এআই প্রযুক্তিতে বাড়ছে বীমা প্রতারণার ঝুঁকি

বীমা খাতে প্রতারণার নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডিপফেক প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও ও নথি এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে গ্রাহকের দেওয়া তথ্য ও ক্ষতিপূরণ দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

ডিপফেক এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তবের মতো দেখতে ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও বা তথ্য তৈরি করা যায়। একইভাবে আসল ছবি, ভিডিও কিংবা নথিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বীমা প্রতারণার নতুন পথ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বীমা খাতে ডিপফেকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে। প্রতারকরা দুর্ঘটনার ভুয়া ছবি, সাজানো ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ, পরিবর্তিত পরিচয়পত্র, নকল চিকিৎসা প্রতিবেদন কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বীমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ির বীমায় এ ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সতর্কতা বাড়ছে।

বর্তমানে গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণ, পলিসি অনুমোদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ দাবি যাচাই, গ্রাহকসেবা ও প্রতারণা শনাক্তকরণসহ বীমা খাতের বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ইউরোপীয় বীমা ও পেনশন কর্তৃপক্ষের (EIOPA) ২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপের ৬৫ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আরও ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আগামী তিন বছরের মধ্যে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং গ্রাহকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা দিতে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এআই সব সময় কোনো তথ্য, ছবি বা নথি আসল নাকি কৃত্রিম—তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

কারণ এআই সাধারণত পূর্ববর্তী তথ্য ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল খুঁজে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো ছবি সত্যিই দুর্ঘটনার সময় তোলা হয়েছে কি না, কোনো নথি আসল কি না কিংবা কোনো ভিডিওতে পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন।

এ কারণে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান এআইয়ের পাশাপাশি মানবিক যাচাই ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। সাধারণ ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে এআই দ্রুত প্রাথমিক যাচাই করতে পারলেও বড় অঙ্কের দাবি, সন্দেহজনক নথি কিংবা জটিল মামলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চূড়ান্ত যাচাইয়ের গুরুত্ব এখনো রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বীমা প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা কোয়ালিশন এগেইনস্ট ইন্স্যুরেন্স ফ্রডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এর সঙ্গে এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও নথির অপব্যবহার যুক্ত হওয়ায় প্রতারণার ধরন আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিপফেক ব্যবহার করে বীমা প্রতারণার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ এ ধরনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্প বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করে ভুয়া দুর্ঘটনার ছবি, পরিবর্তিত নথি ও কৃত্রিম পরিচয় তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি উঠে আসছে।

ডিপফেক শনাক্ত করতে তথ্যের উৎস যাচাই, পরিবর্তিত ছবি ও নথি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিওর উৎস, সেটিতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না এবং উপস্থাপিত তথ্যের সঙ্গে মূল তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

ডিপফেকের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এআই ব্যবহারে নতুন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থার জন্য বাড়তি নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও জাপানও এআই ব্যবহারে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের বীমা খাতেও ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অনলাইন পলিসি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দাবি যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হলেও এআই ব্যবহার করে ডিপফেক শনাক্ত করার সক্ষমতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

দেশের অধিকাংশ বীমা প্রতিষ্ঠানে উন্নত এআইভিত্তিক তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এখনো ব্যাপকভাবে চালু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বীমা খাত আরও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেকভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত তথ্য যাচাই প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবিক যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আগামী দিনের বীমা খাতে শুধু দ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট হবে না; বরং আসল ও কৃত্রিম তথ্যের পার্থক্য নির্ভুলভাবে শনাক্ত করাই হয়ে উঠবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে ডিপফেক বীমা খাতে নতুন ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।




ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও গ্রাহকসেবা নিয়ে পপুলার লাইফের সভা

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের পিএইচপি টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবির। এছাড়া সিনিয়র ডিএমডি, ডিএমডি, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সততা, পরিশ্রম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বীমা দাবি দ্রুত ও যথাযথভাবে পরিশোধসহ সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পপুলার লাইফ দেশের বীমা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।’

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি




অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল।
আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।

নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেনসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও হজযাত্রীরা।

সভায় বক্তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রায় আগ্রহী করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় হজযাত্রীদের সঠিক তথ্য প্রদান, হজ পালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী হজযাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ডিমার্কেশন ছাড়াই বনভূমিতে গোডাউন-বাড়ি, উচ্ছেদের পর ফের ৮৬ ঘর নির্মাণের অভিযোগ

> বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ভাঙার নির্দেশ, সপ্তাহ পেরোলেও বহাল স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটে বন বিভাগের জমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সুবিশাল টাইলসের গোডাউন, কোথাও চারতলা ভবন, আবার কোথাও ছয়তলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগের বড় অংশই হলো—বনভূমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমার্কেশন না করেই এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ নয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে সরিয়ে দেওয়া ঘরও ফের নির্মাণ করা হয়েছে বলে সরেজমিনে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে এই প্রতিবেদক। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর আশ্রমচালা এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া ঘরগুলোর জায়গায় গত দুই মাসে প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এভাবে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এত ব্যাপকভাবে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

