জুলাই ও গুম-খুনের শিকার শহীদ পরিবারের পাশে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

ঢাকা প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা-৯ আসনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি নিজে বিভিন্ন শহীদ পরিবারের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোকে নিজের পরিবারের মতো আগলে রাখার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রক্ষায় তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শহীদ পরিবারের সদস্যদের দুঃখ-কষ্ট ও প্রয়োজনীয়তার কথা শুনে তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

তিনি বলেন, “শহীদ পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগে শহীদ পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।




জাপানে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের তরুণদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের সংসদ সদস্য মাতসুশিতা শিম্পেই।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ডা. খবির উদ্দীনের বাড়িতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময়কালে জাপানের সংসদ সদস্য বাংলাদেশি তরুণদের জন্য জাপানে কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণ উভয়েই উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান, বিচ্ছিন্ন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

ঢাকা প্রতিনিধি: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব হাছিবা খানের নেতৃত্বে রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত সড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা ও অননুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




সিলেট সীমান্তে ৪৮ বিজিবির পৃথক অভিযান, ৪৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৪৮ ব্যাটালিয়ন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের অংশ হিসেবে ৪৮ বিজিবির বিভিন্ন টহল দল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৮ বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাখাবের বেনিদজে

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কাখাবের বেনিদজে। ২০২৬ সালের ১ মে থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। তিনি মনিশা আব্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। বিএটি বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনিশা আব্রাহামের নেতৃত্বে বিএটি বাংলাদেশ শক্তিশালী ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে কাখাবের বেনিদজে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

কাখাবের বেনিদজের শিল্প খাতে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) খাতে ১৫ বছরের বেশি সময় তিনি পরিচালনা পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে তিনি বিএটিতে যোগ দেন। এরপর বিপণন, সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) ও সাধারণ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়িক কার্যসম্পাদন, সাংগঠনিক রূপান্তর এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর সম্পৃক্ততায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।

কর্মজীবনে তিনি ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস অঞ্চল (আজারবাইজান, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া), মলদোভা এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের বিভিন্ন জটিল ও বহুসাংস্কৃতিক বাজারে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিএটি সুইজারল্যান্ড এবং বিএটি অস্ট্রিয়া ক্লাস্টারের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, পণ্য পোর্টফোলিও উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

২০২৬ সালের ১ মে তিনি বিএটি বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও যোগ দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি বিএটি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ধাপে নেতৃত্ব দেবেন

এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কাখাবের বেনিদজে এক্সিকিউটিভ এমবিএ, জুরিসপ্রুডেন্সে স্নাতকোত্তর এবং ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচারে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে কাখাবের বেনিদজে বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা এবং ১১৬ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিএটি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত। আমাদের দক্ষ সহকর্মী ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এর অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারায় অর্থবহ অবদান রাখতে আমি আগ্রহী।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কাখাবের বেনিদজের নেতৃত্বের দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিএটি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক কার্যসম্পাদন, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।




২০ কোটি টাকায় নির্মিত শাহ ফতেহ আলী সেতু উদ্বোধন, সহজ হবে ৪ উপজেলার যোগাযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ শাহ ফতেহ আলী সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি জেলার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এতে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জেলা শহরে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বগুড়ার চেলোপাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শাহ ফতেহ আলী সেতু চালু হওয়ায় বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের চার উপজেলার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কম সময়ে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিবহন করতে পারবেন।

সেতুটি চালুর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংক্রান্ত দুর্ভোগ কমে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।




দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সহকারী পুলিশ সুপার হলেন রামগতির নুরুল আমিন সেলিম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: রামগতির কৃতি সন্তান মো. নুরুল আমিন সেলিম দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেছেন।

২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে এক বছরের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সম্প্রতি মানিকগঞ্জে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

তার এই অর্জনে রামগতির স্থানীয় বাসিন্দা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আইনি লড়াই ও প্রশিক্ষণের ধাপ পেরিয়ে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নুরুল আমিন সেলিমের নতুন কর্মস্থলে সাফল্য, পেশাগত দক্ষতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।




বগুড়ায় ৪০০ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পপার্ক করার পরিকল্পনা সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী

বগুড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর নতুন একটি বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি শীত মৌসুমেই প্রস্তাবিত এই শিল্পপার্কের প্রাথমিক উন্নয়নকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বগুড়া দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাব বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার বড় সম্ভাবনা রাখে। বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের জন্য বগুড়া আগামী দিনে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়নের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বগুড়ার বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরী ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প স্থাপনের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই প্রায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে চলতি শীত মৌসুমেই এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে।

শিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প ও ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করা কঠিন। উৎপাদন খরচ কমিয়ে পণ্যকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে একদিকে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অর্থায়নের খরচ কমাতে হবে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্যাস সংযোগ সহজীকরণ এবং কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই শিল্পপার্কে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু অবকাঠামো তৈরি করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে না। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কারিগরি সহায়তার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মাধ্যমে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি জানান, শিল্পপার্কে শিল্প প্রকল্প স্থাপনকারী উদ্যোক্তারা সরকারের ক্রেডিট হোলসেলিং স্কিমের আওতায় তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

অনুস্থানে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মোহিত তালুকদার, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল।

অনুষ্ঠানে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে তাদের দায়িত্ব, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ব্যবসায়ী সমাজের জন্য সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও ব্যবসায়ীবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন। নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন এবং সেবার মান আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বগুড়া চেম্বারের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নে প্রস্তাবিত শিল্পপার্কের নির্ধারিত স্থানটি সশরীরে পরিদর্শন করেন।




ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৬: ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিষয় হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে উসকানিতে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা ও রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের জুলুম-নির্যাতন, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার বিধান আনার উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।

শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে উল্লেখ করে ধৈর্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ভারতের মাটিতে অবস্থানরত দণ্ডিত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক—এই দুই অবস্থানকে তিনি পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রত্যাশা জানান তিনি।

আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম, শহীদ আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন এবং শহীদ একরামুল হক সাজিদের মা নাজমা খাতুন লিপি।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




মহাসড়কে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ১০ কিলোমিটার পরপর মিলবে অ্যাম্বুলেন্স সেবা

দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর থাকবে সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্স। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত মিলবে চিকিৎসা ও উদ্ধার সহায়তা। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় আগামী মাস থেকে মিলবে এমন সেবা।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বরাবরই উদ্বেগের কারণ। ২০২৩-২৪ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আর এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮ শতাংশই ঘটে মহাসড়কে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পাইলট প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। ২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর আধুনিক সরঞ্জামসহ একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। জিপিএস সুবিধাসম্পন্ন এসব অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেবা দেবে।

সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহামদ সাব্বীর হাসান খান বলেন, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ, এরপর জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে যমুনা ব্রিজ হয়ে রাজশাহী এবং হাতিকামরুল থেকে রংপুর এই তিনটি রুট মিলিয়ে মোট ৫০০ কিলোমিটার করিডোর। এই করিডোরে আমরা পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্সের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল চালু করতে যাচ্ছি। প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এতে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন প্রশিক্ষিত চালক থাকবেন। ফায়ার সার্ভিসের মতো এসব অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে।

এরই মধ্যে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে এসব অ্যাম্বুলেন্স নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা। সার্বিক কার্যক্রমে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যেই এর সুফল পাওয়া যাবে।

মোহামদ সাব্বীর হাসান খান আরও বলেন, করিডোরসংলগ্ন দোকান ও ফার্মেসিগুলোর মধ্য থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের ‘স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তারাই সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও দেয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে কীভাবে নিরাপদে ধরতে বা সরাতে হয়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কারণ, না জেনে বা ভুলভাবে টানাটানি করলে আহত ব্যক্তির আরও ক্ষতি হতে পারে। আমাদের সার্ভিস প্রোভাইডার এ প্রশিক্ষণ দেবে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইনশাআল্লাহ আমরা এই সিস্টেমটি কার্যকর করতে পারব।

২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসব অ্যাম্বুলেন্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।




খুলনায় ৩,৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা সদর উপজেলার মিয়াপাড়া এলাকা থেকে ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।

