জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধান নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে সরকার এ সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি সংকট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা তো বাস্তবতাই। দেশের মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেটি আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এই দুটি এফএসআরইউ দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব নয়। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য যে জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলোর ইনস্টল ক্যাপাসিটির ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে রাতারাতি এর কোনো সলিউশন নেই। সরকার এই সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের বর্তমান সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫-৬টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হবে।

জাপানের সঙ্গে করা ইপিএ কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে জাপানের সঙ্গে করা চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেটি কার্যকর হবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং প্রধান প্রধান রপ্তানি খাতের সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




৯৯৯-এর তাৎক্ষণিক সেবায় আড়াই ঘণ্টায় ফিরে মিলল প্রবাসযাত্রীর ব্যাগ, পুরস্কৃত রেলওয়ে পুলিশের ৫ সদস্য

ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬: জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর ট্রেনে ভুলক্রমে ফেলে যাওয়া পাসপোর্ট, বিমান টিকিটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসম্বলিত ব্যাগ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফিরে পেয়েছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসী যাত্রী জসিমউদ্দিন।

এ ঘটনায় দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় রেলওয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্যকে পুরস্কৃত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল বলবন আহমেদ এবং এসআই মিজান আহমেদ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাগটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, ফলে সৌদি আরবগামী ওই যাত্রীর ভ্রমণ নির্বিঘ্ন হয়।

দ্রুত, কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশি সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ রেলওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট পাঁচ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনা জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং রেলওয়ে পুলিশের সমন্বিত কার্যক্রমের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৬: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তিনি সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানান। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।




যশোরে ৪৯ বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১

যশোর, ২৬ জুলাই ২০২৬: সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে যশোরে ৪৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৪টি স্বর্ণের বার এবং একটি অর্ধেক স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

৪৯ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোট ৪টি পূর্ণাঙ্গ স্বর্ণের বার এবং একটি অর্ধেক স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিজিবি জানায়, স্বর্ণের চালানটি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনী।




সুন্দরবন রক্ষায় বন বিভাগ ও সিপিজির যৌথ অভিযান: বিষযুক্ত ২০ কেজি চিংড়ি, নৌকা ও জাল জব্দ

খুলনা, ২৬ জুলাই ২০২৬: সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অবৈধ বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ আহরণ প্রতিরোধে বন বিভাগ ও কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি)-এর যৌথ অভিযানে খুলনা রেঞ্জের ডাগরা খাল এলাকা থেকে বিষযুক্ত ২০ কেজি চিংড়ি, একটি ডিঙ্গি নৌকা এবং মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে চিংড়ি আহরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বিষযুক্ত ২০ কেজি চিংড়ি, একটি ডিঙ্গি নৌকা এবং ব্যবহৃত মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ শুধু জলজ প্রাণীর জন্য নয়, বরং সমগ্র বনজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ, স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।




বরগুনায় ডিবির বিশেষ অভিযানে ৩,৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বরগুনা, ২৬ জুলাই ২০২৬: বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বরগুনা সদর থানাধীন বরগুনা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে এক ব্যক্তিকে আটক করা হলে তার হেফাজত থেকে ৩,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বরগুনা জেলা পুলিশ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।




বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকা থেকে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটিতে মামলা করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিবদ্ধ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
​অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আরিফুল হক নাহিদ। তিনি ডুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী।
​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকারে এসে ৪-৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। তারা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর করে।
​দুর্বৃত্তরা নাহিদের কাছ থেকে একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে স্বজনদের ফোন করিয়ে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। পরে তাকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর এলাকাভুক্ত অংশ ফেলে রেখে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
​পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় নাহিদ তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন। স্বজনরা জানান, শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
​এ ঘটনায় গত ২৪ জুলাই ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল)-এর অনুমতি না থাকার অজুহাতে থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে অনেক বুঝিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয় (জিডি নম্বর: ১১৮৬, তারিখ: ২৪/০৭/২০২৬)।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কহিনুর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​তবে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) মো. রায়হান সরকার জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​এদিকে, প্রকাশ্যে মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে ডুয়েট শিক্ষার্থী অপহরণ ও পুলিশি গড়িমসির ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।




খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল

বর্তমানে দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষ্যে ‘কৃষিই কৃষ্টি-কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, কৃষি নিয়ে অনেকেই পড়া লেখা করলেও বিসিএস দিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ অন্য জায়গায় চলে যান।

