নম্বর ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’-এ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য ও যুক্তিসংগত নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত নং ৪-এর ‘ক’ তে ৩০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক রেটের পরিবর্তে কার্ডিং রেট নির্ধারণ; ‘খ’ তে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সুতা আমদানির সুযোগ প্রদান করার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই সভায় আমরা সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয় মিল এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয় আলোচনায় উত্থাপন করিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সভায় পোশাকশিল্পের পক্ষ থেকে সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে সভার আলোচনার বাইরে থাকা বিষয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বন্ড ব্যবস্থা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেখানে শিল্পের প্রসারের জন্য বন্ড সুবিধা ও বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

স্থানীয়ভাবে ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি আদেশ কম থাকায় বাজারে সুতার চাহিদাও কম। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করতে পারছে না।

এ অবস্থায় স্থানীয় মিল থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা করা হলে পোশাক কারখানাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সুতা সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।

তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’ বাস্তবায়ন হলে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে।

এ কারণে সভার আলোচনার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত দুটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।




রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন এবং ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (ভিএএমএল) স্বেচ্ছাপ্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে ফান্ডটির ট্রাস্টি।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের ভিআইপি রোডে রাওয়া কনভেনশন হলের (ঈগল হল) এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ফান্ডটির ইউনিটধারীদের রূপান্তর প্রস্তাবের বিষয়ে অনুমোদন নেওয়া হবে।

এ জন্য ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। একই দিন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন স্থগিত থাকবে। ফান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেকর্ড ডেট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ইউনিটের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

বিএসইসির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ভিএএমএলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটি এ বিষয়ে ইউনিটধারীদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকেছে। রূপান্তরের কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬।

মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে এবং এর ইউনিট সাধারণত স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়। ফলে বাজারদর অনেক সময় ফান্ডটির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি থেকে কম-বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, বে-মেয়াদি ফান্ডে নির্দিষ্ট মেয়াদের বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং নির্ধারিত নিয়মে বিনিয়োগকারীরা ফান্ডে ইউনিট কিনতে বা ফান্ডের কাছে ইউনিট বিক্রি করতে পারেন।

ফলে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের পর বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউনিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি লেনদেনের পরিবর্তে ফান্ডের নির্ধারিত মূল্য বা এনএভির ভিত্তিতে ইউনিট ইস্যু ও পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। এতে ফান্ডের বাজারদর ও প্রকৃত সম্পদমূল্যের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কমে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে রূপান্তরের পর ইউনিটধারীদের জন্য কীভাবে ইউনিট পুনঃক্রয়, নতুন ইউনিট ইস্যু এবং মূল্য নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা ও কার্যকর পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নথিতে নির্ধারিত হবে। তাই বিনিয়োগকারীদের এসজিএমের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বাপা ফুডপ্রো এক্সপো

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬’।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর’স অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোবহানবাগে বাপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নেবে। তিন দিনে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রদর্শনীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশায়। প্রদর্শনীতে চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হবে।

১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনের আয়োজনে আঞ্চলিক সম্মেলন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে শতাধিক বিশেষজ্ঞ বক্তা ও শিল্পনেতা অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, দেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রদর্শনী উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, অংশীদার ও শিল্পবিষয়ক ধারণার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। এতে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণ তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সেশন স্টেজ, এফপি গুরমে, ড্রিংকস্ফিয়ার, গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ভিলেজ।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

 




সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্য চাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

 

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত

কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে :

১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।

৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।

৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।

৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।

৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শ ৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪শ ১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রপিরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।