‘দেখানোর উন্নয়ন’ নয়, জনকল্যাণে প্রকল্প নিতে নির্দেশ

জনপ্রিয়তা অর্জন বা শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নয়, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করবে—এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন প্রকল্পগুলো সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সভার শুরুতে দুই বিভাগের ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র উপস্থাপন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়ন কোথায় দেখতে চাই, সেই দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রকল্প প্রণয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্প একীভূত করে বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান, ব্যয় দক্ষতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে টেকসই ও যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ এমন হতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি প্রকল্পগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির ভিত্তিতে মূল্যায়ন, তদারকি ও ফলাফল পরিমাপ করা সহজ হবে।

পল্লী উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও মান বাড়াতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি নাবিকরা

বাংলাদেশি নাবিকদের পেশাগত ও আর্থিক চাহিদার কথা বিবেচনায় বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে ব্যাংকটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এ সময় তাদের পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য সহজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন পূরণে বিশেষ সুবিধাসমৃদ্ধ এই সেবা চালু করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।

এই উদ্যোগের আওতায় যোগ্য বাংলাদেশি নাবিকরা প্রায়োরিটি ব্যাংকিং সুবিধা, ঋণে বিশেষ সুদহার, নির্বাচিত ঋণসেবায় প্রসেসিং ফি মওকুফ, নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডে বার্ষিক ফি মওকুফসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এছাড়া নতুন ও বিদ্যমান যোগ্য গ্রাহকদের জন্য থাকবে বিশেষ অনবোর্ডিং সুবিধা। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন গ্রাহকরা ক্যাশব্যাক সুবিধাও পাবেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান লুৎফুল হাবিব বলেন, ‘মানুষের প্রয়োজন বোঝার মধ্য দিয়েই অর্থবহ ব্যাংকিং সেবা শুরু হয়। নাবিকরা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও তাদের পরিবারের আর্থিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিএমএমওএ’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তাদের পেশাগত বাস্তবতা ও আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে পারছি।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ নাবিকদের পেশাগত বাস্তবতা ও বিশেষ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই সহযোগিতার ফলে আমাদের সদস্যরা এমন ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন, যা তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও লাভজনক করবে।’

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রায়োরিটি অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফয়সাল হক, ডিপোজিটস অ্যান্ড ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান রাণা শহীদ হাসান, সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাহানুমা তাসরিয়ান অমি, চট্টগ্রাম প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আজিজুর রহমান এবং নাসিরাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক সজিব কাজী উপস্থিত ছিলেন।

বিএমএমওএ’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত হোসেন, সিনিয়র সদস্য ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ জানায়, বিভিন্ন পেশাজীবী ও গ্রাহকগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত আর্থিক সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতায় বিএমএমওএ’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য আরও সহজ, লাভজনক ও প্রয়োজনভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করবে।




নদী-খাল খননে দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি মডেল চান ব্যবসায়ীরা

দেশের বিলুপ্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া নদী-খাল পুনঃখননে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল, যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ কমানো এবং কৃষি খাতে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বারের মতে, পণ্য পরিবহনে সড়কের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নৌপথ সচল করা গেলে পণ্য পরিবহন খরচ ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

বুধবার (২৯ জুলাই) ডিসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এ দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

এ ছাড়া, সেমিনারে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের খালগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রক্তনালীর মতো, যদিও দখল ও দূষণেল ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।তবে এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারাদেশের খালগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, সরকার শুধুমাত্র খাল খননই করছে না, পরবর্তী সময়ে তা সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার সমম্বয়ে কমিটি গঠন করেছে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খাল ও নদী খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিসঞ্চারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকেই সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায়, এ বিষয়ে প্রযুক্তি সহায়তার দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী মত প্রকাশ করেন।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার খালের নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৪১৫টি নদী থাকলেও গত কয়েক দশকের অবহেলা, দখল ও পলি জমার কারণে ৫৫ শতাংশের বেশি খাল বিলুপ্ত বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে দেশের নৌপথ প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সচল থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা কমে মাত্র ৩ হাজার ৮৬৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ফলে দেশের মোট পণ্য পরিবহনের ৭৭ শতাংশই বর্তমানে সড়কপথ নির্ভর, যা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মহাসড়কে তীব্র যানজট ও পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নৌপথে পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে খরচ হয় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, যা সড়কপথের ১ হাজার ৫০০ টাকার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ঢাকার ১১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্কুলার ওয়াটারওয়ে কার্যকর করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী ঘেরা এই নৌপথের সঙ্গে মান্ডা, জিরানি ও কল্যাণপুরের মতো ভেতরের খালগুলোকে সচল করা গেলে ঢাকার ৩ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের যানজটজনিত ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

