৫ ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিলো ডিএসই

 

এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালু করার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি আরও ৫টি ব্রোকারেজ হাউসকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এম্পেরর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, গ্লোবাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মো. ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসআইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং স্টক অ্যন্ড বন্ড লিমিটেড।

বুধবার (১২ আগস্ট) ডিএসইর বোর্ড রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দেন।

এসময় ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপক (মার্কেট ডেভেলোপমেন্ট) সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের, উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান এবং জিশান মুহাম্মদ বিন হাসানসহ ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস) ভিত্তিক বিএইসওএমএস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ২০২০ সাল থেকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৯৩টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে এপিআই সংযোগ নিয়ে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য ডিএসইতে আবেদন করেন।

আজকের ৫টি সহ মোট ৬৬টি ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্রোকার হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর তারা এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করেছে।




‘জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন’

নেত্রকোণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা, শপথবাক্য পাঠ ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নেত্রকোণার উদ্যোগে সদর উপজেলার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নেত্রকোণার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান।

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ ক্ষতি ও এর সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পরে মাদকবিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেটের পাশাপাশি স্কেল, কলম, খাতা ও জ্যামিতি বক্স বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পোশাক শিল্পে জোর

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।

মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় শিল্পখাতের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ইটিপি থেকে নির্গত পানির রঙের মান, জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (ZLD), পানি পুনর্ব্যবহার, 3R Policy (Reduce, Reuse and Recycle), পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, Mirror Testing Mechanism, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, STP স্থাপন, জেনারেটরের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ ব্যবস্থাপনা, Rainwater Harvesting ও Water Recycling উল্লেখযোগ্য।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে শিল্পখাতের পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই করতে পরিবেশগত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য অক্ষুণ্ণ রেখে শিল্পের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত অনুবর্তিতা আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্প সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে আলোচনা ও কারিগরি সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। ইটিপিতে কার্যকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং স্লাজ ব্যবস্থাপনায় ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট স্থাপনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।




ধামরাইয়ে শিশু-কিশোর ও নারী উন্নয়নে চলচ্চিত্র প্রদর্শন

শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর উন্নয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধামরাইয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

“শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম” শীর্ষক প্রকল্পের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) জিওবি খাতের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

বিভাগীয় তথ্য অফিস, ঢাকা-এর আয়োজনে ধামরাই উপজেলার শরিফবাগ এলাকায় মোরশেদা আপার বাড়িতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ সময় শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, অধিকার ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও নারীদের বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।




অবৈধ ট্রলিং বন্ধে সচেতনতামূলক সভা

বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ ট্রলিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জেলে ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের চলমান নজরদারি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।




তুরাগ দূষণে ৪ কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

তুরাগ নদীদূষণ প্রতিরোধে গাজীপুরের টঙ্গীর ভাদাম ও নিশাতনগর এলাকায় নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে চারটি কারখানার তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের উদ্যোগে এবং গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মনিটরিংকালে ইটাফিল ডাইং অ্যান্ড এক্সেসরিজ লি., অরবিট প্রসেসিং মিলস প্রা. লি., অনামিকা ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং এবং ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স লি. পরিদর্শন করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর তরল বর্জ্য পরিশোধনের পর ড্রেনের মাধ্যমে তুরাগ নদীতে নির্গমনের বিষয়টি দেখা যায়। পরে কারখানাগুলোর তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়।

অভিযানে অনামিকা ওয়াশিংয়ের ইটিপি (Effluent Treatment Plant) প্রয়োজনের তুলনায় ছোট বলে পরিলক্ষিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন বছর ধরে নতুন ইটিপি নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে জানালেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইটাফিল ডাইং কর্তৃপক্ষ তাদের প্রায় ৫০ শতাংশ পানি পুনর্ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট পানি পরিশোধনের পর নদীতে নির্গমন করে বলে জানিয়েছে।

সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। গবেষণার ফলাফল পাওয়ার পর প্রচলিত পরিবেশ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল রাখার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

মনিটরিং কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ মোজাহিদ।




মাদক-ইন্টারনেট আসক্তি ঠেকাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য

তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অধ্যাপক মামুন বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তরুণদের আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তাঁদের জন্য আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে ‘এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকসেবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাঁদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তরুণদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে।

শিশু-কিশোরদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মামুন।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তরুণেরা অংশ নেন।




মাত্র ৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক, মায়ের কোলে ফেরার অপেক্ষা