র‍্যাব-৬ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।




নোয়াখালীতে ডিএনসি-র‍্যাবের যৌথ অভিযান: ৯,৭৯০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জেলার বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকার মো. আব্দুল হক প্রকাশ আব্দুল্লাহ (২৮) ও নুরে আলম প্রকাশ চৌধুরী (৩০)।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ও ফেনী থেকে মোটরসাইকেলে করে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচার হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি নোয়াখালী ও র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তা ও সোনাইমুড়ী বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

প্রথম অভিযানে চৌমুহনী পৌর আধুনিক বাস টার্মিনাল এলাকার পশ্চিম পাশে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কসংলগ্ন এলাকা থেকে আব্দুল হককে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে ৩ হাজার ৯০০ পিস এবং তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ১ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোট ৫ হাজার ৮৭০ পিস ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

অপর অভিযানে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে আনু মিয়া স্টোরের সামনে থেকে নুরে আলমকে আটক করা হয়। তার দেহ তল্লাশি করে ১ হাজার ৯৬০ পিস এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ১ হাজার ৯৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানায়, দুই অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ৯ হাজার ৭৯০ পিস। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৫৭৯ গ্রাম এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৩৮৪ গ্রাম।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও সোনাইমুড়ী থানায় দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ডিএনসি নোয়াখালীর পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।




গাংনীতে পরিত্যক্ত জমিতে ‘মাইনসদৃশ’ ১০ বস্তু ও ৫ বাক্স, ঘিরে রেখেছে পুলিশ

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি পরীক্ষা করতে সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার পরিত্যক্ত জমিতে এসব বস্তু পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে গাংনী থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জমিতে কৃষিকাজের সময় মাটির নিচে কয়েকটি ধাতব বস্তু দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাঁদো মালিথা। পরে মাটি খুঁড়ে ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে।

বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জহুরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এগুলো পুরনো বা নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকও হতে পারে। এ কারণে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বস্তুগুলো পরীক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করার পরই এগুলো ল্যান্ডমাইন কি না এবং সক্রিয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম টকি দাবি করেন, বেতবাড়িয়া গ্রামের পাশেই ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। ১৯৭১ সালে ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। তার ধারণা, পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব বস্তু মাটিতে পুঁতে রেখে যেতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া একটি বস্তুর গায়ে ‘পাকিস্তান’ লেখা রয়েছে। সেখানে ‘এমপিআই ১৯৬৭ মাইন এ/পার্স এনডি পি২ এমকে২’ লেখা দেখা গেছে বলেও তিনি জানান।

তবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি, উৎস এবং সেগুলো সক্রিয় কি না—এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পরই নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।




সহকারী মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি, পাবনা জেলা রেজিস্ট্রারকে বিদায় সংবর্ধনা

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার দীপক সরকার সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি লালপুরের গ্রীণ ভ্যালী পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করেন।

জানা গেছে, বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে জেলা রেজিস্ট্রার, সহকারী মহাপরিদর্শক (ডিআইজিআর), অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিআর) এবং মহাপরিদর্শক নিবন্ধন (আইজিআর) পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ রেখে নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার পদটি ৯ম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদ। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে এ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সাধারণ বিষয়ের ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করলে সাব-রেজিস্ট্রার পদে সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের নিবন্ধন কার্যক্রম নিবন্ধন অধিদপ্তরের আওতাধীন রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পেশায় কর্মজীবনের সুযোগ নিয়ে আগ্রহীদের স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




লৌহজং উপজেলা শ্রমিক দলের কমিটি ঘোষণা

লৌহজং প্রতিনিধি: মো. আওলাদ হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং মো. জুমন খানকে সদস্য সচিব করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলা শ্রমিক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মো. আওলাদ হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে মো. জুমন খান দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যের নাম ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানা গেছে।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।




