শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনিবএ কথা বলেন।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন ডাক্তারের হাসিমুখ এবং সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়। চিকিৎসকই পারে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। অসুস্থ অসহায় মানুষের শেষ সম্বল হয় ডাক্তার।

তিনি বলেন, মানুষকে চিকিৎসা হিসেবে কেবল ট্যাবলেট বা ওষুধ দেওয়া নয়; ভালো কথা ও সঠিক পরামর্শও বড় চিকিৎসা। চিকিৎসকদের নিজেদের এমন মানবিক মানুষে রূপান্তর করতে হবে, যা কেবল ওষুধ নয়- আচরণ দিয়েও রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

ক্যান্সার ও কিডনি রোগী বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশে মারাত্মকভাবে বেড়েছে কিডনি ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিডনি ও ক্যান্সারের রোগীদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয় এবং এই রোগীদের কষ্টের সীমা নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার শপথ নিয়েছে এই সরকার। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার বাহিরে থাকবে না।

খুব শিগগিরই দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

হামে মৃত্যুর জন্য শিশুদের পুষ্টির অভাব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়গুলোতে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। তবে এখন হচ্ছে, কারণ বাচ্চারা শালদুধ খেতে পারে না। মায়েরা শিশুদের ঠিকমতো দুধ খাওয়ায় না। এমনকি শিশুরা সুষম খাবার পায় না। সেজন্য এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ গবেষক তৈরিতে নিপসম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হেলথ কার্ডের সঙ্গে কার্যকর রোগী রেফারেল সিস্টেম সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের দক্ষতায় বিনিয়োগ জরুরি : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে দেশের কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেছেন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে সরকারি সেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে গ্রামীণফোনের ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং তাদের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের ভিশনকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত আটটি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অনুপ্রাণিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মানুষকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী দক্ষতা ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা অবকাঠামো উন্নয়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন। কর্মসূচির আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রামীণফোন জানায়, উদ্যোগটি শুরুর পর থেকে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, অর্থবহ সংযুক্তি শুধু নেটওয়ার্ক কভারেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার। এ উদ্যোগটি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো যায়, তার একটি ভালো উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উদ্যোগটির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।




সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কমবে মামলার জট : আইনমন্ত্রী

মামলার জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্‌প) কর্মসূচির পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম ১৯৯৪ সালে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে শুরু হয় এবং ২০০০ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। পরবর্তীকালে আইনটিকে সময়োপযোগী করতে বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান সরকারও আইনগত সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে মামলার জট নিরসন সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে কাজ করা এবং মধ্যস্থতায় দক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের সঙ্গে আজকের সমঝোতা স্মারক সেই যৌথ উদ্যোগেরই অংশ।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে নতুন মামলা দায়েরের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

বিচার বিভাগকে এডিআর প্রক্রিয়া আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন উপযুক্ত মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে আদালতের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার আনতেও সরকার প্রস্তুত।

আইনমন্ত্রী বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে বিচারাধীন মামলাও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়। মামলার জট কমাতে কার্যকর গবেষণা বা আইন সংস্কারের যেকোনো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার সংখ্যা কমাতে সরকার ট্রান্সফার অব প্রপার্টি আইন সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর করেও ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা পারিবারিক বিরোধ ও অপ্রয়োজনীয় মামলা কমাতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সরকারি লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ কাজে গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাইলট ভিত্তিতে কোর্ট প্যারালিগ্যাল নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্লাস্ট পরিচালিত সফল মধ্যস্থতাকে আইনগত স্বীকৃতি এবং ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে, ব্র্যাকের সেল্‌প কর্মসূচির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ, সনদ দেওয়া, সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া, ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দেওয়া এবং যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করা সম্ভব হবে।




ভেজাল খাদ্য বর্জনে জনসচেতনতার আহ্বান, কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবি

মুন্সীগঞ্জ, ৩০ জুলাই ২০২৬: ভেজাল ও রাসায়নিকযুক্ত খাদ্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রচারণায় সাধারণ মানুষকে ভেজাল খাদ্য বর্জনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

প্রচারণায় বলা হয়, ভেজাল খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এতে আরও আহ্বান জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা গড়ে তোলা, ভেজাল পণ্য বর্জন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে জনসাধারণের সহযোগিতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “জনসচেতনতা গড়ে তুলুন, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করুন।”




তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত, ‘তাকওয়া অর্গানিক’কে জরিমানা

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে সিএম লাইসেন্স ও মোড়ক নিবন্ধন সনদ না থাকায় ‘তাকওয়া অর্গানিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিএসটিআইর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানমের নেতৃত্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বিএসটিআইর প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) তৌহিদুল ইসলাম অংশ নেন।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির সরিষার তেল, মধু, ওটস, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, ঘি ও ফার্মেন্টেড মিল্কের সিএম লাইসেন্স এবং মোড়ক নিবন্ধন সনদ যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে দেখা যায়, এসব পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সিএম লাইসেন্স ও মোড়ক নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করা হয়নি।