নবজাতকটির ওজন মাত্র ৮০০ গ্রাম। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের স্কানু (SCABU) ওয়ার্ডে চলছে তার নিবিড় পরিচর্যা। পাশে উদ্বিগ্ন মা, সন্তানের সুস্থতার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

অতি ক্ষুদ্র এই শিশুটিকে সুস্থ করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মহান আল্লাহ যেন নবজাতকটিকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মায়ের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেন—আমিন।




AIIB প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (AIIB)-এর একটি প্রতিনিধিদল।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।

আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে AIIB-এর সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।




প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্তের পূর্ণ অধিকার আছে

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়। নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার। কোথায় থাকবেন, উচ্চশিক্ষা নেবেন কি না, কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন কিংবা বিয়ে করবেন কি না, এসব সিদ্ধান্তে পরিবারের পক্ষ থেকে জোর করা যায় না। ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

পছন্দের যুবকের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া ২১ বছরের এক তরুণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে মায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় জীবনসঙ্গী বেছে নিলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আদালতের বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ আবেদন করা যায় না।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘাটে এবং বিচারপতি গৌতম এ আনখাদের সমন্বয়ে গঠিত বোম্বে হাইকোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হায়দরাবাদের ওই তরুণী গত ১৫ জুন টিউশন ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

এরপর মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার মা। অন্যদিকে ওই তরুণীও পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরিবারের চাপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিহির দেশাই। শুনানির সময় বিচারকেরা ওই তরুণীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

আদালতের কাছে তিনি জানান, নিজের ইচ্ছাতেই মায়ের বাড়ি ছেড়ে ওই যুবকের কাছে গিয়েছেন এবং তার সঙ্গেই থাকতে চান। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে তার চেয়ে প্রায় ১০ বছর বড় এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই চাপের কারণেই তিনি হায়দরাবাদ থেকে কোলহাপুর হয়ে মুম্বাইয়ে চলে যান।

আদালত আবেদনকারী তরুণী এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। বিচারকেরা জানান, তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কেও তিনি সচেতন বলে আদালতের মনে হয়েছে। এরপরই আদালত বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি নন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন। তার জীবনসঙ্গী কে হবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কীভাবে জীবন কাটাবেন, এসব বিষয়ে পারিবারিক চাপ বা সামাজিক রীতিনীতি দিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না।‌

ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে উল্লেখ করে আদালত বলেন, নিজের বাসস্থান বেছে নেওয়া, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং বিয়ে করবেন কি না বা কাকে বিয়ে করবেন, এসবই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, পারিবারিক আবেগকে আইনি নিয়ন্ত্রণে পরিণত করা যায় না। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক থাকলেও সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে দেন, বাবা-মা কিংবা রাষ্ট্র, কেউই কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তার স্পষ্ট ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়িতে ফিরতে বা নির্দিষ্ট কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে না। পারিবারিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা সম্প্রদায়ের রীতিনীতি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপরে স্থান পেতে পারে না।

শুনানির সময় তরুণীর মা আদালতে ব্যক্তিগত হলফনামা দিয়ে জানান, মেয়েকে বিয়ের জন্য কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হবে না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণেও তাকে বাধা দেওয়া হবে না। এরপর আদালত তরুণীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তেলেঙ্গানা পুলিশকে তার বিরুদ্ধে করা নিখোঁজের প্রতিবেদন বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

আদালত আরও বলেন, ওই তরুণীকে নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে কোনও চাপ দেওয়া যাবে না। এমনকি ফৌজদারি মামলার ভয় দেখিয়েও তাকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করা যাবে না। বোম্বে হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




সাংবাদিকদের ফোনে ‘নীরব’ পঞ্চগড়ের ডিসি ফোন-হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার চেষ্টা, মিলছে না সাড়া

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. শুকরিয়া পারভীনের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের ফোন না ধরার অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে একটি সংবাদের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মন্তব্য জানতে সরকারি নম্বরে ফোন করেন চ্যানেল ওয়ানের পঞ্চগড় প্রতিনিধি আবু নাঈম। জেলা প্রশাসক তার ফোন ধরেননি।

একই সময়ে আরটিভির পঞ্চগড় প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ এবং দৈনিক আমার বার্তার পঞ্চগড় প্রতিনিধি ইকবাল বাহারও জেলা প্রশাসকের সরকারি নম্বরে ফোন করেন। তাদের ফোনও রিসিভ করা হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীরা।

