অনুমোদিত নকশার বাইরে আর ভবন নির্মাণের সুযোগ আর থাকছে না : গৃহায়নমন্ত্রী

দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন গত ১৭ বছরে হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, এখন থেকে এসব আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করা হবে। আইনের ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ ও আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ আর থাকছে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভবনের অনুমোদিত নকশায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেক ডেভেলপার কোম্পানি তা নির্মাণ করেনি। আগামীতে যেন কেউ অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে, আইন ভঙ্গ করে যেন কোনো ভবন বা আবাসন গড়ে না ওঠে।’

জাকারিয়া তাহের বলেন, রাজউক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে ডেভেলপারদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা পরিশোধ করেও তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার অনেকে কোনো কারণে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি চালিয়ে যেতে না পারায় তাদের জমা টাকা তিন-চার বছর ধরে ফেরত পাচ্ছেন না। তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

সভায় রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ এবং আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় তারা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




‘গ্যাস সংকটের কারণে’ বন্ধ হলো ফুয়াং ফুডের কারখানা

গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফুয়াং ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের কারখানা ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এ তথ্য জানিয়েছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানায় লে-অফ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বন্ধ হলো কত কারখানা, চাকরি গেল কতজনের? বন্ধ হলো কত কারখানা, চাকরি গেল কতজনের?
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট থেকে আগামী ছয় মাসের জন্য ফুয়াং ফুডের কারখানায় লে-অফ কার্যকর থাকবে।

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই এবার একটি তালিকাভুক্ত খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল।




বিমান ও পর্যটন খাতে গতি আনতে চান নতুন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত

নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান। এরপর মন্ত্রণালয় এবং অধস্তন দফতরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতিবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা তিনি আমাকে মন্ত্রী হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নতুন নেতৃত্বে আমরা টিম তৈরির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কাজের সুবিধার্থে আমি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একদিন সিভিল এভিয়েশন বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অফিস করতে চাই। মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংস্থার সমন্বয়হীনতা দূর করা হবে আমার প্রথম কাজ।

উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার রয়েছে, তেমনি খারাপ কাজের জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করতে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাপানিজ কোম্পানির সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে চুক্তি করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া আগামী বছরে ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিমানের বহরে শিগগিরই ১০টি লিজ করা বিমান যুক্ত করতে পারবো বলে আশা রাখছি।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পাবনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেজস্ক্রিয় সামগ্রী পরিবহণের সুবিধার্থে শিগগিরই ফ্লাইট চালুর কথা ভাবছি আমরা। যশোর বিমানবন্দরে কমার্শিয়াল ফ্লাইট কমে যাওয়ায় ইউএস বাংলার সঙ্গে ফ্লাইট চালুর জন্য কথা বলেছি। বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণ এর জন্য ফিসিবিলিটি স্ট্যাডি চলছে। আগামী অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চালুর ব্যাপারে আশা রাখছি আমরা।

বক্তব্য শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।




হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২২৮

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ৯৭ জনের শরীরে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১৩১ জন।

রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৩ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১৩১ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ৪০৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ৯৭ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫ জন।




যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মঈন খান

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের এই মন্ত্রণালয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।

তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই তার অগ্রাধিকার।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।

ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।




বিশ্বব্যাংকের ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ আবদুর রহমান খান

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন সদ্য সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে আরও জানা যায়, মো. আবদুর রহমান খানকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কন্সটিটুয়েন্সির জন্য ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে ভোগকৃত অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগের মেয়াদ তিন বছর কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশের অন্যান্য শর্তাবলি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

মো. আবদুর রহমান খান ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের জুন মাসে তাঁর সরকারি চাকরির নিয়মিত মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনি এই পদ থেকে অবসরে যান।

শিক্ষা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।পরবর্তীতে তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে পেশাগত ডিগ্রি অর্জন করে এফসিএমএ সনদ লাভ করেন। আবদুর রহমান খান বিসিএস (কর) ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।




‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে’

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও সম্মানজনক সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথ সুগম হবে। সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাবো। আমি প্রত্যাশা করি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক এবং তারা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাক।

রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট : বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছি। এটি মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী ও মিয়ানমারের মানুষ। তাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বিভিন্নভাবে বলার ও বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই জায়গা থেকে অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যাড্রেস করেছেন, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে অ্যাড্রেস করেনি বা করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আমেরিকাকে এটা (রোহিঙ্গা ইস্যু) বোঝাতে হবে, চীনকে বোঝাতে হবে, ভারতকে বোঝাতে হবে। আমরা মনে করি, অবশ্যই তাদের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয় রযেছে। তবে সবার আগে যাদের বোঝাতে হবে, তারা হলো বাংলাদেশের জনগণ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে দল-মত নির্বিশেষে, সব মতভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে—এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে। যখন ভূখণ্ডের কোনো বিষয় নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, তখন ধরে নিতে হবে, সেই আন্তর্জাতিক মোকাবিলা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। দেশের মানুষের ভালো ও কল্যাণের জন্য।

আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষেরই দেশের প্রতি একটি কর্তব্যবোধ রয়েছে। আমাদের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদেও বিষয়টি উল্লেখ করা রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা কীভাবে এসব বিষয় মোকাবিলা করব, সেটিও আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার কীভাবে বিষয়গুলো মোকাবিলা করবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামরত থাকলে তাদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হবে—সেটিও আমাদের সংবিধানে বিধৃত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। অনেকে বলতে পারেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে। আসলে তা নয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয় নয়। এটি মানবাধিকারের বিষয়। হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিষয়টিকে দেখি। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুসারেও এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেখান থেকেই আমরা বলছি, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসতে পারলে সেটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন— কীভাবে বিষয়টিকে অ্যাড্রেস করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার জন্য।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। সেই অখণ্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে হয়তো আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা ডিপ্লোমেটিক, সোশ্যাল কনটেক্সটকেও কখনো বাইপাস করছি না। একই সঙ্গে আমরা মানবাধিকারের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কোনোভাবেই না আসে।

একই সময়ে সেখানে ক্রমবর্ধমান খুন-জখমের প্রবণতা ও অপরাধের প্রবণতাকেও আমাদের অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই উদ্যোগের পেছনে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপ কিংবা ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। যাতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়।

আয়োজকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে যে বিষয়গুলো ভাবছেন, সেই ভাবনাটিই যে একমাত্র সঠিক—এমনটি না ভেবে আপনাদের ভাবনাগুলো আমাদের দিন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে কমিটি রয়েছে, সেখানে সেগুলো উপস্থাপন করুন। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কমিটি বিবেচনা করবেন।

‘আমি নিজেও বলব, আপনাদের সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপ হিসেবে যে সুপারিশগুলো আসছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে স্থায়ী সমাধানের পথে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে’—যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নই। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। বিষয়টি হলো— আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা মানুষ। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বলতে চাই, সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ও জায়গা থেকেই আমরা বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করার পক্ষে।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম হক, নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




পচা মিষ্টি ও তেলাপোকা: চট্টগ্রামে চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

পচা-বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, পোড়া তেল, তেলাপোকার উপস্থিতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

শনিবার (২২ আগস্ট) নগরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।

জানা গেছে, ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে পচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট, নিম্নমানের ঘি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কক্ষ ও ফ্রিজার তালাবদ্ধ রেখে পরিদর্শনে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে তেলাপোকার উপস্থিতি, পোকামাকড়যুক্ত ম্যাংগো পাল্প, পোড়া তেল ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস, নিমকি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

উৎসব সুপার শপে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মসলা ও চকোলেট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ এবং যথাযথ লেবেলিং ছাড়া খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিও ক্যাফে-মাজায়দারে পচা-বাসি খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, ভোক্তার নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।