ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।




আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।

ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।

তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।

ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত।

তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।

২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়।

আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।

আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।

তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।




নেপালে দুর্ঘটনাকবলিতদের পাশে বাংলাদেশ, সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী-রাষ্ট্রদূত বৈঠক

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘানশ্যাম ভান্ডারী (H.E. Mr. Ghanshyam Bhandari)।

আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রধান প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে মন্ত্রী নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপাল ভৌগোলিকভাবে ভিন্ন পরিবেশের হলেও দুই দেশের প্রতিবেশব্যবস্থা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। হিমালয়ের বরফ গলা, নদী অববাহিকার ভারসাম্যহীনতা ও জলবায়ুজনিত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।” আসন্ন কপ-৩১ (COP-31) সম্মেলনকে সামনে রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা, যৌথ অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

সাক্ষাৎকালে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘানশ্যাম ভান্ডারী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। সংকটকালে নেপালের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পরিবেশগত আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই মনে করেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সবুজ অংশীদারত্ব দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।




রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য : শামা ওবা‌য়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ব‌লে‌ছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা, মানবিক সহায়তা জোরদার করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও সমধানের কৌশল নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়, প্রকৃত প্রত্যাবাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই একটি অন্তহীন প্রশাসনিক কাজ হতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে আমাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে, পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে আসা মানুষ এবং ক্যাম্পে জন্মগ্রহণকারীদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক দিকটির বিষয়েও আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাসের কারণে এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আমরা আমাদের দাতা ও অংশীদারদের এই বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষার্থে তাদের প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

তি‌নি ব‌লেন, আমাদের জন্য আরেকটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের সহায়তার মানবিক চরিত্র বজায় রাখার পাশাপাশি এটিও নিশ্চিত করতে হবে যেন ক্যাম্পে প্রদত্ত সহায়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও বাস্তুচ্যুতির কারণ না হয় এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন পরিস্থিতিকে জটিল করে না তোলে।

প্রতিমন্ত্রী আরও ব‌লেন, যে–কোনো টেকসই প্রত্যাবাসন রাখাইন রাজ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে। সেখানে আমাদের উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন, নিরাপত্তা প্রয়োজন, পরিচয় ও অধিকারের প্রতি সম্মান প্রয়োজন। সেখানে রোহিঙ্গাদের আইনগত স্বীকৃতি প্রয়োজন। সেখানে চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ প্রয়োজন।

তি‌নি ব‌লেন, আমাদের এই আস্থা অর্জন করা প্রয়োজন যে, ফিরে যাওয়ার ফলে নতুন করে আর বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটবে না। এ লক্ষ্যে আমাদের সংলাপ প্রয়োজন। আর এখানেই আমরা আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা চাই।

শামা ওবায়েদ জানান, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা বিষয়ক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দৃঢ় কূটনীতি, শক্তিশালী জাতীয় সমন্বয় এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে আমরা আবারও প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবো।




কর দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ভীতি আছে, এটা দূর করবে এনবিআর : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কর দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে একটি ভীতি আছে। করদাতাদের অডিট ভীতি ও হয়রানি রোধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শাখাকে আলাদা করা হচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নানা কারণে দেশে করের আওতায় আসার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে একটি ভীতি আছে। এজন্য মানুষ করের আওতায় আসতে চায় না। শুধু অডিটের বিষয় নয়, করদাতাদের ভয়ভীতির পেছনে আরও অনেকগুলো বাধা রয়েছে।’

কর ব্যবস্থাকে সহজ করতে এনবিআরের কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুরো কর ব্যবস্থাকে বাইফারকেশনে (বিভাজন) নিয়ে যাচ্ছি। এনবিআরে যারা কর নীতি প্রণয়ন করবেন এবং যারা বাস্তবায়ন করবেন, তাদের আলাদা করা হচ্ছে। আগে এই জায়গায় বড় দুর্নীতির সুযোগ এবং প্রভাব খাটানোর অবকাশ ছিল। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আলাদা হলে দুর্নীতির সেই সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।’

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক করদাতা যেন সহজে কর দিতে এগিয়ে আসেন। বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। বিগত দিনে এ বিষয়ে অব্যাহত চেষ্টা না থাকায় আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। আমরা কর ব্যবস্থা যত সহজ করবো, তত বেশি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে। সেদিকে আমরা মনোযোগী হয়েছি।’




৩ ক্যাটাগরিতে ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬ পেল ওয়ালটন

শিল্পখাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই পণ্য উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩টি ক্যাটাগরিতে ‘ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ অর্জন করেছে দেশের সুপারব্র্যান্ড ও টেক জায়ান্ট ওয়ালটন।