স্থানীয় অধিকাংশ সংবাদকর্মীর অভিযোগ, জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন পঞ্চগড় জেলায় যোগদানের পর থেকেই সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য, বক্তব্য বা মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানেও তার সাড়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাদের।

চ্যানেল ওয়ানের আবু নাঈম বলেন, মোছা. শুকরিয়া পারভীন পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে বহুবার তার সরকারি নম্বরে কল দিয়ে তাকে পাইনি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ করেও কোন সাড়া মেলেনি।

একই অভিযোগ করেন স্টারনিউজের আবু সালেহ রায়হান, ইনকিলাবের সম্রাট হোসাইন এবং সময় টিভির সোহাগ হায়দার। তারা বলেন, জেলা প্রশাসন জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনদুর্ভোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে সংবাদে প্রশাসনের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক বদরুদ্দোজা প্রধান বাঁধন বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, হয়তো মিটিং এ থাকার কারণে ফোন ধরতে পারেননা, তারপরও আমি তার সঙ্গে কথা বলবো।




সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের Thakral Group এর যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত, অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রম একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-‘২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অবলম্বন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে যেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান- ১. হুন্ডি পরিহার করে সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো। ২. সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। ৪. ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।

তিনি সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও Ministry of Manpower-এর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যারা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখুন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ঊক্ত অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন অসাধারণ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।




দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটক কামরুল ইসলাম দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের মধুপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে। অপরদিকে নিহত দুই শিশু হলো- মোহাদ্দিছ মিয়া (৭) ও তুলনা আক্তার (৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই শুক্রবার বিকেলে ছেলে মোহাদ্দিছ মিয়া ও মেয়ে তুলনা আক্তারকে নিয়ে বাড়ির বাইরে যান কামরুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি ও দুই সন্তান নিখোঁজ ছিলেন। গত ১০ আগস্ট সোমবার রাতে তিনি বাড়িতে একাই ফিরে আসেন। পরে গতকাল (১১ আগস্ট) সিলেট- সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেই মরদেহ নিখোঁজ তুলনার বলে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনার পর বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই রাস্তায় আরেক শিশু অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেটি নিখোঁজ মুহাদ্দিস মরদেহ বলে পুলিশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে শিশুদের বাবাকে আটক করে পুলিশ।

সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) সুজন সরকার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে কামরুল ইসলাম দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। নিহত দুই শিশুর মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ওমানের শ্রমবাজার খোলার প্রচারণা বিভ্রান্তিকর, অর্থ না দেওয়ার অনুরোধ

ওমানের শ্রমবাজার খুলে যাওয়া নি‌য়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিশ্বাস ক‌রে কোনো ব্যক্তি, সুবিধাভোগী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ ক‌রে‌ছে মাস্কা‌টের বাংলাদেশ দূতাবাস।

বুধবার (১২ আগস্ট) মাস্কা‌টের বাংলা‌দেশ দূতাবাস ভিসাসংক্রান্ত এক সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ ক‌রে‌ছে।

বিজ্ঞপ্তি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, সম্প্রতি ওমানি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’— এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, উক্ত বিজ্ঞপ্তিটি ওমান সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ঘোষণা নয়।

উক্ত বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য হলো— আল ধাহিরাহ অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণপূর্বক প্রয়োজন হলে কেবলমাত্র দাহিরাহ এলাকার কৃষি কাজের জন্য সীমিত পরিসরে ভিসার অনুমোদন দেওয়া। এ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ, ভিসা ইস্যু বা শ্রমবাজার উন্মুক্ত এ রকম কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দূতাবাস জা‌নি‌য়ে‌ছে, বর্তমানে ওমান সরকার শ্রমবাজার পুনর্বিন্যাস ও ওমানাইজেশন নীতির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ কার্যকর রেখেছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’— এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিশ্বাস করে কোনো ব্যক্তি, সুবিধাভোগী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

ওমানে কর্মসংস্থান ও ভিসা-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি এবং ওমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে যে কোনো অগ্রগতি দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে যথাসময়ে জানানো হবে।




ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমাধান অযোগ্য কোনো সমস্যা নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সংকট নেই যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক বার্তা নিয়েই তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাপ করতে গেছেন। ইতিবাচক ফলাফলের জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার গুজব এখনো সরকারের নজরে আসেনি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এসব আমলে নিচ্ছে না।

 

তিনি বলেন, বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। যুবকদের আত্ম উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।