বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আসবে : মির্জা ফখরুল

জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে বিরোধী দলকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের মতো বক্তব্য দিতে শুরু করেছে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেসক্লাব জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বহু মানুষ আন্দোলন করেছে, বুকের রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছে, অনেকে দৃষ্টি হারিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক ত্যাগে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সব দলের নেতা কর্মীদের ত্যাগকে সম্মান করে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজার মিথ্যা মামলা হয়েছে। বিনাবিচারে নেতাকর্মীদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ ২০ হাজার নেতাকর্মী গুম খুন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় বন্দী রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৮ বছর নির্বাসিত ছিলেন।

দীর্ঘ দিনের আন্দোলন ২৪-এর জুলাইয়ে এসে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদায় নেয়। জুলাইয়ের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকে গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি যা যা স্বাক্ষর করেছে তা অবশ্যই পুরন করা হবে। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তা সংসদে আলোচনা হবে। রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে সেটি হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। একটি মহল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটি ঠিক হচ্ছে না। এটি পুরোপুরি ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই কারণ বিএনপি হচ্ছে সেই দল যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে গেছে। এদেশে যতবার স্বৈরাচার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে বেগম খালেদা জিয়া তা পুনরায় মেরামত করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করেছে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুক্তবাজার অর্থনীতির পথ তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাইভেট সেক্টরকে সামনে নিয়ে আসা এই কাজগুলো কিন্তু সবই বিএনপি করেছে। এখন আবার দেশ গড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নষ্ট হওয়া অর্থনীতি সংস্কার করা। ১৭/১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট ও লুটপাটের পর আবার নতুন করে কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। টাস্কটা হচ্ছে এমন যে ধ্বংস হয়ে যাবে ওখান থেকে বিএনপিকে আবার গড়ে তুলতে হবে। তাই করেছে বিএনপি। যতবার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে, রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। বিএনপি সেখান থেকে আবার শুরু করেছে।

গণভোট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনটি বিষয় একমত হয়েছে বিএনপি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের একটি প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। সেটিও বিএনপি জনগণের কাছে জবাব দিয়েছে এবং ভোটে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।

আমরা সরকারে এসেছি এখন আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি। জুলাই ঘোষণার প্রতিটি অংশ অক্ষর আমরা যে স্বাক্ষর করেছি, আমরা সেটা করতে চাই। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। পার্লামেন্টে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে জুলাই অ্যামেন্ডমেন্ট সংশোধনী কমিটি করা হয়েছে। এখানে এখন শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে ডিবেট ওটাও সংস্কার হবে।

তিনি বলেন, আসুন পার্লামেন্টে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই, কথা বলি কোন কোন জায়গায় সমাধান সম্ভব আমরা তা করব।

মির্জা ফখরুল বিরোধী দলগুলোর প্রতি অনুরোধ করে বলেন, আপনারা ইতোবাচক সরকারকে সময় দেন, সুযোগ দেন যাতে সরকার প্রতিশ্রুত কাজগুলো করতে পারে। মাত্র পাঁচ মাস কয়েকদিন হয়েছে। এর মধ্যে যদি সবকিছু সঠিকভাবে চাই এটা সম্ভব না।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহসভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




অভিবাসন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আওয়ামী লীগের এত মুরোদ আছে বলে মনে হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআওয়ামী লীগের এত মুরোদ আছে বলে মনে হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তারা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা ইস্যু, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, জনশক্তি রফতানি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে।।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।”

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার মনে করে এবং দুই দেশের এই অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে।”

বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বালি প্রসেসের রূপরেখা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী বাংলাদেশের এই নতুন মানবপাচার বিরোধী আইনের প্রশংসা করেন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “একটি সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের মসৃণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।” এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৪-১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধ-সহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিষয়টি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, সহকারী মন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ক্যামেরন গ্রিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. ডেমিয়ান অলিভার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মিনিস্টার-কাউন্সিলর (শিক্ষা ও গবেষণা) জর্জ থিভিওস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্টিভেন বিডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ইপিজেডে ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত

দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোর্ডের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

বৈঠকে মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আরিফুল হক চৌধুরী ও শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এর আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট এক লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা ও সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

 

এসময় প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।




রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রক্তস্নাত ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে জাতীয় সংসদকেই রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই আমাদের সবার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।’

আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ অর্জন করেছিলাম, তার ৫৫ বছর পরও যখন ভোটাধিকারের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তখন তা আমাদের জন্য একইসঙ্গে লজ্জা ও আত্মসমলোচনার বিষয়। তবে, বহু ত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ তার ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছে।’

সংসদকে রাজনীতির মূল কেন্দ্র বানানোর ওপর জোর দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এত রক্ত ও বিসর্জনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্র ও সংসদই হওয়া উচিত আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অত্যন্ত দুঃখজনক যেÑশহীদদের স্মরণ করতে এসেও আমরা দেখছি, আত্মত্যাগ থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা না নিয়ে রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে কৃত্রিমভাবে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

সুশাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদের রক্ত মিশে আছে। আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে উন্নীত করা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিপুল সংখ্যক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এখন বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজপথে আমরা যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, ঠিক একইভাবে ক্ষমতাসীন হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুশাসন নিশ্চিত করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। শহীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থকতা পাবে, যখন আমরা গণতান্ত্রিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারব।’

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ’র সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।