এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব করতে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাহিনীটিকে আরও জনবান্ধব করতে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৮তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর অধীনে গঠিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে অধিক জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিদ্যমান অধ্যাদেশ যুগোপযোগী করে বাংলায় ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- বিদ্যমান অধ্যাদেশকে রহিত করে এ অধ্যাদেশের অধীনে কৃত কার্যক্রমের হেফাজতের বিধান রেখে বাংলায় আইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে পুলিশ বাহিনীর অধীন এ ব্যাটালিয়ন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এ ব্যাটালিয়নকে জননিরাপত্তা রক্ষা, ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, সরকার ঘোষিত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা, সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ এবং মানবতা বিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন প্রতিপালন-সাপেক্ষে ইউনিটের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ আইনে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন ও বিচার পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে।​

​মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রম, আদালত পরিচালনার বিষয়াদি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান।

প্রধান বিচারপতি এ সময় রাষ্ট্রপতির কাছে অতিরিক্ত মামলা জট, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও কাঠামোগত সংকটসহ বিচারাঙ্গনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি মামলা দায়ের হচ্ছে। ফলে মামলার জট নিরসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

রাষ্ট্রপতি এ সময় মামলার জট নিরসনে সালিশি নিষ্পত্তি ও গ্রাম আদালত ব্যবস্থার আরও প্রসার এবং কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।




আগের চেয়ে ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রত্যাশা সিইসির

চ্যালেঞ্জ থাকলেও আগের নির্বাচনের চেয়ে আরও ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ’স লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনস’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নির্বাচন কমিশনারগণ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের আগের নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। বরং সম্ভব হলে আরও উন্নত করা হবে। এখন আশা করছি সবার কো-অপারেশন নিয়ে আমরা ভালো নির্বাচন করতে পারব, কোনো অসুবিধা হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সেই দিনক্ষণ এখনই বলা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার জন্য আমরা কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেছি। এজন্য এটা একটু সময় লাগবে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ শেষ করে তা মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন আয়োজন শুধু নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতিও প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন প্রকৃতির এবং অতীতে এসব নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখানে ভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বটা একটু বেশি থাকবে। আশা করি আমরা সবাইকে নিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় দুর্গাপূজা, বর্ষা ও বন্যার সম্ভাবনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগের মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। এসব বিষয় সমন্বয় করে উপযুক্ত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে। তবে নির্বাচন অযথা বিলম্বিত হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যে এটা হয়ে যাবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।




চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনে বিক্রির উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগস্ট মাসে নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, নিলামের স্থায়ী আদেশ নম্বর-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নম্বর-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ মোট ১০১টি লট রয়েছে। এসব লটে কনটেইনারের সংখ্যা ২৯০টি।

 

এনবিআর জানায়, এতে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে। এছাড়া ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যচালানের নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য রাখা হচ্ছে না।

এদিকে, এনবিআরের একই স্থায়ী আদেশের আওতায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এ ১০৯টি লটে আরও ১৫২ কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট, এলিভেটর ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য।

এনবিআর জানায়, নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ই-অকশন পরিচালনা করা হবে।

নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করতে ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডাররা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। এরপর অনলাইনে বিড করার সুযোগ থাকবে।

আগ্রহী ক্রেতাগণ ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে (https://auction.bdcustoms.gov.bd) নিবন্ধন করে ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন।

এনবিআর জানায়, অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যগুলো খালাস নিতে হবে।

নিলাম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে। এছাড়া বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায়। নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিডারদের এনবিআরের ই-অকশন পোর্টাল পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।




সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে জিবিবি পাওয়ার

কুমিল্লা সেনানিবাসে ৫ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সোলারন পাওয়ার লিমিটেড। এ জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের স্টেশন হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে ২৫ বছরের পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ (সোমবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি কোম্পানিটি।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ৫ দশমিক ০০৫ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ওপেক্স/বুট (বিল্ড, ওন, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তারিখ (সিওডি) থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটির বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে জিবিবি পাওয়ার।

এদিকে ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রকল্পটির জন্য বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে জিবিবি পাওয়ার। কোম্পানির তথ্যমতে, প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ কোটি টাকার বেশি হবে না।

সোলারন পাওয়ার লিমিটেড জিবিবি পাওয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এতে জিবিবি পাওয়ারের মালিকানা ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক সৌরবিদ্যুৎ খাতে অভিজ্ঞ কৌশলগত অংশীদারেরা।

কুমিল্লা সেনানিবাসে কেন্দ্রটি চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জিবিবি পাওয়ারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসা সম্প্রসারণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।




গ্যাস সংকট, অতিরিক্ত জমা ও পুলিশের হয়রানি কমানোর দাবিতে চট্টগ্রামে সিএনজি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি মালিকদের অতিরিক্ত দৈনিক জমা কমানো এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পু শ্রমিকরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন (সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পু শাখা) চট্টগ্রামের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির সভাপতি বশির আহমেদের উপস্থিতিতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ জন শ্রমিক অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে চকবাজার থানা এলাকার বাদুরতলা সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিএনজি মালিকদের দৈনিক জমা ৯০০ টাকার বেশি না নেওয়া, ট্রাফিক পুলিশের মামলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ জরিমানা বন্ধ করা, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নো-পার্কিং-প্রতিবন্ধকতা মামলা ও অপ্রয়োজনে গাড়ি টোয়িং করা বন্ধ করা, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক দেওয়া মামলার বিচার আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করে ফিল্ড টেস্টের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান এবং ডোপ টেস্টের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি প্রতি গ্যাস নিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় অপচয় হয়। এর ফলে চালকদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে কমে গেলেও মালিকদের নির্ধারিত জমা পরিশোধের চাপ ঠিকই থেকে যাচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা বলেন, মালিকদের নির্ধারিত জমা পরিশোধ করার পর দিনশেষে অনেক চালক ও শ্রমিক পর্যাপ্ত আয় ছাড়াই শূন্যহাতে বাড়ি ফিরছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সিএনজি মালিকদের দৈনিক জমা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনতিবিলম্বে ৯০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জোর দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এটি তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। অবিলম্বে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বহদ্দারহাট ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।




রাজনৈতিক কিছু টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে : ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক কিছু টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু ইস্যু থাকবে। তবে দুদেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু উন্নয়ন চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। সেজন্য উভয়ের উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। এটি আমাদের সবারই দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। সেটি ঠিক থাকলে অন্য সম্পর্কগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুদেশের একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রোডাকশনও দরকার। এখানকার গার্মেন্টস তো সবচেয়ে ভালো। আমরা জিপার সাপ্লাই করতে পারি, মেশিনারি সাপ্লাই করি, বোতাম সাপ্লাই করতে পারি, তাহলে কী—একটা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি হবে।

তিনি বলেন, আমি যখন আমেরিকা বা ইউরোপের মার্কেটে যাই, একটা শার্ট বা টি-শার্ট কিনি, আর লেবেল দেখি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, খুব ভালো লাগে। খুবই ভালো লাগে যে আমাদের একটি নেইবার, সব গার্মেন্টস ওখানটায় আছে। এটি জয়েন্ট ভেঞ্চারেও আমরা এগিয়ে নিতে পারি। মূলত, আমরা একসঙ্গে থাকলে অনেক এগিয়ে যেতে পারবো।

এর আগে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি বন্ধ থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়াসহ স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। বৈঠকে কিছু বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও ভালো করা যায় সে বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।




নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

এর আগে গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করেছিল।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায় এবং ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি নম্বরভুক্ত হয়।

আসামিরাও নিজেদের দণ্ডের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার হাইকোর্টে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।