তিনি বলেন, কৃষিতে যা পড়া লেখা করেন তারা মাটির মানুষ ও দেশপ্রেমিক। তাদের শরীর থেকে মাটির গন্ধ পাওয়া যায়।

এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের অর্থনীতির ভিত্তি একেবারেই ভেঙ্গে দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

এসব সংকট থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে সরকার দেশ মেরামত করে এগিয়ে নিবে। সরকারের মূল পরিকল্পনা এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো পুনর্নির্মাণ করা।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ৪ কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার। একটা পদের জন্য ৫ লাখ আবেদন আসে। এই সমস্যা রাতারাতির শেষ করা যাবে না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠামো সাজাতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রমশক্তি বিদেশে পাঠাতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

এসব সেক্টরে সরকার এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী।




পলিথিনমুক্ত পরিবেশ গঠনে টাঙ্গাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

টাঙ্গাইল, ২৬ জুলাই ২০২৬: পরিবেশ দূষণ রোধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আজ (২৬ জুলাই ২০২৬) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পার্কের বাজারে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্যাম্পেইনে পরিবেশ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং সাধারণ জনগণের মাঝে পলিথিন ব্যবহারের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বক্তারা বলেন, পলিথিনের নির্বিচার ব্যবহার মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন পরিহার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পলিথিনের ব্যবহার কমাতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।




মিরপুরে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় জীবন সংশয়ের শঙ্কা

রাজধানীর মিরপুরে ডেভলপার কোম্পানি ‘আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’-এর কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন এক স্যানিটারি মালামাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি ‘এম এম ট্রেডিং’-এর স্বত্বাধিকারী, আবাসন প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় সমুদয় অর্থ পরিশোধ করেও নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও দলিল পাননি। উপরন্তু পাওনা অর্থ পরিশোধ করে দলিল গ্রহণের অনুরোধ করায় তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি মালামাল সরবরাহ করে আসার সুবাদে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সাথে ব্যবসায়িক সখ্যতা গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলামের। সেই পরিচয়ের সূত্রে ঢাকার মিরপুর শাহ আলী থানাধীন সেকশন-১, ব্লক-এফ, রোড নং-৪-এ অবস্থিত প্রেজেন্ট বাড়ি নং-২৯ (প্রজেক্ট হোল্ডিং নম্বর-১/জি/১-১)-এর ৭ম তলা অনুমোদিত নকশার ৬ষ্ঠ তলার ১,৩৭৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তি করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার উপস্থিতিতে ৭২ লাখ টাকা চূড়ান্ত মূল্যের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় এবং বায়না রেজিস্ট্রি দলিল (নম্বর-৭৫০৬) সম্পাদন করা হয়।

বায়না দলিল অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আবাসন প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ১৯ ডিসেম্বর তিনটি পৃথক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া ও রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনের অনুরোধ জানানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নোটিশের কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো নানাভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আইনানুগ পথ বেছে নিয়ে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-৫৯৩/২০২৫) দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে বলে ভুক্তভোগী জানান। মামলা তুলে নিতে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মনিপুরের ৬০ ফিট মেইন রাস্তায় অবস্থিত ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ভয় দেখাচ্ছে। পরবর্তীতে হাত-পা ভেঙে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় নিজের জানমাল ও ব্যবসার নিরাপত্তায় মিরপুর মডেল থানায় গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ (জিডি নম্বর-৩৮১৮) এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (জিডি নম্বর-৩২২৯) তারিখে দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম।




পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক কলহ ও একমাত্র সন্তানের চরম অবাধ্যতার জেরে মা-বাবাকে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে রমিরাজ দাশ গুপ্তকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাপড় কাটার একটি রক্তমাখা কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আনোয়ারা থানা পুলিশ। এর আগে, শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে নিহতের ভাই তপন দাশ গুপ্ত (৫৭) বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের দেবেন্দ্র মহাজন বাড়ির বাসিন্দা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার রমিরাজ দাশ গুপ্ত তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তিনি অত্যন্ত অবাধ্য প্রকৃতির ছিলেন এবং কোনোভাবেই তাকে সংশোধন করা যাচ্ছিল না। এই অবাধ্যতা ও আচরণগত সমস্যার কারণে প্রায়শই তিনি মা-বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রমিরাজ তার মায়ের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিরাজ উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে মা কল্পনা দাশ গুপ্তের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ সময় স্ত্রীকে বাঁচাতে ও ছেলেকে প্রতিহত করতে বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত এগিয়ে এলে ঘাতক রমিরাজ তার ওপরও হিংস্র হামলা চালান। কাঁচি দিয়ে বাবার গলা ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকেই ঘাতক রমিরাজ দাশ গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত কল্পনা দাশ গুপ্তের এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বপন দাশ গুপ্তের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘পারিবারিক কলহ এবং একমাত্র সন্তানের অবাধ্যতার জের ধরেই এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’