চীনা মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত

দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের দুয়ার খুলেছে চীন। চীনের সহযোগিতায় দেশে ২১ হাজার শয্যার ২০টি অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর মধ্যে নারী-শিশুদের জন্য দুটি বিশেষায়িত হাসপাতালের আলোচনা রয়েছে। চিকিৎসাসেবায় আধুনিকায়নের পাশাপাশি বিদেশগামী রোগীর ভিড় কমাতে এ উদ্যোগে জোর দিচ্ছে সরকার।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে ২০টি অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ১৮টি হবে জেনারেল হাসপাতাল এবং দুটি হবে নারী ও শিশুর জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল। চীন আমাদের এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জায়গা নির্ধারণ করে হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। হাসপাতালের জন্য জায়গা দেবে সরকার। খুবই সীমিত সুদে ঋণ দেবে চীন। আশা করছি, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এ উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করবে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্যানসার, কিডনি, লিভার, ইনফার্টিলিটিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সেবায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অভাবে আধুনিকমানের সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে। তাই স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিকায়ন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসায় জোর দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে আগুনে পোড়া রোগীদের সেবায় চীনের অর্থায়নে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের নীলফামারীতে চীনের অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল। দেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের আগ্রহকে কাজে লাগাতে আরও ২০টি হাসপাতাল তৈরিতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চীনের অর্থায়নে দেশে ২১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল নির্মিত হবে। এর মধ্যে ১ হাজার শয্যার ১৮টি সাধারণ হাসপাতাল এবং নারী ও শিশুদের জন্য ১ হাজার ৫০০ শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাসপাতাল নির্মাণে বিনিয়োগের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে থেকেই এ বিষয়টা নিয়ে কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ে এ সম্পর্কিত মিটিং রয়েছে। সেখানে দেশের কোথায় হবে, কীভাবে হাসপাতাল সেবা দেবে-এ বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশের ওষুধশিল্পের কাঁচামাল, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, রিএজেন্টসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের অন্যতম বড় অংশীদার চীন। কভিড-১৯ মহামারির সময়ও চীনের টিকা দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গত ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ টিকা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসাসেবা খাতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। নতুন এ প্রকল্পে বাংলাদেশ শুধু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা দেবে। বাকি সব কিছু করবে চীন। চীনের নির্মিত হাসপাতালের স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী অত্যন্ত উন্নত। হাসপাতালগুলো স্থাপনের ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ জেলাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অগ্রাধিকার পাবে উত্তরবঙ্গ, খুলনা, চট্টগ্রাম অঞ্চল। পাশাপাশি দেশের অন্য অঞ্চলও এর আওতায় আসবে। হাসপাতালগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হবে, যাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা যায়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু প্রথমে দেখতে হবে কোথায় প্রয়োজনীতা রয়েছে তা যাচাই করা। এরপর হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। নিজস্ব অর্থায়ন এবং নিজেদের যেসব স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র আছে সেগুলোর মানোন্নয়নে জোর দিতে হবে। এরপর বিদেশি সহযোগিতায় গুরুত্ব দিতে হবে।’




ট্রাইব্রেকারের রোমাঞ্চে জামশাকে হারিয়ে গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন নয়াবাড়ী রেড ড্রাগন্স

নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সুজাপুর নবারুণ সংঘ আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে ট্রাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জামশা ফুটবল একাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নয়াবাড়ী রেড ড্রাগন্স।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সুজাপুর নবারুণ সংঘের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলায় ১-১ গোলে সমতায় থাকে দুই দল। ফলে শিরোপা নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে জামশা ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে নয়াবাড়ী রেড ড্রাগন্স।

ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। উদ্বোধক ছিলেন শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রিপন হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজাপুর নবারুণ সংঘের সভাপতি মামুন মিয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, বারুয়াখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন খান, বিশিষ্ট ব্যাংকার চৌধুরী মোশারফ আলী বেগ সঞ্জু মিয়া, নবাবগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজের হিতৈষী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন মণ্ডল, জয়কৃষ্ণপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদ, বেগম আয়েশা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সোহান, নয়নশ্রী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীনুর আলম এবং সাবেক ব্যাংকার খালিদ বিন ওয়াহিদ কনক।

এ ছাড়া সুজাপুর নবারুণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন, সংগঠনের নেতা মুস্তাক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্রীড়াপ্রেমী ও বিপুলসংখ্যক দর্শক ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সফল সমাপ্তি ঘটে।




সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা, সতর্ক করল পুলিশ

ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২৬: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

