বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা পায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং এদেশের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত।

২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রহসনের শামিল, যার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে এই সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বৈঠকে আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংদেশেলার ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




চলতি বছরেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য : ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামার চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

 

চলতি বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের দাবির স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ডিএসইর ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ওএমএস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত রয়েছেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও ডিরেগুলেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের পুঁজিবাজার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ওভার-রেগুলেটেড’। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক নিয়মে ও নিজস্ব গতিতে বিকশিত হতে পারে না।

বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি হলো স্ক্রিপ নেটিং চালু করা। সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিশেষ করে এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ডিএসই এরইমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে স্ক্রিপ নেটিং চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত (অপারেশনাল) চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান মোমিনুল ইসলাম। এসব সমস্যা সমাধানে ট্রেকহোল্ডারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই স্ক্রিপ নেটিং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি একজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। অনেক ক্ষেত্রে একটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীর প্রথম ধারণা তৈরি হয় ওয়েবসাইট থেকেই।

চলতি কোয়ার্টারের মধ্যেই ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন ওয়েবসাইটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

বাজারে বড় অঙ্কের ‘বাই অর্ডার’ দিলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হয়-এমন একটি ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে মোমিনুল ইসলাম বলেন, কোয়েরি করা মানেই কোনো বিনিয়োগকারী ভুল করেছেন, এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য যেকোনো বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হতে পারে।

তবে কোয়েরির বর্তমান প্রক্রিয়া কখনো কখনো বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ নিয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা-দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন নতুন পণ্য চালু, বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মোমিনুল ইসলাম।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে সিডিবিএলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বোর্ড পুনর্গঠনসহ পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজারের ছোটখাটো ওঠানামা নিয়েই আরও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হবে।




জ্বালানি সংকটে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয় নামার শঙ্কা

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর বিরূপ প্রভাব শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট এখন আর মানুষের বিলাসিতা নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো এটি। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ডেটা সেন্টার, আইআইজি, আইএসপি, মোবাইল টাওয়ার ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

তিনি বলেন, একটি মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট অবকাঠামো বিদ্যুৎ ছাড়া দীর্ঘ সময় সচল রাখা কঠিন। অনেক স্থানে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি ও জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এসব ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত। জেনারেটর চালাতে ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একসঙ্গে চললে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে।

সংগঠনটির সভাপতি আরও বলেন, এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু বাসাবাড়ির রাউটার বন্ধ হয় না, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, অপটিক্যাল ফাইবারের সক্রিয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল টাওয়ার, ব্যাকহল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে গ্রাহক সংযোগ পেলেও কাঙ্ক্ষিত গতি ও স্থিতিশীলতা পাচ্ছেন না।

ইন্টারনেটের ধীরগতির জন্য শুধু মোবাইল অপারেটর বা আইএসপির ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ইন্টারনেট সেবার মান সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ইন্টারনেট অবকাঠামোকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন থেকে শুরু করে সরকারি ডিজিটাল সেবা-সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হলে এর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে ‘ডিজিটাল সংকট’ও যুক্ত হতে পারে। তখন মোবাইল ফোনে কল করা, মোবাইল ডেটা ব্যবহার কিংবা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো সাধারণ সেবাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি, জনজীবন ও ডিজিটাল নিরাপত্তায়।

 

যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিসমূহ হলো,

১। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২। মোবাইল টাওয়ার, আইআইজি, আইএসপি, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ব্যাকআপ পাওয়ার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা।

বিজ্ঞাপন

৩। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেলিযোগাযোগ খাতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

৪। জেনারেটর ও ডিজেলনির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।

৫। বিটিআরসি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের সমন্বয়ে ‘টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট জরুরি অবকাঠামো সুরক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা।

৬। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কোন কোন এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের আগাম তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

৭। জ্বালানি সংকটের কারণে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটলে গ্রাহকের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনায় নেওয়া।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চাই না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশকে আবার ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হোক। বর্তমানে ইন্টারনেট একটি মৌলিক নাগরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পের সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত পুরো ডিজিটাল অর্থনীতির ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর পরবর্তী ভুক্তভোগী হতে পারে দেশের ইন্টারনেট সেবা এবং এর সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি গ্রাহক।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।