দেশে সাম্প্রতিক খাল খনন কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরে প্রবন্ধে জানানো হয়, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং ৫২০টি বিলুপ্ত নদী ও হাজার হাজার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রথম ১৮০ দিনে ১ হাজার কিলোমিটার এবং ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের পাশাপাশি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের প্রায় ৩০ হাজার খাল চিহ্নিত করতে ৩১ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জিআইএস ম্যাপিং প্রকল্প চালু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দিনাজপুরের সাহাপাড়া পাইলট প্রকল্পে বর্ষার পানি ধরে রেখে ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কম খরচে সেচ নিশ্চিত করার ফলে গভীর নলকূপের ডিজেল ও বিদ্যুৎ খরচ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমেছে। এতে ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছে, যা হাতিরঝিল ওয়াটার ট্যাক্সির মতোই টেকসই নৌপথের সফল উদাহরণ।

নদী ও খাল খননে ২ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দ্রুত পলি জমে যাওয়া, অবৈধ দখল এবং সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার মতো চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে স্বল্পমেয়াদি ড্রেজিংয়ের বদলে ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদি পারফরম্যান্সভিত্তিক পিপিপি চুক্তি চালু, জাতীয় লজিস্টিকস নীতি ২০২৫ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি প্রণয়ন, কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রি, খালের সংযোগস্থলে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং বেসরকারি খাতকে ড্রেজার বা যন্ত্রপাতির বিনিময়ে অংশীদারিত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।




অ্যাভিয়েশন খাতে ইউএস-বাংলার দেড় বিলিয়ন বিনিয়োগ মাইলফলক অর্জন করেছে : বেবিচক চেয়ারম্যান

অ্যাভিয়েশন খাতে ইউএস-বাংলার দেড় বিলিয়ন বিনিয়োগ মাইলফলক অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত ‘বিয়ন্ড দ্য বোয়িং’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে একটি হলো আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা। দেশের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বহর শক্তিশালী ও রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। তারা দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক মূল্য ধরে রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের উপস্থিতি বৃদ্ধিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্স থেকে দেশের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে ইউএস-বাংলা, যা বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্যবান অবদান রাখছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একদম নতুন বোয়িং বিমান অন্তর্ভুক্ত করার আজকের এই পরিকল্পনার ঘোষণা কেবল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জন্যই নয়, বরং দেশের অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্যও একটি মাইলফলক অর্জন। এই উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আমাদের অ্যাভিয়েশন খাতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি বলেন, এই বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সটি বেশকিছু নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য চালু করার পরিকল্পনা করছে, যা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বাকি অংশের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ তৈরি করবে। এই সম্প্রসারণ পর্যটন বৃদ্ধি করবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর করবে, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করবে এবং বাংলাদেশি পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য আরও সুবিধা প্রদান করবে।

মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বোয়িংয়ের মধ্যে এই অংশীদারত্ব কেবল বিমান ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতি একটি যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের ধারাবাহিক উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, আমি বোয়িংয়ের প্রতিও তাদের নিরন্তর অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সম্ভাবনার প্রতি আস্থার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তার উচ্চমান, সেবার শ্রেষ্ঠত্ব এবং কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি সাফল্য কামনা করি।

চার হাজার পেশাদারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রশংসা করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাইরেও এয়ারলাইন্সটি পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, কেবিন ক্রু, টেকনিশিয়ান, অ্যাভিয়েশন ম্যানেজারসহ দক্ষ অ্যাভিয়েশন পেশাদার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যারা এই শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