এ অপরাধে বিএসটিআই আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সিএম লাইসেন্স ও মোড়ক নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




রাজশাহী রেঞ্জে ডিআইজির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

রাজশাহী, ৩০ জুলাই ২০২৬: দেশব্যাপী সবুজায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণার আলোকে রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), রাজশাহী রেঞ্জের উপদেষ্টা মিসেস শামীম আরা হক রেঞ্জ ডিআইজির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় ডিআইজি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), রাজশাহী রেঞ্জ, পুলিশ সুপার, রাজশাহী জেলা, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এবং রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




টেকনাফে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো থেকে ১১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজার, ৩০ জুলাই ২০২৬: টেকনাফে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোর থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে কার্গো স্টোরে তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে গোপন রাখা ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।




অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের জন্য ‘এক পদ, এক বেতন’ ও ‘ডিফেন্স কলোনি’ বাস্তবায়নের নির্দেশনা

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড পরিদর্শন করে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ‘এক পদ, এক বেতন’ (One Rank One Pay) নীতি বাস্তবায়ন এবং ‘ডিফেন্স কলোনি’ স্থাপনের উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাশরুর হোসাইন ভূইয়া।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের ‘এক পদ, এক বেতন’ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমপদের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করা হলে তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য ও কল্যাণ আরও সুসংহত হবে।

তিনি প্রতিটি জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডকে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মিলনমেলা ও সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও তাঁদের পরিবারের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে দেশের ৬১ জেলায় মেডিক্যাল স্টোরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ জোরদারের নির্দেশ দেন।

এ সময় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য সম্মানজনক আবাসন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘ডিফেন্স কলোনি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্পের জন্য জমি নির্ধারিত রয়েছে এবং সেখানে দ্রুত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের অংশগ্রহণ ও সহায়তা আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




ভোলায় স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ভোলা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা আজ (৩০ জুলাই ২০২৬) সিভিল সার্জন কার্যালয়, ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি এবং সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




সুলতানপুর সীমান্তে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ

সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ব্যাটালিয়নটি প্রায় ২৫ লাখ ০৭ হাজার ৪২০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করতে সক্ষম হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য চোরাচালানী সামগ্রী রয়েছে। জব্দকৃত পণ্যসমূহ প্রচলিত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান দমন এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষায় তাদের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




চট্টগ্রামে রাস্তা-নালা দখল করে দোকানের মালামাল রাখায় জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরীর মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। অভিযানে রাস্তা ও নালা দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে সাত ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চসিক সূত্র জানায়, অভিযানে দেখা যায়- ঝাউতলা এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে রাস্তা ও নালা দখল করে দোকানের মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন। এ ঘটনায় সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা বলেন, নগরীর সড়ক, ফুটপাত ও নালা দখলমুক্ত রাখতে চসিকের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। নগরীতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএসসিসির

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএসসিসির নগরভবন অডিটোরিয়াম এই বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গত ২৬ জুলাই নগরভবনে ১৪তম করপোরেশন সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসসিসির বাজেট ছিল ৩ হাজার ৮৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
ভোটহীন ঢাকার দুই সিটি, জবাবদিহিহীন নাগরিক সেবা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতিসহ সর্বমোট প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যেখানে প্রারম্ভিক স্থিতির পরিমাণ ৭৩০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৮১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ও উন্নয়ন বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এছাড়া ব্যায়ের ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন ও মূলধন ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয় এবং সমাপনী স্থিতিসহ মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যেখানে সমাপনী স্থিতি ৫৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পরিচালন ও মূলধন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ১ হাজার ৫৫৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

বাজেট উপস্থাপনায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি উচ্চাভিলাষী বড় অঙ্কের বাজেট প্রণয়ন না করে বাস্তবায়নযোগ্য যৌক্তিক বাজেট প্রণয়ন করতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্মানিত নগরবাসীর ওপর অতিরিক্ত করারোপ বা কর হার বৃদ্ধি না করে বরং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্ষেত্রমতে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধাদি ও সেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের ধাপ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

নাগরিকদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব নয়; এটি সম্মানিত করদাতাদের অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব ও আস্থার প্রতিফলন। এই বাজেটের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।




বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং

বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চিংফেং ঝাং। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তিনি ঢাকায় তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, চিংফেং ঝাং বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রম। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করবেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতি সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবেন। ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সফলভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করা, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরও উন্নত অর্থায়ন পদ্ধতি, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এ অগ্রযাত্রায় সহায়তা অব্যাহত রাখবো।

টেকসই উন্নয়ন ক্ষেত্রে ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এর আগে ঝাং এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

চীনের নাগরিক ঝাং সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচি। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য এডিবি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদার করা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে এডিবি বছরে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে।




পে স্কেলের আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপন : অর্থমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন মিললে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর অগ্রগতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই।

পে-স্কেল নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দিন পরপর বেতন কাঠামো নিয়ে কথা বলতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে, করুক। আমি একবারেই কথা বলব।’