জীবন বিমা কোম্পানির সিইওদের যোগ্যতা ও নিয়োগের তথ্য চায় আইডিআরএ

দেশের সব জীবন বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগের বৈধতা যাচাই করতে নথিপত্র তলব করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এ জন্য সিইওদের হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র এবং সিইও হিসেবে নিয়োগ অনুমোদনের প্রমাণক জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আইডিআরএর পরিচালক (লাইফ) ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে দেশের সব লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব লাইফ বিমাকারীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়োগ অনুমোদনের সব প্রমাণক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।

নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট গুগল ফরমের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সিইওদের তথ্যের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ।

বিমা খাত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিইওদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগ অনুমোদনের তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।




আমিনবাজারে মহাসড়কের দুই পাশের ময়লা সরিয়ে লাগানো হচ্ছে গাছ

দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশ। প্রায় দুই দশক ধরে যাত্রী ও স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এ অংশে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

কাজ শেষ হলে শিগগির প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নতুন করে সজ্জিত সড়কটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

 

জেলা প্রশাসন জানায়, মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যের ভাগাড় অপসারণের পর নির্দিষ্ট স্থানে বালি ও মাটি ফেলে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে নারিকেল, সুপারি, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি মাটি ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের ঘাস রোপণ করা হয়েছে।

অননুমোদিতভাবে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে আবার বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন স্থানে মজবুত নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে এখন ওই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, খুব দ্রুতই যাত্রীরা আবর্জনার ভাগাড়ের পরিবর্তে মহাসড়কের পাশে সবুজ গাছপালা ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখতে পাবেন।

ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, এ এলাকায় ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হয়েছে। নির্ধারিত ল্যান্ডফিলের বাইরে কেউ মহাসড়ক বা আশপাশে বর্জ্য ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হওয়ার পর এ এলাকায় দুটি উইন্ডমিল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রায় দেড় কিলোমিটার মহাসড়কে সড়কবাতি জ্বালানো হবে।

 

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও ময়লার ভাগাড়ের পরিচিতি পেছনে ফেলে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের এ অংশটি পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে রূপ নেবে।

 




‘কৃষকেরও পেট আছে, সংসার আছে’ : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিপণ্যের বর্তমান দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বৃষ্টির মৌসুমে কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি। কৃষকেরও তো পেট আছে, সংসার আছে, বাঁচতে তো হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমি প্রতিদিন বাজারে যাই। মহাখালী বাজার আমার পরিচিত। আমি নিয়মিত ব্যাগ নিয়ে বাজার করি। আমার গাড়িতে সবসময় একটা ব্যাগ থাকে।

তিনি বলেন, এটা বৃষ্টির সিজন। এই সিজনে সবজি উৎপাদন করা খুব সহজ কাজ না। উৎপাদন খরচটা একটু বেশি থাকে। যেমন কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে শেড তৈরি করতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের দাম কত? ৮০ টাকা, ১০০ টাকা। তাই তো? এক কেজি করলা উৎপাদন করতে কৃষকের কত টাকা খরচ হয়, সেটা একটু দেখুন। কৃষকেরও তো পেট আছে, সংসার আছে। তাকে তো বাঁচতে হবে।

তিনি বলেন, এখানে কৃষিপণ্য তো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ কারণেই আমরা কৃষক কার্ডের দিকে যাচ্ছি। উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক হিসাব এখনো আমার কাছে নেই। আমি যদি জানতে পারি, এই জেলা বা উপজেলায় নির্দিষ্ট কোনো সবজির কতটা চাহিদা রয়েছে, তাহলে সেই অনুযায়ী ওই এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পারি। আপনি এই এই ফসল উৎপাদন করুন, আপনার উপজেলাতেই এগুলোর বাজার রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচও কমবে। মিনি কোল্ড স্টোরেজের ক্ষেত্রেও আমরা একই ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, কৃষক যেখানে ফসল উৎপাদন করবেন, সেখান থেকে গ্রামে এসে কাঁধে বা মাথায় করে তা কোল্ড স্টোরেজে নিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে পরিবহন খরচ থাকবে না বললেই চলে। ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে। এই ধারণা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।




বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য জোরদারে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিয়ে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। একইসঙ্গে বেনাপোলসহ দেশের স্থলবন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও দক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিআইআইয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে কিছু সমস্যার কথা বৈঠকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং ও খালাসের কার্যক্রম আরও দক্ষ করা গেলে সীমান্তে পণ্য চলাচল দ্রুত হবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও কাঁচামাল আমদানির সময় কমবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দুই দেশের বাণিজ্যে।