জাতিসংঘ গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক (জিসিএনবি) এবং ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইএসজি অ্যাওয়ার্ডসে ‘এক্সিলেন্স ইন অক্যুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ইম্প্রুভমেন্ট’, ‘এক্সিলেন্স ইন চ্যাম্পিয়নিং ক্লাইমেট এ্যাকশন’ এবং ‘এক্সিলেন্স ইন সাসটেইনেবল প্রোডাক্ট ইনোভেশন’ ক্যাটাগরিতে ওয়ালটনকে পুরস্কৃত করা হয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজকে ‘ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ এর সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কাছ থেকে ইএসজি অ্যাওয়ার্ডসের সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইউসুফ আলী।

সেসময় ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডেনমার্ক, সুইডেনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জিসিএনবি এবং ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ব্লু ইকোনমিতে সহযোগিতা বাড়াবে ঢাকা-মালে

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালদ্বীপের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। অভিযোজন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, ব্লু ইকোনমি ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মালেতে ইউনিসেফ মালদ্বীপ আয়োজিত ‘ইয়ুথ ট্র্যাক টু কপ-৩১’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকালে এ কথা বলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয়ই জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত অবক্ষয়সহ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবনী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে মালদ্বীপ সরকারসহ জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।




অবৈধ সম্পদ : সাবেক ডিআইজি আতিকার স্বামীর সম্পদের হিসাব চায় দুদক

সাবেক ডিআইজি আতিকা ইসলামের স্বামী ও লাক্সিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ডা. ফারদিন ইসলামের নামে প্রায় ২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সন্দেহজনক সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত ডা. ফারদিন ইসলাম সাগর মোট ১ কোটি ১৬ লাখ ১৯৮ টাকা আয় করেন। এই সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ৫২ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৯ টাকা। সে হিসাবে ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট সঞ্চয় থাকার কথা ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকা। অনুসন্ধানকালে তার নামে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকার অস্থার সম্পদের তথ্য উদঘাটন করে দুদক। হিসাব অনুযায়ী দুই কোটি টাকার বেশি বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে দুদক মনে করে।

দুদক মনে করছে ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরেরর নামে ও বেনামে আরও বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থার সম্পদের তথ্য গোপন করতে পারে। এসব বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।




খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩৩৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে রেকর্ড ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা। এর মধ্যে কেবল খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০৯ জন রোগী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১৬৪ জন (সরকারি হাসপাতালে ১১৭ ও বেসরকারিতে ৪৭) এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হন।

অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩৭ জন, বাগেরহাটে ১৯ জন, ঝিনাইদহে ১৬ জন, মাগুরায় ১৪ জন, সাতক্ষীরায় ১৫ জন (জেলা হাসপাতালে ৯ ও মেডিকেলে ৬), কুষ্টিয়ায় ৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৩ জনে। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৮৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, খুলনা জেলা হাসপাতালে ২ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন মারা গেছেন।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন। তিনি বলেন, তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।

সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠে এর প্রতিফলন থাকতে হবে।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়র ও বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




শপথ নিলেন পিএসসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এসময় আপিল বিভাগের বিচারপতি, পিএসসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তা র ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।

সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। এরপর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়। গত ১৮ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।




রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঠাকুরগাঁও শহরই জন্ম, বেড়ে ওঠা, বিএনপির তৃণমূল কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় মহাসচিব, পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সব ইতিহাস। এই শহরই তাকে শেকড় থেকে শিখরে তুলেছে। জীবন, রাজনীতি ও পৃথিবী সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান অর্জনের সাক্ষী এই শহর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সেই ঠাকুরগাঁও শহরে প্রথম সফরে এলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মাদ আলী স্টেডিয়াম রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারে হেলিপ্যাডে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দুপুর ১টার দিকে পৌঁছান। এরপর ঠাকুরগাঁও জেলা সার্কিট হাউজে উপস্থিতি এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করে সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

পথে রাষ্ট্রপতি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে হাত তুলে সংবর্ধনার জবাব দেন।

বিকেলে ঐতিহাসিক বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতির বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা। সেখানে জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। তাকে বরণ করে নিতে শহরজুড়ে চলছে সাজসজ্জা ও নানা প্রস্তুতি। নাগরিক সংবর্ধনাসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি।

তাকে বরণ করে নিতে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন প্রবেশপথ সাজানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায়।

একসময় যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের আপনজন ছিলেন, সেই ঘরের ছেলেকেই এখন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে গর্বিত জেলার মানুষ।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো রুটে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য।

সোমবার রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।




রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির নেতৃস্থানীয় দেশসমূহ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই– আশ্রিত প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর -এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’

সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, জমি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের মৌলিক নিরাপত্তা প্রদান করে আসছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় নাগরিক উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার একটি সর্বাত্মক ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দিতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দ্রুত একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে—যার মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও ফিরে যাওয়ার উপযোগী উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সক্ষম হবে।

আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি-র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।