একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, মরদেহ আনার খরচ দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও হারাতে হয়। এমনকি তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার মতো অর্থও ছিল না স্বজনদের হাতে।

এমন অসহায় অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন।নিহতরা হলেন- লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাদকয়া গ্রামের মাইদুল ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (৩২) ও তাদের একমাত্র ছেলে মারুফ ইসলাম (৮)।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) একই হাসপাতালে মারা যায় তার আট বছর বয়সী ছেলে মারুফ ইসলাম। আর সোমবার (১০ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী বিউটি খাতুন।

জানা গেছে, মাইদুল ইসলাম জীবিকার

তাগিদে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তার স্ত্রী বিউটি খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তাদের একমাত্র সন্তান মারুফ ইসলাম স্থানীয় চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বন্দর থানার চাপাতলী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সিগারেট ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইট জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফ গুরুতর দগ্ধ হন।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে স্বজনরা জানান, বিস্ফোরণে মাইদুল ইসলামের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ, বিউটি খাতুনের ৯০ শতাংশ এবং মারুফ ইসলামের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

মাইদুলের ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষও চাঁদা তুলে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার মতো টাকাও আমাদের কাছে ছিল না।’

পরিবারটির করুণ অবস্থার খবর জানতে পেরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল তাদের পাশে দাঁড়ান। তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার জন্য তিনি পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, ‘পরিবারটির দুর্দশার কথা জেনে প্রতিমন্ত্রী মানবিক সহায়তা করেছেন। তার এই সহযোগিতা পরিবারের জন্য এই কঠিন সময়ে অনেক বড় সহায়তা।’




কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

কলম্বিয়ার সান হোসে দেল পালমারেতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশ সরকার, জনগণ ও নিজের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ কলম্বিয়ার জনগণের পাশে রয়েছে বলে জানান।ড. খলিলুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, কলম্বিয়ার জনগণ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবে।প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।




প্যান্ডামার্টে কফি অর্ডার দিয়ে ২০ হাজার টাকার ভাউচার জেতার সুযোগ

প্যান্ডামার্ট গ্রাহকদের জন্য ‘নেসক্যাফে বাই মোর অ্যান্ড উইন কনটেস্ট ২০২৬’-এর আয়োজন করেছে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ। নেসলে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করা এ ক্যাম্পেইনের আওতায় পুরো আগস্ট মাসজুড়ে নেসক্যাফে পণ্য কিনে আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য গ্রাহকদেরকে ফুডপ্যান্ডা অ্যাপ ব্যবহার করে প্যান্ডামার্ট থেকে অন্তত এক হাজার টাকার নেসক্যাফে ও নেসলে কফি মেট পণ্য অর্ডার করতে হবে। তবে প্রতিটি অর্ডারে অন্তত একটি ৩০ গ্রামের ‘নেসক্যাফে ৩-ইন-১ আইসড ফ্র্যাপে কোল্ড কফি’ প্যাক থাকতে হবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে গ্রাহকেরা একাধিকবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে নেসক্যাফে ও নেসলে কফি মেট পণ্যের শীর্ষ ৩ জন ক্রেতা পাবেন বিশেষ নেসক্যাফে গিফট প্যাক। আর ক্যাম্পেইন শেষে যিনি সর্বাধিকসংখ্যক ৩০ গ্রামের ‘নেসক্যাফে ৩-ইন-১ আইসড ফ্র্যাপে কোল্ড কফি’ কিনবেন, তিনি বিজয়ী হিসেবে পাবেন ২০ হাজার টাকা মূল্যের ‘গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার’ ভাউচার। ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত বিস্তারিত নিয়ম ও শর্তাবলি ফুডপ্যান্ডা অ্যাপে পাওয়া যাবে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.foodpanda.com




রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় মির্জা ফখরুলকে শেখ মো. আব্দুল্লাহর অভিনন্দন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

এক অভিনন্দন বার্তায় শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শক্তি, সাহস ও প্রজ্ঞা দান করুন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।




শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয় ‘পর্যালোচনা করছে’ ভারত

ভারতে আশ্রিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ‘পর্যালোচনা করছে’ দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য কী? বর্তমানে কোনো অনুকূল পরিবেশ নেই বলে ভারতও কি মনে করে?ওই সাংবাদিক আরও জানতে চান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার মামলার নথিসহ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংক্রান্ত সব নথি ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে কি না।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, আমাদের হাইকমিশনার গতকাল (১০ আগস্ট) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যে অন্য দুটি বিষয় তুলেছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ এবং হাদির মামলা; সেগুলোর বিষয়ে বলব, হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমাদের দেশে যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠে সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে যখন কোনো নতুন তথ্য থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।’

উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে।’