তিনি বলেন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এখন দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সীমান্তে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো গেলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন।

ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামোয় দুই টাস্কফোর্স

বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে দুটি বিজনেস-টু-বিজনেস টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। এর একটি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ভারতের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও সহযোগিতা কাজে লাগানোর বিষয়ে কাজ করবে। অন্যটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। ব্যবসায়ীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে বড় ধরনের অবকাঠামো বিনিয়োগ প্রয়োজন। নতুন রেলপথ, মহাসড়ক, বন্দর, জ্বালানি ও এলএনজি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল বিনিয়োগ দরকার হবে।

ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এসব খাতে আগ্রহ দেখালে এবং সেই বিনিয়োগ বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও লাভজনক হলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর

বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। তবে দুই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বেশি বাড়ানো যাবে, উভয় দেশই তত বেশি লাভবান হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

দ্রব্যমূল্যে সন্তুষ্ট নন বাণিজ্যমন্ত্রী

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ছয় মাস পর দেশের বাজার পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সন্তুষ্ট কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের দামে তিনি সন্তুষ্ট নন।

তবে দ্রব্যমূল্য কমানোর বিষয়টি শুধু বাজার তদারকি বা অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম, ঋণের সুদহার, উৎপাদনশীলতা, পরিবহন ব্যয় এবং অবকাঠামোর সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে পণ্যের দাম সরাসরি সম্পর্কিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে উৎপাদনস্থল থেকে পণ্য যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছায়, তখন পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি বড় অংশ ভোক্তাকেই বহন করতে হয়।

তাঁর মতে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

দ্রব্যমূল্য কমাতে সময় লাগবে

দ্রব্যমূল্য কমানোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ফল প্রত্যাশা না করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তুলতে সময় লাগে। নতুন এলএনজি অবকাঠামো তৈরি, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়। আবার উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়। তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

মৌসুমি সবজির দাম কমাতে পরিকল্পিত উৎপাদন

কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির মৌসুমি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়লেও বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়। এ কারণে মৌসুমি সময়ে দাম বেড়ে যায়।

এই ব্যবধান কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় পরিকল্পিত উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমি সংকট কমানো সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি, অবকাঠামো, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একইভাবে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, দ্রুত পণ্য পরিবহন, ডিজিটাল সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে বৈঠকে উঠে আসে।




হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

গ্রাহকদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) বড় ধরনের তহবিল ঘাটতি রাখা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে হাজি আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের পরিচালনায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে (সিসিএ) ঘাটতি অন্যতম।

পরিদর্শন শেষে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১৩ জুনের তথ্য অনুযায়ী ব্রোকারেজ হাউজটির সিসিএ হিসাবে ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকার ঘাটতি ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের একাধিক তারিখেও হিসাবটিতে ঋণাত্মক ব্যালান্স বা ঘাটতি বজায় ছিল। এটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ৬(১) ও ৬(৫)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সিসিএ হিসাব থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও পরিদর্শনে উঠে এসেছে। সিটি ব্যাংকে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থেকে সরাসরি নগদ উত্তোলন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের সব লেনদেন কেবল অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলে হওয়ার বিধান থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে।

এছাড়া বিএসইসির ২০১৯ সালের একটি সার্কুলার অমান্য করে একই মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনা করা হয়েছে।

বিএসইসির শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফটওয়্যার পরিবর্তন ও সুদের হিসাবসংক্রান্ত ব্যাখ্যার পার্থক্যের কারণে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা পরে ডিএসইর দিকনির্দেশনা মেনে সিসিএ অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে নিয়মিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ উত্তোলন ও তথ্যের অনিয়মের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের পুরোনো কাঠামোর দায় এবং তথ্য হালনাগাদ প্রক্রিয়ার যুক্তি দেওয়া হয়।

কমিশন তাদের এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। বিএসইসি উল্লেখ করে, ইচ্ছাকৃতভাবে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আইন অনুযায়ী, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ বিএসইসির অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে তিন শহরে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু অনলাইন ডেস্ক

নগরীর কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে পৃথক পিংক কালারের ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এ বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও মহিলা কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা। 

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনায় নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজধানীতে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালু হলেও বিভিন্ন কারণে তা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়নি।

নতুন করে পিংক বাস চালুর মধ্য দিয়ে নগরীর নারী যাত্রীদের নিরাপদ গণপরিবহন সুবিধা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।