তিনি বলেন, সিভিল অ্যাভিয়েশনে আমরা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিমান নিরাপত্তা, সুরক্ষা, নিয়ন্ত্রণমূলক তদারকি এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন বাজারে সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে।




বৈদেশিক লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ ও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সেবা বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে ‘ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়েটেড ফ্রেমওয়ার্ক’। এর আওতায় প্রবর্তিত ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ (ডিভিএ)-এর মাধ্যমে এখন থেকে সহজেই বৈশ্বিক ই-কমার্স ও আন্তর্জাতিক নানা খাতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করা যাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) প্রবর্তন করা হয়েছে। যা ব্যবহারকারী ডিজিটাল ওয়ালেট বা সংরক্ষিত-মূল্যের অ্যাকাউন্ট হিসেবে কাজ করবে। এসব অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত একটি মাস্টার ডিভিএ-এর আওতায় পরিচালিত হবে।

ডিভিএ-এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত, চিকিৎসা ও সরকারি ভ্রমণসহ ভ্রমণ-সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা যাবে। এছাড়া সদস্যপদ ফি, আইটি সেবা, ভিসা ফি এবং হোটেল বুকিংয়ের মতো খাতে ব্যয় করা যাবে। ডিভিএ-ব্যবহারকারী সীমিত আকারে অনলাইন ব্যবস্থায় ই-কমার্স পদ্ধতিতে পেমেন্ট করতে পারবেন।

এ সুবিধা রিটেনশন কোটা এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবের স্থিতির বিপরীতেও প্রযোজ্য হবে।

এই ধরনের সেবা চালুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

এই উদ্যোগ ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পূর্বে ব্যাংকগুলো মূলত অনলাইন পেমেন্টে গেটওয়ের মাধ্যমে কেবল ইনওয়ার্ড রেমিটেন্স আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পে-পল ও স্ট্রাইপ-এর মতো বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত করতে পারে।




এবার জিয়াউল আহসানের মিরপুরের বহুতল ভবনে দুদকের অভিযান

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাদা স্বর্ণের অলঙ্কারসহ শত কোটি টাকার সম্পদের নথিপত্র মিলেছিল।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম জিয়াউল আহসানের বাড়িতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আজ ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুদক। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুদক জানায়, আজ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি টিম মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এর মিরপুর ডিওএইচএস’র ৩১ নম্বর রোডের ৫৪১ নম্বর বাড়ির লেভেল ৩ এর ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরির কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গত ২০ জুলাই জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের জয়িতা নামের ভবনে ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তল্লাশি চালায়। যেখানে স্বর্ণ ও হোয়াইট গোল্ড, দামি আবাবপত্র, চেক বই, মানি রিসিট ও পোশাকসহ অন্তত শত কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

গত ২৭ জানুয়ারি সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা (অ্যাটাচড) স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম জিয়াউল আহসানের ক্রোক করা সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।

ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্পেস ইনোভেশন লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এআই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও এআই ল্যান্ডস্কেপ লিমিডেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জিয়াউল আহসানের ঢাকায় একটি আটতলাসহ পাঁচটি বাড়ি, একটি বাগানবাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট ও ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি জিপ গাড়ি, শেয়ারবাজারে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ, এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও সীমা লঙ্ঘন করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যাংক হিসাবে জমা করার তথ্য রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশের প্লট, ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তারা এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অন্যদিকে জিয়াউল আহসান ও নুসরাত জাহানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাজগোজ লিমিটেডের তিনজন পরিচালক তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৬ ব্যাংকের ৮২টি হিসাবে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা ও ৩৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। নুসরাত জাহানের ব্যাংক হিসাব থেকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ব্যাংক হিসাবে ৯১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৫ টাকা ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৫ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

২০১৭ সালে জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে দুদক। ওই দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় জিয়াউল আহসান ও তার পরিবার দুই লাখ মার্কিন ডলার মালয়েশিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিশোধ করেন। এছাড়া জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

