জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে খাল পুনরুদ্ধারে জোর দিলেন মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে খাল পুনরুদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নগরীর চকবাজার ফুলতলা এলাকার রসুলবাগ (চাক্তাই) খাল পরিদর্শনকালে তিনি চলমান খনন, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় খালের পানিপ্রবাহ ও পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম নয়, এটি নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে খালগুলোর প্রবাহ সচল রাখাই আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, রসুলবাগ খালে চলমান খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের প্রশংসা করেন তিনি।

মেয়র আরও বলেন, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

পরিদর্শন শেষে মেয়র খালের পানিপ্রবাহ সচল রাখা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং চলমান উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খাল পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আধুনিক ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।




আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : তথ্য উপদেষ্টা

চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, অতীতের অনিয়ম ও হয়রানিমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো, যাতে প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা সমান সুযোগ পান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বিস্তারিত জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও জানিয়ে রাখতে চাই, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিবাচক সংবাদ।’

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে নানা জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকায় বহু কর্মপ্রত্যাশী বিদেশে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের আশা, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও নিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিদেশে যাওয়ার আগেই নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, অতীতে এই প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম হয়েছে। কর্মীরা নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়।’

সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা যেন কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অনিয়মের শিকার না হন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার চায় বিদেশগামী শ্রমিকরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে বৈধ উপায়ে বিদেশে যান এবং সেখানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ পান। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার দেশের অভ্যন্তরেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ- সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, নতুন শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কর্মী নির্বাচন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিদেশে পাঠানোর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কোনো অসাধু চক্র যেন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, সরকার চায় দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাক। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া দেশের লাখো কর্মপ্রত্যাশীর জন্য একটি আশাব্যঞ্জক খবর। সরকার চায়, এ সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে স্বচ্ছ ও সুশাসনভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক।




জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা হবে, যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারকে এগিয়ে নেবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচজন সদস্যের নাম এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তারা নাম দিলে তা গ্রহণ করা হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এছাড়া সংসদের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব বিরোধী দল এবং সদস্যদের মতামত গ্রহণে কমিটি উন্মুক্ত থাকবে। কেউ সভায় উপস্থিত হয়ে কিংবা লিখিতভাবে মতামত দিলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাদের আমরা সবসময় স্বাগত জানাব।’

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিটির সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সংবিধানেই প্রয়োজনীয় সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কারা কারা আলোচনায় অংশ নেবেন জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পেশাজীবী ও আগ্রহী অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলোও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আলোচনায় উঠে এলেও জুলাই জাতীয় সনদে স্থান না পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, লক্ষ্য একটাই- সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, টেকসই এবং জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় এমন সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।




দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, মিলবে যেসব সুবিধা

 

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কমপ্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু নিজ নিজ দেশের পক্ষে এ চুক্তি সই করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে বাংলাদেশ চুক্তি সইয়ের প্রথম দিন থেকেই ৮৪২৮টি পণ্যে কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, কোরিয়া ১০৫৪টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ’র মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্য, ফুটওয়্যারসহ অন্য পণ্যগুলো চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।

সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ কোরিয়ার ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে ৪টি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্যমন্ত্রী এক ব্রিফংয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার পাঁচ মাসের মাথায় প্রথম এটি করেছে।

তিনি বলেন, এ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতির ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। কোরিয়া পাবে ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। প্র‍য়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকরণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাইচেইনে কাজ করতে চাই।

কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন কোরিয়ান কোম্পানি চুক্তির ফলে এদেশে সুবিধারজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।

তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এখনো তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে তা বেড়েছে। দুদেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও সিরামিক পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।




সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখার ওপর দীর্ঘদিনের ঋণ বিতরণে আরোপিত সীমা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে এসব শাখাসহ ব্যাংকটির সব শাখা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট, শিল্প ভবন করপোরেট, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখায় ঋণ বিতরণের নির্ধারিত সীমা আর থাকছে না। এর আগে শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় গ্রাহকদের অর্থায়নের সুবিধার্থে এই সীমা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল সোনালী ব্যাংক। আবেদনে ব্যাংকটি জানায়, অধিকাংশ বড় ও ভালো গ্রাহক এসব শাখার সঙ্গে লেনদেন করলেও সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই আবেদন অনুমোদন করে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতর্কিত বা ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পাঁচটি শাখায় ঋণসীমা থাকায় অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। সীমা তুলে নেওয়ায় এখন নিয়ম অনুযায়ী ভালো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়া যাবে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে কয়েক বছর আগে সোনালী ব্যাংকের এসব শাখায় ঋণ বিতরণে সীমা আরোপ করা হয়। পরে হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রমে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে গত জুনে স্থানীয় কার্যালয় শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে পাঠানো আবেদনের পর বাকি বিধিনিষেধও প্রত্যাহার করা হয়।