কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেন, কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন জুয়া, অনিয়ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. রকিবুল হাসান খান রকি। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খোরপোশ ভাতা পাবেন বলে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশের পরপরই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করলে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত রাখার নিয়ম রয়েছে, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে আগে থেকেই খবর পেয়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা একাধিক ব্যাংকে বেশ কয়েকটি হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সহকর্মীরা জানান, অফিসে তিনি সবসময় চুপচাপ থাকতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা বা কথাবার্তা বলতেন না। নিজের মতো করেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রকিবুল হাসান খান রকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




সোনাহাট স্থলবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন‍্য বন্ধ

দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। গত ১৮ জুলাই থেকে এ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাহাট স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোনো ভারতীয় পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত। তবে গত ১৮ জুলাই থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় ৪ দিন ধরে ১টি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের ও ছোট আকারের পাথর সরবরাহ করছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট পাথর দেওয়া হচ্ছে, যা অটো ক্রাশিং মেশিনে ভাঙার পর প্রয়োজনীয় মাপ পাওয়া যায় না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পাথর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) শুক্কুর আলী বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতাম। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় গত ৪ দিনে ১টি ট্রাকও পাঠাতে পারিনি।

আমদানিকারক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, কয়েক দিন আগেও প্রতি টন পাথরের দাম ছিল ১ হাজার রুপি। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ রুপিতে পৌঁছেছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় ১০০ ট্রাক পাথরের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক। তার ওপর দেওয়া হচ্ছে ছোট আকারের ও ময়লাযুক্ত নিম্নমানের পাথর। এ কারণে আপাতত আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব পাথর দিয়ে নির্মাণকাজের মান ঠিক থাকে না। তাই ঠিকাদাররাও কিনতে চাইছেন না।

এ বিষয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।




ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সাররা এখন ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতেই বিদেশ থেকে আয়ের অর্থ দেশে আনতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স গ্রহণ, ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে নতুন সুবিধা।

বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এ নির্দেশনার মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি ক্রেতা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে প্রচলিত রপ্তানি নথির পরিবর্তে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, ইনভয়েস এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে বিদেশ থেকে আয়ের অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে।

এ ছাড়া অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ করতে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় নির্বাহ ও বৈদেশিক লেনদেনে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ করবে, আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও সংযুক্ত করবে। একই সঙ্গে এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও ডিজিটাল-চালিত রপ্তানি খাত গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।




এডিপি বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং গতি সঞ্চারে এডিপি বড় ভূমিকা রাখে। এটি ঠিকমতো হলে দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৫টি।

পরে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেশকিছু প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আইএমইডি’র সাম্প্রতিক রিপোর্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগের নীতিমালার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এগুলো শেষ হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে চালাতে সাহায্য করবে। নতুন সরকারের মেয়াদের অল্প সময়েও পুরোনো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তবে আইনি বা নীতিগত পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে একটা ভালো পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে।

রেট শিডিউল বা দর তালিকা পর্যালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বা সংস্থার (যেমন-এলজিইডি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) আলাদা আলাদা রেট শিডিউল রয়েছে, যা দিয়ে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে, যা এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই রেট শিডিউলগুলো পর্যালোচনা করে সাধারণ এবং বিশেষ কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল তৈরি করা হবে, যেন সে অনুযায়ী প্রাক্কলন তৈরি করা যায়।

প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও গাফিলতি প্রসঙ্গে সাকি বলেন, প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাড়তি অপচয় ঘটে। এর পেছনে সমন্বয় ও জবাবদিহির অভাব এবং দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে।




বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। বৈঠকে বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

বৈঠকে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

পরে বৈঠকে বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

বুধবার (২২ জুলাই) থেকে করদাতারা ওই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে এনবিআর। এ বিষয়ে আজ এনবিআর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্ব একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে, গত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা সফলভাবে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি করদাতাদের এই ব্যাপক আগ্রহই এই পদ্ধতিতে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার মূল কারণ।

নতুন করবর্ষে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে করদাতারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। ওই তালিকায় রয়েছে : ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক। এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমর্থ নন, তারা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
হ্বান

এনবিআর আরও জানায়, করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.etaxnbr.gov.bd) তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন। এই সিস্টেমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট ও নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পরপরই করদাতারা তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে অফিস চলাকালীন সময়ে কল সেন্টারের (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর। চলতি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে, নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাবেন করদাতারা। তবে ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে এই প্রণোদনা পাওয়া যাবে না, বরং অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।




নরসিংদীতে ঘর বিক্রিতে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ভাবির বিরুদ্ধে থানায় জিডি

নরসিংদীতে পৈতৃক জমি ও বসতঘর নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। উপজেলার দগরিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আফরোজা আক্তার স্মৃতি নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

​ভুক্তভোগী নাছরিন ইসলাম (৪০) বাদী হয়ে থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার স্মৃতি বাদীর ভাসুর (মৃত ফেরদৌস মিয়া) স্ত্রী।

​ঘটনার নেপথ্যে জমি ও বসতঘরের বিরোধ

​লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, নাছরিন ইসলামের স্বামী মো. শাকিল মিয়া ও অভিযুক্ত স্মৃতি’র মরহুম স্বামী ফেরদৌস মিয়া আপন ভাই। প্রায় ১০ বছর আগে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া তিন শতাংশ জমির নিজস্ব অংশ বিক্রি করেন তারা। তবে ওই জমিতে থাকা একটি পুরাতন টিনশেড ঘরটি দুই ভাইয়ের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার একটি সামাজিক সমঝোতা ছিল।

​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাকিল মিয়া দগরিয়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সমঝোতা অনুযায়ী টিনশেড ঘরটি ভাগ করার উদ্দেশ্যে ভাঙতে যান। এ সময় অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার স্মৃতি ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতে শাকিল মিয়ার ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।

​প্রবাসে থাকা সন্তানকে হত্যার হুমকি

​ভুক্তভোগী নাছরিন ইসলাম জানান, ঘর সরাতে গেলে তাদের চরম আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেন আফরোজা আক্তার। শুধু তাই নয়, বাদীর প্রবাসে থাকা সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

​”আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে গেলে উল্টো আমার স্বামীকে মারধর করা হয় এবং বিদেশে থাকা সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

— নাছরিন ইসলাম (অভিযোগকারী)

​প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

​ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার স্মৃতি’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​অন্যদিকে, এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




মহাসড়ক চাঁদাবাজিমুক্ত করার অঙ্গীকার হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের

আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধ টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আশ্বাস দেন, এই সময়ের পর যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের টাকা আদায়ের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই বাহিনী এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি চালু করা অন্যতম।

অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরো মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় রয়েছে এবং এই রুটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও নজরদারিব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কেন্দ্রীয়ভাবে এই দু’টি প্রধান মহাসড়কে নজরদারি করতে পারছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাহিনী এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান জানান, আধুনিক এই নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদকপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতাকে আরো জোরদার করবে। একই সঙ্গে এটি যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে এবং যানজট নিরসনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নজরদারিব্যবস্থাটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।

ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা-এই দুটোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার ওপর এই বাহিনী বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। জনসাধারণের আস্থা অর্জন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশব্যাপী ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেবার মান আরো কার্যকর করতে এই বাহিনীর পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।