ডিমার্কেশন ছাড়াই টাইলসের বিশাল গোডাউন:

মনিপুর বিটের জেসন গেইটসংলগ্ন নৌলাপাড়া পুরনো মসজিদের বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্রিজের পূর্ব পাশে টাইলস ব্যবসায়ী রওশনের একটি বড় গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রওশনের আদি বাড়ি সিলেটে এবং তিনি স্থানীয় জিয়াদের পরিবারের ঘরজামাই।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে মনিপুর বিট কর্তৃপক্ষ তাকে ওই স্থানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে অর্থের বিনিময়ে বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান তাকে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, বিট কর্মকর্তা মান্নানের পরামর্শেই দিনের বেলা নির্মাণকাজ না করে রাতভর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে গোডাউনটির নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। গোডাউন নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনেরজমিও যুক্ত করেছেন রওশন,দাবি বিশেষ সূত্রের।

তবে এ অভিযোগের পাশাপাশি জমির সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই দাগের জমির ডিমার্কেশনের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ হয়নি। অথচ ডিমার্কেশন সম্পন্ন হওয়ার আগেই বনভূমি-সংলগ্ন বনের জমিসহ বিশাল স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

জমির বিবরণ অনুযায়ী—এসএ দাগ ৫৭৪ ও ৫৭৫; আরএস দাগ ১৬৭৯ ও ১৬৮৩। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমির দুই পাশেই ভাওয়াল গড়ের বনভূমি রয়েছে। ফলে সীমানা নির্ধারণ না করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে সরকারি বনভূমির অংশ স্থায়ীভাবে দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন:

মনিপুর বিটের কাতলামারা এলাকার মন্দিরের বিপরীতে দক্ষিণ দিকে মনিপুরমুখী রাস্তার পাশে সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষও করা গেছে।

কুমিল্লার সোহেল নামের এক ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করে ভবন নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভবনটির দক্ষিণাংশের কিছু অংশ সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে চলে গেছে।

যথাযথ জরিপ ও ডিমার্কেশন ছাড়া নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সরকারি বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হোতাপাড়ায় ছয়তলা ফাউন্ডেশন:

হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের অটোস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে বাক্কির বাড়ি সংলগ্নও একই ধরনের অভিযোগ। চারদিকে ভাওয়াল গড়ের বনভূমি থাকা সত্ত্বেও ডিমার্কেশন ছাড়াই জালাল উদ্দিন মাস্টার নামে এক ব্যক্তির ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা নির্মাণকাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। বাড়ি নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনের জমি যুক্ত করেছেন জালালউদ্দিন,দাবি এলাকাবাসীর।

এর আগে হোতাপাড়া থেকে মনিপুরগামী মূল রাস্তার উত্তর পাশে ভাওয়ালগড় কেটে বনের জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন জালাল উদ্দিন মাস্টার। রাস্তাটি তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিট রহস্যময় কারণে বাধা প্রদান করেনি, আইনগত ব্যবস্থাও নেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

প্রায় ৮ কাঠা জমিতে বাউন্ডারি, ডিমার্কেশন নেই:

মনিপুরে প্রয়াত সবুর মাস্টারের বাড়ির বিপরীতে এবং কফি হাউজের পূর্ব পাশে কয়েকদিন আগে প্রায় আট কাঠা জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেছেন এই প্রতিবেদক। বাউন্ডারির ভেতরে বন বিভাগের জমির অংশও ঢুকে গেছে।

এ ঘটনায় ‘বনের দালাল’ নামে খ্যাত ইদুম আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমি দখলে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইদুম আলীর মধ্যস্থতায় জনৈক কহিনুর বেগম বায়নাসূত্রে ওই জমি কিনেছেন।

জমির বিবরণ—পরিমাণ ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ; খতিয়ান: সিএস-১৩১, এসএ-৩৪২, আরএস-১৯০; দাগ: এসএ-৩১০, আরএস-১০৩৮।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জমির সীমানা নির্ধারণ না করেই কীভাবে এত বড় বাউন্ডারি নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলো?