দুদক অনুসন্ধানকালে আরও জানতে পারে, জিয়াউল আহসান দুবাইয়ের ফাস্ট আবুধাবি ব্যাংক নামের একটি ব্যাংকের হিসাবে ২০ কোটি টাকা ও আরেকটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক হিসাবে বিপুল টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদক তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে জিয়াউলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়াসহ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট গুম-খুনের ‘মাস্টারমাইন্ড’, ফোনকলে আড়িপাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড ও ফাঁস করা সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত জিয়াউল আহসান, তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া জিয়াউল সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও প্যারাট্রুপার ছিলেন। ২০০৯ সালে মেজর থাকাকালে তিনি র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক হন। সেই বছরই তিনি পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হন এবং র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পান। র‌্যাবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই জিয়াউল আহসান হয়ে উঠেছিলেন গণমাধ্যমে পরিচিত নাম।

কর্নেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক করে তাকে র‌্যাবেই রেখে দেওয়া হয়। আর ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে জিয়াউল আহসানকে পাঠানো হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালকের দায়িত্বে। ২০১৭ সালে এনটিএমসির পরিচালক করা হয় জিয়াউল আহসানকে। ২০২২ সালে সংস্থাটিতে মহাপরিচালক পদ সৃষ্টির পর তাকেই সংস্থাটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছিল।




সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেফতারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পল্টনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক দখল ও আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে এ খাতে আস্থা ফিরবে না। এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জনপরিসরে এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দায়মুক্তির দাবি করলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো কর্মকাণ্ড এ সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালনের সময় শেয়ার কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলাসহ গ্রেফতারের সুযোগ রয়েছে। অতএব রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এজন্য তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কয়েক মাসের ঊর্ধ্বমুখী ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সর্বশেষ হিসাবে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস (মোট) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য বা নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭৪৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসজুড়ে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। ৬ জুলাই গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। পরে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমে এলেও তা আবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে স্থিতিশীল রয়েছে।

১৩ জুলাই রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন এবং ১৬ জুলাই ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ব্যবস্থাপনার কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। যদিও নিয়মিত আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের কারণে রিজার্ভে ওঠানামা হচ্ছে, তবুও সামগ্রিক অবস্থান আগের তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করে। এর মধ্যে গ্রস রিজার্ভ মোট বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের পরিমাণ নির্দেশ করে, আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার চিত্র তুলে ধরে।

বর্তমানে এ হিসাব অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আমদানি ব্যয় নির্বিঘ্নে পরিশোধ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি বৈদেশিক খাতে আস্থা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।




দেশের বাজারে সব সয়াবিন তেলেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে

বাংলাদেশের বাজারে খোলা ও বোতলজাত-উভয় ধরনের সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের পরীক্ষায় ৬০টি নমুনার সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। ঢাকার কয়েকটি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

বিশ্বখ্যাত ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন এন্ড অ্যানালাইসিস’-এ গত এপ্রিল মাসে এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হয়। গবেষণায় সয়াবিন তেলে ছয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার (Elsevier) এই গবেষণা প্রকাশ করেছে।

গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছাড়াও এর বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতির মধ্যে রয়েছে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন।

গবেষকদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার প্রবেশ দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালের আগস্টে জমা দেওয়া হয়। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা গৃহীত হয়। একই মাসে এটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। পরে তা ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় স্থান পায়।

গবেষকরা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল এবং ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। মোট ৬০টি নমুনা আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। ব্র্যান্ডেড তেলে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণার উপস্থিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নন-ব্র্যান্ডেড তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেজগাঁও থেকে সংগ্রহ করা নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনায় সর্বোচ্চ পরিমাণ দূষণ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, শিল্পাঞ্চল এলাকার পরিবেশ, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এই দূষণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে ব্র্যান্ডেড তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ায় গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং কিংবা পরিবহনের বিভিন্ন ধাপেও প্লাস্টিক কণা তেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

কী ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল ফাইবার বা তন্তুজাতীয় কণা। এ ছাড়া ফ্র্যাগমেন্ট, ফিল্ম, ফোম, পেলেট ও বিডও পাওয়া গেছে। ফাইবারজাতীয় এসব কণা মূলত সিনথেটিক কাপড়, প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ, উৎপাদন পরিবেশ এবং বাতাসে ভাসমান কৃত্রিম তন্তু থেকে আসতে পারে বলে জানান গবেষকরা।

সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটার আকারের কণা। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আকারে খুব ছোট কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের কোষ ও টিস্যুতে প্রবেশের সক্ষমতা রাখে। তবে মানুষের শরীরে এসব কণার প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে প্রথমবারের মতো পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এই দুটি পলিমার উৎপাদন যন্ত্রপাতি, ফিল্টার, সিলিং উপকরণ বা প্যাকেজিং সামগ্রী থেকে তেলে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

গবেষণায় হিসাব করা হয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শুধু সয়াবিন তেল থেকেই গ্রহণ করতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও বেশি। একজন শিশু দৈনিক গড়ে ৭৭ দশমিক ২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে জমা হলে তা প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এই গবেষণা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণ প্রমাণ করেনি। বিষয়টি সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয় এবং এ নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

কী বলছেন গবেষকরা

গবেষণার প্রধান লেখকদের একজন রুনা আক্তার মীম ও সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় সয়াবিন তেলের ব্যাপক ব্যবহার বিবেচনায় এটি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। যদিও বর্তমান মূল্যায়নে দূষণের মাত্রা ‘মধ্যম’ এবং সামগ্রিক ঝুঁকি ‘নিম্ন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তারা সুপারিশ করেন, ভোজ্যতেল উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আধুনিক পরীক্ষাগার সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।




পদ্মা সেতুতে ইটিসির নতুন মাইলফলক, ১০ কোটি টাকা ছাড়াল টোল আদায়

পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থাপনা নতুন এক সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) ইটিসির মাধ্যমে টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইটিসিতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাশলেস ও ডিজিটাল টোল আদায় ব্যবস্থা সেতু ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এর মাধ্যমে টোল আদায় নতুন গতি পেয়েছে। ম্যানুয়াল টোল আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তে সারা দেশে একক ও অভিন্ন পদ্ধতিতে ক্যাশলেস ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ এরই মধ্যে সেতু ব্যবহারকারীদের দ্রুত আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ইটিসির মাধ্যমে মোট টোল আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা ১০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সময়ে পদ্মা সেতুতে নিয়মিত চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, বাণিজ্যিক ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ ইটিসিতে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮টি। পরিষেবাটি চালুর পর থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে সেতু পার হয়েছে।

এই অর্জন প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়ন এবং ইটিসির মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সেবা দিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের কারণে পদ্মা সেতুতে আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইটিসি সিস্টেমে ১০ কোটি টাকার বেশি টোল সংগ্রহ এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের গণপরিবহন খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারিগরি অংশীদার, পরিবহন মালিক সমিতি এবং সেতু ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেতু ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে পদ্মা সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে। বর্তমানে ‘ট্যাপ’, ‘বিকাশ’, ‘নগদ’ ও ‘উপায়’-এর মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। ফলে নগদ অর্থে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টোল দেওয়ার ভোগান্তি দূর হয়েছে।

ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ‘ডি-টোল’ অপশনে গিয়ে ‘মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করুন’ নির্বাচন করে গাড়ির নম্বর এবং চেসিস নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর ‘ডি-টোল টপ-আপ’ সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ রিচার্জ করতে হবে। প্রথমবার মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীরা ইটিসি লেন ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পারাপার করতে পারবেন। এ জন্য বিআরটিএ প্রদত্ত আরএফআইডি ট্যাগই যথেষ্ট, আলাদা কোনো ট্যাগের প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটের ইমাদ পরিবহন, দোলা পরিবহন, সার্বিক পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অসংখ্য বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিক ইতোমধ্যে ইটিসিতে নিবন্ধন করে নিয়মিত এ সুবিধা ব্যবহার করছেন।

ইটিসি লেন ব্যবহারকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিসীমার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে সেতু অতিক্রম করা যায়। ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। ঈদের মতো ব্যস্ত সময়েও যানজট কমছে, জ্বালানির অপচয় রোধ হচ্ছে এবং স্টপ-অ্যান্ড-গো কমে যাওয়ায় কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, পদ্মা সেতুর ইটিসি মডেল দেশের মহাসড়ক ও সেতু ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর শতভাগ টোল আদায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রধান সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও ইটিসির মাধ্যমে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে সব পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুত নিজ নিজ যানবাহন ইটিসিতে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনগণের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক সড়ক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।