বাংলা কিউআরে লেনদেনে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে যুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ‘বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন প্রসারের নিমিত্ত প্রণোদনা প্রদান’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হওয়া দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান এবং ০.২০ শতাংশ পাবে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজ করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনা এবং দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযোগযোগ্য করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনও লেনদেনকে কৃত্রিমভাবে ভাগ করা যাবে না। অর্থাৎ দুই হাজার টাকার বেশি কোনও একটি লেনদেনকে ছোট ছোট একাধিক লেনদেনে বিভক্ত করে প্রণোদনা নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ‘লেনদেন কাঠামোবদ্ধকরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া ব্যর্থ, বাতিল, ফেরত, চার্জব্যাক, বিরোধপূর্ণ বা পরবর্তী সময়ে বাতিল হয়ে যাওয়া লেনদেনের বিপরীতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে প্রণোদনার আওতাভুক্ত লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্টের তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহ করতে হবে।

ভুলবশত কোনও প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত বা কৃত্রিম লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হলে সেই অর্থ ফেরত নেওয়া অথবা পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, কোনও মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া বা সমন্বয়ের পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে এ প্রণোদনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে নগদনির্ভর লেনদেন কমিয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও গতি পাবে।




নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের উদ্যোগ

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের আমদানিতে দুগ্ধজাত পণ্য ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর।

বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অ-পোশাক রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া দেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—NZTE-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল B2B বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।

এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হয়।




বিদেশে শিক্ষার ফি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য টিউশন ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া আরো সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট কিংবা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি ফি মেটাতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও অনলাইন ভর্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিউশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় মেটাতে আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

​এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, এ ধরনের লেনদেনকে ব্যাংকের প্রচলিত বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটা বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা সুবিধার সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষা খাতে পরিশোধ করা অর্থ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত সাধারণ ডলার কোটার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, এই কার্ড সরাসরি শিক্ষার্থীর নামে কিংবা তার শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনকারী অভিভাবক বা ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যাবে। তবে কার্ডের অপব্যবহার রুখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলতে বলা হয়েছে। ইস্যু করা কার্ড দিয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেন শুধুমাত্র শিক্ষা-সংক্রান্ত অনুমোদিত ব্যয়ই পরিশোধ করা হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট পারপাস কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত তথ্য বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




সৌদিতে আগুনে পুড়ে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, ১৩ জনই নওগাঁর

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়, দুজনের নাটোরে এবং একজনের রাজশাহীতে।

রবিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে রিয়াদ থেকে এসব তথ্য জানান দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী।

দূতাবাসে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুর আনুমানিক ২টায় ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

শনাক্ত হওয়া মৃতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গন্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন ও মো. সুমন, মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল ও মজিদুল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর রয়েছেন।

এর মধ্যে মো. রুবেল প্রামাণিকের বাবার নাম মো. সাইদুর রহমান। মো. কলিমউদ্দিনের বাবার নাম মৃত বজলুর প্রামাণিক। মো. মোহনের বাবার নাম গুফফার প্রামাণিক এবং মো. সুমনের বাবার নামও গুফফার প্রামাণিক। মজিদুলের বাবার নাম মজনু। মিনহাজের গ্রামের নাম এখনও জানা যায়নি।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম, ডাংগাপাড়া গ্রামের শ্যামলও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।




মীরসরাই ইকোনমিক জোনে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামের মীরসরাই ইকোনমিক জোনে নির্মাণাধীন একটি কারখানায় ডাকাতির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ। টানা ৩২ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত প্রায় ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মেহেদী হাসান (২৩), মো. রাকিব (২১), সুজাউল হক প্রকাশ সুজা উল্লাহ (২৪), এমদাদুল হক প্রকাশ এমরান (২৮), মিজান উদ্দিন (৩২), মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ নাহিদ (২৪) ও ইউসুফ (২৬)। তাদের সবার বাড়ি জোরারগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

পুলিশ জানায়, গত ৯ আগস্ট রাত ২টা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে মীরসরাই ইকোনমিক জোনের বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্মাণাধীন কারখানায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনটি মুঠোফোন, প্রায় ২৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশের একটি দল মীরসরাই ইকোনমিক জোন ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চালায়। টানা ৩২ ঘণ্টার অভিযানের একপর্যায়ে ইকোনমিক জোন এলাকা থেকে ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান, মো. রাকিব ও এমদাদুল হকের দেখানো জায়গা থেকে লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয় এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




রাজধানীর ১৩ পাম্পে সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস না দেওয়ার অভিযোগ

রাজধানীর সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশার জন্য আলাদা নজেলের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে যেসব পাম্পে সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেসব স্টেশনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের পাম্প থেকে গ্যাস কিনতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাজধানীর কিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না।

সংগঠনটির দেওয়া তালিকায় ১৩টি সিএনজি স্টেশনের নামে সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—বিমানবন্দর সড়কের ইসাঈল তালুকদার ফিলিং স্টেশন, রূপান্তর সিএনজি স্টেশন ও স্টার পাম্প স্টেশন। মিরপুর রোডের ইন্টাকো সিএনজি স্টেশন, নাভানা সিএনজি স্টেশন, রজিনা সিএনজি স্টেশন, নাজমা সিএনজি স্টেশন, নেসা অ্যান্ড সন্স সিএনজি স্টেশন ও মোহনা পাম্প সিএনজি স্টেশন। তেজগাঁও রোডের সিটি সিএনজি স্টেশন, ক্লিন ফুয়েল সিএনজি স্টেশন ও সাউদান গ্রুপ সিএনজি স্টেশন।

চিঠিতে বলা হয়, এসব পাম্প মালিককে অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি চিঠিতে রাজধানীর সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সিএনজি অটোরিকশার জন্য আলাদা নজেল চালুর ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. গোলাপ হোসেন চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।




পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল কার্যক্রমের সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল পরিচালক এবং জেলা কার্যালয়গুলোর সকল অফিস প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয় এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কার্যক্রমের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক ড. মোঃ লুৎফর রহমান।




টেকনাফের সংরক্ষিত বনে ৪০ হেক্টরে নতুন বাগান, চারা রোপণ করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজার, ৯ আগস্ট ২০২৬: কক্সবাজারের টেকনাফের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সৃজিত নতুন বাগান পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটের রঙ্গিখালী বনাঞ্চলে সৃজিত ৪০ হেক্টর নতুন বাগান পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী একটি চালতা গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে শনিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মধ্যভাগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যালয় মাঠে নারকেলের চারা রোপণের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে ২০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। এসব গাছ দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও অংশ নেন এবং সেন্ট মার্টিনকে প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

পরে বিকেলে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন এক হাজার ১০৩ হেক্টর বনভূমি পরিদর্শন করেন। এ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি বাগানে সাড়ে ২৭ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ফলজ, বনজ ও ওষুধিসহ প্রায় ৫৬ প্রজাতির বৃক্ষ নিয়ে গড়ে ওঠা এসব বাগান বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।

পরিদর্শনকালে বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী বন সংরক্ষক টেকনাফ ও উখিয়ার মো. মনিরুল ইসলাম, টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশীদসহ বন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।