কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

​কুড়িগ্রামে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন (মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার—এই চার টি ইভেন্টে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
​প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া চর্চার কোনো বিকল্প নেই। গ্রীষ্মকালীন এই জাতীয় প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।” তিনি প্রতিযোগিতাটি সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
​অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেনের পরিচালনায় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।
​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখত।
​এ সময় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় খেলার ভেন্যু নির্বাচন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




দখলচেষ্টা ও কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ: জমির মালিককে ফাঁসানোর দাবি

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী শেখের চর (বাবুরহাট) কাপড়ের বাজারে প্রতারণামূলক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলকে কেন্দ্র করে জমি দখলচেষ্টা ও প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো জমির মালিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
​আজ সকালে নরসিংদীর ভগীরথপুরস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার মেয়ে সাদিকা আক্তার সাথী।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, বিতর্কিত ওই ভূমির ওপর দেওয়ানী আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করে বিবাদী শহীদুল্লাহ বাহার ও তার সহযোগীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বুরহানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায্যভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। দখলের একপর্যায়ে ভাড়াটিয়াদের একাধিক দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল ও কাপড় লুট করে নিয়ে যায় দখলকারীরা।
​সাদিকা আক্তার সাথী অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার পর আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো বিবাদীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার নিরীহ বাবা (জমির মালিক)-এর বিরুদ্ধেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সায়মা আক্তার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান-ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোড় দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।




জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC 3.0) প্রণয়ন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারেও সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তবতা। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশেও ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা বেড়েছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু অঞ্চলেই নয়, পাহাড়ি এলাকাতেও বন্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অগ্রিম সতর্কতা জারি করলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাঁদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ঋণ দেবে ৩৮ ব্যাংক

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার(২ সে‌প্টেমবার) বাংলা‌দেশ ব্যাংক এ তথ্য জান‌য়ি।

গত ৬ জুলাই জারি করা সার্কুলারের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমাদ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি—পুরো মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করাই এ তহবিলের লক্ষ্য।

তহবিলের আওতায় একজন গ্রাহক কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ থাকবে। রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয় অথবা কৃষকেরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। নতুন তহবিলের অর্থায়নের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এই তহবিলের অর্থে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার বা সাইলো, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অর্থায়ন করা যাবে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী কার্যক্রমেও ঋণ দেওয়া হবে।

তহবিলটির মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এর কার্যক্রম রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়বে, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে।




ভবিষ্যতে বাংলাদেশই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বিশাল বিপুল জনসংখ্যাকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশই বিশ্ব দরবারে নেতৃত্বের আসনে আসীন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, আমাদের মূল শক্তি ও প্রধানতম সম্পদ হলো এদেশের অদম্য মেধাবী তরুণ সমাজ। তাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ ও মেধাবীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন ও গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক।

বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এসব মূল্যবান কথা তুলে ধরেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থী ও স্কাউটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কাউটিং মূলত নিঃস্বার্থ জনসেবার মানসিকতা ও সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের মাধ্যমে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতে শেখায়। তিনি আরও বলেন, স্কাউটিং এর মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষের সেবা করতে হয়, নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হয় এবং দেশকে ভালোবাসতে হয় তা গভীরভাবে অনুধাবন করা যায়। বর্তমান স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে যুক্ত তরুণেরাই আগামী দিনে দেশের চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্বের মূল আসনে বসবে ।

শিক্ষার পরিবেশ ও নতুন নীতিমালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার একটি সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত এবং উন্নত নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন সুশিক্ষিত জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি প্রাথমিকে মিডডে মিল চালু, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান এবং পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ বাজেট ও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটিং আন্দোলনের বিস্তারে বিশেষ স্কিম গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা ও অদম্য মেধার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও অতিথিদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও জানান, আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ সচিববৃন্দ। উপস্থিত সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও অতিথিরা তরুণ মেধাবীদের অভিনন্দন জানিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।




ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করতে ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে। প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এ তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল সরবরাহ করবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।

টিসিবির কার্ডধারী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এ তেল কেনা হচ্ছে। ক্রয়ের অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাল্টা নিশ্চয়তা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ৮৪ লাখ ১ হাজার ৮০২ লিটার ভোজ্যতেল কেনা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই বৈঠকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে এ ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মসুর ডাল কেনার জন্য চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের কাছ থেকে পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে টিসিবির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল সরবরাহের কার্যক্রমে নতুন করে মজুত যুক্ত হবে।




রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাকশিল্পের সমস্যা তুলে ধরলো বিজিএমইএ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এসময় প্রতিনিধিদল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে তা সমাধানে তার সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে রাষ্ট্রপতি তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যপারে আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক শিল্পে যে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম চলে আসছে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আগামী ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় ২৫তম বাটেক্সপো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশাাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।




হাটহাজারীতে সিএনজি-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ও নোহা মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে পাঁচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নাজিরহাট সড়কে চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে চলাচলের সময় মাইক্রোবাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিতে থাকা পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৌসিফ আহমেদ রাফি ও এরফানুল আনোয়ার ফাহিমের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তারা সবাই এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই পরীক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে এ খাতে অধিকতর মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং এ খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি নানা খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব আরোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।

এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আগস্টে এলো ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।