পুলিশ পদকের তালিকা তাড়াহুড়োর সঙ্গে করা হয়েছিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এ বছর পুলিশ পদকের তালিকা তাড়াহুড়োর সঙ্গে করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমরা সেই তালিকা যাচাই করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি পেয়েছি। দুই-একটি ক্ষেত্রে কিছু অনিয়মও হয়ে থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই করে বিশুদ্ধ তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুরস্কার ও তিরস্কার কার্যক্রমের আজ তৃতীয় অনুষ্ঠান। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখব। যারা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে চাই। ইতোমধ্যে পুলিশের মধ্যে আমরা ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি।

তিনি বলেন, মূলত রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে বিভিন্ন বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বছর পুলিশ পদক দেওয়া হয়নি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছর পুলিশ পদকের তালিকা তাড়াহুড়োর সঙ্গে করা হয়েছিল। আমরা সেই তালিকা যাচাই করতে গিয়ে কিছু ত্রুটি পেয়েছি। দুই-একটি ক্ষেত্রে কিছু অনিয়মও হয়ে থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই করে বিশুদ্ধ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। বিষয়টি এখনও আমার কাছে পেন্ডিং রয়েছে। আজ বিষয়টি জেনেছি। খুব দ্রুতই এটি শেষ করব।

সম্প্রতি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথ উভয় অনুষ্ঠানই অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে জন্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি ঘটনাক্রমে সেদিন পাওয়া যায়। প্রথমে দুজন আনসার সদস্য এটি দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের জানান। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। এটি কাকতালীয়ভাবে সেদিনই পাওয়া গেছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওই আয়োজনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।




ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।




ছয় মাসে মেটলাইফের ১৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) এক হাজার ৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। গ্রাহকের বীমা সুবিধা হিসেবে পরিশোধ করা অর্থের পাশাপাশি চিকিৎসা ও মৃত্যু দাবি হিসেবে পরিশোধ করা অর্থ এর অন্তর্ভুক্ত। কোম্পানিটি গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘বছরের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া বীমা দাবির পরিমাণই প্রমাণ করে, গ্রাহক ও তাদের পরিবারের প্রয়োজনে পাশে থাকার ব্যাপারে আমরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং দেশের বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে চাই।’

মেটলাইফ ধারাবাহিকভাবে সময়মতো বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের রেকর্ড বজায় রেখে আসছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে মেটলাইফ দুই হাজার ৮৯৫ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা বাংলাদেশের সব জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৯৮% দাবি নিষ্পত্তির হার বজায় রেখেছে।




আওয়ামী লীগের ধ্বংস করা দেশ গড়ে তুলছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন টেকসই বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়ার ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন।

গতকাল শনিবার দুদিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধ্বংসের রাজনীতি করে আর বিএনপি করে গড়ার রাজনীতি–এটাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশ ধ্বংস করেছে, লুটপাট করেছে। বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে সেই দেশ গড়ে তুলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষিপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন বাজারজাতকরণ পরিকল্পনার তাগিদ দেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, রেজাউল করিম বাদশা এমপি, মোশারফ হোসেন এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুরাইয়া জেরিন (রনি)।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, পল্লির উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করলেই চলবে না; আগে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রান্তিক চাষিরা হাড়ভাঙা খাটুনির পরও উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে কৃষিকাজের প্রতি দিন দিন মানুষের অনীহা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আশঙ্কাজনক।




তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার তিনি দেশে ফিরেছেন।

তুরস্ক পৌঁছে সেনাবাহিনী প্রধান দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবির-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সফরে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার, চিফ অব দ্য তার্কিশ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু, তুর্কি স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল ও ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রিসেপ এরদিনক ইয়েতকিন-এর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সির (এসএসবি) প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। তুর্কি স্থলবাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের শীর্ষ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আসিসগার্ড, তুসাস, এমকেই, সারসিলমাজ, এসটিএম, রকেটসান, আসেলসান ও বায়কার।

পরিদর্শনে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হনG পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ভারতে আন্দোলন পদত্যাগ নিয়ে পর্দার আড়ালে ৪৮ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাবনাতেও ছিল না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে হওয়া তিনটি মূল্যায়ন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও দিল্লিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার এবং অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ছিল। দ্বিতীয়ত, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যেমন- শিক্ষা সচিবের বদলি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল এমনকি নিট পরীক্ষা পরিচালনার সংস্থা এনটিএ-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনাও বিক্ষোভকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।তৃতীয়ত, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবারের অধিবেশনে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং নারী সংরক্ষণ বিলের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো সংসদে তোলার কথা ছিল। এগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিজেপিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। ফলে অধিবেশন পণ্ড হলে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারতো।

ভারতে সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুরুর প্রথম দিন (গত সোমবার) অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সরকার তখন ধারণা করেছিল, এবার হয়তো বিক্ষোভ ধীরে ধীরে থেমে যাবে। কিন্তু এই ধারণা বদলাতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

বিজেপির একজন এমপি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব নেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর সেটির প্রতিক্রিয়াগুলো গভীরভাবে যাচাই করা হয়। তাতে দেখা যায়, যন্তর মন্তরের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের আন্দোলনেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। এমনকি মুম্বাইয়ে নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা সত্ত্বেও উপস্থিতি কমেনি।

বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি মানুষের মনোভাব পরিবর্তন হচ্ছিল না। হাতে বেশি বিকল্পও ছিল না। কিন্তু তখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদি পদত্যাগের বিষয়ে একটুও ইঙ্গিত পেতেন তাহলে হয়তো এই প্রস্তুতি নিতেন না।

সূত্রটি জানায়, এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনোভাবেই বোঝা যাচ্ছিল না যে পদত্যাগ আসন্ন।

তরুণদের আন্দোলন চলাকালে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছিল যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি মূলত রাজনৈতিক। দলের নেতাদের আশঙ্কা ছিল, দাবি মেনে নেওয়া হলে বিরোধীরা এটিকে রাহুল গান্ধীর নৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করবে। সূত্রগুলো জানায়, এমন ভাবনা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতার কারণে বিজেপির মধ্যে সুর নরম হতে শুরু করে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলা দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, একটা সময় ধর্মেন্দ্রর দপ্তর ছাড়ার বিষয়ে কথা ওঠে। রাজ্যের কিছু নেতাও বলতে শুরু করেন, এই অবস্থায় পদ ধরে রাখাটা অবাস্তব হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর বা জাতীয় পরিসরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ফলে অল্প সময়ের সিদ্ধান্তে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।




নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দু’আনী দুধকুড়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মাহফুল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত মাহফুল মিয়া সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের দু’আনী দুধকুড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান মাহফুল। রোববার ভোরে তার মা ঘুম থেকে উঠে ছেলের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকে মাহফুলকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়, দেড় মাসেই নিভল নবদম্পতিসহ ৩ প্রাণ

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক নবদম্পতি ও তাদের সঙ্গে থাকা আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনদিনের ব্যবধানেমারা যান ফাহিমা আক্তার, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন ও ভাগনি হাফসা। ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বারের গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে ফাহিমা আক্তার। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে স্বামী শাহিনকে নিয়ে উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় আসে ফাহিমার বড় বোনের আট বছরের মেয়ে হাফসা। বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান শাহিন। শুক্রবার মারা যায় শিশু হাফসা। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ফাহিমার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার হাফসাকে দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকালে গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা শেষে একই কবরস্থানে স্বামীর পাশে তাকে দাফন করা হয়।

ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বাসায় ওঠার পর থেকেই গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।




আইনি যা সুবিধা সবই পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আইনগতভাবে যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, সেগুলো পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটা বিধান আছে। ছয় মাসের প্রটেকশনের সুযোগ তিনি পাবেন। এছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যা সুযোগ-সুবিধা সবই পাবেন।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‌‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে ফোনালাপ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। এমন দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দেশের একটি জাতীয় দৈনিক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি দুদক ও ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।