পুত্রবধূকে চড় দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে শাহজাহান (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে মো. শওকত পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহজাহান উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে শাহজাহানের মেয়ে এবং ছেলে শওকতের স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ঝগড়া থামাতে শাহজাহান তার মেয়েকে শাসন করার জন্য চড়-থাপ্পড় দেন। এ সময় একটি চড় শওকতের স্ত্রীর গায়েও লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওমান ফেরত প্রবাসী শওকত একটি গাছের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে শাহজাহান সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ২টার দিকে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে বাবার ওপর চড়াও হন ছেলে। লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত শাহজাহান হাসপাতালে মারা গেছেন।

রামদাস মুন্সির হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. দুলাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।




তিন সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কোম্পানি লিমিটেড ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।
আজ (মঙ্গলবার) সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানায় প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কোম্পানি লিমিটেডের ডিরেক্টর/ওভারসিজ তোজি নিশিদা ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে পিপিপিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

মিয়াগাওয়া কেনসেটসুর প্রতিনিধি তোজি নিশিদা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি স্ট্যালিয়ন গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ভোলা-বরিশাল, শরীয়তপুর-চাঁদপুর এবং ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে সেতু সচিব বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকার পিপিপি মডেলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাসম্পন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি ও মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পিপিপি মডেলের নতুন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কারিগরি, আইনগত ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও আলোচনা করার বিষয়ে সম্মত হয়। বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়।




‘জেন্ডার সমতায় আইন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন’ : ঢাবি উপাচার্য

জেন্ডার সমতা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (সিডিজিএস) এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সিডিজিএস–ইউএন উইমেন পলিসি ডায়ালগ সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

সিডিজিএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা।

অনুষ্ঠানে ‘অ্যাচিভিং জেন্ডার ইকুয়ালিটি বিফোর দ্য ল’ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা।

উপাচার্য বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি গবেষণাভিত্তিক পলিসি পেপার তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তরুণদের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারলে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

পরে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসলিমা ইয়াসমীন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী মাসুদা রেহেনা বেগম এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়শ্রী সমাদ্দার।

অনুষ্ঠানে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অদিতি সবুর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিভাগের শিক্ষার্থী আলিমা জাইম ও ফারহানা আলী শুচি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের আইন ও নীতিমালায় জেন্ডার সমতার অগ্রগতি, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং নারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

এসএএস




এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর চায় বাংলাদেশ

আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় এবং দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)—এই তিন ইস্যুতে নিউজিল্যান্ডের সক্রিয় সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দফতরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ ছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দেশটির ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড এবং ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড বৈঠকে অংশ নেন।

আরসিইপিতে ঢুকতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চায় ঢাকা

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ছিল রিজিওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলীর বিস্তারিত জবাব ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরসিইপির উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ। টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা ও লজিস্টিকস খাতকে আরও উন্মুক্ত করতে ‘পজিটিভ লিস্ট’ থেকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ পদ্ধতিতে যাওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতা, পেটেন্ট, কপিরাইট ও ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

আরসিইপির প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের নীতিগত ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশের সদস্যপদে দেশটির সক্রিয় সমর্থন চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে আরসিইপির আওতায় দেশের সংবেদনশীল পণ্য ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে আসিয়ানের এলডিসি সদস্যদের মতো ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ।

এলডিসি উত্তরণে চায় আরও তিন বছর

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের নির্ধারিত উত্তরণের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে নিউজিল্যান্ডের সমর্থনও চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে উত্তরণের জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়ে যে আবেদন করেছে, বৈঠকে তার পক্ষে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উন্নয়নশীল ও এলডিসি থেকে উত্তরণপ্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের চলমান আর্থসামাজিক রূপান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

তবে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, এলডিসি উত্তরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। অতিরিক্ত তিন বছরকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতির প্রস্তুতি আরও টেকসই ও সুসংগঠিত করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় সরকার।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়া হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় এফটিএর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন বা এমসি-১৪ সামনে রেখে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতায় এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এফটিএ হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত এলডিসি উত্তরণের পর নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

বাংলাদেশ মনে করে, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এফটিএ দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি’ ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি’

তিন প্রস্তাব বাংলাদেশের

ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক করতে বৈঠকে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথমত, আরসিইপি, এলডিসি-পরবর্তী বাজার সুবিধা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বার্থ নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি বার্ষিক ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ’ গঠন।

দ্বিতীয়ত, এফটিএ আলোচনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।

তৃতীয়ত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বলেছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতায়ও নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।

দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নিয়মিত যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের নীতি-সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ আমন্ত্রণে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।




শিক্ষক নিয়োগে রেজুলেশন কি মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত- প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ‘একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে মিটিংয়ে আলোচনা হবে। রেজুলেশন হয়ে আমার (মন্ত্রী) কাছে আসবে। সেই রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটা কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, নাকি এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, নাকি এটা কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত?’

