বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন ১৫৯৮ টাকা

আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে এর দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

রোববার (২ আগস্ট) নতুন এই দাম ঘোষণা করে সংস্থাটি বিইআরসি।

একইসঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের মাসে এর দাম ছিল ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই দাম বহাল থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।




সোমবার থেকে কাঁচামরিচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে: কৃষিমন্ত্রী

কাঁচামরিচের দাম স্থিতিশীল রাখতে সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান তিনি।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রোববার দুপুরে শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ পরিদর্শনকালে তারা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্যসহ সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমানো হচ্ছে এবং আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচদিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের জন্য বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সরেজমিনে যা দেখবেন, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এতে মানুষ সচেতন হবে, বিভ্রান্তি কমবে এবং কেউ বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির সুযোগ পাবে না।’

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্য ও কৃষিমন্ত্রী এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তারা শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান। এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।




পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না, বরং পুলিশকে হতে হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও নিরাপত্তার প্রতীক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক সেবামুখী সংস্থায় রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী আজ সকালে রাজশাহী জেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চরম দলীয়করণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সততা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি কঠোরভাবে চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনি অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তটি তাঁদের জীবনে অনেক আগেই আসার কথা ছিল। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত যে সীমাহীন বঞ্চনা ও অমানবিক যন্ত্রণা তাঁরা সহ্য করেছেন, তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ন্যায্য অধিকার ও পদমর্যাদা ফিরে পাওয়ায় তিনি সকল কর্মকর্তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

নবীন এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশের এক ঐতিহাসিক রূপান্তরকালে পেশাগত জীবনে পদার্পণ করছেন। তিনি বলেন, আইনের চোখে রাজপথের কর্মী থেকে প্রান্তিক কৃষক—সকলেই সমান। সেবা নিতে এসে কেউ যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই বাহিনীর মূল শক্তি।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ তদন্তে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তাই সকল পুলিশ সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন পেশায় অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে নবীন এএসপি প্রবেশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, এএসপি প্রবেশনারদের অভিভাবকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্য হতে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, এবারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাকটিভিটিজ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া, বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম মামুন ও বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন আবু নুমান মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। সর্ববিষয়ে সেরা তথা বেস্ট প্রবেশনার হয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৭ জন ও ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ০১ জনসহ সর্বমোট ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজেের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আশুলিয়া ও মতিঝিলে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), ডিএমপি’র বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বস্তুগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো জানান, বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, তুলনামূলক বিচারে দেশে অপরাধ প্রবণতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের হার বর্তমানে অত্যন্ত কম। তথাপি সরকার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।




সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালুর প্রস্তাব মিয়ানমারের

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো, সরাসরি নৌ যোগাযোগ স্থাপন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এসব প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত কিংবা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস বা বিটুবি কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই চলছে

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি উঠে আসে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ দ্রুত সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা এবং যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।

সরাসরি নৌ যোগাযোগের তাগিদ

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপন এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।