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সপ্তাহ পেরিয়েও বহাল বাড়ি:

বেগমপুর কাজী মার্কেটের পশ্চিম পাশে পল্লী চিকিৎসক ডা. খোরশেদ আলমের একটি সুবিশাল বাড়ি নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন ও জমির নথির সূত্রে দেখা গেছে, বাড়িটি বন বিভাগের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

বার্তা পেয়ে মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের কর্মকর্তারা বিটের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও বাড়িটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। এরপর এ বিষয়ে বন বিভাগের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

 

 

 

উচ্ছেদ হলো, আবারও উঠল ঘর:

মনিপুর বিটের নয়াপাড়ার আশ্রমচালা এলাকায় বনভূমি দখলের চিত্র আরও উদ্বেগজনক।

৫ আগস্টের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কিছু ঘর সরিয়ে দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদের পর গত দুই মাসে একই এলাকায় প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ অথবা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি ঘর নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি বিশেষ চক্রের বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘর নির্মাণে মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে মনিপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য বিট কর্মকর্তা মান্নান সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ বাবদ গ্রহণ করেছিলেন।

একদিকে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে একই এলাকায় ফের ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উচ্ছেদের পর ফের নির্মাণের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে

স্থানীয়দের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানে ঘর সরিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে—উজ্জল, শ্রী সুবল, মো. সাদ্দাম, শ্রী সত্যেন, বলাই চন্দ্র বর্মন, জিয়া, সত্যেন্দ্র, কিবরিয়া, তোফাজ্জল হোসেন মন্টে, মো. হেলাল ও আবু তালেব।

এ ছাড়া উচ্ছেদের সময় ঘর খুলে রাখার পর একই এলাকায় পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে মো. আসাদ মাঝি, মো. সুমন, মো. হামিদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. শেফালী রানী, মো. সাদেক, শ্রী গোবিন্দ দেবনাথ, রতন রাজশাহী, শ্রী নিরঞ্জন ও লিপির বিরুদ্ধে। এদের ঘরবাড়ি আশ্রমচালা এলাকায়।

বনভূমিতে ঘরবাড়ির দীর্ঘ তালিকা:

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে আশ্রমচালা এলাকায় আরও যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে (এবং সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা গেছে)  তারা হলেন—হারুন, আল আমিন, শুকুর আলী, বিল্লাল (তালা মেকার), মিজান, নজরুল, ইসলাম উদ্দিন, মনির, ফখরুদ্দিন, রুবেল, রাজশাহী জহির, জহির, নিত্য, লিটন রাজশাহী, অর্জুন, সমরঞ্জন, বোঝ, মর্জিনা, সুজন বংশী, আনন্দ, রঞ্জিত বংশী, রিপন বংশী, নিতাই, ফাতেমা, বিল্লাল, হানিফা, সাগর রাজশাহী, সুবল চন্দ্র বর্মন, নবী হোসেন, হযরত, যতীন বংশী, রিয়াজ, সুলতান, শরিফ, ফরিদ, মারফতের স্ত্রী, মহি, আব্দুর রহিম, নিতাই বংশী, স্বপন, রবীন্দ্র, সবিতা, চৈতি, লুৎফর বেপারী, ফরহাদ, ফওসিউল, রিয়াজুল, আব্দুল আউয়াল, খুশি, গৌরাঙ্গ, ইউনুস, লায়লা, ববিতা, রোকেয়া, হামিদ, ইসমাইল, গিয়াস উদ্দিন, শেফালী রানী, ফরিদ, জামির হোসেন, আশিক ও তাইজুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘর নির্মাণ-পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা স্থানীয় চিহ্নিত দালাল ও বিট কর্মকর্তা মান্নান এবং বিট ক্যাশিয়ার মাসুমের পকেটে গেছে বলে সূত্রের দাবি।

আইন কী বলছে:

বনভূমি নিয়ে এমন অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কারণে। বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ধারায় সংরক্ষিত বনে অনুমতি ছাড়া ভূমি পরিষ্কার, চাষাবাদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। একই আইনের ২৩ ধারায় লিখিত সরকারি অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনে কোনো নতুন অধিকার অর্জনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

বন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে জমি জরিপ, ডিমার্কেশন ও মানচিত্র তৈরির ক্ষমতাও আইনে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির সীমানা নিয়ে বিরোধ বা অনিশ্চয়তা থাকলে যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডিমার্কেশনের বিধানও আইনে রয়েছে।

বনভূমি কমলে শুধু গাছ নয়, বিপন্ন হয় পুরো প্রতিবেশ:

পরিবেশবিদদের মতে, বনভূমির প্রান্তে একের পর এক বসতি, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও পাকা ভবন গড়ে উঠলে ক্ষতি শুধু জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বনভূমির খণ্ডীকরণে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানুষের প্রবেশ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও দখলের পথ তৈরি হয়।

ভাওয়াল গড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে তাই কোনো জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি দাগ, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, আরএস/এসএ রেকর্ড এবং বন বিভাগের নিজস্ব সীমানা—সবকিছু মিলিয়ে যৌথ জরিপ করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল বারী বলেন, ‘এতদিন বিট কর্মকর্তা বিটে ছিলেন, তখন আপনারা কেন কিছু জানাননি? এখন বদলি হয়ে যাওয়ার পর কেন বলছেন?’