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বার্ক অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে এসব কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে মিছিলের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাতে শুনলাম যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। এমপিও শিক্ষকদের নিয়োগ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি মিটিংয়ের রেজুলেশনের আলোচনার জায়গাটুকু কেটে মন্ত্রণালয়ের কোনো গুপ্ত লোক কাউকে দিয়েছে। কিন্তু তার নিচে যে রয়েছে, মন্ত্রী সেটা দেখবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, তারপরে সেটার প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সে জায়গাটুকু না দিয়ে পত্রিকায় নিউজ ছাপানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ একবারও ভাবলো না। চিলে কান নিয়ে গিয়েছে, শুনে চিলের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে। একবারও কানে হাত দিয়ে দেখে না, আমার কানটা চুরি হয়েছে কি না।’

স্কুলগুলোতে শিক্ষক নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলে ৩৮ হাজার হেডমাস্টার (প্রধান শিক্ষক) নেই। কলেজগুলোতে কোনো টিচার নেই। ১২ হাজার টিচার সরকারি স্কুলগুলোতে শর্টেজ (কম) রয়েছে। ৫০ হাজার শর্টেজ (কম) রয়েছে প্রাইমারি স্কুলে। ৭৭ হাজার শর্টেজ রয়েছে এমপিওভুক্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এগুলো কি গত পাঁচ মাসে হয়েছে? এটাও সাংবাদিক ভাইদের জানতে হবে।’




নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় : ডিসি ফরিদা

নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের প্রকৃত ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। নারী এগিয়ে গেলে পরিবার, সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত SPRE প্রকল্পের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিসি ফরিদা এসব কথা বলেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন কোনো একক বা স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। মানুষের জীবনে প্রকৃত ও টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রয়োজন। আর এ ধরনের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

ফরিদা খানম আরও বলেন, নারীদের শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে তাদের এমনভাবে সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য প্রান্তিক নারীদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কারিগরি শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

প্রান্তিক নারীদের সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আইনি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবাগুলো যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, আয়মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নারীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ ও তহবিল, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং স্থানীয় ও অনলাইন বাজারে নারীদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আরও দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা জেলার ডিসি বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের মতামত ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইইডির মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসন, ঢাকা প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং নারী ক্ষমতায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ডিসি বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে তিনি সমাজের প্রতিটি নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।




ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী খননে জোর সরকারের

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বাড়ানো, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) স্থানীয় স্ট্রেইন থেকে উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোট পক্স ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একই প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও পদ্মা-মেঘনার ইলিশের স্বাদ আলাদা। বাংলাদেশের পলিমাটির কারণেই ইলিশের বিশেষ স্বাদ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন বাড়াতে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও শক্তিশালী করা জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের বিচরণ করা প্রধান নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং হয়নি। সরকার এরই মধ্যে এসব নদী খননের প্রস্তাব দিয়েছে। নদী খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বাড়ানো গেলে ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, ইলিশ স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। এ কারণেই ইলিশের স্বাদেও বিশেষত্ব আসে। তাই ইলিশের আবাসস্থল নদীগুলোতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের বিষয়ে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। লাখ লাখ জেলেকে এ সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।

তবে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে জেলেদের জীবনযাত্রা টেকসই করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলের একমাত্র উপার্জনের উৎস মাছ ধরা, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলেদের এলাকায় পশুপালন, উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

জাটকা নিধন বন্ধে এ বছর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর জাটকা ধরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী মৌসুমগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইলিশের উৎপাদন ও বিচরণে দূষণকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মাছ। নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্র থেকে মিঠা পানির সংস্পর্শে আসে। নদীর পানিতে দূষণ বেড়ে গেলে ইলিশ ওই এলাকা থেকে সরে যেতে থাকে। তাই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণও জরুরি।

কারেন্ট জাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কারেন্ট জাল আমদানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে কয়েকটি কারেন্ট জাল তৈরির কারখানা চালু থাকার খবর পাওয়ার পর সেগুলোও বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধেও প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ধ্বংস ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে নদী ও খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

ইলিশের স্বাদ ও উৎপাদন ধরে রাখতে দেশীয় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মৎস্যমন্ত্রী।




বড় লোকসানে মাইডাস ফাইন্যান্সের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাইডাস ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ছিল ২ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

লভ্যাংশ না দেওয়ার বিষয়ে এবং আলোচ্য বছরের অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে ২ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। এ সময়ে সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ২১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ৩ টাকা ২৬ পয়সা। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ২ টাকা ৯৫ পয়সা বা প্রায় ৯০ শতাংশ।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কিছুটা উন্নতির আভাস মিলেছে। এ সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান ৪০ পয়সা বা প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে।

গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৪ টাকা ৮৭ পয়সা, যা কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতার স্পষ্ট প্রতিফলন।




সাবেক রাষ্ট্রপতির শেয়ার জালিয়াতি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

দুর্নীতি, প্রতারণা, অবৈধ বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জি. আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল করিম।

মামলার এজাহারে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন নামে। তাকে এজাহারের ১২ নং আসামি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের দ্বারা যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করেন। যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে ও একই অভিপ্রসভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যাদের অনেককেই এস. আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই একই দিনেই হয়েছে, অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এস. আলম গ্রুপ, তার মালিক/উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের উপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাদের উপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তসরূপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলা দায়েরের পর মো. সাহাবুদ্দিন বাদে অপর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।




লোডশেডিং বন্ধসহ চার দফা দাবিতে বরিশালে বাসদের বিক্ষোভ

লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন রক্ষা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধ এবং ভোলার গ্যাসসহ দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ইমাম হোসেন খোকন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল শেখ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। বরিশালসহ সারাদেশে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির কারণে দেশে বারবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি গ্যাসভিত্তিক, ৩৩টি তরল জ্বালানিভিত্তিক এবং দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বাসদ নেতারা বলেন, গত ২২ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ১৭ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে তারা মনে করছেন। এতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশের সমুদ্রসীমা ও স্থলভাগে সম্ভাব্য দেশীয় গ্যাসসম্পদ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ভোলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত থাকার কথা বলা হলেও তা যথাযথভাবে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভোলার গ্যাস বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, আগের সরকার ভারতের সঙ্গে একতরফা সম্পর্কের মাধ্যমে রামপালের মতো পরিবেশবিধ্বংসী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানির দিকে এগোচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এর ফলে একদিকে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এ সময় বিদ্যুৎ বিতরণ ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন বাসদ নেতারা। তারা বলেন, সরকারি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ করে জনজীবন স্বাভাবিক করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধ এবং ভোলার গ্যাসসহ দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়।




৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এবারও সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন।

সেসময় জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ভোটদানে বিরত ছিল। সব মিলিয়ে ৬০ জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। ৩৫০ আসনের সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির রয়েছে ২৪৭টি আসন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩টি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন আটজন।

ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে। তার পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ না থাকায় সংসদে কোন দলের কতটি আসন রয়েছে, সেটিই ফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংসদে বিএনপির ২৪৭টি আসন থাকায় দলটির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।




ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।

​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:

সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।

​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।




ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। নিজের ব্লগের পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলেও নিয়মিত নানা বিষয়ে পোস্ট করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তবে সম্প্রতি একটি পোস্টে ধারাবাহিক নম্বর লেখার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল করে অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

প্রতিদিনের এক্স পোস্টের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে একটি নম্বর ব্যবহার করেন অমিতাভ। সম্প্রতি সেই নম্বর দিতে গিয়েই ভুল করে ফেলেন তিনি। বিষয়টি অনুরাগীদের নজরে আসার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন অভিনেতা। পরে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন অমিতাভ।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘টি ৫৮২০। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বড় ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ৫৮১৭-এর পর ৫৮১৮, ৫৮১৯, ৫৮২০ হওয়া উচিত ছিল।’

একই পোস্টে ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুনীল নামের এক নেটিজেনকে ধন্যবাদ জানান অমিতাভ। তবে প্রিয় তারকার এই সামান্য ভুল নিয়েও মজা করতে ছাড়েননি অনুরাগীরা।

মন্তব্যের ঘরে এক নেটিজেন রসিকতা করে লেখেন, ‘ভুল স্বীকার করেছেন দেখে ভালো লাগছে। তা না হলে এই নম্বর ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম।’

অন্য এক নেটিজেন ভুলটি ধরিয়ে দেওয়া সুনীলকে নিয়ে মজা করে লেখেন, ‘এই ভালো কাজের জন্য সুনীলের অবদান মানবজাতি চিরকাল মনে রাখবে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, অমিতাভের অনুরাগীদের পক্ষ থেকে সুনীলের একটি পদক পাওয়া উচিত।

সামান্য একটি সংখ্যার ভুল হলেও অমিতাভ যেভাবে নিজে থেকেই তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সেটিই এখন অনুরাগীদের আলোচনার বিষয়। তার সরল স্বীকারোক্তি এবং রসবোধও প্রশংসা কুড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়।

এদিকে কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটছে অমিতাভ বচ্চনের। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে তাকে দেখা যাবে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিক্যুয়েলেও।