শুক্রবার এক বার্তায় বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশের দাবি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অন্যায় তদবিরে সাড়া না দেওয়ায় কিছু অসন্তুষ্ট মহল মনগড়া তথ্য প্রচারে জড়িত রয়েছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে অন্যায় তদবির এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশ জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক বক্তব্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ় মনোবল, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের মনোবল ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাতে অপপ্রচার কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পের ক্ষতি, দুই মন্ত্রীকে চেম্বারের চিঠি

চট্টগ্রাম: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানাগুলোকে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা দেওয়ার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে পৃথক চিঠি দিয়েছেন চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) দুই মন্ত্রীকে এসব চিঠি দেওয়া হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে।

 

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও বিঘ্নের কারণে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রিও মারাত্মকভাবে কমে গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে শিল্পোদ্যোক্তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ তোলার পাশাপাশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিল ও দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও এ পরিস্থিতির প্রভাব শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চেম্বার সভাপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও যদি তাদের উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বোঝা বহন করতে হয়, তাহলে তা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।

এটি সরকারের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের অবকাশ চায় চেম্বার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে বর্তমানে কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং বিল পরিশোধে ৯০ দিনের অবকাশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার।

চিঠিতে মাসিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধের বর্তমান নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্বকাল (Moratorium) অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চেম্বার সভাপতি চিঠির শুরুতে সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণে সক্ষম হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা অলিখিত লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে সৃষ্ট এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের বিলম্বকাল (Moratorium) অনুমোদন করা হলে তা শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।

চিটাগং চেম্বারের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং শিল্পকারখানার আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।




শেখ হাসিনা-কামাল-জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (০৮ আগস্ট) বিকেলে তিনি কালবেলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। দ্রুতই এ মামলার তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে চায় প্রসিকিউশন। এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, গুমের পর ও উদ্ধারের আগে মাঝের ২ মাস সালাহউদ্দিন আহমদকে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়েছিল র‌্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেলে।’

এর আগে, গত বছরের ৩ জুন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দিয়েছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শেখ হাসিনা ছাড়া বাকিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয় বলে তখন অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। অন্যদিকে, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহউদ্দিনকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন।

সে সময় সালাহউদ্দিন বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।

সালাহউদ্দিনকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান। ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই বছরের ৮ মে সালাহউদ্দিন ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে তিনি ভারতে আটকে আছেন। দেশটিতে তার বিরুদ্ধে যে অনুপ্রবেশের মামলা হয়েছিল, সেই মামলায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ভারতে থাকার কারণে তিনি নিজের পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ পাননি। ভ্রমণ অনুমোদন দেওয়া হলে তিনি নিজের দেশে ফিরতে চান। দেশবাসী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে চান।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস পান। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।




চলনবিলে ইকো ট্যুরিজমের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে : পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, চলনবিল এলাকার মানুষের সাথে বসে তাদের দাবি শুনলাম, বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখলাম। এই এলাকায় ইকো ট্যুরিজমের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চলনবিলের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মান্নাননগর ও দোবিলা এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এখানে যেটাই করি, সেটা ভায়োবল থাকতে হবে। পাশাপাশি রেভিনিউ ইনকাম হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। কারণ এখানে যেটাই করব স্থাপনা সেটি যেন এই এলাকার মানুষের উন্নয়নের সোর্স হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল হচ্ছে চলনবিল। এ বিলের নৈসঙ্গিক সৌন্দর্য্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি চলনবিল অধ্যূষ্যিত নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনার বিভিন্ন স্থান ও এলাকা পুরোকীর্তিতে ভরপুর। এ ছাড়া বিলের জীব-বৈচিত্র্য দেখাও জানার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। যা জাতীয় সম্পদ।

এসময় মন্ত্রী তাড়াশ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি তথ্যচিত্রও দেখেন তিনি। এতে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন।




সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

তেজগাঁওয়ে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। আবার কারও আপনজন এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের নিজেদের বা আপনজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের মানুষ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।

এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারও চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না। অনুষ্ঠানে এসে তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।