অনুসন্ধান চলাকালে কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আগের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান বা ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—এমন কোনো সরকারি বিধান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি থাকাকালীন অভিযোগগুলো করলে ভালো হতো, তাই বললাম।’

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারপরও যদি এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

একই বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের সঙ্গেও একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনিও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।




শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিকভাবে হলেও বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিমানমন্ত্রী।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশনের কাছে টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনালের পুরো কাজ শেষ হলে একসঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, টার্মিনাল থেকে আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে লাগেজ ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে যাত্রীদের হাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।




চট্টগ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৩৮০

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১৩৩ জন। তাদের মধ্যে ৫২ জন মাদক কারবারি ও ৮১ জন মাদক সেবনকারী।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, নিয়মিত মামলায় ১০৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৭ জন, পরোয়ানামূলে ১০৪ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় অর্থদণ্ড করা হয়েছে ২১ হাজার ১০০ টাকা।

 

অভিযানে ৩৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার ২৬১ ইয়াবা, ৩৩ কেজি ৫৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৬৯ লিটার চোলাইমদ ও ৫০ বোতল স্কাফ সিরাপ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে পরিচালিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




স্থানীয় সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিল চায় পোশাক খাত

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠন দুটি বলেছে, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্ত নম্বর ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’-এ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নযোগ্য ও যুক্তিসংগত নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত নং ৪-এর ‘ক’ তে ৩০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক রেটের পরিবর্তে কার্ডিং রেট নির্ধারণ; ‘খ’ তে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সুতা আমদানির সুযোগ প্রদান করার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই সভায় আমরা সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয় মিল এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয় আলোচনায় উত্থাপন করিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সভায় পোশাকশিল্পের পক্ষ থেকে সুতার ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে সভার আলোচনার বাইরে থাকা বিষয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বন্ড ব্যবস্থা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেখানে শিল্পের প্রসারের জন্য বন্ড সুবিধা ও বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে উল্টো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

স্থানীয়ভাবে ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি আদেশ কম থাকায় বাজারে সুতার চাহিদাও কম। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করতে পারছে না।

এ অবস্থায় স্থানীয় মিল থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা করা হলে পোশাক কারখানাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সুতা সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।

তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত ৪-এর ‘ক’ ও ‘খ’ বাস্তবায়ন হলে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে।

এ কারণে সভার আলোচনার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত দুটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।




রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন এবং ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (ভিএএমএল) স্বেচ্ছাপ্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির ইউনিটধারীদের বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে ফান্ডটির ট্রাস্টি।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের ভিআইপি রোডে রাওয়া কনভেনশন হলের (ঈগল হল) এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ফান্ডটির ইউনিটধারীদের রূপান্তর প্রস্তাবের বিষয়ে অনুমোদন নেওয়া হবে।

এ জন্য ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। একই দিন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন স্থগিত থাকবে। ফান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেকর্ড ডেট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ইউনিটের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

বিএসইসির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ভিএএমএলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটি এ বিষয়ে ইউনিটধারীদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকেছে। রূপান্তরের কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬।

মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে এবং এর ইউনিট সাধারণত স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়। ফলে বাজারদর অনেক সময় ফান্ডটির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি থেকে কম-বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, বে-মেয়াদি ফান্ডে নির্দিষ্ট মেয়াদের বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং নির্ধারিত নিয়মে বিনিয়োগকারীরা ফান্ডে ইউনিট কিনতে বা ফান্ডের কাছে ইউনিট বিক্রি করতে পারেন।

ফলে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের পর বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউনিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি লেনদেনের পরিবর্তে ফান্ডের নির্ধারিত মূল্য বা এনএভির ভিত্তিতে ইউনিট ইস্যু ও পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। এতে ফান্ডের বাজারদর ও প্রকৃত সম্পদমূল্যের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কমে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে রূপান্তরের পর ইউনিটধারীদের জন্য কীভাবে ইউনিট পুনঃক্রয়, নতুন ইউনিট ইস্যু এবং মূল্য নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা ও কার্যকর পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নথিতে নির্ধারিত হবে। তাই বিনিয়োগকারীদের এসজিএমের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বাপা ফুডপ্রো এক্সপো

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬’।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর’স অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোবহানবাগে বাপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নেবে। তিন দিনে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রদর্শনীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশায়। প্রদর্শনীতে চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হবে।

১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনের আয়োজনে আঞ্চলিক সম্মেলন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে শতাধিক বিশেষজ্ঞ বক্তা ও শিল্পনেতা অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, দেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রদর্শনী উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, অংশীদার ও শিল্পবিষয়ক ধারণার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। এতে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণ তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সেশন স্টেজ, এফপি গুরমে, ড্রিংকস্ফিয়ার, গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ভিলেজ।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

 




সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্য চাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

 

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত

কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে :

১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।

৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।

৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।

৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।

৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শ ৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪শ ১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রপিরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।